Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/gj-con.php on line 6
এক কিশোরের গল্প "ভয়"

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

এক কিশোরের গল্প "ভয়"

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান কাব্য চৌধুরী•_•নীড়-হারা-পথিক (৩২২৪ পয়েন্ট)



আমার বয়স ১৩ তখন। আমি একটা হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিলাম। কোরানের মধ্যে কিছু সূরার আমল লেখা থাকে; সেখানে একটা আমলে পেয়েছিলাম যে সূরা জ্বীন ৭০০বার পাঠ করলে সমগ্র জ্বীন জাতি তার বশীভূত হয়। সেই বয়সে অনেকটা কৌতূহলের বশেই তাই আমিও আমল শুরু করেছিলাম তাছাড়া দিনটা বৃহস্পতিবার ছিলও আর পরের দিন উস্তাদকে সবক শোনানোর ঝামেলাও ছিলনা বলে সেদিন দুপুরের পর থেকেই আমল শুরু করেছিলাম, মোটামুটি রাতের নয়টা পর্যন্ত প্রায় চারশো বারের মতো পড়ে ফেলেছিলাম, বাড়ি ফিরার সময় আমার কোরান শরিফটা বুকে নিয়ে আরেক হাতে তসবি নিয়ে সূরাটা পড়তে পড়তে বাড়ির কাছে চলে এসেছি প্রায় । সামনের মোড় পেরিয়েই বাড়ি , হঠাত আমার চেয়ে প্রায় ৩গুন লম্বা একটা লোকের মুখোমুখি হলাম আমি ! লোকটা আমার তসবি ধরা হাতটা চেপে ধরে প্রশ্ন করেছিল তুই কি পড়তাছছ? অন্ধকারের মধ্যেও লোকটার চোখ, মুখ, চেহারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল উজ্জল ভাবে!(বলে রাখা ভালও লোকটার গায়ে এমন একটা পোশাক ছিলও যে ঐরকম পোশাক আমি কোনদিন কোনও মানুষকে পড়তে দেখি নাই।) মোটা মোটা ভ্রু, কয়লার আগুনের মতো চোখ দুটি দেখে আতংক স্থীর হয়েছিলাম হয়তো সেসময়। আমি তার প্রশ্নের উত্তরে এমন গগনবিদারি চিৎকার দিয়েছিলাম যে, যদি আমার চিৎকারের অনুভুতি তার উপর কাজ করতো তাহলে আমি নিশ্চিত তার কানের পর্দা ফেঁটে যেতো। আমি চিৎকার করার পর লোকটা আমার হাত ছেড়ে দিয়ে বলেছিল, যা চলে যা এখান থেকে; আর কোনদিন এইসব পড়বিনা। ছাড়া পাওয়া মাত্র আমি এক দৌড়ে ঘরের দরজার সামনে গিয়ে পরেই অজ্ঞান। আর অজ্ঞান হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কোরান শরিফটা বুক থেকে ছাড়িনি । পরের দিন থেকে আমার ভীষণ জ্বর শুরু হয়েছিলো এরপর টানা ১মাস পর্যন্ত ভুগেছিলাম জরেই। প্রায় ৩ বছর পর আমার বয়স তখন ১৬। একদিন একটি ছেলে একাই এসে আমাদের মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিল। তার নাম ছিলো মোক্তার । দেখতে আমাদের বয়সিই ছিল। সে আসার পর থেকে তার আচরণে অদ্ভুত কিছু ব্যাপার লক্ষ্য করে সবাই । কারও সাথে মিসতোনা আর সবসময় একা থাকত, আমাদের খাওয়ার সময় সে কোথায় যেনো চলে যেত, জিজ্ঞেস করলে বলতো আমি বাহিরে খেয়েছি এখানকার খাবার আমার ভাল লাগেনা, এমন আরো কিছু আজব ব্যাপার ছিল তার চরিত্রে। যাহোক মূল ব্যাপারে আসি, আমাদের উস্তাদের কড়া নিষেধ ছিল রাত ১১টার পর কারও টয়লেটে যাওয়ার দরকার হলে সে যেন একা না