Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/gj-con.php on line 6
পম্পেই ও হারকুলেনিয়াম নগরী - (২য় & শেষ পর্ব)

গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

পম্পেই ও হারকুলেনিয়াম নগরী - (২য় & শেষ পর্ব)

"ভিন্ন খবর" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান কাব্য চৌধুরী•_•নীড়-হারা-পথিক (৩২২৪ পয়েন্ট)



হঠাৎ এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণে আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠল। ভিসুভিয়াসের দিক থেকে এক কর্ণবিদারী শব্দে কেঁপে উঠল সকল চরাচর। মাটি যেন স্ফীত হচ্ছে এবং কাঁপছে। সকলে চমকে তাকাল ভিসুভিয়াসের দিকে। সভয়ে দেখল ভিসুভিয়াসের উপরিভাগ বিস্ফোরণে উড়ে গেছে। আর দেখা গেল দিকে দিকে আগুনের শিখা। লোকজন ভয়ে চিৎকার করে উঠল। তারপর ভিসুভিয়াসের ভয়াবহ জ্বালামুখ থেকে প্রচণ্ড গর্জনে ছত্রাকারে বেড়িয়ে আসছে তরঙ্গায়িত ধূম্রকুণ্ডলী আর তার সাথে নির্গত হচ্ছে কাদা আর পাথর। একটার পর একটা ঘন ঘন শব্দ হচ্ছে। আর কালো রঙের থামাকৃতির পাথরের বিশাল খণ্ডগুলো ওপরে উঠে ভেঙেচুরে আবার স্তূপের পর স্তূপ নিচে পড়ছে। অচিরেই আকাশ কালো হয়ে উঠল। সূর্য ঢাকা পড়ল ধূম্র মেঘের আড়ালে। মধ্য দিনেই নেমে এলো রাত্রির নিকষ কালো আঁধার। গন্ধকের ধূমে লোকের শ্বাস-প্রশ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসতে লাগল। হঠাৎ দেখা গেল কোত্থেকে কেউ জানে না তীব্র বেগে পড়তে লাগল বৃষ্টির ফোঁটা। তার সাথে এলো পাথর আর মাটি। মাঝে মাঝে দেখা যায় আগুনের ঝলকানি। আকাশ থেকে পাখিগুলো মরে অথবা অসাড় হয়ে মাটিতে পড়তে লাগল। সমুদ্র হলো উত্তাল। উদ্দাম ঢেউগুলো তীরে আঁছড়ে ফেলতে লাগল মরা মাছগুলো। উত্তপ্ত কাদার সমুদ্র ৩০ থেকে ৫০ ফুট উঁচু হয়ে এগিয়ে এলো হারকুলেনিয়ামকে গ্রাস করতে। সেই লাভার স্রোতে তলিয়ে যেতে লাগল, হাটবাজার, দোকানপাট, মন্দির ভূগর্ভস্থ কুঠুরি। জীবন বাঁচানোর একমাত্র পথই খোলা আছে সম্ভব পলায়ন। বিলম্ব মানে ভয়াবহ মৃত্যু। যাদের গাড়ি ছিল ঘোড়া ছিল চড়ে বসল। গোড়াকে লাগাল চাবুক যেন যথাসম্ভব দ্রুতগতিতে শহর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারে। শক্ত করে ধরল তারা জ্বলন্ত মশাল। কারণ মধ্য দিনেই নেমে এসেছিল অমানিশার সূচিভেদ্য আঁধার। প্রাণ বাঁচানোর জন্য পালাচ্ছে তারা পাগলের মতো সমুদ্রের দিকে অথবা নেপল্স শহরের দিকে। পম্পেইতে বিপর্যয় ঘটল একটু পরে। হারকুলেনিয়ামের মতো লোকজন তাড়াহুড়ো করল না। সুতরাং নষ্ট হয়ে গেল মূল্যবান সময়। সেখানকার অধিবাসীরা সভয়ে দেখছিল ভিসুভিয়াসের রুদ্রমূর্তি। তখন সেই ভীষণ মূর্তি আগ্নেয়গিরির