গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

কবরস্থানের জ্বিন..!!!

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Eliash Hossain (বিষাক্ত ভূত) (০ পয়েন্ট)



তখন আমি ক্লাস সিক্স এ পড়ি। ছোটবেলা হতেই আমার নানাবাড়িতে থাকি। চট্টগ্রামের কালুরঘাটে। আমাদের বাসা থেকে মামার দোকানে যেতে কম করে হলেও ১৫ মিনিট সময় লাগে। আমি প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমার মামার দোকানে বসতাম। সেই কারণে বিকালে প্রাইভেট পরে এসেই মামার দোকানে চলে যেতাম এবং ৭.৩০ এর দিকে চলে আসতাম। এপ্রিল মাসের দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। মামার দোকান থেকে ৫ মিনিট হাটার পর অনেক বড় একটা কবরস্থান পড়ে। সেই কবরস্থানের সামনে দিয়ে আসার সময় দেখতাম কবরস্থানের মাঝখানে যেই নিমগাছটা আছে সেখানে সাদা কাপড় পরিহিত অনেক লম্বা কেউ দাড়িয়ে আছে। খুব উজ্জল ভাবে তার শরীর থেকে আলো বের হতো কিন্তু তার চেহারা দেখা যেত না। কবরস্থানের পাশেই পাকা রাস্তা। রাস্তাটি ৮ ফুট মতো চওড়া এবং তার পাশেই একটা বিরাট দেয়াল। আমি প্রতিদিনিই ভয়ে সেই দেয়ালের গা ঘেষে আসা যাওয়া করতাম। সাদা কাপড় পরিহিত লোকটা আমার দিকে হাত বাড়াতো কিন্তু আমার থেকে অল্প কিছু দূরে এসেই তার হাত থেমে যেত। আমাকে আর ধরতে পারতো না। তখন রাস্তায় কোনো লোক থাকলে তাদের ডেকে দেখাতাম কিন্তু কেউ কিছু দেখতো না। উল্টো আমাকে পাগল বলতে লাগলো। কিন্তু আমি ভিতরে ভিতরে খুব ভয় পেতে লাগলাম। এরপর একদিন মনে সাহস সঞ্চার করে আমাদের এলাকার মসজিদের ইমামের কাছে গেলাম। উনি আমাকে দেখে বললেন “কিরে তুই নাকি আজকাল পাগলের মতো আচরণ করছিস?” আমি উনাকে সবকিছু খুলে বললাম। তিনি আমাকে অভয় দিলেন, বললেন এমন ঘটনা আমি আগে শুনিনি কিন্তু আমার মনে হয় ও যেহেতু তোর কোন ক্ষতি করছে না তার মানে সে হয়ত তোর কাছে কিছু চায়। আমি বললাম আমার কাছে কী এমন আছে যেটা ও আমার কাছ থেকে চায়? তিনি বললেন তুই আজ আমার সাথে রাতে থাকবি। তোর ঘরে আমি বলে রাখবো। তারপর সারা বিকাল কোন খেলাধুলায় যাইনি। সন্ধ্যার পর মামার দোকানে না গিয়ে হুজুরের রুমে গিয়ে বসলাম। হুজুর আমাকে একটা আতরের শিশি দিয়ে বললেন এটা পবিত্র আতর, এটার সুগন্ধ যতক্ষণ কারও গায়ে থাকে ততক্ষণ কোনো দুষ্ট অশরীরি তার কোন ক্ষতি করতে পারেনা। আমি আতরটা নিয়ে গায়ে মাখলাম। হুজুর আমাকে বললেন আজকে রাত ১২.০০ টার দিকে তুই আর আমি ঐ কবরস্থানে যাবো। আমি ভয় পেয়ে বললাম “আমি সেখানে যেতে চাই না।” ইমাম সাহেব আমাকে বুঝিয়ে বললেন কোনো সমস্যা হবে না। আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে বললেন। রাতের খাবার হুজুরের সাথে শেষ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে তারপর দুজনে কবরস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। আনুমানিক ৭-৮ মিনিট লাগলো সেখানে যাওয়ার সাথে সাথেই একটা ঠান্ডা বাতাসে আমাদের দুজনেরই গায়ের লোম দাড়িয়ে গেল। তবুও দোয়া দুরুদ পড়তে পড়তে হুজুর আর আমি কবরস্থানে প্রবেশ করলাম। নিমগাছের নিচে যাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের সামনে সাদা কাপড় পরিহিত বিশালদেহী কেউ দৃশ্যমান হলো, আমি ভয় পেয়ে পিছিয়ে এলাম। সাদা কাপড় পরিহিত লোকটি এবার কথা বলতে শুরু করলো। সে বললো--- “আসসালামু আলাইকুম” আমরা একসাথে “ওয়ালাইকুম আসসালাম” বলে উত্তর করলাম। সে আমার উদ্দেশ্যে বললো আমাকে চিনতে পেরেছেন? আমি বললাম, কে আপনি? সে বললো আমি আপনার নানার সাথে থাকা সেই জ্বিন..!!! আমি অবাক হয়ে তাকে দেখতে লাগলাম। তারপর যখন তাকে চিনতে পারলাম তখন বললাম তুমি এতদিন কোথায় ছিলে? কতদিন হয় তোমাকে দেখিনা.! আমি এখন কত বড় হয়ে গেছি দেখেছো? সে আমাকে বললো, আপনার নানার সাথে ভুল করে একটা বেয়াদবি করে ফেলেছি। সেই কারণে তিনি আমাকে আজ তিন বছর