যায়, প্রয়োজনে অন্য কোনও ছাত্রকে যেন অবশ্যই সাথে নিয়ে যায়। একদিন রাত বারোটার দিকে আমার এক বন্ধু আওলাদ হোসেনকে নিয়ে টয়লেটে গেলাম; গিয়েতো দুজনেরই চক্ষু ছানাবড়া! দেখি মসজিদের বারান্দায় বসে মোক্তার কোরান পড়তেছে! টয়লেটে আসার সময় নিজের চোখে দেখেছি যে, ও হাসান ভাইয়ের সাথে ঘুমাচ্ছে! ২জায়গায়ই এক জনকে দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম, পরে মোক্তারকে ডাক দিয়ে বললাম তুমি এখানে আসলা কিভাবে? (তাকে যে মাদ্রাসায় ঘুমাতে দেখেছিলাম ব্যাপারটা দুজনেই চেপে গিয়েছিলাম ভয়ে) মজার ব্যাপার হলোও মোক্তার আমাদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সে হাতে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করেছিলো আর বলছিল ভাই তোমরা হুজুরকে কিছু বলো না উনি জানলে আমাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দিবে, পরে আমি বললাম, ঠিক আছে বলবোনা তুমিও আর এমন করোনা। পরবর্তীতে আমি কথা রাখলেও আওলাদ কথা রাখতে পারেনি। সে পুরো ঘটনার বৃত্তান্ত অনেকের কাছে প্রকাশ করে দিয়েছিল। এরপর ব্যাপারটা ২কান থেকে ৬কান হতে বেশী সময় লাগে নাই কিন্তু আমাদের সবায় যে ঘটনাটা যেনে গিয়েছিলাম এটা মোক্তার জানতো না। তার কিছুদিন পর আমাদের সকলের সিনিয়ার ইমরান ভাই আমাদের উস্তাদের কাছে ব্যাপারটা জানান আর তিনি আরো কয়েকবার নিজে পরীক্ষা করে দেখেছিলেন যে দরজা বন্ধ থাকা অবস্থায় মোক্তার গায়েব সেটাও জানান। পরে হুজুর মাগরিব নামাজের পরে ইমরান ভাইকে দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেন যে, আজ সবায় যেন জেগে থাকি আজ মোক্তারকে ধরা হবে হাতেনাতে! রাত ৯:৩০ মিনিটে খেয়ে সবায় ১০:৩০ এর মধ্যে শুয়ে ঘুমানোর ভান করে পরেছিল। ছোট ২/১জন ছাড়া প্রায় সবায়ই জেগে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছিলাম মোক্তারের কান্ড সরাসরি প্রত্যক্ষ করার জন্য। ঠিক রাত ১:২০মিনিটে আমার চোখ লেগে আসছিল এমন সময় ডিমলাইটের আলোয় স্পষ্ট দেখলাম মোক্তারের বিছানা থেকে একটা আলো প্রকাশিত হচ্ছে পরে আলোটা প্রায় মানবের আকৃতি ধারণ করে ধীরে ধীরে দরজার দিকে যেতে দেখছিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম যে ভুল দেখছিনা তো? আমার পাশের বিছানার আওলাদকে কনুই দিয়ে খোঁচা দিলাম, ও ইশারায় আমাকে চুপ থাকতে বললো। আশ্চর্য জনক ব্যাপার হলোও মোক্তারের দেহটা আমরা তখনও শুয়ে থাকতে দেখছিলাম ওর বিছানায়! মানব আকৃতি যুক্ত আলোটা যখন দরজা ভেদ কর বেড়িয়ে গেল তখন ইমরান ভাই আর হাসান ভাই আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাদের বেড এর তোষক দিয়ে ঘুমন্ত মোক্তারকে চেপে ধরলো! এর মধ্যে আমাদের উস্তাদ লাইট এর সুইচ দিয়ে দিল। পুরো মাদ্রাসার মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়ে গেলো আর অধির আগ্রহে সবাই অপেক্ষা করছিলাম