সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

কিশোরী বধু-১

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Imran khan (৫৪৭৫ পয়েন্ট)



কিশোরী বধু-১ . আপনি আমাকে একটুও ভালবাসেন না। আমি কি খুব খারাপ? আমি কি ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য না। ( তিথি ছল ছল চোখে তাকাল আমার দিকে) আমি আশ্চর্য হলাম। হওয়ারই কথা। তিথি আমার পিচ্চি অর্ধাঙ্গিনী। বয়স ১৭/১৮ হবে। যে তিথি বাসর রাতেই আমাকে ওর কাছে যেতে মানা করেছিলো। সে নিজেই এখন বলছে, আমি ওকে ভালোবাসি না কেনো? বেশ বড়সড় ধাক্কা খেলাম। হয়তো জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকছে। জ্বরের ঘোর কেটে গেলেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এখন চলুন আপনাদের পিছনের ফ্লাসব্যাকে নিয়ে যাই। ( ফ্লাসব্যাকঃ – বাসর রাতে) আমি দরজা টেলে রুমে ডুকতেই দেখলাম আমার পিচ্চি বউ খাটের এক কোনে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। আমি মুচকি হেসে দরজা লাগিয়ে একটু এগিয়ে গেলাম। আমি গিয়ে খাটে বসতে বসতে বললাম, – একি তিথি তুমি এভাবে বসে আছো কেনো? তিথি কোনো কথা বলছে না। ধড়ধড় করে ঘামছে। আমি একটু ভয় পেলাম। মেয়েটার জ্বর-টর এলো নাকি। – তোমার জ্বর উঠেছে নাকি? হাত এগিয়ে দিতেই তিথি পিছনে সরে গেলো। – আপনি আমার কাছে আসবেন না বলছি। – কেনো? – আপনি খারাপ মানুষ। বুড়ো হয়ে আমার মতো পিচ্ছি মেয়েকে বিয়ে করেছে। অবশ্য বিয়ে করেননি টাকা দিয়ে কিনেছেন। ( কাঁদতে কাঁদতে বলল তিথি) আমি মুচকি হাসলাম। এইটুকু একটা মেয়ের মনে এমন ধারনা থাকাটাই স্বাভাবিক। এখনোতো বিয়ের জন্য উপযুক্ত নয়। আর আমিতো এখনই অধিকার ফলাচ্ছি না। আমার পিচ্ছি বউকে সময় দিবো। যখন ওও এডাল্ট হবে তখনই অধিকার নিয়ে যাবো ওর কাছে। – তিথি, তুমি ভুল বুঝছো। আমি তো টাকা দিয়ে তোমার বাবা-মাকে সাহায্য করেছি। টাকার বিনিময়ে বিয়ে করি নি তোমাকে। – আপনি মিথ্যা বলছেন। আপনি একটা খারাপ লোক। আপনি আমার মতো একটা পিচ্চি মেয়েকে কিনেছেন আপনার চাহিদা মেটানোর জন্য। – আচ্ছা, আচ্ছা যাও কিনেছি। এখন এদিকে আসো দেখি তোমার জ্বর উঠেছে কি না? আমি একটু এগিয়ে যেতেই তিথি বিছানা থেকে উঠে পড়ল। – ছুবেন না আমায়। আমি কান্না করব কিন্তু। – আরে, তিথি ভয় পাচ্ছো কেনো? আমি তোমার স্বামী। কিচ্ছু করবো না এদিকে আসো। – না, আসবো না। – আহা, আসো না। – আসবো না বললাম তো। আপনি যদি আমার কাছে আসার চেষ্টা করেন। আমি চিৎকার করব কিন্তু। – আচ্ছা, যাবো না তোমার দিকে। এখন বসো বিছানায়। ভয় পেয়ো না আমাকে। কিছু করব না তোমাকে। – সত্যি বলছেন তো। ( পিচ্চিদের মতো বলল) আমি হেসে দিলাম, – হুম। তিথি