গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান ... গল্পেরঝুড়ি একটি অনলাইন ভিত্তিক গল্প পড়ার সাইট হলেও বাস্তবে বই কিনে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে... স্বয়ং জিজের স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের বড় একটি লাইব্রেরী আছে... তাই জিজেতে নতুন ক্যাটেগরি খোলা হয়েছে বুক রিভিউ নামে ... এখানে আপনারা নতুন বই এর রিভিও দিয়ে বই প্রেমিক দের বই কিনতে উৎসাহিত করুন... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

আদর্শ এক গৃহবধূ(পর্বঃএক)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আব্দুল খালেক জোয়ারদার(guest) (৬০৯৭ পয়েন্ট)



????আসসালাতু খাইরুম মিনান্নাউম। নিদ্রার চেয়ে নামাজ শেষ্ঠ। আযানের এ শব্দ কানে যাওয়ার সাথে সাথে শাহিদার ঘুম ভেঙ্গে যায়।বিছানায় উঠে বসে পাশের জানালাটা খুলে দেয় শাহিদা। বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখে তখনো গুমোট অন্ধকার বিরাজ করছে। হঠাৎ কিসের যেন একটা শব্দ শুনতে পায় সে।ভয়ে গা শিউরে ওঠে শাহিদার।তারাতাড়ি জানালা বন্ধ করে দিয়ে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ বসে থাকে বিছানার উপর কান খাড়া করে। না আর কোনো শব্দ শুনতে পায় না সে।ভাবে আর একটু শুয়ে থেকে উঠলেই হবে এখনো তো অন্ধকার কাটেনি। পরক্ষনেই চিন্তা করে না এখন আর ঘুমিয়ে থাকা ঠিক হবে না। এখন ঘুমুলেই ফজরের নামাজ নির্ঘাত ক্বাজা হবে। শয়তান দুনিয়ার ঘুম এনে চোখে চেপে ধরবে। শাহিদা খাট থেকে নেমে ঘরের বাতি জ্বালিয়ে দেয়।তারপর দরজা খুলে বারান্দায় পা রাখে।এমন সময় পাশের রুমের দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন শাহিদার মা শাহিনা বেগম। তিনি শাহিদা কে দেখে বলেন,আর একটু পরে উঠলেই পারতিস মা! নামাজের এখনো অনেক সময় আছে। অন্য কোন মসজিদে এখনো আজান পড়েনি। আমাদের মুয়াজ্জিন সাহেব সবার আগে আযান দিয়ে কর্তব্য শেষ করেন। মায়ের কথার জবাবে শাহিদা বলে ফজরের আজান সময় হাতে রেখে দেওয়াই ভালো।তাতে নামাজিরা ধীরে সুস্থে আসার সুযোগ পায়,ঐযে আব্বাও উঠে পড়েছেন-বলেই শাহিদা বাথরুমে গিয়ে ঢোকে। ফজরের নামাজ শেষ করে শাহিদা বসে কুরআন তেলাওয়াতে আর মা শাহিনা বেগম রান্না ঘরে ঢোকেন নাস্তার যোগাড়ে। সকালের নাস্তা শাহিনা বেগমকেই করতে হয়। কারণ কাজের ঠিকা ঝি আটটার আগে আসেনা। ছোট কাজের মেয়ে শিউলী কে দিয়ে থালা বাসন মাজা,ঘর দরজা ঝার দেওয়া,ও ফাই ফরমাশ চলে মাত্র।খান বাহাদুর রফিক আহমদের ফজরের নামাজ পড়ে বাসায় ফিরেই চা-নাস্তা করার অভ্যাস অনেক পুরোনো।তাই ফজরের নামাজ শেষ করে শাহিনা বেগমকেই ঢুকতে হয় রান্না ঘরে।খান বাহাদুর রফিক আহমদের দুই মেয়ে শরিফা ও শাহিদা, এক ছেলে রকিব।