গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

কর্ণেল এবং ...১৬

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Farhan Hossain (৩০৭৭ পয়েন্ট)



********************************************** ‌ ‌ ‌ কর্ণেল এবং ... প্যাসটিশঃরনিন পর্বঃ১৬-দর্শন *********************************************** কর্ণেল সিরিজ অবলম্বনে রনিন এর প্যাসটিশ। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে কল্পবিশ্ব ওয়েবসাইটে । কর্ণেল এর এই অভিযান শুরু হয় একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানীর নিখোঁজের মাধ্যমে।এই অভযানে কর্ণেল এর সাথে ছিলেন জয়ন্ত, কর্ণেল এর বন্ধু আনা , ডিটেকটিভ হালদার । প্রত্যেক পদে পদে বিপদের হাতছানি।হাসি মজা আবার চমক ।সব মিলিয়ে প্রায় কর্ণেল এর স্রষ্টার মতোই লেখা । আশা করি ২৯ পর্বের এই উপন্যাসটি পড়তে সবার ভালোই লাগবে। উপন্যাসটি সারা মাস ধরে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে গল্পের ঝুড়িতে। এছাড়াও আরও বিভিন্ন স্বাদের গল্প উপন্যাস নিয়ে আমি ফারহান থাকব গল্পের ঝুড়িতে আপনাদের সাথে । এরপর কর্ণেল এর আরেকটি উপন্যাস আসবে ।একে একে আসবে প্রফেসর শঙ্কু, ফেলুদা,ঘনাদা, ও আরো অনেক কিছু সবাইকে স্বাগতম জানিয়ে শুরু হচ্ছে কর্ণেল এর এবারের পর্ব। ************************************** আমরা মাল্টাদ্বীপ ছেড়ে এবার চলেছি কমিনোর দিকে। জলকেলি করা ছাড়া এই দ্বীপটাতে কিছুই করার নেই বিশেষ। এদিকে আমাদের হাতে সময় খুব কম, তাই জলে দাপাদাপি করার বিশেষ সুযোগও নেই। তবুও এতদূর এসে এখানকার ‘নীল লেগুন’ দেখবো না? তাছাড়া এখানে আছে আরও দুটো সুন্দর বিচ। দ্বীপে গাড়ি নিয়ে ঢোকা বারণ, হোটেল আছে মাত্র একটাই। কোথাও বিশেষ কোনও জনবসতিও নেই। এলেইন গাড়ি বাইরে রেখে আমাদের সঙ্গেই বিচে নেমে পড়লো সোজা। আমার চক্ষু ছানাবড়া। এরকম স্বচ্ছ নীল জল এর আগে দেখিনি, জলের নিচে সাদা বালি পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। যেন একখানা বিশাল নীল আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। হালদার মশাইয়ের মুখেও কোনও কথা নেই। তিনি শুধু একবার চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করেছিলেন, ‘আহ, শান্তি-’। আনা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ‘এইখানে একসময় অজস্র বোট আর প্রমোদতরণী ভেসে বেড়াত। ‘সামুদ্রিক বিভীষিকার’ ভয়ে এখন সব শূন্য। এইখানে দ্বিতীয়বার জন্তুটাকে দেখা যায়। সেই থেকে দ্বীপখানা পুরোপুরি খালি।’ আমার মস্তিষ্কে হঠাৎ প্রাণীটার ভয়াল চেহারা যেন উঁকি মেরে গেল। সেই সঙ্গে কানে ভেসে এলো সেই ঘড়-ঘড়-ঘড় শব্দখানাও। কর্নেল হঠাৎ আমাদের সবাইকে চমকে দিয়ে বাইনোকুলার নিয়ে দৌড় মারলেন দ্বীপের দক্ষিণপূর্ব দিকে। ‘ও মশাই, আবার কোথায় চললেন-’ হালদারবাবু চিৎকার করে জানতে চাইলেন। কর্নেল উত্তরে হাত নাড়লেন এবং একটা পাথরের ঢিবির আড়ালে অন্তর্ধান করলেন। আমরা বুঝলাম বুড়ো ঘুঘু নিশ্চয় কোনও পশুপাখির সন্ধান পেয়েছেন এই পরিত্যক্ত দ্বীপে। আমরা উদ্দেশ্যবিহীন হয়ে ঘুরে বেড়াতে শুরু করলাম। বেশ কিছুক্ষণ কেটেছিল এভাবেই। আনা একখানা উঁচু ঢিবির উপরে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেখান থেকে সে নাকি সমুদ্রটাকে দু’চোখ ভরে দেখতে চায়। আমি অলস, তাই এতখানি চড়াই ভাঙার কষ্ট করাটা আমার কাছে বাহুল্য বলেই মনে হল। হালদারমশাই আর এ লাইনের সঙ্গে আষাঢ়ে গল্প করতে করতে আমরা এলেমেলো হাঁটাহাঁটি করছিলাম পাথুরে পাদদেশে। এমন সময় হঠাৎ আনার চিৎকার কানে এলো, ‘জয়ন্ত-’ আমরা তিনজনেই দৌড় মারলাম সমতল বেয়ে, তারপর চড়াই ভেঙে উপরে উঠতেই আনাকে নিরাপদে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ধড়ে প্রাণ এলো আমাদের। আনা নিরাপদ, কিন্তু তার তর্জনী সামনের সমুদ্রে বিচ্ছিন্নভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা প্রস্তরখন্ডের দিকে উদ্যত। আমরা সমবেতভাবে সে দিকে চোখ ফেরাই। এতদূর থেকে একজন একলা মানুষকে দেখা যাচ্ছে সেখানে। মানুষটা রাজকীয় অভিব্যক্তি নিয়ে আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছেন। সমুদ্রের হাওয়ায় তার মাথার চুল উড়ছে, চোখে কালো রোদচশমা, পরনে কালো স্যুট সেইসঙ্গে মানানসই কালো প্যান্ট, গলায় পরিপাটিভাবে ঝোলানো রয়েছে সাদা কালোয় মেশানো টাই। চামড়ার কালো দস্তানায় ঢাকা হাতদুখানা মুঠো করে ধরে আছে একখানা সুদৃশ্য কাঠের ছড়িকে। কি শান্ত বিষণ্ণ মুখের অভিব্যক্তি, কি আভিজাত্য তাঁর থমকে থাকা দৃষ্টিতে। ‘প্রফেসর হার্লান এলিসন-’ আনা থেমে থেমে উচ্চারণ করে। সে ব্যাপারে আমরাও নিশ্চিত। ভদ্রলোক এবার যেন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, তারপর ঘুরে দাঁড়ালেন, ভাবলেশহীন মুখে শান্ত পদক্ষেপে ফিরে চললেন। কোথায়? ‘ওহ, তোমরা কোথায় গেলে সব-’ কর্নেলের গলা শুনতেই আমরা একযোগে মাথা ঘোরাই। একছুটে নিচে নেমে তাকে বিজ্ঞানীর হঠাৎ আবির্ভাবের কাহিনী শোনাতেই বুড়ো আমার সঙ্গেই ঢিবিতে উঠে দাঁড়ালেন। ‘কোথায় গেল দেখলে?’ কর্নেল বাইনোকুলার চোখে লাগিয়ে সমুদ্রের দিকে তাক করেন। আনা, এলাইন এবং হালদার মশাই নির্বাক। ‘কি হল? ওই পাথরের টিলা থেকে অন্য কোথাও তো যাবার জায়গা নেই তাই না?’ কর্নেল প্রশ্ন করেন। ‘নেই, কিন্তু-’ আনা থেমে যায়। ‘কিন্তু ভদ্রলোক আমাদের চোখের সামনেই ওই আলগা পাথরের আড়ালে হারিয়ে গেলেন-’ এলাইন মাথা চুলকে বলেন। ‘ইস, একটা যদি বোট থাকতো তাহলে নিশ্চয় এতক্ষণে ওখানে পৌঁছে যেতে পারতাম-’ হালদারমশাই উত্তর দেন। ‘আমি নিশ্চিত টোনি এখানেই কোথাও বন্দি হয়ে আছে-’ আনা মাথা ঝাঁকায় উত্তেজিত হয়ে। কর্নেল হাসেন। ‘যাক, কমিনো দ্বীপে এসে পাওয়া গেলো আরও দুটো সূত্র।’ সামনের সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে তিনি ঘোষণা করেন। ‘বিজ্ঞানী এখানেই কোথাও লুকিয়ে আছেন কিংবা কেউ তাকে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করছে, এটা তো একটা সূত্র। আরেকটা?’ আমি কর্নেলকে প্রশ্ন করি। ‘এই দ্বীপে আছে এমন কোনও মূল্যবান বস্তু যার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দু’খানা বোট এখনও জলের ওপর চরকি কেটে বেড়াচ্ছে-’ কর্নেল ধীরেসুস্থে বলেন। ‘বোট? হতেই পারে না। মাছ ধরার এবং পর্যটকদের ঘোরানোর সমস্ত নৌযানকে সমুদ্রে নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বেশ কিছুদিন ধরেই-’ এলাইন কর্নেলের কথা মানতে চান না। ‘দুটো বোট, দুটোর গায়েই খুব ছোট্ট করে লেখা সবুজ রঙের আলফাবেট আই,’ কর্নেল আমাদের বেকুব বনে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে হাসেন, ‘কিছু মনে পড়ছে জয়ন্ত?’ ‘ইনোভিটা-’ আমি বলে উঠি। ‘ঠিক তাই,’ কর্নেল আমার কাঁধে চাপ্পড় মেরে ঘোষণা করেন, ‘তোমার স্মৃতিশক্তি প্রখর, ডার্লিং!’ ‘ও আরেকটা কথা বলতে ভুলে গেছিলাম, এই ছোট্ট দ্বীপটার একধারে একখানা পরিত্যক্ত ইঁটকাঠের বিশাল বাড়ি দেখলাম, ওটা কিসের বলতে পারো?’ কর্নেলের প্রশ্ন এলাইনকে। ‘ওটা একটা জাদুঘর, বছর কয়েক আগে একটা বিদেশি প্রতিষ্ঠান সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটা মেরিন মিউজিয়াম বানাতে শুরু করে, পরে কোনও কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি। সেই থেকে বিল্ডিংটা পরিত্যক্ত-’ ‘আবার ইনোভিটা-’ কর্নেল চশমা খুলে রুমালে মোছেন। আমরা এলাইনের দিকে তাকাই, সে মাথা দোলায়, ‘ঠিক ধরেছেন, বিদেশী প্রতিষ্ঠানটা ইনোভিটা।’ ‘এবার আমাদের ফিরতে হবে,’ কর্নেল মৃদু স্বরে বলেন। আনা উত্তেজিত হয়ে কর্নেলের হাতদুটো ধরে ঝাঁকায়, ‘কিন্তু কর্নেল, হার্লান এখানেই কোথাও আছেন। তাঁকে উদ্ধার না করেই কি আমাদের ফেরা উচিত?’ ‘আনা, যুদ্ধে আবেগ নয় পরিকল্পনার প্রয়োজন। শত্রূর হাত থেকে বাঁচতে দরকার নিজেদের অবস্থান ও পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের সন্দিহান করে তোলা। সেই সুযোগের সদ্বব্যবহার করে তাদের আক্রমণ করা,’ কর্নেল বলেন। ‘যুদ্ধ? শত্রু? কর্নেল আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না-’ আনার দিশেহারা অবস্থা। ‘জয়ন্তর ওপর আক্রমণ, ইনোভিটার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, এদিকে হার্লানের সশরীরে আবির্ভাব- এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সুন্দর করে সাজানো একটা যুদ্ধক্ষেত্র তৈরী হচ্ছে আমাদের অজান্তেই। সেটা প্রস্তুত করছে আমাদের শত্রূরা। আমাদের ওপর আক্রমণ হবার আগে, ওদের ওপর আক্রমণ হানতে হবে।’ কর্নেলকে এরকম গম্ভীর হতে আমি খুব কমই দেখেছি। ‘মাথার ওপর দিয়ে গেল-’ হালদারমশাই আমার কানে ফিসফিস করে বললেন। আমারও,’ আমিও জানাই মনের অবস্থা। এলাইনের মুখে কিন্তু একটা মজার হাসি লক্ষ করলাম। মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কর্ণেল এবং...২১
→ কর্ণেল এবং...২০
→ কর্ণেল এবং...১৯
→ কর্ণেল এবং...১৮
→ কর্ণেল এবং...১৮
→ কর্ণেল এবং...১৫
→ কর্ণেল এবং ১৪
→ কর্ণেল এবং...১৩
→ ধূমপান এবং কিছু কথা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...

X