গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

মেঘের ওপারে রৌদ্দুর-৪

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Imran khan (৫৪৯৯ পয়েন্ট)



#মেঘের_ওপারে_রৌদ্দুর__ writter:imran khan #পার্ট_৪র্থ__ . কলেজে একা একা হাটছিলাম৷এখনও লাবনি আসেনি৷আর আজকে ও নিজেই বলেছিল আমি যেন আগে থেকেই কলেজে চলে যাই৷এখন কলেজে এসে একা একা কেমন যেন লাগছে৷নিজেকে নিজেই বলতে লাগলাম৷একসাথে আসলেই ভালো হত৷ঠিক তখনই পিছন থেকে ডাক দিলো৷একটু আগ্রহ নিয়েই পিছনে তাকালাম যদি লাবনি হয়৷কিন্তু পিছনে তাকিয়ে নিরাশ হয়ে গেলাম৷কারন লাবনি আসেনি৷ওটা লাবনির বান্ধবী আসছে৷আর আমাকে ইশারা দিয়ে ডাকছে৷মনে মনে ভাবতাছি লাবনির কোনো খবর বলবে নাকি?. নাকি লাবনি আজকে আসবেনা৷সেটাই বলবে?? আমি আস্তে আস্তে ওনার দিকে এগিয়ে গেলাম৷ সামনে গিয়েই সালাম দিলাম৷ সালাম দিয়েই জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম . --কেমন আছেন আপু?আর লাবনি এখনও আসেনি,ও কি কিছু বলতে বলছে নাকি?. . কথাটা জিজ্ঞাসা করতেই মেয়েটা কেমন ভ্রু কুচকালো৷আর আমার দিকে তাকিয়ে কেমন রেগে গেল৷ . --আপু?আপনি কি রাগ করছেন? আচ্ছা বলুন কি বলবেন? . --ওই ছোট লোকের বাচ্ছা?তোর তো দিন দিন সাহস বেড়েই চলছে৷. . কথাটা বলাতেই কেমন জানি লাগল৷আমার সাথে এমন ব্যবহার করছে কেন? . --আচ্ছা আপু?আপনি আমার সাথে এভাবে কথা বলছেন কেন?আমি কি কোনো ভুল করেছি?(শান্ত গলায়) . --ভুল মানে?তুই তো চালাকি করছিস? আমার সহজ সরল বান্ধবীকে মিথ্যা বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফেলে,তার দুর্বলতার সুযোগ নিতে চাচ্ছিস . --কি বলছেন এগুলা?(অনেকটাই অবাক হয়ে) . --ওহ!! বুঝতে পারছিস না আমি কি বলছি?তোদের মত ছোটলোকদের আমার খুব ভালো করেই জানা আছে৷তোরা বড়লোক কোনো মেয়ে দেখলেই মাথা ঠিক রাখতে পারিসনা৷টাকার লোভে নিজেকে স্মার্ট করে তুলে ধরিস,আর তারপর মেয়েটার সাথে আস্তে আস্তে সম্পর্কে জড়িয়ে তাদের টাকর ওপর নজর দিস . --চুওওপপপপ৷একদম চুপ করে থাকবেন৷কি ভাবছেন?আমি ওর সাথে ওর টাকার জন্য বন্ধুত্বের সম্পর্ক করেছি?আর আমি কি ওর সাথে আগে কিছু করতে চাইছি?আর আপনারা বড়লোকরা কি ভাবেন?গরীবরা টাকার নেশায়,টাকার লোভে মগ্ন থাকে? . --তা নয়ত কি? . --ভুল ভাবছেন৷আমরা গরীবরা কখনই সেটা ভাবিনা৷আরে এগুলা তো আপনারা বড়লোকরা করেন . --চুপ ছোটলোকের বাচ্ছা৷তোর কি যোগ্যতা আছে ওর সাথে চলাচল করার?তোর জন্য লাবনি এখন আমাদের সাথে ঠিক মত কথা বলেনা৷সারাদিন তোকে নিয়েই থাকে৷কি জাদু করেছিস?