গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান ... গল্পেরঝুড়ি একটি অনলাইন ভিত্তিক গল্প পড়ার সাইট হলেও বাস্তবে বই কিনে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে... স্বয়ং জিজের স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের বড় একটি লাইব্রেরী আছে... তাই জিজেতে নতুন ক্যাটেগরি খোলা হয়েছে বুক রিভিউ নামে ... এখানে আপনারা নতুন বই এর রিভিও দিয়ে বই প্রেমিক দের বই কিনতে উৎসাহিত করুন... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

প্রশ্নঃ ইসলাম যদি শ্রেষ্ঠতম ধর্ম হয় তবে অসংখ্য মুসলমান কেন এত অসৎ অবিশ্বস্ত এবং ঘৃণ্য অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত??

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md.sAiM aRaFAt (২২০ পয়েন্ট)



লেখকঃ সাইম আরাফাত গতকাল আমাদের ভার্সিটি রোজার বন্ধ দিয়েছে।আজকেই বাড়ির উদ্দশ্যে রওনা হলাম।স্টেশনে গিয়ে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠলাম।কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন ছাড়বে।এখন আমার শুধু মনে হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদের বই"কিছুক্ষণ" এর কথা।যেখানে ট্রেনের কিছুক্ষণের কাহিনীর এক মনোমুগ্ধকর বর্ণনা দিয়েছেন।ট্রেন ছেড়ে দিল।হঠাৎ ''কিছুক্ষণ''বইয়ের প্রফেসর আব্দুর রশিদের মতো গোঁফওয়ালা একটা লোক আমার পাশের সিটে এসে বসল।ট্রেন চলছে আর লোকটা একের পর এক সিগারেট টানছে।হঠাৎ লোকটা আমাকে জিজ্ঞেস করল,"হে,ইয়াং ম্যান কি কর তুমি"? -"আসসালামু আলাইকুম,জ্বী,আমি স্টুডেন্ট"। আমার সালাম দেওয়াতে লোকটি তার ভুরু কুঞ্চিত করল।সালামের উওর না দিয়ে লোকটি বলল,"তুমি কি মুসলিম"? -হ্যাঁ। --একবিংশ শতাব্দির এই যুগে দাঁড়িয়েও তোমরা কিভাবে যে ধর্মের মতো এরকম একটা কুসংস্কারকে বিশ্বাস করো তা আমি ভেবে পাই না"। --স্যার,অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানি না কিন্তু ইসলাম কোনো কুসংস্কারের ধর্ম নয়,ইসলাম একমাত্র শান্তির ধর্ম। --"হ্যাঁ শান্তির ধর্ম এজন্যই তো আজ মুসলিমরা এত অসৎ অবিশ্বস্ত এবং ঘৃণ্য অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত"। বুঝলাম লোকটা ঘোর নাস্তিক। আমি বললাম,"স্যার,ইসলাম যে শান্তির ধর্ম এতে কোনো সন্দেহ নেয়।স্যার,আপনি যে কথা গুলো বললেন সেগুলো অনেক কমন প্রশ্ন।আসুন আমরা দেখি ইসলাম কি আসলেই শান্তির ধর্ম"। --"তুমি কি আমার সঙ্গে বিতর্কে যেতে চাচ্ছ"? --"না স্যার,আমি বিতর্কে যেতে চাচ্ছি না,আমি শুধু বলতে চাচ্ছি ইসলাম কখনো অপরাধ শেখায় না"? --"বল শুনি,তোমার ধর্ম কতটা শান্তির"।কথাটা বলেই লোকটা একটা বাকা হাসি দিল। আমি বললাম,"১.ইসলাম যে শান্তিরতম ধর্ম তাতে কোনো সন্দেহ নেই,কিন্তু প্রচার মাধ্যমগুলো সব পশ্চিমাদের দখলে- যারা ইসলামকে ভয় পায়"। --"ভয় পায় বুঝি"? আমি তার কথায় কান না দিয়ে বলতে লাগলাম,"বিরামহীন ওদের প্রচার মাধ্যমগুলো ইসলামেরর বিরুদ্বে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এবং ছেপে যাচ্ছে।