শরিফার বিয়ে দিয়েছেন খুলনার ধনাঢ্য শিল্পপতি আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে লতিফুর রহমান এর সাথে।আর ছেলে রকিব আহমেদ এম এ এল এল বি পাস করে এক বছর হলো ঢাকা বারে জয়েন করেছে।এখনো পসার জমে উঠেনি।আর ছোট মেয়ে শাহিদা বিএ ক্লাসের ছাত্রী। খান বাহাদুর রফিক আহমদের পিতা কফিল আহমেদ ছিলেন একজন প্রভাবশালী জমিদার। বৃটিশ সরকার এই খান বাহাদুর পদবি জমিদার কফিল আহমেদকেই দিয়েছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর রফিক আহমেদ এই উপাধি ওয়ারিশ সূত্রে পায়।তারপর জমিদারি চলে যাবার পর রফিক আহমেদ ঢাকা চলে আসেন এবং ব্যবসা গড়ে তোলেন। পৈত্রিক বাড়িভিটা ছাড়া গ্রামে আর জমিজমা রাখেন নাই দেখাশোনার লোকের অভাবে।সব জমি বিক্রি করে তিনি ব্যবসার দিকে মন দেন। এখন ঢাকায় তার তিনখানা বাড়ি। একখানা দোতলা বাড়িতে তিনি সপরিবারে বসবাস করছেন।আর দুখানা বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন।খান বাহাদুর রফিক আহমদের ইচ্ছা ছিলো ছেলে রকিব আহমদকে ব্যবসায় ঢুকিয়ে তিনি অবসর নিবেন। কিন্তু রকিব কিছুতেই ব্যবসার ঝামেলা মাথায় নিতে রাজি হয়নাই।খান বাহাদুর সাহেব ব্যবসার পরিধি ছোট করে আনলেও কয়েকখানা দূর পাল্লার বাস,তিনটি ট্রাক ,একটি পেট্রোল পাম্প ও দুটি কোল্ডস্টোরেজ এখনো আছে। এগুলো আগে খান বাহাদুর সাহেব নিজেই দেখাশোনা করতেন। কিন্তু বয়স হয়ে যাওয়ায় তিনি একজন বিশ্বস্ত লোক খুঁজতে থাকেন। একদিন স্ত্রী শাহিনা বেগম স্বামী কে বললেন, তুমি লোক খুঁজে ই, অথচ লোক আমাদের ঘরেই আছে। স্ত্রীর কথায় খান বাহাদুর সাহেব থ মেরে স্ত্রীর মুখের দিকে স্বপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকালেন।শাহিনা বেগম স্বামীর দৃষ্টির অর্থ বুঝতে পেরে মৃদু হেসে বললেন, ঘরের লোক দেখতে পাচ্ছ না,তাইনা? হ্যাঁ মানে তুমি কার কথা বলছো আমি ঠিক অনুমান করতে পারছিনা, বললেন খান বাহাদুর সাহেব। শাহিনা বেগম বললেন আমাদের মেহেদী হাসান এম এ পরীক্ষা দিয়ে এখন ঘরেই বসে আছে।সব দিক দিয়েই হাসান ভালো ছেলে। কমার্সের ছাত্র ছিলো। হিসাবপত্র ও ভালো বুঝবে।তাছাড়া ছেলেটার স্বভাব চরিত্র ও খুব ভালো । পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। স্ত্রীর কথা শুনে খান বাহাদুর রফিক আহমদের চোখেমুখে খুশির আভা ফুটে উঠলো। তিনি বললেন ,শরিফার মা আমার ইচ্ছা হচ্ছে এই মুহূর্তে তোমাকে একটা মূল্যবান পুরষ্কারে ভূষিত করি। কিন্তু হাতের কাছে তেমন কিছু নেই।তবে পাওনা থাকলো। সত্যি রত্ন ঘরে রেখে আমি মাঠে ময়দানে খুঁজে ফিরছি,। কিন্তু কথা হলো, হাসান এত উচ্চ শিক্ষিত হয়ে প্রাইভেট ফার্মে আসবে চাকরি করতে। খান বাহাদুর রফিক আহমদের কথায় শাহিনা বেগম আশ্বাস দিয়ে বললেন,আসবে। দুলাভাই মারা যাওয়ার পর থেকে ওদের অবস্থা এখন ভালো না।