ইমরান ভাই আর হাসান ভাইয়ের তোষকের নিচে কি আছে সেটা দেখার জন্য। তারা দুজনই তখন তাদের তোষক দিয়ে মোক্তারের বিছানা চেপে ধরে ছিল। পরে হুজুর এসে বললো তোষক সরাতে; তোষক সরানোর পর সবায় দেখলাম বিছানা মোক্তার শূন্য!!! সবায় অবাক হয়ে বসে রইলাম আর ভাবতে লাগলাম এটা কি হলো? তারপর থেকে আর আমরা কোনদিন মোক্তারকে দেখতে পাওয়া যায়নি কোথাও। মোক্তারের ঘটনার ১বছর পরের কথা। শুক্রবার দিন সকাল ৭টা পর্যন্ত ক্লাস হয় পরে ছুটি হয়ে যায়; আর সেই দিনটাও শুক্র বার ছিল, ছুটি দিয়ে হুজুর একটু বাহিরে গিয়েছিলেন । এর মধ্যে আমি আওলাদ সহ ৬/৭জন বন্ধু গল্প করছিলাম, হঠাৎ আওলাদ চেচিয়ে উঠে বললো এই আমার মাথায় কে মারলো? আমি মারের আওয়াজ শুনলেও কে মেরেছে দেখি নাই, ভেবেছিলাম আমাদের মধ্যেই কেউ হয়তো দুষ্টামি করছে তাই ব্যাপারটা পাত্তাও দেই নাই। ৪/৫মিনিট যেতে না যেতেই দেখলাম আওলাদ শুধু চেঁচাচ্ছে আর বলছে আমারে মাইরা ফালাইলো আমারে বাঁচাও। আমরা অবাক হয়ে দেখছিলাম ওর নাকে মুখে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন কিন্তু আঘাত কারিকে আবিষ্কার করতে পারছিলাম না। আঘাতের আওয়াজ শুনছি, চিহ্ন দেখছি অথচ আঘাত কারিকে দেখতে পারছিলাম না, কিভাবে সাহায্য করবো তা ও বুঝতে পারছিলাম না। এরমধ্যে দেখলাম মেঝের উপর দিয়ে ওকে যেনো কেউ টেনে হিঁচড়ে দরজারদিকে নিয়ে যাচ্ছে, বুঝতেই পারি নাই যে এরচেয়ে অবাক করা কিছু দেখা আমাদের কপালে ছিলও। দেখলাম আওলাদ যখন দরজার প্রায় কাছে পৌঁছে গেছে তখন সে ধীরে ধীরে শূন্যে ভেসে উঠছে!! আওলাদ যখন চিৎকার করে বললো আমারে লইয়া গেলগা! আমারে লইয়া গেলগা!! তখন আমি সহ আমার আরো ৩ বন্ধু দৌড়ে গিয়ে ওর দুহাত টেনে ধরে থামানোর চেষ্টা করছিলাম। কি পরিমান অসুরিক শক্তি ওকে টানছিল দেখতে না পারলেও তার শক্তি অনুভব করছিলাম।এর মধ্যে হুজুর এসে এই ঘটনা দেখে কালবিলম্ব না করে ৩৩ আয়াতের আমল শুরু করে দিলেন; আমলের সাথে সাথে সেই শক্তির মাত্রা কমতে কমতে এক সময় শেষ হয়েছিল। আওলাদের সুস্থ হতে পুরো এক সপ্তাহ অপেক্ষা করা লেগেছিল। সুস্থ হওয়ার পর আওলাদ আমাদের মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১২৫৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটা সাধারণ গল্প ।
→ ❄️সাহাবা গল্প❄️
→ আইন জালুত - এক চিতাবাঘের গর্জন
→ সাদ ও নিশানের গল্প পর্ব - ৪
→ চাষাড়ে বুদ্ধি প্রথম পর্ব(সাথে একটি ধাধা)
→ মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের আলোকে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব এবং এক নাস্তিকের প্রশ্নের দাঁতভাঙা জবাব!!!
→ গল্পটা কাল্পনিক নাকি বাস্তবিক
→ পুরুষরা একাধিক স্ত্রী গ্রহন করতে পারলে নারীরা কেন একাধিক স্বামী গ্রহণ করতে পারবেনা??
→ জীবনের এক কঠিন সত্যি
→ বাসর রাতের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...