যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

পাতাল পুরীর বদ্ধ কুটিরে

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হাদিদ (৭৭ পয়েন্ট)



সাব্বির আহমাদ ••••••••••••••• ছয়!ছয়!ছয়! প্রত্যেক বলেই ছয় হাকাচ্ছে সবুজ।সবুজের মিনি ফিল্ডে ক্রিকেট ম্যাচ চলছে। আজকের দিনটা নাকানি চুবানি খায়।বাউন্ডারি ওভার বাউন্ডারির প্রদর্শনী চলে। পরবর্তী ওভারে বল করতে গেল রিপন। প্রথম বলটা হাওয়ায় উড়িয়ে দিলো সবুজ।গগণ স্পর্শী শর্ট।আকাশে ভেসে ভেসে অবশেষে বলটা পতিত হলো একটা ঝুপরিতে,তাতে বলটা হারিয়ে যাওয়া অবান্তর নয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া গেল না পিটুনী খাওয়া বলটা।গতকাল কেবল ছোট মামার কাছে বায়না ধরে কিনেছিলো বলটা।একটা ম্যাচ ও খেলা হয়নি। নতুন বলটা হারিয়ে মন খারাপ হলো সবুজের। সবুজ অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।তেমনি মেধাবী তেমনি চতুর। দুরন্তপনায় ওর জুরি মেলা ভার। ঝুপরির মধ্যে আরেকবার খুঁজতে গেল সবুজ। তন্নতন্ন করে খুঁজলো।পাতিপাতি করে ফেললো সম্পূর্ণ ঝুপরিটা।খোজার কোনো ফাঁকে ওর পকেট থেকে স্টিলের চাবির রিংটা পড়ে টং করে একটা শব্দ হলো।অবাক হলো সবুজ।মাটির উপর চাবি পতিত হলে এমন শব্দ!মাটি পরীক্ষা করলো।এটা আদৌ কোনো মাটি নয় লোহার পাত।পায়ের কিনারা ধরে সজোরে টান মারতেই বিস্ময়ে বিমূঢ় সবুজ।পায়ের নীচে থেকে সুরঙ্গ নেমে গেছে। অন্ধকারের দৌরাত্ম্যে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সবুজের অবস্থা তখন বর্ণনাতীত।এমন রোমাঞ্চকর ঘটনা দেখে ওর সর্বাঙ্গ কাপছে। একাকী সুরঙ্গে প্রবেশ করার সাহস করলো। টিনের সাতটা টান মেরে খুলে ফেললো।তারপর নামতে হবে অজানা মিশনে।মনে মনে বললো সবুজ। রিপনের প্রতিক্রিয়া সবুজের থেকে ভিন্ন হলো না।আনন্দে লাফিয়ে উঠে বললো-চল সবুজ এখনই দেখে আসি সুরঙ্গে কি আছে? সবুজ বললো এখন গেলে জানাজানি হ এ যেতে পারে। তারচেয়ে বরং রাতে যাবো,কেউ জানবে না। সেদিন রাত আটটা। নির্জন পথঘাট। নিস্তব্ধ পরিবেশ। হুতুম পেঁচার ডাকে ভুতুড়ে আবহ।বাশবনের নীচে জ্যোৎস্নার থোকা থোকা আলো আর রাতের আঁধার লুটোপুটি খাচ্ছে।এই বাঁশ বনের মধ্য দিয়ে দ্রুত গতিতে হেঁটে যাচ্ছে সবুজ ও রিপন।অজানাকে জানার তীব্র প্রত্যয় ঠিকরে পড়ছে ওদের চেহারা থেকে। ঝুপড়ির মধ্যে পৌঁছে অতি সন্তর্পণে লোহার পাঁচটি তুলে ফেললো সবুজ।ভূ-গর্ভ থেকে হালকা আলোকচ্ছটা বের হয়ে আসছে।বিস্মিত হলো সবুজ।তাহলে কি পাতাল কক্ষে মানুষের অস্তিত্ব আছে। কৌতুহল দমন করতে পারলো না সবুজ।রিপনকে পাহারায় রেখে বিড়ালের মত পা ফেলে লোহার সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলো। আলোকরশ্মি ক্রমেই উজ্জ্বল হয়ে আসছে।আট ধাপ সিঁড়ি অতিক্রম করে ছোট্ট একটা করিডোর পেলো।কড়িডোরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পাতালপুরীর বদ্ধ কুটির।চারজন বপুধারী লোক হাতি , ঘোড়া ইত্যাদি প্রাচীন যুগের ব্যবহৃত প্রত্নসম্পদ ঘুটে ঘুটে কাটুনে রাখছে।পাশে কোর্ট টাই পরিহিত এক ভদ্রলোক তাদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। সবুজের বুকটা অজানা আশংকায় শীতল হয়ে গেলো। নিশ্চয়ই এরা চোরাকারবারি দলের সদস্য। দেশের সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেয়া যায় না। তাৎক্ষণিক সবুজ পাতার কক্ষ ত্যাগ করে ছুটলো ছোট মামার উদ্দেশ্য।রিপন ওর সাথী।সবশুনে হতভম্ব হয়ে গেলেন রাজু আহমেদ। তিনি তাৎক্ষণিক থানায় ফোন করলেন। দ্রুততার সাথে সেখানে উপস্থিত হলেন ইন্সপেক্টর ইমরান ফরহাদ। তাদের কাছে পাওয়া গেল আগ্নেয়াস্ত্র সহ নাশকতামূলক নানা উপকরণ। কাঠের বড় বড় কার্টুনে পাওয়া গেল প্রত্নসম্পদের বিপুল কিয়দাংশ স্বর্ণ ও রৌপ্য। ইনস্পেক্টর ইমরান ফরহাদ সেগুলো কে পুলিশী হেফাজতে রেখে সরকারের কাছে জমা দিলেন।এর ফলে দেশের ঐতিহ্য হলো জাতীয় সম্মানী পুরস্কার।আনন্দের ফল্গুধারা বইতে লাগলো ওদের কিশোর চিত্তে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৪৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হাসপাতালের ভয়ংকর ভুত
→ হাসপাতালে র ভুত
→ ভৌতিক হাসপাতাল
→ পাতাল পুরিতে
→ চক্রবদ্ধ সমস্যা
→ পাতালের মাতুল
→ ভালোবাসা যা অল্পেই সীমাবদ্ধ
→ এক রাতে হাসপাতাল হতে!!!!
→ বিয়ে যখন হাসপাতালে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...

X