হয় তারা ভুল তথ্য প্রচার করছে নয়ত ভুল ইনফরমেশন দিচ্ছে নয়ত ইসলামের আংশিক সত্যকে বড় করে তুলে ধরছে"। লোকটি এখনো বাকা হাসি হাসছে। আমি বলতে লাগলাম,"২.পৃথিবীর কোথাও যদি কোনো বোমা হামলা হয় কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই এর দায় মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।এটাই হবে সংবাদের শিরোনাম। পরবর্তীতে যদি জানা যায় যে,কোনো অমুসলিম এর জন্য দায়ী-তখন সে সংবাদটা আর উল্লেখ করার মতো কোনো খবর থাকে না"। লোকটি এখনও তাচ্ছিল্যের হাসি হাসছে আর মাথা দুলাচ্ছে।আমি এসবে কান না দিয়ে বলে যাচ্ছি। --"স্যার,পন্ঞাশ বছর বয়সী কোনো মুসলিম যদি ১৫ বছর বয়সী এক যুবতীকে তার সম্মতিক্রমে শাদি করে তা হলে তা আসবে পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় বড় হেডলাইনে।অথচ ৫০ বছরের কোনো অমুসলিম যদি ৬ বছরের কোনো মেয়েকে জোর-জবরজস্তি করে ধর্ষণও করে তাহলে সেটা হয়ে যাবে ভিতরের পাতায় অনুল্লেখযোগ্য খবর।আপনি কি জানেন আমেরিকায় প্রতিদিন ২৭১৩টি ধর্ষণ হয়।কিন্তু মিডিয়ার জন্য আদৌ এটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ খবর নয়। আমেরিকাতে যেকোনো মুহূর্তে যে কোনো নারী বিপদে পড়তে পারে,আমার মনে হয় এটা পশ্চিমা নারীদের জন্য এক্সাইটেডের বিষয়,,,স্যার,স্ট্যাটিসটিক্স অনুযায়ী আমেরিকাতে গড়ে প্রতি ৩২ সেকেন্ডে একজন নারী ধর্ষিতা হচ্ছে"। এবার লোকটার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।তিনি গম্ভীর মুখে বললেন,"কিন্তু অনেক মুসলিম আছে যারা ধর্মের নামে অন্যায় করে।এটাকে তুমি কি বলবে"? --স্যার,কালো ভেড়া সব পালেই থাকে।স্যার,এটা আমাদের ভালোভাবে জানা আছে যে,কিছু মুসলিম অসৎ,চরিত্রহীন ও প্রতারক ইত্যাদি।কিন্তু মিডিয়াগুলো তা এমনভাবে প্রচার করে যে,এ ধরনের কাজ শুধু মুসলমানরাই করে।স্যার,আপনি একটা গাড়ির ড্রাইবার দিয়ে গাড়িকে যাচাই করতে পারেন না।মনে করুন স্যার,"রোল রয়েলস্" কোম্পানির নতুন লেটেস্ট মডেলের একটি গাড়ি যদি আপনি যাচাই করতে একজন অযোগ্য চালককে চালকের আসনে বসিয়ে দেন এবং সে একটা এক্সিডেন্ট করে গাড়ির ১২ টা বাজিয়ে দেয়,তবে আপনি কি গাড়ি কোম্পানিকে দোষারোপ করবেন নাকি চালককে? --"অবশ্যই চালককে"। --"একইভাবে জন্মসূত্রে পাওয়া "ইসলাম" নিয়ে আজকে মুসলিমরা যা করছে তাতে তার বাহ্যিক মুখটা দুমড়ে মুচড়ে এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যা দেখে কোনো ক্রেতা এক পা আগাতে গিয়ে দশ পা পিছিয়ে যান-এ বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই"। এবার লোকটার মুখটা হাসিতে ভরে গেল।তিনি বললেন,"হ্যা আমি তো এটা বলছি"? --"কিন্তু স্যার সামগ্রিক ভাবে মুসলমানরাই শ্রেষ্ঠ"? --"কী বললে"? --"স্যার,বলছি সামগ্রীকভাবে মুসলমানরাই শ্রেষ্ঠ।মুসলিম সমাজে স্বল্প সংখ্যক কলঙ্কিত লোকজন থাকা সত্ত্বেও দুনিয়ার বুকে মুসলিমরাই শ্রেষ্ঠ।