ভয়ে ভয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বিছানায় এসে বসল। আমার থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বসেছে। – তুমি এই বিয়েতে রাজি ছিলে না? – না। – কেনো? আমি দেখতে খারাপ, বুড়ো। তিথি কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখল আমাকে। আমি এমন অবস্থা দেখে হেসে দিই। – নাহ, আপনি কিছুটা বুড়ো হলেও যথেষ্ট হ্যান্ডসাম। মাথা নিচু করে বলল। – তাহলে… – আমি এখন বিয়ে করতে চাইনি। পড়তে চাই। ( অসহায় দৃষ্টিতে তাকাল আমার দিকে) – ওও, তাই। – হুম। – তা কোন ক্লাসে পড়ো তুমি। – এস,এস,সি দিয়েছি। – ওও, কি গ্রেড পেয়েছো? – গোল্ডেন এ+। – ওমা তাই নাকি , ভালো তো। তুমি তো খুব ভালো ছাত্রী। – আপনি শুধু ভালো বলছেন। আমি পুরো বিদ্যালয়ের ফাস্ট ছিলাম। – ওও, তাই। হুম গুড গার্ল। কলেজে ভর্তি হতে চাও। – হুম, চাইতো। কিন্তু, আপনি আমার সব সপ্ন নষ্ট করে দিলেন। চোখ থেকে টপ করে পানি পড়ল। আমি একটু এগিয়ে গেলাম। চোখের পানি মুছে দিলাম। – আহা! কাঁদছ কেনো? তিথি একটু ভয় পেলেও কিছু বলল না। – আচ্ছা, এখন যদি তোমাকে আমি কলেজে ভর্তি করিয়ে দিই। – সত্যি… খুশিতে জ্বলমল করে উঠল তিথি। – হুম, কিন্তু আমারও যে কিছু চাই। এবার তিথির মুখ কালো হয়ে গেলো। নিমিষেই মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো। ভয়ের আধার হয়ে গেলো মুখ। আমার কাছ থেকে সরে গেলো। – কিক কি? তোতলাতে তোতলাতে বলল। আমি ইশারা দিয়ে স্মাইল দেয়ার কথা বললাম। তিথি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। – কি হলো? স্মাইল করো। – সত্যি, আপনি.. – হ্যা, আমি তোমার মুখের হাসি দেখতে চাই। তিথি আশ্চর্যের মধ্যেও একটু হাসল। – এখন যাও। ফ্রেস হয়ে শাড়ি পালটে এসে শুয়ে পড়ো। তিথি মাথা নাড়াল। পরদিন তিথিকে নিয়ে কলেজে ভর্তি করিয়ে দিলাম। তিথি সেই খুশি। আমাকে জরিয়ে ধরল অজান্তে। পরে একটু লজ্জা পেয়ে ছেড়ে দিল, – ধন্যবাদ। আসলে আমার মা-বাবা কখনো আমাকে কলেজে ভর্তি করাতো না। পয়সার অভাবে সংসারই চলে না আর কলেজে পড়া। মলিন হয়ে গেলো তিথির মুখ। – উহু, তুমি তোমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছো না। তিথি প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকাল আমার দিকে। আমি ইশারায় স্মাইল দেয়ার ইঙিত করলাম। তিথি হেসে দিলো। | আসলে তিথিকে আমি টাকার মাধ্যমেই বিয়ে করেছি। বিয়েতে কোনো ইন্টেরেষ্ট ছিল না আমার। নিজেদের কোম্পানি আর ব্যবসা দেখাশুনা করেই বয়স পেরিয়ে যাচ্ছিল। এখনতো ৩০ এর কৌটায় পড়ে গেছে। মা-বাবা তাড়া করল বিয়ের জন্য। কি আর করা বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা শুরু