Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/gj-con.php on line 6
"রোমান্টিক দুপুর"

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

"রোমান্টিক দুপুর"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (২২৯ পয়েন্ট)



ইতিকে ফোন করে বললাম, বাসায় আমি একা আর কেউ নাই, তুমি জলদি করে আসো । . কালকে আমার মামাতো বোন রুমির বিয়ে । তাই আজকে সকালেই মা বাবা ভাই বোন সবাই মিলে তাদের বাসায় গিয়েছে । আমিও যাব কালকে সকালে । আজকে আমি বাসায় একা । তাই আমি আমার গার্লফ্রেন্ডকে ফোন করে বললাম - আমি বাসায় একা , তুমি জলদি করে আসো । সে বললো - আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই আসতেছি । . আধাঘন্টা পরেই ইতি বাসায় এসে হাজির , দুজনে বসে কিছুক্ষণ গল্প করলাম । তারপর তাকে বললাম তাহলে এখন কাজ করা শুরু করে দাও ।অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম এই দিনটার জন্য । আমার আর অপেক্ষা সহ্য হচ্ছে না , কবে যে খেতে পারবো সেই আশায় আছি । সে বলে - রান্নাঘর কোন দিকে । . আমি এরপর তাকে রান্নাঘর টা দেখিয়ে দিলাম । সে আর কোন কথা না বলে রান্না করে চলে গেল। আপনারা নিশ্চয়ই নেগেটিভ কিছু ভাবছিলেন । আসলে ঘটনা হচ্ছে কি , কিছুদিন আগে সে নাকি প্রথমবার রান্না করে । তার হাতের রান্না খেয়ে সবাই অনেক তারিফ করে। অনেক ভালো হয়েছে নাকি তার রান্না । তাই সেদিন থেকেই আমি অপেক্ষা করছি কোন দিন তার হাতের রান্না খেতে পারব । তাই আজকে সুযোগ পেয়ে তাকে বাসায় আসতে বলি , এবং কি সে এখন রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত। লোকেরা রোমান্টিক ডিনার করে,আর আমরা দুজন আজকে রোমান্টিক লাঞ্চ করব। কিছুক্ষণ পর আমি রান্নাঘরে গেলাম , দেখি সে রান্নার কাজ শুরু করে দিয়েছে । আমি পিছন থেকে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম । সে আমাকে বলে - দেখো এখন ন্যাকামি করবানা এখন রান্না করতেছি ছাড়ো আমাকে । আমি তখন বললাম - না আমি ছাড়বো না , আমি আমার হবু বউকে জড়িয়ে ধরেছি । সে তখন বলে- তা ডিয়ার হবু স্বামী ন্যাকামি করা বাদ দিয়ে ,আমাকে কাজে একটু সাহায্য করতে পার না । আমি বললাম- কি করতে হবে বলো ? সাথে সাথে কলিং বেলের শব্দ । আমি বললাম - এই রোমান্টিক সময় কে আবার ডিস্টার্ব করতে এসেছে , আচ্ছা তুমি দাঁড়াও আমি দেখে আসতেছি । . এই বলেই আমি দরজার কাছে এসে দরজা খুলে হা করে তাকিয়ে আছি ‌,‌ দেখি দরজার সামনে মা দাঁড়িয়ে আছে । আমি শখ এর মধ্যে আছি । মনে হয় কেউ আমাকে ৪২০ ভোল্টের ঝাটকা দিয়েছে । মা তখন বলল সেই কখন থেকে কলিং বেল দিচ্ছি দরজা খুলতে এত সময় লাগে নাকি । আমি ভয় এবং শখ খেয়ে কোন শব্দই মুখ দিয়ে বের করতে পারলাম না । মা কোন কথা না বলেই সোজা চলে গেলেন উনার রুমে । আমি উনার পিছনে পিছনে গিয়ে বললাম আপনি না রুমির বিয়েতে গেছেন চলে আসলেন কেন । মা তখন বলল - রুমিকে আংটি দিব বলে একটা আংটি নিয়েছিলাম , সেটা ভুলে বাসায় রেখে গেছি , সেটা নিতে এসেছি । আমি বললাম আমাকে ফোন করে বললেই হতো, কাল সকালে যাওয়ার সময় আমি নিয়ে যেতাম । মা তখন বলে - আলমারির চাবি হচ্ছে আমার কাছে তোকে ফোন করে বলল তুই নীতি কিভাবে । এ কথা বলার সাথে সাথে হঠাৎ রান্না ঘর থেকে আওয়াজ আসে , মা বলে রান্না করে কে এই বলে রান্না করে ছুটে যায়। মা রান্না ঘরে গিয়ে ইতিকে দেখে বলে ওঠে এই মেয়ে তুমি কে ? ইতি ভয় পেয়ে যায় ,তার হাতে একটা মসলার ডিব্বা ছিল সেটা মাটিতে পড়ে যায় । ভূত দেখলেও সে এতটা ভয় পেত না যতটা ভয় মাকে দেখে পেয়েছে ‌। মা আবার বলে - এই মেয়ে চুপ কেন জবাব দিচ্ছ না কেন, তুমি কে? ইতি একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে একবার মার দিকে তাকাচ্ছে , সে কি জবাব দিবে ভেবে পাচ্ছে না । মা রেগে গিয়ে আমাকে বলে,, এই