বড় আপা কিছুদিন আগে আমাকে বলেছিলেন, সংসার চালাতে আমাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একমাত্র ভরসা হাসান। হাসান পাশ করে বের হয়ে কোনো চাকরি না করা পর্যন্ত আমি স্বস্তি পাচ্ছিনা।তাই আমার ধারনা বড় আপাকে বললে না করবে না।সরকারী চাকুরী পাওয়া তো সোনার হরিণ ধরার শামিল।শুনেছি একটা কেরানির চাকরি নিতে গেলেও নাকি লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।অথচ আপার সে ক্ষমতা নেই। তুমি যদি রাজি থাকো। আমি আপাকে খবর পাঠাই। স্ত্রীর কথা শুনে রফিক আহমেদ বললেন ,বলো কি রাজি থাকবো না মানে? এমন একটা উপযুক্ত অফার।আর সেতো আমাদের ই ছেলে। নিজের বাড়ির মতোই থাকবে। উঃ তুমি আমাকে বিরাট চিন্তার হাত থেকে বাঁচালে।আজই খবর পাঠাও আমি একা আর পারছি না। ভেবেছিলাম রকিব কে সব বুঝিয়ে দিবো কিন্তু সে কিছুতেই আসতে রাজি হলো না।ঢুকলো ওকালতি করতে। করুক না কিছুদিন । তারপর বিয়ে শাদী হলে এমনিতেই মত বদলাবে।তুমি বরং ওর বিয়ের ব্যবস্থা কর। স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বললেন শাহিনা বেগম। এ ঘটনা এক বছর আগের। এখন খান বাহাদুর রফিক আহমেদ তার ব্যবসার সমস্ত দায়িত্ব মেহেদী হাসানের ওপর দিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। মেহেদী হাসান ও বিজ্ঞতার সাথে দায়িত্ব পালন করে খালা খালুর সুদৃষ্টি অর্জন করে অত্যন্ত আদর যত্নে দিন কাটাচ্ছেন। খান বাহাদুর সাহেব মেহেদী হাসানকে --- হাজার টাকা ছাড়া ও তার খাওয়া পরা সব খরচ ই বহন করেন।যার কারণে মেহেদী হাসানের মায়ের সংসারে ও আর অভাব নাই।তবে মেহেদী হাসানকে প্রায়ই বাইরে থাকতে হয়। খান বাহাদুর সাহেবের দুটি কোল্ডস্টোরেজ ই বাহিরে একটা গাজীপুর আর একটা নারায়নগঞ্জ।সিজন টাইমে প্রায়ই হাসান কে দুটি কোল্ডস্টোরেজ এর তত্ত্বাবধানে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। তাছাড়া বাস ও ট্রাকের দেখাশোনা তাকেই করতে হয়। যদিও সহযোগী আরও অনেক লোক ই আছে , কিন্তু নির্বাহী ক্ষমতা সবই মেহেদী হাসানের হাতে।তাই সব জায়গায় তার উপস্থিতির দরকার হয়। মেহেদী হাসান আসার পড়ে খান বাহাদুর আরও একখানা গাড়ী কিনেছেন।আগের গাড়িটা ছেলে রকিব আহমেদ কোর্ট নিয়ে যায়।তাই মেহেদী হাসানের জন্য আরও একটা গাড়ী কিনতে হয় তাকে। শাহিদার বি এ পরীক্ষা সামনে। শাহিনা বেগম একদিন মেহেদী হাসান কে বললেন বাবা হাসান শাহিদার সামনে পরীক্ষা। তুমি সময় করে ওকে যদি পড়ার ব্যাপারে কিছু সময় সাহায্য করতে তাহলে ওর খুব উপকার হতো। তোমার খালু বাইরের মাস্টার রেখে পড়াতে মোটেও রাজি না। তাছাড়া তোমার খালু তো ওকে আর পড়াতেই চাচ্ছে না। বলছেন বিয়ে পরীক্ষা হলেই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিবেন। মেহেদী হাসান আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করে -কেন খালাম্মা শাহিদা কে আর পড়াবেন না কেন? তোমার খালু বলেন ভার্সিটিতে এখন আর লেখাপড়ার পরিবেশ নাই।