হলো। সেদিন অফিস থেকে বেরনোর সময় দেখলাম দাড়ওয়ান চাচা বসে কাঁদছেন। আমি এগিয়ে গিয়ে চাচার কাধে হাত রাখলাম। – কি হয়েছে চাচা? চাচা চোখের পানি মুছে নিলেন। মুখে হাসি ফুটিয়ে বললেন, – কিছু না সাহেব। আমি রেগে গেলাম, – চাচা, আপনিতো জানেনই আমি মিথ্যা বলা পছন্দ করি না। তবুও তুমি…. চাচা কেঁদে দিলেন। – সাহেব, কি বলমু? মাস শেষে যা বেতন পাই তা দিয়ে আগে চললেও এখন আর চলে না। মেয়ের লেখাপড়া, ঘরভাড়া। এখনতো দুইদিন ধরে চুলোয় আগুনও জ্বলছে না। আমার মাইয়াটা না খাইয়া মইরা যাইব। হাতে টাকা কড়িও নাই। আমি রাগ দেখিয়ে বললাম, – তুমি আমাকে বলতে পারতে। আর সাহেব সাহেব কি? আমি ছেলের মতো তোমার। নাম ধরেই ডাকবে। আর এই নাও টাকা এগুলো দিয়ে তোমার বাসা ভাড়া আর কিছু খাবার নিয়ে বাসায় যাও। আজ আর কাজ করতে হবে না… চাচা কেঁদে দিলেন। – আহা, কাঁদছ কেনো? – তুমি মানুষ না বাবা দেবতা। – এরকম বলতে নেই। এখন যাও বাসায়। আমি এগিয়ে যেতেই তিনি আমার হাত ধরলেন। – কিছু বলবে চাচা? চাচা আমার পায়ে পড়ে গেলেন। – আমার মাইয়াটারে তুমি বিয়া কইরা নেও বাজান। দুই বেলাতো খাইতে পারবে। – আরে চাচা উঠুন কি করছেন? – না, বাবা। তুমি আমার মেয়েকে বিয়া কইরা নাও। আমার মাইয়াটা খুব সুন্দর। আপনার পছন্দ হইব। – চাচা, লাগবে না। তুমি বিপদে পড়লে বইল আমি এমনিতেই সাহায্য করব। – না, বাবা। তুমি বিয়া কইরা নেও। – আরে চাচা পায়ে পড়ছেন কেনো? আচ্ছা, আমি দেখছি। তারপর আর কি? তিথিকে বিয়ে করে নিলাম। আসলেই মেয়েটা খুব পিচ্ছি। | ( বর্তমানে) – এই আপনি কথা বলছেন না কেনো? আমি সত্যিই খারাপ। আপনি আমাকে ভালোবাসেন প্লিজ। ( কাঁদতে কাঁদতে বলল) – কে বলল তুমি খারাপ? তুমি তো আমার সবচেয়ে ভালো বউ। – তাহলে, আমাকে ভালোবাসেন না কেনো? আর আপনার আর কয়টা বউ আছে। আমি হেসে দিলাম। – আর কেউ নেই। এই একটাই। – তাহলে, আমি কি পচা? আমাকে আপনি একটুও ভালোবাসেন না কেনো? – তুমি এখনি যদি ঘুমিয়ে পড়ো তাহলে আমি তোমাকে ভালোবাসব। এখন তুমি ঝটপট ঘুমিয়ে পড়ো। তিথিকে আমার বুকে আগলে ধরে বললাম। – না, আগে আমাকে ভালোবাসেন। – আহা, ঐষধ খেয়েছো এখন তোমাকে ঘুমুতে হবে। আর বললাম তো আমি তোমাকে ভালোবাসব। – সত্যি তো। বুক থেকে মুখ তুলে তাকাল আমার দিকে। – হুম। তিথি আমার বুকে ঘুমিয়ে পড়ল। . তিথি গুটিসুটি মেরে আমার বুকে ঘুমিয়ে পড়ল। আমি তিথির মুখের দিকে তাকিয়ে অজান্তে হেসে দিলাম। – পাগলী, আমার পিচ্ছিটা… বলে নাক টেনে দিলাম। তিথি নড়েচড়ে উঠল। আমি খুব সাবধানে শুয়ে রইলাম। যাতে তিথির ঘুম না ভাঙে। ( সকালে…) তিথি চোখ খুলতেই বললাম, – ম্যাডামের, ঘুম ভাঙল তাহলে। তোমার জ্বর কমেছে। বলে কপালে হাত রাখলাম। নাহ, জ্বরটা