মেয়েটা কে রান্না ঘরে কি করছে ? . আমিও কি জবাব দিব ভেবে পাচ্ছি না , হঠাৎ করে মনে পড়ল মা কিছুদিন আগে বলছিল, একটা কাজের মেয়ে দেখার জন্য , বাসায় অনেক কাজ মা একা একা সামলাতে পারছে না । আমি তখন বলে উঠলাম আরে মা ও কাজের মেয়ে ওর নাম সখিনা । আপনি কিছুদিন আগে বলছিলেন না একটা কাজের মেয়ে দেখতে, আজকে সকালে এই মেয়েটা এসে বলতেছে কাজের লোক লাগবে কিনা । তখনই আপনার কথা মনে পড়ছিল। তা আমি বললাম আমাদের ঘরে একটা কাজের মেয়ে লাগবে । তাই মেয়েটা কাজ করার মতো লোক কিনা সেটা দেখার জন্য আমি বলছিলাম আজকে রান্নাটা করার জন্য , দেখতে তার রান্না আর কাজকর্ম কেমন । মা তখন বলে আচ্ছা তাই নাকি , ইতি তখন বলে হ খালাম্মা, আমার একটা কাজ খুব জরুরী । মা তখন বলে আচ্ছা তাই , তাহলে দেখি তুমি কি কি কাজ করতে পারো । তারপর মা তাকে দিয়ে রান্নার সব কাজ করালো । রান্না শেষ হলে থালা বাসন সবকিছু পরিস্কার করালো । তারপর মা পুরনো কাপড় চোপড় দুই বালটি বের করে দিল সেগুলো ধুয়ে দেয়ার জন্য । ইতি কোন কথা না বলে চুপচাপ সেগুলো ধুয়ে দিতে লাগলো । কাপড় দোয়া হলে , ঘর ঝাড়ু দিতে বলল । এরপর ইতি সারাটা ঘর ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করলো। আমি তার কষ্ট সইতে পারছি না অন্যদিকে মুখ খুলে কিছু বলতেও পারছি না । আমি শুধু মাকে বললাম মা আমি তো বাসায় আছি আমি দেখতেছি ,আপনি রুমির বিয়েতে যান আপনার লেট হয়ে যাচ্ছে। মা তখন বলল - বিয়ে আজকে না বিয়ে হচ্ছে কালকে আমি সন্ধ্যা বেলায় গেলেও চলবে । . এরপর মা একে একে ইতি কে দিয়ে ঘরের সব কাজ করিয়ে নিল । যে মেয়েটা কখনো ঘরের কাজ করেনি । সেই মেয়েটা আজকে পুরো ঘরের কাজ একা একা করেছে । সব কাজ শেষ করে মার কাছে এসে বলে খালাম্মা সব কাজ হয়ে গেছে । . মা তখন বলে - তোমার কাজ আমার ভালো লেগেছে, তোমার ব্যবহার আমার ভালো লেগেছে, তোমাকে আমার ভালো লেগেছে । সবচেয়ে বেশি আমার ভালো লেগেছে তোমার ধৈর্য দেখে । আমি তোমাকে এত কাজ দিলাম তারপর তুমি কোন কথা না বলে চুপচাপ সে কাজগুলো করতে থাকলে । তোমার মত এমন একটা মেয়েই এই ঘরে দরকার , তোমাকে আমি সারা জীবনের জন্য আমার ঘরের রাখতে চাই । কিন্তু তার বিনিময়ে আমি তোমাকে বেতন দিতে পারব না , তবে তোমাকে ঘরের বউ করে রাখবো , তোমাকে মেয়ের মত ভালোবাসবো । আর এই পাঁচ ফুট 5 ইঞ্চি গাধার মত ছেলেটা কে তোমার নামে করে দিবো । মা এর কথা শুনেই আমরা দুজনেই অবাক । আমি মাকে বললাম -এসব কি বলছো মা ? মা তখন বলে, আমার গর্ভ থেকে তোর জন্ম আর সেই তুই আমার সাথে চালাকি করস , তুই কি ভাবছিস তুই সহজে আমাকে বোকা বানিয়ে ছাড়বি । আমি তোর মা কথাটা ভুলে যাস না , তোর চোখে মুখে যে একটা ভয়ের ছাপ দেখছিলাম, আমি তখনই বুঝে নিয়েছিলাম তুই আমার সাথে মিথ্যা বলছিস । এই মেয়ে কাজের মেয়ে হতে পারেনা না । তাই আমি তাকে পরীক্ষা করে দেখছিলাম। আমি বুড়ো মানুষ আজ আছি তো কাল নেই । আমি যাওয়ার পরে তোকে আর এই সংসার টা কে গুছিয়ে রাখতে পারবে কিনা সেটাই আমি দেখছিলাম । . একথা বলেই মা উনার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন টা খুলে ইতিকে পরিয়ে দেয় । মা তাকে জিজ্ঞেস করে ,তোমার নাম কি মা ? ইতি জবাব দেয় , ইতি সুলতানা । মা তখন বলে - শুন মা ইতি, ওর মামাতো বোনের বিয়ে তাই আমাকে এখন যেতে হবে । তোর সাথে তেমন কথা বলতে পারলাম না অন্য কোন দিন না হয় অনেক গল্প করব । এই বলেই মা যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন । তখনই আবার আমাকে বলে - শোন গাধা , দুজনে একসাথে খাওয়া দাওয়া করে ইতিকে বাসায় পৌছে দিবি । আর কাল সকালে তুই বিয়েতে যাওয়ার সময় ইতিকে সাথে করে নিয়ে যাবি । সব আত্মীয়-স্বজনেরসাথে আমার হবু বউ মা'র পরিচয় করিয়ে দিব । লেখক:- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...