ভার্সিটি হলে মেয়েরা নাকি গাঁজার আসর বসায়। ভার্সিটির খুব কম ছাত্র ছাত্রী আছে যারা কোনো দলের ক্যাডার না। শিক্ষাঙ্গন গুলো এখন রাজনীতির আগ্রায় পরিনত হয়ে পড়েছে। ওখানে ছেলে মেয়ে যায় শিক্ষা অর্জন করতে , কিন্তু বের হয়ে আসে সন্ত্রাসী হয়ে। খালুজান একেবারে মিথ্যা বলেননি। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র ছাত্রীদের ব্যবহার করছে হাতিয়ার হিসেবে। ভার্সিটির খুব কম ছাত্র ছাত্রী আছে যারা কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাডার নয়। নতুন কোনো ছাত্র ছাত্রী যখন ভর্তি হয় তখন থেকেই শুরু হয় রাজনৈতিক দলের টানাটানি। বিভিন্ন টোপ দিয়ে তাদের দলে টানার হয়। আমি অনেক কষ্টে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু সবাই পারে না ওদের হাত থেকে বেঁচে থাকতে। -আচ্ছা যে সব নেতা নেত্রী রা ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে তাদের কি ছেলে সন্তান নেই। -আছে তাদের অধিকাংশই লেখাপড়া করে বিদেশে।আর দেশে যারা আছে তারা সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া। নেতানেত্রীদের ছেলে মেয়ে হওয়াতে তাদের দাপটে অন্যান্যরা মুখ খুলতে পারে না। ইচ্ছা না থাকলেও দলে নাম লেখাতে হয়। যখন কোনো গন্ডগোল হয় তখন নিরিহ ছাত্র দের সামনে ঠেলে দিয়ে তারা থাকে পিছনে।যার ফলে দেখা যায় আহত নিহত যারা হচ্ছে তারা সব বাহিরের , নেতানেত্রীদের ছেলে মেয়ে একটা নেই সেখানে। তুমি ঠিকই বলেছ বাবা আমি সেজন্য তোমার খালুর মতের বিরোধীতা করিনি। আল্লাহ আল্লাহ করে বিএ পাস করতে পারলেই ওর পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে চাই।অবশ্য তাতে শাহিদা রাজি হবে কিনা বলা মুশকিল। -সেটা তখন দেখা যাবে। অবস্থা দেখে ব্যবস্থা নিলেই হবে। হ্যাঁ তাই ।আগে বি এ টা তো পাশ করুক।তাহলে বাবা তুমি আজ সন্ধ্যায় বসবে ওকে নিয়ে। ঐদিন মাগরিবের নামাজের পর মেহেদী হাসান গিয়ে ঢুকলো শাহিদা র পড়ার ঘরে।ওরা দুজন খালাতো ভাই বোন।ছোট বেলায় একই সাথে খেলাধুলা করে বড় হয়েছে।তারপর মেহেদী হাসান কলেজ ছেড়ে যখন ভার্সিটিতে ভর্তি হয় তখন থেকে প্রায় পাঁচ ছয় বছর আসা যাওয়া না থাকায় দেখা সাক্ষাৎ ও হয়ে ওঠেনি।তবে রকিবের সাথে প্রায়ই ভার্সিটিতে দেখা হত।রকিব ও হাসান দুজনেই সম বয়সী ।সম্পর্ক ও মধুর। হাসান যখন শাহিদা র ঘরে ঢোকে তখন শাহিদা ঘরে ছিলোনা।হাসান একটা চেয়ারে বসে টেবিলে রাখা বইগুলো নাড়াচাড়া করছিলো।