গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

কন্সটানটিপল বিজয়ের ইতিহাস

"যুদ্ধের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান M.H.H.RONI (৩০৫ পয়েন্ট)



অটোমেন বা উসমানীয় সম্রাজ্যের কথা আমরা সবাই জানি।।মুসলীমদের গৌরবউজ্জলের বেশিরভাগ গটনাই এই সময়ে সংগঠিত হয়েছিল।।এখন বলব তুরস্কের একটি শহরের কথা নাম কন্সটানটিপল।বর্তমান নাম ইস্তাম্বুল।আর এই কন্সটানটিপল প্রতিষ্ঠা করেছিল রাজা কন্সটাইন।।আর এই শহর ভিবিন্ন গটনা আর ভিবিন্ন কারণে পরবর্তীতে রোম সম্রাজ্যর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।এই কন্সটানটিপল নিয়ে যে কত ইতিহাস আর ঐতিহ্য রয়েছে তা নিয়ে পুরো একটি উপন্যাস লিখে ফেললেও শেষ হবে নাgj।যাহোক এই কন্সটানটিপলকে জয় করার জন্য যে কত সমর বীরদের আগমন গটেছিল তার কোন হিসেব নেই।কেউ তা জয় করতে পারেনি।।কিন্তুু মহানবি সা. বলেছিলেন:::: অবশ্যই তোমাদের হাতে একদিন কন্সটানটিপল বিজিত হবে। বিজয়ী বাহিনীর আমির কত উওম আমির!!!আর বিজয়ী দলটিও কত শ্রেষ্ট!! নিশ্চই মহানবি সা.এর ওয়াদা সত্যে।আর তাই আগমন গটে ইতিহাসেরই আরেক অন্যতম বীর মুহম্মদ আল ফাতিহ।।ফাতিহ তার উপাদি।কন্সটানটিপল বিজয়ের পর তাকে এই উপাদি দেওয়া হয় যার অর্থ বিজেতা।তার পিতা সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ছিলেন অটোমেনের একজন সুলতান।বলা হয়ে থাকে ফাতিহ যে বছর জন্মগ্রহণ করেন সে বছর ঘোড়াগুলো জোরায় জোরায় বাচ্চা প্রসব করে।ফসলের বাড়ে গাছ নুইয়ে পড়ে।সে বছরই কন্সটানটিপলের আকাশে চন্দ্র গ্রহন হয়।পিতা মুরাদের পর তিনি সিংহাসন আহোরন করেন ১৪৪৪-১৪৪৬ পর্যন্ত।এর পর তিনি ক্ষমতাচ্যুৎ হন ভিবিন্ন বিশ্বাসঘাতক কিছু লোকের কারণে যাদের মধ্যে খলিল পাশা,অন্যতম।আবার এই খলিল পাশাই তাকে পুনরায় মসনদে বসায় ১৪৫১ সালে এবং মৃত্যুের আগ পর্যন্ত তিনি বহাল থাকেন।তার শাসনের সময়কাল ১৪৪৪-১৪৮১। তিনি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী আর বিচক্ষন এবং ধর্মানূরাগী।।তিনি সেসময়ের প্রখ্যাত আলেম শায়খ আকশামসউদ্দীনের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্হাপন করেন।। তিনি দ্বিতীয়বার মসনদে বসার পর বাইজেন্টাইন শাসকগন এবং পোপগন তাকে অনভিজ্ঞ বলে তিরস্কার করেন।তারা বলে এবার নাকি তারা উসমানীয়দের ভালোভাবে শিক্ষা দিবে।তারা কী আর জানত এই সেই বীর???তিনি মসনদে বসেই কন্সটানটিপলের প্রতি দৃষ্টি দেন।।এসময় তার বয়স ছিল ২১ বছর।।তাই তাকে অনেকেই অনভিজ্ঞ বলে উপহাস করত।তার অন্যতম বন্ধুর নাম হলো হাসান।।সুলতান জানতেন যে খলিল পাশা বিশ্বাসঘাতক।তাই তিনি তার গুপ্তচর নিয়োগ করে খলিল পাশার বিরুদ্ধে প্রমান আনার জন্য।অতঃপর পোপদের লেখা একটি চিঠি সুলতান পায় যাতে খলিল পাশার সকল বিশ্বাসঘাতগতার বর্ণনা দেওয়া আছে।অতঃপর তিনি খলিল পাশাকে ডাকলেন।খলিল পাশা সেসব অভিযোগ প্রত্যাহার করে।।প্রমান থাকা সও্বেও তিনি খলিল পাশাকে কিছুই বলেন নি।কারণ সেনাবাহিনীতে খলিল পাশার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এখন তাকে হত্যা করলে সেনাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা বেদে যাবে।।