সামগ্রীকভাবে "নেশামুক্ত" বৃহওম সমাজ।যৌথভাবে আমরা এমন একটা সমাজ যারা দুনিয়াতে সবচাইতে বেশি দীন-দক্ষিনা করে থাকি।সামগ্রীকভাবে পৃথিবীতে এমন কোনো সমাজ নেই যেটা মুসলমানদের সঙ্গে একটু তুলনা করে দেখাতে পারেন, যেখানে মানবীয় মর্যাদাবোধ,সংযম,সহনশীলতা,মূল্যবোধএবং নীতি-নৈতিকতা ও স্বভাব-চরিত্র ইত্যাদির প্রশ্ন উঠে। স্যার,ইসলামকে আপনি কিন্তুু কুলাঙ্গার দিয়ে বিচার করতে পারবেন না।আপনি যদি ইসলামদকে বিচার করতে চান,তবে তার প্রবর্তনকারী সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে দিয়ে বিচার করবেন।বিশ্ববিখ্যাত মুসলিম ঐতিহাসিকদের পাশাপাশি কিছু অমুসলিম ঐতিহাসিকও নিতান্ত সততার সাথে মানবেতিহাসের সেবা করছেন।তাদের মধ্যে অন্যতম মাইকেল এইচ হার্টের রচিত 'THE HUNDRED" গ্রন্হে মানবেতিহাসের শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তিদের একটা তালিকা করেছেন।তাতে শ্রেষ্ঠতম মানব হিসাবে এক নাম্বারে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নামটি লিখেছেন।থমাস কার্লাইল এবং লা মার্টিনের মতো ব্যাক্তিত্বগণও তাদের গ্রন্হে ইসলামের নবী ও রাসুল (সাঃ) কে প্রভুত সম্মান প্রদর্শন করেছেন। স্যার,ইসলাম সম্পর্কে গভীরভাবে যদি জানতে চান তবে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রচিত মানব-জীবন ম্যানুয়াল "আল-কোরআন" এবং তারই মনোনীত শ্রেষ্ঠতম মানব মুহাম্মদ (সাঃ) নির্মিত ক্যাটালগ সহিহ্ হাদিস সমূহকে জানতে হবে,অধ্যয়ন করতে হবে"। ট্রেন থেমে গেল।আরে এত সময় পার হয়ে গেল!!আমি নামতে যাব এমন সময় লোকটা বলল,"বাবা,তোমার কাছে কি কোরআন আছে"? আমি আমার ব্যাগ থেকে পবিত্র কোরআন আর একটা সীরাত বের হরে দিলাম।লোকটা তা নিয়ে অজোরে কাদছে। হে,,আল্লাহ আপনি ওনাকে হেদায়েত দান করুন। আমি ট্রেন থেকে নামলাম।নেমে রিকশার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে রইলাম আর ভািতে লাগলাম "জীবনটা তো খারাপ নয়"। This story is Written by: Md.sAiM aRaFAt. [গল্পটা ভালো লাগবে কমেন্ট জানাবেন] THE END.BE HAPPY WITH ISLAM(THE PLACE OF PEACE).


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পর্দা করা এত জরুরী কেন? ইসলামে পর্দা কি শুধু মহিলাদের জন্য নাকি পুরুষ-মহিলা উভয়ের জন্যে??
→ হঠাৎ কেন এ চিঠি!!! আরবিতে লিখা ছিল ঐ চিঠিখানা
→ হযরত ফাতেমা (রা) এর চাদরের ঘটনা
→ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে ধর্মীয় বাধা নেই
→ আমি এই প্রথম গল্প লিখছি। আমি গল্পটি হযরত শীস (আ:) সম্পর্কে লিখছি।)
→ আইনস্টাইন, নিউটন,হকিং এবং একজন হিমু!!
→ ❄️ইসলামে কন্যা সন্তানের অধিকার ও মর্যাদা❄️
→ ইসলাম ধর্মই কেন পৃথিবীর একমাএ সত্যে ধর্ম?
→ মুসলিমরা কি কা'বার উপাসনা করে? এক নাস্তিকের বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন এবং তার দাঁত ভাঙা জবাব।
→ আমি এবং হুমায়ূন আহমেদ!!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...