বল বলছি . --আমি কোনো জাদু করিনি৷আর ওর টাকার প্রতিও আমার কোনো লোভ নেই৷ . --ঠিক আছে,তাহলে আজকের পর যেন আর লাবনির সাথে তোকে না দেখি৷মনে রাখবি তুই ছোট লোক৷আহ ছোটলোক হয়ে চাঁদ ধরার স্বপ্ন দেখবি না৷ . আমি আর কিছুই বলতে পারলাম না৷মাথাটা নিচু করেই সেখান থেকে চলে আসলাম৷ক্লাসে এসে বসে রইলাম৷কিছুতেই শান্তি পাচ্ছিনা৷বার বারই মেয়েটার কথা মাথায় ভেসে আসছে৷ আসলেই তো আমি ছোটলোক৷তাহলে ওর সাথে কিভাবে আমি চলাফেরা করি?এত বড় বাড়ির মেয়ে লাবনি৷আর আমি কত গরীব৷থাকার মত কোনো জায়গাও নেই৷তাহলে কেন ওর সাথে বন্ধুত্ব করছি?সবাই তো বলবেই আমি টাকার জন্যই এমণ করছি৷ আমি যে গরীব,আমাকে যে বলার মত হাজারও দিক আছে৷ . নাহ আর ভালো লাগছে না৷বাসায় চলে যাবো৷ ক্লাস থেকে বের বাসায় চলে যাচ্ছি৷রাস্তা দিয়ে আনমনে হাটছি আর বার বার শুধু নিজের অবস্থানের কথা মনে পড়ছে৷হাঠাৎই সামনে লাবনি এসে গেল৷ আমি কলেজের গেট থেকে বের হতেই লাবনি এসে হাজির৷এসেই আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷ একদম অপরাধীর মত দাড়িয়ে বলতে লাগল . --সরি আবিদ,আসলে বাসা থেকে বের হতে হতে দেড়ি হয়ে গেছে৷আর দেড়ি হবে না৷চলো ভিতরে যাই৷ . কিছু বললাম না৷শুধু ওর মুখের দিকে একটু তাকালাম৷একটু তাকিয়েই হাটা শুরু করলাম৷ . --এই আবিদ?চলে যাচ্ছো কেন?বলছি তো আর হবে না৷এই যে কান ধরছি৷আর হবেনা . ও আর কিছু বলতে পারল না৷তার আগেই আমি বাসার উদ্দেশ্যে হাটা শুরু করলাম৷ যাওয়ার আগে দেখেছিলাম মেয়েটা কতটা অসহায় চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷কিন্তু আমার আর কিছু করার নেই৷ কয়েকবার পিছনে তাকিয়ে দেখতে ইচ্ছা করছিল ও কি করে?কিন্তু তাও তাকালাম না৷আজকে যে নিজের অবস্থানের কথাটা বার বার চোখের সামনে ভেসে আসছে৷ বাসায় আসলাম৷আসার পর খুব বেশি খারাপ লাগা শুরু করল৷ বার বার চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছিলো৷গরীব হওয়াতে কি আমি খুব বেশি অন্যায় করে ফেলছি?গরীবদের কি এভাবেই অপমানিত হতে হবে? . অনেক প্রশ্নই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল৷এমন সময়ই পাশের রুম থেকে চাচির ঝাঝালো কন্ঠের আওয়াজ . --বাজার করে না আনলে গিলবে কি?গত মাসে যে বাজার করছো?এই মাসে এখনও তো বাজার করোনি৷তাহলে আমি কি এখন বাজার করে আনব নাকি? ঘরের কাজ করতে করতেই আমি শেষ৷আর ওনি বাজার না করে গিলার জন্য উঠে পড়ে লাগছে(চাচি চাচাকে কথাগুলো বলছিল) . --দেখ,এমনিতেই শরীরটা ভালো নেই,আর কেমন জানি লাগছে,আজকে না গেলে হয়না?