জঠর থেকে জন্ম এবং ধূম এক বিশাল পাইন গাছের আকার ধারণ করে প্রায় এক হাজার ফিট উপরে উঠে গেছে। তারা তখনো আশা করছিল এবং প্রার্থনা করেছিল বাতাস হয়তো দূরে সরিয়ে দেবে ভস্ম আর ধূমের ভয়াল মেঘ। তারা তাদের একান্ত প্রিয় বাড়িঘর ছেড়ে যেতে চাচ্ছিল না। এটাই হলো বহু লোকের মৃত্যুর কারণ। কিন্তু উত্তর-পশ্চিম বায়ুদানবরূপী সেই মেঘকে চালিত করল শহরের দিকে। তখন ফিরে এলো তাদের সম্বিত। তারা পালাতে চেষ্টা করল। তখন স্তূপের পর স্তূপ লাভা এসে পড়ছে, এবং ছোট্ট ছোট্ট পাথরগুলো এসে ঢুকছে সর্বত্র। আর মাঝে মাঝে প্রবল বায়ু প্রায় চৌদ্দ পাউন্ড ওজনের পাথর উড়িয়ে ফেলছে শহরের ওপর। শিগগিরই লাভা সব কিছু গ্রাস করতে শুরু করল। অনেক বাড়ির ছাদ ভেঙে যাচ্ছে পাথর আর লাভার চাপে। পলায়নপর লোকেরা তখন সংগ্রাম করছে নয়-দশ ফুট উঁচু লাভার প্রাচীর ভেঙে এগিয়ে যেতে। এক রকম সাদা ছাই বৃষ্টির সাথে মিশে পড়ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। নির্দয়ভাবে পলায়নপর পম্পেইবাসীদের পথে বাধার সৃষ্টি করছে। গন্ধক ধূমে দম বন্ধ হয়ে পথের ওপর ঢলে পড়তে লাগল অগণিত লোক। ভেজা ভস্ম আঠার মতো আটকে ধরছে মানুষের হাত-পা। যারা আগে পালায়নি, বরণ করল ভয়াবহ মৃত্যু। সেই মহাবিপদের সময় পম্পেইবাসীরা প্রাণের ভয়ে দিশেহারা হয়ে গেল। যা সেখানে ছিল সেখানে রেখেই পালাতে লাগল। পেছনে ফিরে তাকানোর অবস্থা তাদের ছিল না। এক বাড়িতে শূকর ছানা রোস্ট হচ্ছিল। আর এক জায়গায় রুটি সেঁকা হচ্ছিল উনানে। তাই রেখে বাড়ির লোকজন পালিয়ে গেল। এক বাড়িতে শেকলে বাঁধা ছিল একটি কুকুর। কুকুরের মালিক পালিয়ে যাওয়ার সময় কুকুরটিকে ম্ক্তু করে যেতে ভুলে গেলেন। যখন পাথরের টুকরোগুলো বৃষ্টি ধারার মতো তার গায়ে এসে পড়ছিল, তখন হতভাগ্য জীবটি নিজেকে বাঁচানোর জন্য কী লাফালাফিই না করেছে। অবশেষে যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পাগুলো ছড়িয়ে দিয়ে ঢলে পড়েছে মৃত্যুর কোলে। ইতোমধ্যে পাম্পেইয়ের রাস্তাগুলো ভীতসন্ত্রস্ত লোকজন পূর্ণ হয়ে গেছে। সবাই বাঁচার জন্য সংগ্রাম করছে। কার আগে কে পালাতে পারে। বেশির ভাগ লোকই ধাবিত হচ্ছে পশ্চিমের ফটকের দিকে সেখান থেকে রাস্তা বেরিয়ে গেছে হারকুলেনিয়ামের দিকে। কিন্তু তারা জানে না ইতোমধ্যে কী দশা হয়েছে হারকুলেনিয়ামের। এ দিকটায় মার্কারি স্ট্রিটে বাস করত একজন ধনী রোমান। তার বাড়িটি ছিল সুন্দর। এই বসতবাড়ি রেখে তিনি প্রাণ নিয়ে পালিয়ে গেলেন। কিন্তু তার স্ত্রী মূল্যবান জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে দেরি করে ফেললেন। ফলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে গেল তার। বাড়ি