Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/gj-con.php on line 6
নরপিশাচ বুখেনওয়ার্ল্ডের ডাইনি

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

নরপিশাচ বুখেনওয়ার্ল্ডের ডাইনি

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Jubayer Ahmed (২৩৯ পয়েন্ট)



মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব তবে মানুষের সকল কাজই কিন্তু সেরা হয় না। পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে যারা পৃথিবীকে আলোকময় করেছে আবার এমন কিছু ব্যক্তির আবির্ভাব পৃথিবীতে ঘটেছে যাদের কাজ ও কর্ম দ্বারা পৃথিবী কলঙ্কিত হয়েছে। তবে সুখের সাথে একথা বলা যায় যে, তাদের সংখ্যা খুব বেশী নয়। যে সকল ব্যক্তির কর্মে মানবতা কলঙ্কিত হয়েছে তাদের মধ্যে পুরুষ যেমন আছে তেমনি আছে নারী। আর তেমনই একজন নারী হচ্ছেন ইলচ কোচ। এই নারী এতটাই জঘন্য ছিলেন যে, তাকে সম্বোধন করা হয় বুখেন ওয়ার্ল্ডের ডাইনি হিসেবে। ইলচ কোচ ছিল জঘন্যতম একজন খুনি মহিলা। সে কারাগারে বন্দীদের হত্যা করতো এবং তাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংরক্ষণ করতো। ইলচ কোচ ১৯০৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তারিখে জার্মানির ডেরেসডেনে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা ছিল কারখানার একজন কর্মচারী। তিনি শৈশবে একজন সদা হাস্যোজ্জল বালিকা ছিলেন। জার্মানি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে ১৯৩২ সালে তিনি নাজি পার্টিতে যোগদান করেন। কোচের স্বামীর নাম ছিল কার্ল ওট্টো। যিনি পেশায় ছিলেন একজন কারারক্ষী। কোচ নিজেও ছিলেন ক্যাম্পের একজন সুপার ভাইজার। ১৯৩৬ সালে বার্লিনে তিনি এক ক্যাম্পের সুপার ভাইজার ও নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি কার্ল ওট্টোকে বিবাহ করেন। ১৯৪০ সালে কোচ একটি ইনডোর ক্রীড়া কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। এই সময় পর্যন্তই কোচের ভাল সময় এবং এর পরের গল্পগুলো শুধুই অন্ধকার জগতের। কোচ যখন ক্যাম্পের সুপারভাইজার ছিল তখন সে এক হৃদয় বিদারক ও নির্মম খেলায় মেতে উঠে। কোচের দায়িত্বে থাকা ক্যাম্পে যখন কোন নতুন বন্দী আনা হতো তখন সে সেই বন্দী গুলোকে সুন্দরভাবে পরখ করতো এবং দেখে রাখতো। কোচ সকল বন্দীদের দেখে যে সকল বন্দীদের শরীরে ট্যাটু অংকিত থাকতো এবং যাদের গায়ের রং ভাল তাদেরকে আলাদা করে রাখতো। এরপর এক সময় কোচ মেতে উঠতো পৈশাচিক নেশায়। তার দেখা যেসকল বন্দীদের শরীরে ট্যাটু ছিল তাদেরকে সে নির্মম ভাবে হত্যা করতো এবং তাদের চামড়া সমূহ তাদের গা থেকে ছাড়িয়ে নিত তারপর এই বর্ণিল চামড়াগুলো তার কাছে সংরক্ষণ করতো। এছাড়াও সে যে সকল বন্দীদের চামড়া সুন্দর তাদের সে হত্যা করতো এবং তাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগ ুলো সে সংরক্ষণ করতো। তবে তার সবচেয়ে প্রিয় শখ ছিল সুন্দর চামড়া ওয়ালা বন্দীদের হত্যা করে তাদের শরীরের চামড়া দিয়ে কুশন কভার, সাইড ল্যাম্প, বালিশের কভারসহ অনন্যা জিনিস তৈরি করা। সে এই সকল বন্দীদের শরীরের চামড়া দিয়ে বালিশের কভার, বিছানা চাদর, টেবিলের কাপড়, কুশন কভার ইত্যাদি তৈরি করেছিল। কোচ নিজে ক্যাম্পের সুপারভাইজারের দায়িত্বে থাকা এবং তার স্বামীও একই ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকায় সে এই জঘন্য কাজগুলো সহজেই করতে পেরেছিল। দীর্ঘ দিন এভাবে নির্মমতার পর কুখ্যাত এই মহিলাকে গ্রেফতার করা হয় ১৯৪৩ সালের ২৪ অগাস্ট। কিন্তু তার এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের কোনও প্রমাণ তখন পাওয়া যায়নি। ফলে সঠিক প্রমাণের অভাবে জেল থেকে ছাড়া পায় কোচ কিন্তু তার স্বামী দোষী বিবেচিত হন এবং তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়। জেল থেকে বেরিয়ে কোচ চলে যায় লুদুইগবার্গ শহরে। সেখানে বসবাস করার সময় আমেরিকার সৈন্যরা তাকে আবার গ্রেফতার করে ১৯৪৫ সালের ৩০ জুন। পুনরায় গ্রেফতার হবার পর আবার বিচারের মুখোমুখি করা হয় কোচকে। দ্বিতীয়বার বিচারের সময় প্রকাশিত হতে থাকে তার নানান কুকীর্তির কথা। তিনি স্বীকার করেন তার নানান লোমহর্ষক কাহিনীর কথা। পুলিশ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে মানুষের চামড়া দিয়ে তৈরি তার বিভিন্ন প্রকারের জিনিস সমূহ। বিচারে কোচ দোষী বিবেচিত হওয়ায় ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। কিন্তু নিজের প্রতি অভিমান ও জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা হয়ে জেলে থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন রোচ। আর এভাবেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় নরপিশাচ বুখেনওয়ার্ল্ডের ডাইনি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডাইনির রহস্য Last part
→ ডাইনির রহস্য part 3
→ ডাইনির রহস্য part 2
→ ডাইনির রহস্য part 1
→ ডাইনি
→ বাংলাদেশের নরপিশাচ এরশাদ শিকদার (পুনরায়)
→ খুলনার নরপিশাচ এরশাদ শিকদার
→ GF না তো যেন ডাইনি
→ ভূত এফ এম র কাহিনী (ডাইনির খেল) পর্ব ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...