(চাচা) . --না গেলে গিলবে কি?আর ওই বাপ মা মরা পোলাডারও তো কোনো কাজ কাম নাই৷বাপ মা মইরা তো বেঁচে গেছে,আর আমার কপালে সব দুঃখ দিয়া গেছে . --দেখ,তুমি আবিদকে নীয়ে কথা বলছো কেন?ও কি করছে? . --কি করে নাই,ও নিজেও তো গিলে৷বাসার একটু কাজ কাম করতে পারেনা৷বাজার টা করে আনলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে . --দাও,আমিই বাজারে যাচ্ছি,তারপরও ওরে কিছু বইলো না৷ . --ইসসস,কী আমর দরদ রে,একেবারে দরদ উতলাইয়া পরতাছে . পাশের রুম থেকে কথাগুলো শুনে চোখে কেমন বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে৷টপটপ করে পানি পড়ছে৷ চাচিও তো ঠিকি বলছে?মিথ্যা তো বলেনি৷বার বার আমি আসলেই একটা অকর্মা৷ হা হা হা হা , চোখের পানি গুলো কোনোমতে মুছে ভাবতেছি,বসেই তো আছি,অসুস্থ চাচাকে বাজারে না পাঠিয়ে আমি নিজেই যাই৷ . চাচার রুমে গিয়ে বললাম৷ , --চাচি,কি কি বাজার করতে হবে দেন,আমি বাজার করে এনে দিচ্ছি . --না তোর যাওয়া লাগবেনা৷,আর তুই কলেজে যাসনি?কখন আসলি?আর তোর যাওয়া লাগবে না৷তুই পড়তে বস(চাচা) . --না চাচা,পড়তে ভাল লাগছেনা৷তুমি দাও তো আমি যাচ্ছি৷চাচি বাজারের লিষ্ট টা দেন৷ . --এই যে নাও, বাজারের লিষ্ট,আর শুনো সব গুলো বাজার করে আনবা৷আর বাজারের কোনো জিনিস যেন বাকি না থাকে৷আর আরেকটা কথা,কত কত দিয়ে কোন জিনিস আনছো লিখে রাখবা৷ভুলেও বেশি করে লিখে টাকা সরাবে না৷তাহলে খুব খারাপ হবে৷আমি কিন্তু জানি কোনটার দাম কত.(চাচি) . কথাটা শুনেই কেমন তীরের মত কথাটা বুকে লাগল৷বাজারের আগেই আমাকে চুরি না করার জন্য বলে দিচ্ছে৷আমি কি আসলেই একটা চোর নাকি? হা হা হা খুব হাসতে ইচ্ছা করছে৷শালার চোখ৷আমার চোখ হয়েও আমার কথা শুনেনা৷কেমন ভিজে যাচ্ছে৷ . --আবিদ,তুই কান্না করছিস কেন?(একদম অসহায়ের মত চাচা) . --কই না তো চাচা৷চোখে কি যেন পড়ল৷ আচ্ছা আমি বাজারে যাচ্ছি৷ , বলেই বাজারের টাকা আর লিষ্ট নিয়ে বাজারে গেলাম৷ যাওয়ার সময় বার বার চাচির কথাগুলো মনে পরতে লাগল৷ সবগুলো বাজারই করলাম৷লিষ্টের মধ্যে চাচি যে দাম লিখে দিছে৷তার থেকে ৫-১০টাকা কমেই সব কিছু কিনলাম৷৷ তাই অনেকটাই খুশি৷টাকা সেভ হইছে৷চাচি খুশি হবে৷হা হা হা৷মনে মনে একটু হাসি দিলাম৷এরপরই দেখলাম ২কেজি পেয়াজ কিনতে হবে৷হাতে আছে ৫০০টাকা৷আর লিষ্টের মধ্যে ২কেজি পেয়াজের দাম আছে ১২০টাকা৷মানে ৬০টাকা কেজি৷ পেয়াজ কেনার পরও অনেকগুলো টাকা থাকবে৷ কিন্তু পেয়াজের বাজারে যেতেই