গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

মুসলীমদের বীরত্বগাথা ইতিহাসের সোনালি অধ্যায় থেকে

"যুদ্ধের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান M.H.H.RONI (৮৬৭ পয়েন্ট)



মঙ্গল বাহিনী।কে না চিনে এই বাহিনীকে।মঙ্গলদের নাম শুনলেই এক সময় কাপত পুরো বিশ্ব।আচমকা আক্রমনই ছিল তাদের প্রধান কৌশল।উচ্চ রণদক্ষতা ঝড়ের বেগে শএুকে পরাজিত করাই ছিল তাদের কাজ।সারা বিশ্ব ভেবেই নিয়েছিল তারা অপারেজয় শক্তি।কিন্তুু না কোন শক্তিই কী অপারেজয় হতে পারে বলুন?? বিশেষ করে তা যখন অপশক্তি।মঙ্গলদের আক্রমনে যখন দিসেহারা হয়ে যাচ্ছিল সকল শক্তি ঠিক তখনই আগমন গটে ইতিহাসের অন্যতম আরেক বীরের।তিনি আর কেউ নয় তিনি হলেন সুলতান বাইবার্স।দুঃখের বিষয় হলো আমাদের প্রজন্মকে কেউ এসব শিক্ষা দেয় না।যাকগে বাদ দিন।বলে কোন লাভ নেই।অসাম্য রণকৌশলী আর সাহসী ছিলেন তিনি।তিনিই প্রথম বিশ্বকে জানান দেন যে কোন শক্তিই অপারেজয় হতে পারে না।তার সাথে যুদ্ধে টিকে থাকতে না পেরে হালাকু খান চুক্তি করতে চাইলে তিনি অস্বীকৃতি জানান।তিনিই আবার ১২৬১ সালে আব্বাসীয় খিলাফত পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেন।আপনারা হয়ত জানেন হালাকু খান কর্তৃক ১২৫৮ সালে দীর্ঘকাল ব্যাপি মুসলীম উম্মাহকে নেতৃত্ব দেওয়া আব্বাসীয় খিলাফত ধ্বংস হয়েছিল।তার হাত ধরেই মুসলীম উম্মাহ পায় আরেকটি নবজাগরনের পথ। সুলতান হবার পূর্বেই ১২৬০ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বাইবার্স সুলতান কুতুযের নেতৃত্বে সংগঠিত মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আইন-জালুতের যুদ্ধে অসামান্য রণদক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দেন। তীব্র রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী মোঙ্গলদের পরাজিত ও বিধ্বস্ত করতে সক্ষম হয়। এভাবে “মঙ্গোলদের পরাজয় অসম্ভব”- এই প্রবাদ বাক্য মিথ্যায় পর্যবসিত হয়। শুধু তাই নয়, এ যুদ্ধের পরেই মঙ্গোলদের জয়রথ পুরোপুরি থমকে দাড়ায়। বাইবারসের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী দীর্ঘ ৩০০ কিলোমিটার পথ তাড়িয়ে গুটি কয়েকজন বাদে সকল হানাদার মঙ্গোল সৈন্যকে হত্যা করে যা বিশ্ব ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। এ যুদ্ধেই প্রথম বাইবারসের প্রবর্তিত হাত-তোপ বা হ্যান্ড-ক্যানন ব্যবহার করে মুসলিম বাহিনী যাকে মিদফা’ বলা হত। আইন জালুতের যুদ্ধ কেবল মিসর ও ইসলামের ইতিহাসে নয়,বরং সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা। যদি ধ্বংসাত্মক মোঙ্গল শক্তি এ যুদ্ধে জয় লাভ করতো,তাহলে তারা উত্তর আফ্রিকা,স্পেন এবং ইউরোপের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে যুগপৎ প্রাচ্য ও প্রতিচ্যের ইসলামি ও খৃস্টীয় সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতো। তাই আইন জালুতের যুদ্ধে একই সঙ্গে ইসলাম ও বিশ্বসভ্যতা রক্ষা পেয়েছিল। এদিকে আইন জালুতের চরম প্রতিশোধ নিতে সেই হালাকু খানই আবার ধেয়ে আসে মিসর-সিরিয়া পানে। মহানদী ফোরাত অতিক্রম করে তার অজেয় বাহিনী একসময় আছড়ে পড়ে মামলুক সীমান্তের অভ্যন্তরে। চোখের পলকে হিমস পর্যন্ত শামের বিস্তীর্ণ অঞ্চল হালাকু খান ফের কব্জা করে নেয়। ১২৬২ খ্রিষ্টাব্দের জুলাইয়ে শামের বুক চিড়ে আবারও বয়ে চললো রক্ত নদী! কিন্তু না। এবারও তাদের দম্ভ চূর্ণ করলেন দুর্ধর্ষ বীর সুলতান বাইবার্স। অবাক বিশ্ব আবার দেখলো মামলুক চমক! হালাকু বাহিনী ফের টের পেলো এতোদিন কচুকাটা করে আসা কোটি কোটি