Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/gj-con.php on line 6
শাহবানুর গল্প

গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

শাহবানুর গল্প

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ... (৩৩ পয়েন্ট)



৫ মোল্লাবাজি মাথায় ছাই নিয়ে বিরক্ত হয়ে বিয়ের মজলিশ ছেড়ে বাসায় ফিরে এলো শাহরবনুর উপরে ঝাল ঝাড়তে। ঘরের দরজায় না পৌঁছতেই চীৎকার করে বললো: শাহরবনু! তাড়াতাড়ি আয়। দেখি চোখের পানিতে বাটি ভর্তি করেছিস কিনা। শাহরবনু তাড়াতাড়ি লবণাক্ত পানি ভর্তি বাটি নিয়ে এলো। মোল্লাবাজির হাতে দিল। মোল্লাবাজি বাটির পানি মুখ দিয়ে চেখে দেখলো লবণাক্ত। বাটির দিকে তাকিয়ে দেখলো একেবারে স্বচ্ছ। বললো: বিচিগুলো কী করেছিস? শাহরবনু বললো: সব আলাদা করেছি। এই বলে মোল্লাবাজির হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল ভেতরে। দেখালো আলাদা আলাদা করে রাখা বিচিগুলো। মোল্লাবাজি আশ্চর্য হয়ে গেল। মনে মনে বললো: কেউ যদি প্রশান্ত মনে ধৈর্যের সাথেও এই কাজ করে তাহলেও তার অন্তত এক মাস সময় লাগার কথা। কিন্তু শাহরবনু কান্নাকাটি করতে করতে কী করে এতো তাড়াতাড়ি সব কাজ করে ফেলল? উপায় না দেখে মোল্লাবাজি শাহরবনুকে বলল দ্রুত ঘর ঝাড়ু দিতে। মনে মনে বলল: এই মেয়ের কাণ্ড কারখানা তো কিছুই বুঝে আসছে না। মোল্লাবাজির মেয়ে তাকে বলল: নিশ্চয়ই কেউ শাহরবনুকে সাহায্য করেছে। মোল্লাবাজি বলল: মনে হয় ওই হলুদ গরুটা মানে শাহরবনুর মা। সে-ই শাহরবনুকে কূপ আর রাস্তা বাতলে দেয়। এই গরু যতদিন জীবিত থাকবে শাহরবনু ততদিন আমাকে ধোঁকা দিয়েই যাবে। সুতরাং গরুটাকে মেরে ফেলতে হবে। এই বলে মোল্লাবাজি জামা কাপড় পাল্টে উঠে পড়লো এবং সোজা গিয়ে হাজির হয়ে গেল হেকিমের কাছে। হেকিমের কাছে গিয়ে বলল: রাতে যেন বাসায় আসে। তাকে দেখে যেন বলে মারাত্মক অসুখ হয়েছে। এই অসুখের চিকিৎসা হলো হলুদ গরুর গোশত। এই বলেই মোল্লাবাজি ফিরে গেল বাসায়। রাতে তার স্বামী বাসায় ফেরার আগেই অসুখের ভান করে শুয়ে পড়ল। শুয়ে শুয়ে উহ...আহ... আল্লাহ মরে গেলাম... ওহ.. আমার কোমর... আ..হা! হা... হা... বুকের ব্যথায় মরে গেলাম... কেউ কি নেই এখানে... আমার চীৎকার কি কারো কানে যায় না... ইত্যাদি ভান করতে শুরু করলো। মোল্লাবাজির স্বামী বাসায় ফিরে বৌয়ের এই অবস্থা দেখে কী করবে না করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। তাড়াতাড়ি গভযাবন ফুল আর এনাব জ্বাল দিয়ে চা তৈরি করে দিল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। ব্যথা একটুও কমলো না। পরদিন মোল্লাবাজি তার চেহারায় একটু হলুদ মাখলো আর তোষকের নীচে শুকনো মচমচে রুটি রাখলো। রাতে স্বামী ঘরে ফিরতেই খাটে উঠে এপাশ ওপাশ গড়াতে লাগলো আর শুকনো রুটি ভাঙার শব্দ হচ্ছিল পিঠের নীচ থেকে। মহিলা চীৎকার করে কান্নাকাটি করে বলতে লাগলো: আল্লাহ আমার শরীরের হাড্ডিগুলোও ভেঙে যাচ্ছে। স্বামী এই অবস্থা দেখে তো হতবাক হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি দৌড়ে গেল হেকিমের কাছে। হেকিম মোল্লাবাজির শিয়রে আসতেই মোল্লাবাজির কান্নাকাটি বেড়ে গেল। হেকিম ভালো করে