গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

কল্পনার সীমান্তে।

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মেহেরাজ হাসনাইন (১৪৮ পয়েন্ট)



কিছু গল্পের শুরু হয় এক মধুর প্রনয়ে । যদি হয় এমন একটি গল্প যা কল্পনার সীমান্তকে পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে..?? আপনি কি জানেন ঠিক সেই গল্পটিই হবে জীবনের অনন্ত সুন্দর একটি পর্ব ..!!!! এক নতুন "আমি" পরিচয় পেয়েছিলাম সেদিন । একাকী আর নিঃসঙ্গতা কে পার করে , পরিচয় পেয়েছি নতুন এক কল্পনার জগতে । হয়তো এতটুকু প্রস্তুত ছিলাম না । তবু কেন জানি এভাবে এতদূর চলে আসলাম । আর প্রণয় এর গল্পের আমার এই শুরুটা খুবই মধুর পর্ব ছিল। আর এটি কোনো এক বন্ধুর হাত ধরেই পথ চলার গল্প। শুনেছি রাজ্যের শেষ অন্তরে ইয়া বড় একটি বাগান আছে । এর পরেই এক অজানা জঙ্গল । তবে এই রাজ্যের কেউই জানে না সেই প্রান্তে কি আছে । দু যুগ আগে যখন আমার রাজ্যের এক বীর সাহস গজিয়ে সে বন পর হওয়ার শপথ নিয়েছিল । সে থেকে তার অস্থি রক্তের সন্ধান মিলেনি । তাই সীমান্তের পরের জগৎটিকে অভিশপ্ত ধরে নেওয়া হতো । কেউ ওই সীমান্তের নামই মুখে নেয় না সচরাচর । যদি না সে নিজেকে খুব সাহসী ভাবে । কিন্তু আমার চিন্তা ছিল আসলেই কি সেই সীমান্তটি অভিশপ্ত..?? মা আমার রাজ্যের মহারানী । আমি তার একমাত্র রাজপুত্র। কাজেই এমন সাহস অবশ্য আমার হবে না যে আমি সেই অভিশপ্ত সীমান্তের ওপারে যেতে চাইব । কিন্তু নিয়তি কি আর সাহসিকতা পরোয়া করে..?? একদিন প্রথম প্রহরে আমি এই অঞ্চলে এসেছিলাম কোনো এক আগ্রহের কারনে । তবে এই দক্ষিণ অঞ্চলে আমাকে তখন দুদিনের বেশি থাকতে হয়নি তখন । এর পর শহরে চলে আসলাম , রাজধানীতে । শুধু মা আর আমি । এবার রাজধানীতে এসে হটাৎ মনে হলো , সেই দক্ষিণের বাগান অঞ্চলটুকু তো আমার দেখা বাকি !!! ঘোড়া টুকে মা কে না জানিয়েই বেরিয়ে পড়লাম সেই দুপুর বেলায় , এক অজানার সন্ধানে । আসলাম এই অঞ্চলে , সবে নতুন জায়গা । বাগানের চারপাশে পর্যাপ্ত মানুষ পেয়েছি । আসে পাশে গ্রামের বসতি তারা । অনেক আগে থেকেই এই অঞ্চলে আছে । কেউ আমাকে চিনে না তখন gj । জানে না এক অপরিচিত রাজকুমার এই অচেনা রাজ্যে এসেছেই বা কেন..?? আমিও এক নীরব অনুরূপ ভদ্রতায় সবার সাথে নিজের পরিচয় জানানোর চেষ্টা করি । কিন্তু কাজে দিল না । কেউই তো অতটা আগ্রহী না .. !! অদ্ভুত !! দেখেই বুঝা যায় সবাই নিজেকে নিয়ে কতটা ব্যস্ত এখন । এমন সময় পিছন থেকে এক পরীর ডাক পেলাম । হুম, একদম ছোট পিচ্চি একটা পরী । দেখতে একদম নীল প্রজাপতির মত আর জ্বলন্ত নীল আগুনের মত অপরূপ সে । আরো আলাদা ভাবে বলতে গেলে , অন্যান্য পরীর থেকে সে খুবই আলাদা । মা এর কাছ থেকে জেনেছিলাম পরীর গল্প । তারা নাকি সেই ব্যক্তিকেই সাহায্য করে যারা সচরাচর একা আর নিজের পথ হারিয়ে ফেলে । কিন্তু আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল বেতিক্রম । কারন সেই পরীটা জানতো আমার মনের সব কথা । সে জানে আমি সীমান্তের পথটুকু সমাপ্তির অপেক্ষায় আছি । অপেক্ষায় আছি সেই অন্য এক কল্পনা জয়ের । তবে প্রথমে সে আমাকে সেটা বুঝতে দেয়নি। সে আমাকে জানালো অঞ্চলের সম্পর্কে , প্রকৃতি সম্পর্কে , এভাবে আরো কত কি !! কেমন রাজ্যের এই দিকটি । কি এর ভালো মন্দ প্রভাব। পথযাত্রায় সেও আমার সাথে যাবে কল্পনার শেষ সীমান্তে । সে তো চাইবে আমি যেন পথ হারিয়ে না ফেলি । এভাবেই তার সাথে পরিচয় হতে লাগলো আমাদের , আর একই সাথে আমরা বাগান অতিক্রম করছি । বাগানের পথটা খুবই ভীষন লম্বা ছিল । সময়টা খুবই যথেষ্টছিল সেই পিচ্চি পরীটার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার । এদিকে একাদিক দিগন্ত পর করে ফেলেছি দেখতে দেখতে । মা ও হয়তো বিষন্ন মনে অপেক্ষায় আছে রাজপুত্রের । বাগানের শেষ টুকু পাড়ি দেওয়া হয়নি তখনও । ঠিক তখনই ঘটে বসলো এক কান্ডকারখানা । পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম দুইজনই । এমনটা না যে সে এ বাগানটা চিনে না । সে জানে খুব ভালো করে এই অচেনা জায়গা সম্পর্কে । সে তো আর কখনোই বাঁকা রাস্তায় যাবে না । শত বাঁধা থাকলেও সে সঠিক পথটিকেই বেঁচে নিবে দুজনের জন্যে । কিন্তু আমার এক ভুলের জন্য আমাকে যেতে হয় পূর্বের রাস্তা ধরে , যেটি ছিল ভুল রাস্তা । আর তখনই সে চলতে লাগলো ডানদিকের এক সহজ সরল রাস্তা দিয়ে । সত্যি ভুল পথে চলে এসেছিলাম তখন আমি । কিন্তু এমন একটা অচেনা পথ , এমন একটা অচেনা জায়গায় একটি ভুলের পরিণতি যে খুবই ভয়ানক । কিন্তু সেটা আমি তখন উপলব্দি করতে ব্যর্থ হই। ততদিনে বাগানের শেষ প্রান্তে চলে এসেছি আমরা । আমি আমার রাস্তায় একা হাটছিলাম , খুব ভয় আর বিভ্রান্ত মন নিয়ে । আর ঠিক সেই শেষ মুহূর্তে সে আমাকে খুঁজে নিয়েছে । আমি আমার ঘোড়া আর সে নীল আলোর গতিতে জঙ্গলের প্রথম অংশ পাড়ি দিলাম। কিন্তু অদ্ভুদ ভাবে আমার পথ ভুলে যাওয়ার পর তার সাথে গন্তব্য বিষয় ছাড়া অন্য ভাবে কথা হয়না । অর্থাৎ সে আমাকে শুধু এইটুকু জানাচ্ছিলো কি আর কোন পথে যেতে হতো। কথা হবেই বা কেন ?? বুঝতেই পারি সে পরীটা খুবই অভিমান করেছে আমার সেই ভুলের কারনে । ক্ষমা চেয়েছি , সহজেই ক্ষমা করে দিলো সে । তবুও সে আমার পাশেই থাকবে । পাশে থেকে আমাকে সাহায্য করে চলেছে । আমার সেই প্রিয় বন্ধুটির সব কথা সব সময়ই রাখা উচিৎ , তাই নয় কি..?? আমি তো তাই চেষ্টা করছি আর সবসময়ই করবো । ক্লান্ত ঘোড়া নিয়ে বোধয় বেশি দূর যাওয়া যাবে না । জঙ্গলের মধ্যাংশ-তে আমাদের নিদ্রা আর ভোজনের জন্যে দাঁড়াতে হবে । শুনেছি পরীরা নাকি ঘুমাইনা । কিন্তু আমি তো ক্লান্ত । তাই জঙ্গলের মধ্যাংশে তবু রটিয়ে আমি কিছু মুহূর্তের জন্য বিশ্রাম নিই । ওই সময়টুকু সেই পরী কোনো এক পথ খুঁজতে গিয়েছে । এমন সময় আমার মনে হয় , আমার কৌতুহল আমাকে আজ এই প্রান্তে দার করিয়ে দিলো । নিজের একাকিত্বের রাজ্যকে জয় করে আজ কল্পনার সীমান্তে ছুটতে লাগলাম । হয়তো মাঝ পথেই হেরে যেতাম। যদি না বন্ধুটি আমার পাশে না থাকতো । ছোট থেকেই রাজ বংশে খুবই আদর পেয়েছি । মা বলতো , "আমার রাজপুত্র সকল যুদ্বের জয়ের শুসংবাদ নিয়ে আসার জন্যে এ দুনিয়ায় এসেছে , তাকে শুধু তার কল্পনাই হারাতে পারবে । আর কেউ না " । তবে এই কথাটাই আমার খুব চিন্তার কারন। কল্পনা কেন আমাকে হারাবে..??? মা তো জানতো আমি তার খুবই সাহসী রাজপুত্র । এর পরও পরাজয়কে কেন সম্মতি দিলেন তিনি..?? এসব ভাবতে ভাবতে নীল প্রজাপতিটি এসে বললো , চলো আমরা একটি পূর্ণ সময় ধরে যে সীমান্ত পাড়ি দিতে রওনা হয় , সেই সীমান্তের খুব নিকটেই এসে পড়েছি... আমরা আবারো রওনা দিয়ে সামনে পথ চলতে লাগলাম । হুম , এভাবে একটি বৎসর পর হয়ে গেল আমার পথচলার । সত্যিই সেই কল্পনার সীমান্তে হয়তো একদিন পৌঁছে যাবো । নয়তো হারিয়ে যাবো কোনো এক আলোকবর্ষ দূরের জগতে । কিন্তু আমার পথচলার সমাপ্তি হবে না।.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৪৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কল্পনার রাজ্য
→ কল্পনার রাক্ষসটি
→ কল্পনার অষ্পষ্ট ভালবাসা
→ কল্পনার ভালোবাসা
→ কল্পনার শক্তিতে আলোকিত দুঃখ-তিমির – জে কে রাউলিং
→ কল্পনার রং তুলিতে আঁকা ছবি
→ কল্পনার অষ্পষ্ট ভালবাসা
→ কল্পনার love
→ কল্পনার মানুষগুলোকে কাছে পেলে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...