এখানে বন্দি করে রেখেছেন। তার কাছে অনেক ক্ষমা চাওয়ার পর তিনি আমাকে বললেন তিনি আর বেশিদিন বাচঁবেন না। আর তিনি এটাও বললেন যে তার মতো ক্ষমতার অধিকারী ছাড়া অন্যকেউ আমাকে এখান থেকে মুক্ত করতে পারবে না। আমি বললাম তাহলে আপনি মুক্তি দিন আমাকে। তখন তিনি বললেন আমরা যখন কাউকে বন্দি করি তখন আর তাকে মুক্ত করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। তুমি তিন বছর পর আমার বড় নাতির কাছ থেকে মুক্তি পাবে। কারণ তাকে আমি আমার সকল শক্তি দিয়ে যাবো। সেই থেকে আমি এখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছি, এটা বলেই জ্বীনটা খুব দুঃখ করতে লাগলো। আমি বললাম মন খারাপ করবেন না। আমাকে বলুন আমি কীভাবে আপনাকে মুক্ত করতে পারি। সে বললো সেটা তো আমি জানিনা, কিন্তু তোমার নানা তোমাকে বন্দী জ্বিনদের মুক্ত করার দোয়া শিখিয়েছেন, সেটা পড়লে হয়তো আমার মুক্তি হবে। আমি দেড়ি না করে নিম গাছের চারপাশে ঘুরতে লাগলাম এবং সেই দোয়া পড়তে লাগলাম। সাতবার পড়ে আমি যখন তার শরীরে ফুঁক দিলাম তখন সে আমাকে বললো, জাযাকাল্লাহ শুকরান। তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে মোনাজাতের ভঙ্গিতে দাড়িয়ে বলতে লাগলো আলহামদুলিল্লাহ, শোকর আলহামদুলিল্লাহ! তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললো, আপনার নানা আমাকে এখানে বন্দি করেছেন এটা এক লোক জানত, তাই সে এখানে তার শক্তির বলে এক দুষ্ট জ্বিনকে পাহাড়ায় রেখে গেছেন। আমাকে মুক্ত করার পর সে আমাকে আবার বন্দি করতে চায়। কিন্তু আমি এখনই এই স্থান থেকে অনেক দুরে চলে যাব। তাই আপনি এখন থেকে সাবধানে থাকবেন। ঐ জ্বিন যেকোন সময় আপনার ক্ষতি করতে পারে। যদি কখনো এমন বিপদে পড়েন, তখন বিসমিল্লাহ বলে ডানহাত সোজা করে তিনবার ঘুরবেন, তাহলে বিপদ কেটে যাবে। এই মূল্যবান উপদেশগুলো দিয়ে সে সালাম দিল এবং আস্তে আস্তে অদৃশ্য হয়ে গেল। সেই বছর শবে-বরাতের রাথে আমরা এগার জন সেই কবরস্থানের পুকুরের শান বাধানো ঘাটে বসে আছি। তখন রাত প্রায় ১১.৩০ এর কাছাকাছি হবে। আমরা তিনজন ঘাটের একপাশে এবং বাকি অন্যরা আমাদের উল্টোপাশে আমাদের মুখোমুখি হয়ে বসে আছি। এমন সময় কবরস্থানে খুব জোরে বাতাস বইতে লাগলো। চারদিকে তাকিয়ে দেখি, সবকিছু শান্ত অথচ কবরস্থানে এতো জোড়াল বাতাস.! আমার বাকি বন্ধুরা বলল কিরে কী হচ্ছে এসব? আমি ঘটনা বুঝতে পারলাম, এটা ঐ দুষ্ট জ্বিনের কাজ। সাথে সাথে আমি বাশগাছের কাছাকাছি একটা কালো অবয়ব দেখতে পেলাম। তাড়াতাড়ি ডানহাত সোজা করে বিসমিল্লাহ বলে তিনবার ঘুরলাম। আমি তিনবার ঘোরার সময় তিনবারই ঠাস ঠাস ঠাস শব্দ হচ্ছিল। ঘোরা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আবার সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে এলো। আর আমি হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে যেতে লাগলাম। পরেরদিন আমার জ্ঞান ফেরার পর দেখলাম আমি আমার এক বন্ধুর বাসায়। আর আমার বন্ধুরা সবাই আমাকে ঘিরে বসে আছে। ওরা বললো তুই বেচে আছিস এর চেয়ে আর বড় কিছু হতে পারেনা। আমি জিজ্ঞাস করলাম কী হয়েছিল আমার? তারা বললো এসব তোর মনে করার দরকার নেই। কিন্তু এটা সত্যি যে, তোর কারণে আমরা সবাই গতকাল নিজ চোখে জ্বিন দেখলাম। আমি বললাম, তোরা সবাই দেখেছিস? ওরা বললো হ্যা! আমি আর কিছু বললাম না। শুধু নিজের শরীরে ক্লান্তি অনুভব করছিলাম। আস্তে আস্তে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। ঠিক তার দুই বছর পর আমার সেই দশজন বন্ধুর মধ্যে ২ জন অস্বাভাবিক ভাবে মারা যায়। তাই তখন থেকে আমি আর কখনো সেই শক্তির ব্যবহার বা প্রয়োগ করিনি। কিন্তু অনেক চেষ্টা করার পরেও সেটা ভুলতে পারছি না। #বিষাক্ত_ভূত সমাপ্ত!!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৯৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...