পরীক্ষা করে স্বামীকে বললো: এই রোগের একমাত্র ওষুধ হচ্ছে হলুদ গরুর গোশত। আজ রাতের মধ্যে কিংবা কাল যদি জোগাড় করতে পারো তো ভালো না পারলে তোমার স্ত্রীর দাফন কাফনের ব্যবস্থা করতে হবে। মোল্লাবাজির স্বামী খুশি হয়ে গেল,বললো: “আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি এজন্য যে আমাদের নিজেদেরই হলুদ গরু আছে। কাল সকালেই ওই গরুটা জবাই করবো এবং গোশতগুলো আমার স্ত্রীকে দেব রান্না করে খাবার জন্য”। শাহরবনু এসব কথা শুনে ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লো। কারণ এই হলুদ গরু ছিল তার মা। কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না কীভাবে মাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করবে। অবশেষে বললো: দৈত্যের কাছে যাওয়াটাই ভালো। দৈত্য সুন্দর একটা উপায় বাতলে দেবে। শাহরবনু ওই রাতেই সবাই ঘুমিয়ে পড়লে পা টিপে টিপে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে সোজা চলে গেল দৈত্যের কূপে। দৈত্যকে সালাম করে সব ঘটনা তাকে খুলে বললো। দৈত্য বললো: দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। দ্রুত ঘরে ফিরে যাও। হলুদ গরুটাকে নিয়ে এসে মরুভূমিতে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে হুবহু ওই গরুর মতো আরেকটি গরু দিয়ে দিচ্ছি। এই গরুটাকে খোঁয়াড়ে নিয়ে বেঁধে রেখো! সকালে যখন কসাই এসে এই গরু জবাই করবে তুমি তার গোশত খাবে না। আর হাড্ডিগুলো নিয়ে গিয়ে খোঁয়াড়ে দাফন করে রাখবে। শাহরবনু দ্রুত ঘরে ফিরে গিয়ে তার মাকে নিয়ে এল মরুভূমিতে। তাকে ছেড়ে দিয়ে দৈত্যের কাছে যেতেই দৈত্য আরেকটা গরু দিলো হুবহু তার মায়ের মতো। ওই গরু নিয়ে তার মায়ের জায়গায় বেঁধে রাখলো। তখনো সকাল হয় নি। ফজরের আজান হতে আরও ঘণ্টা তিনেক বাকি আছে। শাহরবনু তাই ঘুমিয়ে পড়লো নিশ্চিন্তে। ভোরে শাহরবনুর বাবা তাড়াতাড়ি করে কসাই নিয়ে এল। কসাই খোঁয়াড় থেকে হলুদ গরুটাকে বের করে এনে জবাই করলো। গরুর গোশতের কাবাব বানিয়ে খেলো সবাই। শুধু শাহরবনুই খেল না। যতই তাকে খাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করা হলো কিছুতেই সে খেল না। সে বরং উঠে গিয়ে গরুর হাড্ডিগুলোকে মাটিতে পুঁতে রাখলো খোঁয়াড়ের ভেতর। মোল্লাবাজি গরুর কাবাব খেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার ভান করলো। মনে মনে খুশি এই ভেবে যে এখন আর শাহরবনুকে সাহায্য করার কেউ নেই। কিন্তু সে তো জানে না শাহজাদার চোখে আটকে পড়ে গেছে শাহরবনু। এত বেশি ভালোবেসে ফেলেছে তাকে যে শাহজাদা শাহরবনুর দেখা না পেয়ে তার জুতোটা বালিশের নীচে রেখে ঘুমায় আর ওই জুতার ময়লা সুরমার মতো চোখে লাগায়। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সাদ ও নিশানের গল্প পর্ব - ৪
→ গল্পটা কাল্পনিক নাকি বাস্তবিক
→ বাসর রাতের গল্প
→ অসমাপ্ত গল্প
→ সত্যিকার ভুতের গল্প
→ রাক্ষস এক বাজপাখির গল্প।
→ হাদিসের গল্পঃ কুষ্ঠরোগী, অন্ধ ও টেকোর কাহিনী
→ লোভী বুড়ির গল্প।
→ হাদিসের গল্পঃ মুমিনের কারামত
→ =||একটি নতুন করে সাজানো গল্পঃ১ঃ||=

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...