আগেই বলেছি সুলতান অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিলেন।তিনি সেনাবাহিনী থেকে খলিল পাশার প্রভাব কমাতে খলিল পাশার অনুগত সকল সৈন্যদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কঠিন শাস্তি দেন এবং সেনাবাহিনী থেকে বের করে দেন।মূল লক্ষ্যই খলিল পাশার প্রভাব কমানো।আর ঐ কাজের পর খলিল পাশার সেনাবাহিনীর উপর কোন প্রকার কর্তৃত্ব রইল না।তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান করলেন তার বন্ধু হাসানকে। ১৪৫১ সালে পুনরায় মসনদে বসার পর সুলতান মুহাম্মদ নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে শুরু করেন এবং কনস্টান্টিনোপল আক্রমণের প্রস্তুতি নেন। বসফরাসের পূর্বে এশীয় অংশে তার পিতামহ প্রথম বায়েজিতআনাদোলুহিসারি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। মুহাম্মদ ইউরোপীয় অংশে রুমেলিহিসারি দুর্গ নির্মাণ করেন ফলে প্রনালীর উপর উসমানীয়দের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপিত হয়। এরপর প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজের উপর করারোপ করা হয়। ভেনিসিয়ান একটি জাহাজ নির্দেশ অমান্য করায় সেটিকে কামানোর গোলার আঘাতে ডুবিয়ে দেয়া হয় এবং নাবিকদের শিরচ্ছেদ করা হয়। ১৪৫৩ সালে মুহাম্মদ কনস্টান্টিনোপল অবরোধ করেন। এসময় তার বাহিনীতে সেনা সংখ্যা ছিল ৮০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ এবং জাহাজ ছিল ৩২০টি। এপ্রিলের শুরুর দিকে শহর অবরোধ করা হয়। অবরোধের সময় উসমানীয়রা উরাবানের নির্মিত প্রকান্ড কামান থেকে গোলাবর্ষণ করে। গোল্ডেন হর্নের প্রবেশপথে বিশালাকার শেকল স্থাপনের ফলে সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে তুর্কিরা বাধার সম্মুখীন হয়। মুহাম্মদ তার জাহাজগুলিকে মাটির উপর দিয়ে টেনে গোল্ডেন হর্নে নিয়ে আসেন। তখন এক যুদ্ধ বিরতির সময় দেখা হয় মুহম্মদ এবং কন্সটানটিপলের সম্রাট।সম্রাট বলে তুমরা এখানে কেন এসেছ??সুলতান বলল আমরা এটা এবার বিজয় করব।।সম্রাট হেসে,,তোমাদের মতো অনেককেই এই কন্সটানটিপলের দেয়াল দেখেছে কিন্তুু কেউ তা বেদ করতে পারেনি এমনকি তুমার পিতাও না।।সুলতান বলল এবার এটারই সমাপ্তি টানতে এসেছি এখানে।অতঃপর তারা চলে গেল।প্রায় ৪৫ দিন অবরোদের পরও কোন ফলাফল না পাওয়ায় সৈন্যরাও তাদের মনোবল হারিয়ে ফেলে।অতঃপর ফাতিহ বুঝতে পারছে না তিনি এবার কী করবেন??এমন সময় আগমন গটে তখনকার বিখ্যাত আলেম আকশামসুদ্দিনের।শায়খ সুলতানকে সালাম দিয়ে তাবুর মধ্যে প্রবেশ করেন। সুলতান তাকে খুব মান্য করতেন।সুলতান সৈন্যদের অবস্হা তাকে বললেন।তিনি বললেন শুন আমি কাল রাএে একটা স্বপ্ন দেখেছি।নবীর সাহাবি আবু আয়ুব আল আনসারি তিনি বললেন আমি কন্সটানটিপল জয়ের জন্য এসেছিলাম।আমি জয় করতে পারি নি কিন্তুু মৃত্যুের আগ পর্যন্ত আমি এখানেই অবস্হান করেছিলাম।মুহম্মদও যেন ফিরে না যায়।।অতঃপর শায়খ সুলতানকে আবু আয়ুব আল আনসারির কবর দেখান এবং সুলতান তীব্রভাবে উৎসাহিত হন।তিনি সৈন্যদের সামনে গিয়ে যুগান্তরি এক ভাষন দেন এবং সৈন্যরাও পুনরায় উজ্জীবিত হয়।আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় আকাশ বাতাস।।। সময়টা ২৯শে মে ১৪৫৩ সাল।।৫৭ দিন অবরোদের পর কন্সটানটিপলের দেয়াল ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয় উসমানীয় বাহিনি।এখানে হাসানের বীরত্নের কাহিনি না বললেই নয়। তিনি অটোমেনের পতাকা হাতে কন্সটানটিপল প্রাসাদের উপর দিকে অগ্রসর হয় কারণ সেখানে পতাকা স্হাপন করতে পারলেই জয় নিশ্চিৎ।।তিনি পতাকা হাতে এগুচ্ছেন আর এক এক করে তীর তার বুকে বিদছে।এভাবে প্রায় ৬৩ টি তীর তার শরীর বিদ্ধ করে।নিচে দাড়িয়ে সুলতান তা স্বচক্ষে দেখছিলেন তার বন্ধুর কৃতৃত্ব।হাসান তীর বিদ্ধ অবস্হায়ই রোমের পতাকা ফেলে দিয়ে সেখানে ইসলামের পতাকা স্হাপন করে।অতঃপর তিনি সেখানেই শহীদ হন।।আর এদিকে কন্সটানটিপলের সম্রাট পরাজয় জেনে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন এবং নিহত হন।আর অবশেষে রচিত হয় মুসলীমদের আরেকটি বীরত্বগাথা সুদীর্ঘ ইতিহাস।সুলতান মুহম্মদ বীরদর্পে কন্সটানটিপল দখল করেন এবং পরবর্তীতে তিনি কন্সটানটিপলকেই রাজধানী ঘোষনা করেন।।আর তিনি ফাতিহ অর্থাৎ বিজয়ী উপাদি পান।।আর যুদ্ধের পর তিনি খলিল পাশাকে ফাসি দেন।।।।। জেনে রাখুন পরবর্তীতে মহম্মদ আল ফাতিহকেউ বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়।।। কন্সটানটিপল বিজয়ের গটনা দেখতে তুর্কি ছবি মুহম্মদ আল ফাতিহ ১৪৫৩ ছবিটি দেখতে পারেন।। ৪ ঘন্টার এই ছবিতে সকল গটনাই সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।।ওহ আর হ্যা ছবিটি বাংলা ডাইবিং পাবেন না ছবিটি বাংলায় সাবটাইটেল করা দেখতে পারেন।।।। পরিশেষে বলতে চাই,,,হতাশ হবার কোন প্রয়োজন নেই।এরকম মহিমান্বিত যুদ্ধ সামনে আবার হবে হয়ত আমরাই পাব নাহয় পরবর্তী প্রজন্ম।।যুদ্ধটি গাজুয়াতুল হিন্দ এবং ইমাম মাহদির সাথে যুদ্ধে যোগ দেওয়া।।মহানবি সা.তার সাহাবিদের উদ্দেশ্য বলেন তুমরা গাজুয়াতুল হিন্দ যুদ্ধ করার ইচ্ছা মনে পূষন কর।কেননা এ যুদ্ধে শহীদ হলে সে জান্নাতি আর গাজী হলে সে যেন সেসময় জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ করল।।সাহাবিরা বললেন ইয়া রাসূল সা. গাজুয়াতুল হিন্দ কী?? তিনি বললেন হিন্দুস্হান এবং আশেপাশের এলাকা সমূহের মধ্যে যুদ্ধ।এ যুদ্ধে বিদর্মীদের সৈন্য বেশি থাকবে।তাদের সৈন্য দেখে মুসলীমদের একদল ভয় পেয়ে পলায়ন করবে আরেক দল আল্লাহর উপর ভরসা করে যুদ্ধ করবে আর তারাই জয়ী হবে।।।।।এর সম্পর্কে ইচ্ছা হলে বিস্তারিত জানতে পারেন।। [প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায় বিচার] [প্রতিষ্ঠিত হোক স্বাধীনতা] সমাপ্ত........................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হস্তী বাহিনীর ধ্বংসের ইতিহাস
→ সামুদ জাতির ইতিহাস
→ ইতিহাসের ভাষায় জঙ্গী π
→ ইসলামের ইতিহাস থেকে সত্যিই কী রক্ত আর তরবারির গন্ধ আসে?
→ সুলতান সুলেমান-"সিরিয়াল" ও ইতিহাস...
→ ভালোবাসা দিবসের ইতিহাস
→ মুসলীমদের বীরত্বগাথা ইতিহাসের সোনালি অধ্যায় থেকে
→ নোবেলের যত ইতিহাস
→ পাগল ছেলেটা (গল্পের ইতিহাস)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...