আয়েশী মুসলিম আর এই মামলুক মুসলিমরা এক নয়। সুলতান বাইবার্স প্রচণ্ড আক্রমণে তাদের পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করালেন। বাধ্য হয়ে তারা শান্তিচুক্তি করতে চাইল। চাতুর সুলতান তাদের গাদ্দারির দীর্ঘ ইতিহাস সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত ছিলেন, তাই তিনি তাদের শান্তি প্রস্তাবে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রতিটি রণক্ষেত্রে তাদের পরাজিত করতে থাকলেন। ১২৭৩ খ্রিষ্টাব্দে বীরা নামক স্থানে তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। একপর্যায়ে তারা এশিয়া মাইনরের রোম্যান সালজুক সালতানাতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ১২৭৭ সালে মামলুকদের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এলবিস্তান নামক স্থানে সংগঠিত এই যুদ্ধে সুলতান বাইবার্স শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন মঙ্গোল বাহিনী ও মিত্র সালজুক বাহিনীকে। এছাড়াও সুলতান বাইবার্স আইন জালুত যুদ্ধে মঙ্গোলদের সাহায্যকারী ক্রুসেডারদেরকে বিশেষ করে এন্টিয়কের রাজা ৬ষষ্ঠ বহিমন্ডকে শায়েস্তা করতে চাইলেন। এন্টিয়ক ছিল এশিয়ায় খৃস্টানদের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘাঁটি । সুলতান বাইবার্স এন্টিয়ক অবরোধের জন্য একটি বাহিনী প্রেরন করেন এবং দীর্ঘদিন তা অবরোধ করে রাখেন। অবশেষে আর্মেনীয় রাজা হিথম তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসলে সুলতান বাইবার্স অবরোধ তুলে নেন। এরপর ১২৬৩ সালে তিনি ক্রুসেডারদের অন্যতম শক্ত দুর্গ আক্কা অবরোধ করেন। এরপর তিনি একে একে ক্রুসেডারদের সকল দুর্গগুলো গুঁড়িয়ে দিতে থাকেন। ১২৬৫ সালে ক্রুসেডারদের দখলে থাকা জেরুজালেমের নিকটবর্তী কাইসারিয়া ও হাইফা শহরদুটি জয় করেন। বিনা যুদ্ধে জাফাও দখলে নেন। এরপর ৪০ দিনের অবরোধ শেষে আরসুফও দখল করে নেন। ১২৬৬ সালে সাফেদ ও রামলা শহর দুটিও ক্রুসেডারদের দখলমুক্ত করে ফেলেন। এভাবে একের পর রাজ্য হারিয়ে ক্রুসেডাররা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে কোন কোন ক্রুসেড রাজ্য তাদের দখলে থাকা কিছু ভখন্ড স্বেচ্ছায় সুলতান বাইবার্সকে উপহার দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে। এবার সুলতান তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন ঔদ্ধত্য প্রদর্শনকারী ক্ষুদ্র আর্মেনীয় সম্রাজ্যের প্রতি। তিনি প্রথমে আর্মেনীয় রাজা হিথমকে আনুগত্য প্রদর্শন ও কর প্রদান করতে বলেন। কিন্তু মঙ্গোলদের চাপে সে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে সুলতান বাইবার্স আমির সাইফুদ্দিন কালাউনের নেতৃত্বে একটি বাহিনী প্রেরন করেন তাকে শায়েস্তা করতে। ১২৬৬ সালে সংগঠিত রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে মামলুকদের হাতে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় আর্মেনীয় বাহিনী। সিস ও আয়াস নামক দু'টি দুর্গ দখল করে মামলুক সৈন্যরা পাইকারি হারে তাদের হত্যা ও বন্দি করে এবং আর্মেনীয় সম্রাজ্যে ব্যাপক ধ্বংসাযজ্ঞ চালায়। এরপর ধীরে ধীরে এ সম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে। ১২৬৮ সালে সুলতান বাইবার্স এশিয়ায় খ্রিস্টানদের দোলনা ও দুর্ভেদ্য ঘাটি খ্যাত এন্টিয়ক জয় করেন। এ সময় ১৬ হাজার ক্রুসেডারকে হত্যা এবং বন্দি করা হয় আরও ১ লাখ ক্রুসেডারকে । এন্টিয়োকের পতনের সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের ছোটখাটো ক্রুসেড রাজ্যগুলিও ভেঙ্গে পড়ে। আর এভাবেই সুলতান বাইবারসের মাধ্যমে মুসলিম ভূখণ্ডগুলো থেকে স্থায়িভাবে ক্রুসেডাররা বিতাড়িত হয়, মুসলিম উম্মাহ ফিরে পায় তার হারানো গৌরব। ক্রুসেডের ইতিহাসে সুলতান বাইবার্সই সব থেকে বেশি ক্রুসেডার হত্যাকারী ও তাদের শহর ও দুর্গ ধ্বংসকারী ব্যক্তি। ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে অসংখ্য যুদ্ধই মূলত তাকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে গেছে। ইসলামকে রক্ষার জন্য মোঙ্গল ও ধর্মযুদ্ধকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তিনি ইসলামের দ্বিতীয় সালাহ উদ্দিন উপাধি লাভ করেন। বাইবার্সের রাজত্বকালে হাসান-বিন-সাবাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত গুপ্তঘাতক হাশাশিন সম্প্রদায় পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ইতঃপূর্বে হালাকু খান এ সম্প্রদায়কে ভীষণভাবে পর্যুদস্ত করলেও তাদের শক্তিকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। গুপ্তঘাতক সম্প্রদায় মিসরের জন্য হুমকি সৃষ্টি করলে তিনি তাদের মোকাবিলা করেন। ১২৭০-১২৭৩ সালের মধ্যে বাইবার্স তাদের ৯টি দুর্গই দখল করে উক্ত অঞ্চলসমূহকে তার সম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। এই আক্রমণে গুপ্তঘাতকদের ক্ষমতা চিরতরে খর্ব করেন তিনি। এইভাবে যবনিকাপাত হয় ত্রাস ও ষরযন্ত্রে ভরা দীর্ঘ এক শাসনকালের। ১২৭৬ খ্রিষ্টাব্দে বাইবার্স নুবিয়া অধিকার করেন এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকাও তার করদরাজ্যে পরিণত হয়। মহান আল্লাহ যেন ইতিহাসের অন্যতম এই বীরকে জান্নাত নসীব করেন।।আমিন।।। আরেকটা বিষয়,,আমার অনেক আগে থেকেই খটকা লাগছে তাই আজ বিষয়টি আমি আপনাদেরকে বলি।আইনে জুলুত যুদ্ধের সময় সাইফুদ্দিন কোতুযা ছিল সম্রাট।আর বাইবার্স ছিল সেনাপতি।সুলতান বাইবার্স মঙ্গোলদের পরাজিত করার পর ভেবেছিলেন সুলতান সাইফুদ্দিন খুশি হয়ে তাকে আলপ্পো শাসন করার ক্ষমতা দিবেন।কিন্তুু কোন এক কারনে সুলতান তাকে তা না দিলে বাইবার্স মারাত্নকভাবে রেগে যান এবং ক্ষমতা দখল করেন।।এটা আমি আজও পর্যন্ত মানতে পারছি না।আপনাদের কিছু বলার থাকলে বলে যাইয়েন।।gj।।কী আর করার।। প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক স্বাধীনতা।। ....................................... চলো,চলো,চল সবাই আধার কেটে এগিয়ে যাই।সত্যের পথে চলো হাতটি বাড়াই,সাহসীরা এগিয়ে যাই,আধার কেটে আলোতে যাই।। গানটি আমার লেখা না।কারযে এটা আমিও জানি না।ভালো লাগে তাই বললাম।কথা কিন্তুু সত্যে।।পরিশেষে সকলের সুস্বাস্হ কামনা করে আজকের মতো এখানেই বিদায়।পরবর্তীতে হাজির হবো আবারও কোন এক গল্প নিয়ে সেটা কী গল্প হবে আমিও জানিনা।ততদিন মহান আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুন।।আমিন।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৬৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ~বাড়ি থেকে পালিয়ে-শিবরাম চক্রবর্তী(বুক রিভিউ)
→ গল্প থেকে শিক্ষা: শিকারি ও বুদ্ধিমান পাখি
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? মুহাম্মাদ (সাঃ), সবদিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ – চতুর্থ পর্ব
→ মুসলীমদের কাছে নাইট উপাদি সম্মান নয় লজ্জার হওয়া উচিৎ।
→ জাহান্নাম থেকে মুক্তির সহজ উপায়
→ তোর থেকে তোর বাবা ভালো
→ আমি মেরাজ থেকে এসেছি
→ শূন্য থেকে শুরু
→ ~ আমার আম্মুর কাছ থেকে!
→ বউয়ের ফেইসবুক আইডি থেকে।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...