বেশ কমে গেছে। তিথির দিকে তাকাতেই রাতের কথা মনে পড়ল। মিট মিট করে হাসতে লাগলাম। – আপনি, হাসছেন কেনো? ( ভ্রু কুঁচকে বলল) – নাহ, এমনি। – না, বলুন কি জন্য হাসছেন? – আরে এমনি হাসলাম। আমি উঠে গেলাম। পিছন থেকে তিথি আবার ডাক দিলো, – এই, এই বলে যান না। প্লিজ… আমি ঘুরে তাকালাম। – শুনবে। – হুম। – তার আগে একটা প্রশ্ন করি, তোমার জ্বর হলে কি জ্বরের ঘোরে আবোলতাবোল বকো? বলতেই তিথি জিভ কাটল। তিথি মনে মনে ভাবছে, আবার কি গণ্ডগোল পাকালাম? কি বললাম উনাকে আল্লাহই জানেন? – হ্যা। – ওও, তাইতো বলি…। বলে চলে যাচ্ছিলাম। তিথি আবার ডাক দিলো, – এই, এই কোথায় যাচ্ছে? বলে যান না কি বলেছি রাতে? – শুনবে… মুচকি হাসি দিয়ে বললাম। – হুম। – এইতো বললে যে, থেমে গেলাম। – কি হলো বলুন? – আচ্ছা বলছি। এইতো তুমি বললে যে, আমি খুব খারাপ। আমি তোমাকে ভালোবাসি না। আমি পচা। আমি তোমাকে একটুও ভালোবাসি না। তোমাকে যেনো একটু ভালোবাসি। • দুষ্টুমি হেসে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়ালাম। তিথি মাথা চুলকাতে লাগল, হায় হায় এসব বলে ফেলেছি উনাকে। কি করলাম এটা? এখন উনার দিকে তাকাবো কি করে? কি লজ্জা কি লজ্জা? তিথি কি করলি এটা? আমি তাকিয়ে দেখলাম তিথির গালদুটো আস্তে আস্তে গোলাপী হয়ে যাচ্ছে। লজ্জায় গালে গোলাপী আভা প্রকাশ পাচ্ছে। – কি হলো চুপ মেরে গেলে কেনো? – না, আসলে… – হ্যা, আমি জানি জ্বরের ঘোর তুমি প্রলাপ বকেছে। এগুলোর একটাও সত্যি না। তাই না… তিথির মুখ মলিন হয়ে গেলো। আপনাকে কি করে বোঝাই যে, এগুলোর সবটা সত্যি ছিল। আপনাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি। আমার বুড়ো বরের প্রেমে পড়ে গেছি আমি। কি করে বোঝাই যে, আপনার ভালোবাসা পেতে চাই আমি। – বাই দ্যা ওয়ে, আমি কিছু করিনি কিন্তু। এতোটাও খারাপ না আমি যে, একটা পিচ্ছি মেয়েকে… দুষ্টু হেসে রুম থেকে বেরিয়ে পড়লাম। • তার মানে, উনি কিছু করেননি আমার সাথে। গাধা নাকিরে বাবা। নিজের বউকে কিছু করতে ইচ্ছে করে না নাকি? তার উপর আমার মত ছিলো তো তাহলে… ব্যাটা বেশী ভালো হওয়ার অভিনয় করছে। খারাপ লোক একটা। একটু ভালোবাসলে কি হতো? মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেতো। মুখ ভার করে রইল তিথি। আমি রুমে ডুকে দেখলাম তিথি বিছানার মাঝখানে বসে আছে। খাবারগুলো রেখে তিথির কাছে গেলাম। – উঠো ফ্রেস হয়ে নাস্তা করবে। তিথি কোনো কথা বলল না। – কি হলো উঠো? – আচ্ছা, আপনি সত্যি আমার সাথে কিছু করেননি। ( করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল তিথি) – না, সত্যি কিছু করিনি। – কেনো? – কারন, তুমিই তো বলেছিলে যে, আমি যেনো তোমাকে টাচ না করি। আর তার উপর তুমি তো