মাথায় আগুন লাগল৷ কারন পেয়াজের দাম ২৫০টাকা করে৷প্রথমে মনে করছি হয়ত দোকানদার মজা করছে৷কিন্তু পরে সব দোকান ঘুরে একই দাম দেখে ৫০০টাকা দিয়েই ২কেজি পেয়াজ কিনলাম৷ . কারন চাচি বার বার বলেছিল,কোনো কিছু যেন বাদ না থাকে৷বাসায় বাজার নিয়ে যাচ্ছি হাতের সব টাকা শেষ৷তাই বাজার নিয়ে অনেকটা পথ হেটে হেটেই যাচ্ছি৷খুব কষ্ট হচ্ছিলো৷তাও হেটেই যাচ্ছি কারন হাতে টাকা নেই৷ কিন্তু বাসায় যেতে সব কীছুর হিসাব নেওয়া শুরু করল৷সব কিছুর হিসাব দিতে দিতে দেখলাম চাচি একটু খুশি৷কারন অনেক কিছুই একটূ একটু কমে কিনছি৷তারপর অনেকগুলা টাকা সেভ করায়৷চাচি আর হিসাব নিলো না৷হিসাব না নিয়েই বলল . --৮০টাকা রেখে দাও৷আর ৩০০টাকা ফেরত দাও . কথাটা শুনেই একটু অবাক হয়ে গেলাম৷কারন টাকা নেই বলে হেটে হেটে আসছি৷আর চাচি এগুলো কি বলছে?টাকা ফেরত দিবো মানে? . --চাচি আমার কাছে তো কোনো টাকা নেই . --টাকা নেই মানে?টাকা গেল কই?(রেগে গিয়ে) . --চাচি পেয়াজ ২কেজি ৫০০টাকা . ---কিহহহহহহ?এত্ত বড় মিথ্যা,চুরি করার আর জায়গা পাসনা . --টাকা দে বলছি . --সত্যি বলছি চাচি(একদম অসহায়ের মত) . --চোরের বাচ্ছা চোর৷১২০টাকার জিনিস তুই ৫০০টাকা বানিয়ে দিলি?বাকি টাকা সরিয়েছিস?আমিতো এটা হতে দিবো না৷ টাকা দে বলছি৷নয়ত আজকে... . --সত্যি বলছি চাচি,নয়ত আপনি বাজারে গিয়ে যাচাই করুন ... . ---ঠাসসসসস,আমারে কি তোর বাজারের মেয়ে মনে হয় যে আমি বাজারে যাবো,টাকা ফেরত দে বলছি,চোর কোথাকার............ . থাপ্পরটা খেপ গালে হাত দিয়েই দাড়িয়ে আছি৷মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বের হচ্ছেনা৷ জীবনের প্রথম বাজার করলাম৷আর সেদিনই চোর হয়ে গেলাম৷পাথরের মত স্তব্দ হয়ে গেলাম৷মাথায় যেন আকাশটা ভেঙ্গে পড়ল৷সব কিছুই কেমন অন্ধকার লাগতে শুরু করল৷মনে হচ্ছে রোদমাখা আকাশটা মেঘের আড়ালেই ঢেকে গেছে৷ মনে হচ্ছে মেঘের ওপারেই রৌদ্দুর হাসে৷তবে সেই রৌদ্দুরটা আমার জীবনে আর আসবেনা৷অন্ধকার করেই রাখবে আমায়... . . চলবে.... . . বিঃদ্রঃভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন৷


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মেঘের ওপারে রৌদ্দুর-৩
→ মেঘের ওপারে দৌদ্দুর ২
→ মেঘের ওপারে রৌদ্দুর
→ মেঘের ওপর বাড়ি২/৪
→ মেঘের ওপর বাড়ি ১/৪
→ শ্রাবণ মেঘের দিন(৩য় ও শেষ পর্ব)
→ শ্রাবণ মেঘের দিন(২য় পর্ব)
→ শ্রাবন মেঘের দিন
→ মেঘেরও ওপারে কিছু সুখগাঁথা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...

X