থেকে বেরিয়ে অল্প দূরে রাস্তায় তিনি ঢলে পড়লেন আগ্নেয়গিরি নিঃসৃত, বৃষ্টিসিক্ত, আঠালো ভস্ম স্তূপের মাঝে। তার চতুর্দিকে ছড়িয়ে রইল তার অলঙ্কারাদি, টাকা-পয়সা, রুপালি আয়না। আর কাছেই পড়ে রইল তার তিন পরিচারিকা। এদিকে অন্ধকার আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে পাথর আর ছাই ভস্ম। গন্ধক ধূমে দৃষ্টিহীন হয়ে আসছে পলায়মান লোকদের চোখ। বন্ধ হয়ে আসছে শ্বাস-প্রশ্বাস। শহরের সড়ক পূর্ণ এর নগরীতে। মৃত্যুর সাথে লড়াই করে পরাজিত হয়ে লুটিয়ে পড়ছে দলে দলে, পাথর আর ভস্মের সমুদ্রে। স্তূপের পর স্তূপ জমে উঠল মৃতদেহ। একটি বাড়িতে আবিষ্কৃত হলো সম্ভবত সবচেয়ে করুণ এবং লোমহর্ষক দৃশ্য। স্পষ্টত বোঝা যায় কোনো আত্মীয়ের মৃত্যুর অন্ত্যেষ্টিভোজের আয়োজন হয়েছিল সেখানে। বিষাক্ত গ্যাসে সেখানকার লোকজন এমন আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করল যে, নিজ নিজ স্থানেই রয়ে গেল লাশগুলো। শহরের বাইরে সমুদ্রের তীরে ছিল এক ধনাঢ্য লোকের বাড়ি। সহজেই অনুমান করা যায়, শহরের ভেতরের বাসিন্দাদের চেয়ে এই বাড়ির লোকজনের পলায়ন ছিল অনেক সহজতর। যখন খননকারীরা এই ধ্বংসস্তূপ সরাল, তখন বেরিয়ে আসল ওই বাড়ির প্রাচীর চিত্রগুলো। আর পাওয়া গেল তিন রমণীর কঙ্কাল। তারা পালাতে পারেনি। কারণ ঘরের মেঝে এবং ছাদ ভেঙে পড়েছিল। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল তারা নানা অলঙ্কারে শোভিত হয়ে। একজন যুবতী তখনো ধরে রেখেছিল একটি ব্রোঞ্জের আয়না। একটি মেয়ে অতি কষ্টে প্রবেশদ্বারে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু নিঃশেষ হয়ে গেল তার শক্তি। পড়ে রইল সেখানে। আর একটি লোকের কঙ্কাল দেখে মনে হয় লোকটি ছিল সেই বাড়ির দারোয়ান। সেই ঘোর বিপদের সময় সে বোধ হয় প্রাণ বাঁচানোর জন্য সেই বৃহৎ অট্টালিকার এ ঘরে সে ঘরে ঘুরে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নেয় নিজের ঘরের এক কোণে। সেখানেই সে বরণ করে শোচনীয় মৃত্যু। মনে হয় এখনো সে তাকিয়ে আছে বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের আংটির প্রতি। সেখানে বসানো আছে একটি পাথর, তার ওপর অঙ্কিত আছে একটি ছোট্ট মূর্তি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বটতরুর তিথি - পর্ব ৫
→ বকুলের গার্লফ্রেন্ড এর বিয়া পর্ব-১
→ আইন জালুত - এক চিতাবাঘের গর্জন
→ সাদ ও নিশানের গল্প পর্ব - ৪
→ The king of darkness 4 & last
→ তোকে পাওয়া হলোনা ৪ পাট
→ তবুও...ভালোবাসি...
→ ইনসানিয়াত-মানবতা
→ উপকারী মিথ্যা ও ক্ষমা
→ তোকে পাওয়া হলো না ৩ পাট

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...