পিচ্ছি। পিচ্ছিদের সাথে কিছু করতে নেই… – পিচ্ছি, পিচ্ছি করবেন নাতো। পিচ্ছিদের কি ভালোবাসতে নেই? পিচ্ছিদের কি ভালোবাসা যায় না? – কে বলল পিচ্ছিদের ভালোবাসা যায় না? এই দেখ আমি তোমাকে ভালোবাসি। – ভালোবাসা না ছাই। আমি পূর্ণ ভালোবাসা চাই। ( মনে মনে বলল তিথি ) – আচ্ছা, এখন চলো ফ্রেস হয়ে নাও। তিথি হাত দুটো আমার দিকে বাড়াল, – কি? ( আমি ) – কোলে নিন। – মানে! – মানে, আমাকে কোলে করে নিয়ে যান। আমার হাঠতে ভাল্লাগছে না। তিথির বাচ্চামো কথা শুনে আমি হেসে দিলাম, – ওকে। তিথিকে কোলে তুলে নিলাম। তিথি আমার গলা জরিয়ে ধরল। ওয়াসরুমে দিয়ে এলাম। ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে এলো, – আবার কোলে নিতে হবে? – আমি বলেছি? – না, আমি ভাবলাম… – বুঝি, বুঝি। – কি বুঝো? – আপনার মতলব কি আমি বুঝি? আমাকে কোলে নেয়ার ধান্ধা তাই না? – আরে আমি কখন বললাম। প্রথমে তো তুমিই বললে তোমাকে কোলে নিতে। – হইছে আর কথা না বলে কোলে নিন। – মানে, তুমি এই না বললে… – চুপ করুন তো। আপনি একটু বেশি কথা বলেন। আমি তিথিকে কোলে তুলে নিলাম। বিছানায় বসিয়ে দিয়ে নাস্তাগুলো সামনে রাখলাম। তিথি হাত গুটিয়ে বসে থাকল, – হাত গুটিয়ে বসে থাকলে হবে? নাস্তা করবে কে? ( আমি ) – আপনি খাইয়ে দেন। – উফফ! পিচ্ছিদের নিয়ে এই এক ঝামেলা। হা করো… – তাহলে, পিচ্ছিকে বিয়ে করেছেন কেনো? আমি যেচে আপনার কাছে বিয়ের পিরিতে বসেছি। তিথি আবার শুয়ে পড়ল অন্য দিকে মুখ করে। – আরে আমিতো এমনিই বললাম। তিথি চুপ করে শুয়ে আছে। – তিথি, সরি ভুল হয়ে গেছে। আমি সত্যিই এমনি বলেছি… তিথি কোনো কথাই বলছে না। একটু এগিয়ে গেলাম। একি তিথি কাঁদছে ? – একি তুমি কাঁদছ? আমি সরি। ভুল করে ফেলেছি। তিথিকে শোয়া থেকে উঠালাম। তিথি কেঁদেই চলছে। আমাকে জরিয়ে ধরে ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে উঠল। – আমি সরি তিথিমনি। আমি সত্যি তোমাকে রাগানোর জন্য বলেছিলাম। আমি বুঝিনি তুমি কষ্ট পাবে। – আপনি, সত্যিই খুব খারাপ। – আচ্ছা আচ্ছা, আমি খারাপ। এখন কান্না বন্ধ করো প্লিজ। – আমার এক বান্ধবীরও তো স্বামী আছে। ওর স্বামী ওকে খুব ভালোবাসে। আপনি আমাকে একটুও ভালোবাসেন না। কাঁদতে কাঁদতে বলল তিথি। – আহা! কে বলল? আমি তোমাকে ভালোবাসি না। – আমি বুঝিতো সব। – তাই, তুমিতো খুব পাকনি হয়ে গেছো। এতো কিছু বুঝো। – হ্যা, বুঝিতো। আমি পিচ্ছি বলে আপনি আমাকে আদর করেন না। – দূর! কে বলল তোমাকে ভালোবাসি না? আমি তো আমার পিচ্ছি বউটাকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসি। – ভালোবাসা না ছাই। ছাড়ুন এখন ভালোবাসা দেখাতে হবে না। – প্লিজ রাগ করো না। কান্না বন্ধ কর..। – তাহলে চুমু দেন। – কি? তিথি আমার গালে চুমু একে দিলো। আমার প্রতি আমার পিচ্ছি বউটার মনে যে হালকা হালকা অনুভুতি জমা হচ্ছে আমি সেটা খুব ভালো ভাবে টের পাচ্ছি। , তিথিকে খাবার খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে দিলাম। বিকেলের দিকে একটু বাইরে বেরোলাম। অফিসের অফ ডে আজ। আব্বু-আম্মু তো বাসায় আছেই। তাই তিথিকে বাসায় রেখে এলাম। বন্ধুদের সাথেই ছিলাম। ফোন কেপে উঠল। হাতে নিয়ে দেখলাম তিথি ফোন করেছে। ঠোঁটের কোনে অজান্তে হাসি ফুটে উঠল, – আসসালামু আলাইকুম। ( তিথি) – ওয়ালাইকুম আসসালাম। হ্যা, তিথি বলো। – আপনি কোথায়? – এই একটু বাইরে আসলাম। – বাসায় কখন আসবেন? – কেনো? কোনো সমস্যা? – না, না। এমনি। – ওও। – একটু তাড়াতাড়ি ফিরতে পারবেন। – হুম। – আচ্ছা, রাখি। দেখে শুনে আসবেন। – আচ্ছা। ফোন কেটে দিলো তিথি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইল। খানিকটা লজ্জা পেলো। ইশ! আমার বরটা এসে কি আমাকে জরিয়ে ধরবে? উনি তো একেবারে হুতুম পেচা। আমাকে একটুও ভালোবাসে না। , বন্ধুদের বিদায় জানিয়ে বাসায় ফিরলাম। দরজায় নক করলাম। দরজা খুলে দিলো তিথি। তিথির দিকে তাকিয়ে আমি হা হয়ে গেলাম। তিথি একটা শাড়ি পড়েছে। মনে হয় মায়ের শাড়ি। চুলগুলো খোলা, হাতে নানা রঙের চুড়ি। হালকা সাজ। আমি ফিদা হয়ে গেলাম। আমার এমন হা করে তাকানো দেখে তিথি লজ্জায় লাল হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল। তিথির কোমড় ধরে টান মেরে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলাম, – পাগল করে দিবে নাকি আমাকে? – আমি আবার কি করলাম? ( অবাক হয়ে বলল) – এতো সাজ সেজেছো কেনো? কোথাও যাবে নাকি? – কেনো সাজতে পারি না নাকি? আর দরজার সামনে এমন করছেন কেনো? আম্মু-আব্বু আছে দেখে ফেলবে তো। তিথি যদিও বলছে কথাটা। কিন্তু, আমি বেশ বুঝতে পারছি তিথির ভালোই লাগছে। আমাকে ছাড়ানো কোনো চেষ্টাই করছে না। – না, তা পারো। তবে নিশ্চয়ই একটা কারন আছে। বলতেই তিথি রাঙা মুখে বলল, – জ্বি। – আমার জন্য? – হুম। বলতেই লজ্জা পেয়ে দৌড়ে রুমে চলে গেলো। আমি হাসতে লাগলাম। আমার পরী বউটা লজ্জা পেয়েছে। হা হা হা। রুমে গিয়ে দেখলাম বারান্ধার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। পিছন থেকে জরিয়ে ধরে কাধে মুখ গুঁজলাম। তিথি কেপে উঠল। – আপনাকে আমার কিছু বলার আছে। – বলো…। – আমার একটা বাবু চাই। . চলবে…… (এতোএতো গল্পের মাঝে এই গল্পটাও শুরু করলাম আশা করি সবার ভালো লাগবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কিশোরী বধু-৩
→ কিশোরী বধু-২
→ কিশোরী_বউ-(১ম পর্ব)
→ কিশোরী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...

X