এর কিছু ক্ষণ পরে একটি ট্রেতে কিছু নাস্তাও চা নিয়ে শাহিদা দরজায় এসে হাসান কে সালাম দিয়ে ঘরে ঢুকলো। হাসান পাঁচ ছয় বছর পর শাহিদা কে এত কাছ থেকে দেখে অবাক হলো। অতীতের শাহিদা র সাথে আজকের শাহিদাকে কিছুতেই মিলাতে পারছিলো না। যদিও এ বাড়িতে আসার পর হাসান কে ব্যবসায়ী ঝামেলায় প্রায়ই খান বাহাদুরের সাথে বাইরে বাইরে থাকতে হয়েছে,ব্যবসা বুঝে নিতে। তবুও মাঝে মাঝে অন্দর মহলে আসেনাই তা নয়।তবে হাসান অত্যন্ত লাজুক প্রকৃতির হওয়ায় মাথা তুলে যেমন কারো দিকে তেমন তাকাতো না,তেমনি বিনা প্রয়োজনে কথাও বলতো না। তাছাড়া রক্ষণশীল পরিবার হিসেবে বেপর্দায় চলাফেরা করার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে শাহিদার সাথে সরাসরি কথা বলা বা দেখাসাক্ষাৎতের ও তেমন সুযোগ ছিলোনা। হাসানের ও ওর সমন্ধে কৌতুহল ছাড়েনি কোনোদিন।তাই আজ যখন চা নাস্তা হাতে শাহিদা একেবারে সামনে এসে দাঁড়ালো তখন হাসানের মনে হলো ,এ মেয়ে কে যেন সে কোনদিনই দেখেনি।এই বুঝি প্রথম দেখলো।সাদা সালোয়ার কামিজের সাথে সাদা ওড়নায় অপূর্ব দেখাচ্ছিলো তাকে।একেতো দুধে আলতা গায়ের রং,তার ওপর হাতে কালো রেশমি চুড়ি ও কানে সাদা পাথর বসানো সোনার টপ,কাজল দেয়া দুটি টানাটানা চোখ যেন কল্পনার সেই ফুলপরীর কথাই স্বরণ করিয়ে দিচ্ছিলো।সারা অঙ্গ থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছিলো এক নির্মল স্বর্গীয় দ্যুতি। হাসান তখনো তাকিয়ে ছিলো শাহিদার দিকে ।শাহিদা টেবিলে চা রেখে হাসানের দিকে তাকিয়ে ঠোটের কোণে মৃদু হাসির রেখা টেনে বললো , ভাইজান! চা ঠান্ডা হচ্ছে ,কি দেখছেন এমন করে ? শাহিদার কথায় হাসান লজ্জা পায় ।বলে না , দেখছিলাম না হিসাব মিলাচ্ছিলাম । হিসাব মিলাচ্ছিলেন!কিসের হিসাব ।ব্যাবসার ?হেসে বলে শাহিদা । -না অতীতের শাহিদার সাথে আজকের শাহিদাকে মিলিয়ে দেখছিলাম ।, -মিললো না বুঝি ? হ্যাঁ আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি এই নারী জাতি ।প্রতি ঋতুতে আল্লাহ এদের দেহ কাঠামোকে পরিবর্তন করে দেন।আর এটাই হলো তার সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য। -আমার ভিতর কি এমন পরিবর্তন পেলেন আপনি? -ওটা তোমাকে বলে বোঝানো যাবে না।কারণ তার পরিবর্তন সে নিজে তা বুঝতে পারে না। -কিছুই কি বুঝতে পারে না? -তা হয়তো পারে । কিন্তু সেই পরিবর্তনের মূল্যায়ন তারা করতে পারে না। মূল্যায়ন করতে হয় পুরুষকে। -তাহলে পুরুষদের পরিবর্তন ও তো তারা বুঝতে পারে না।তা কেবল মেয়েদের চোখেই ধরা পড়ে আর তা মূল্যায়ন করতে হয় মেয়েদের।তাই নয় কি? -না তা ঠিক নয়।প্রথমতঃ পুরুষদের শরীরে আকর্ষণীয় কোনো পরিবর্তন হয়না বড় জোর পাতলা থেকে মোটা,মোটা থেকে পাতলা বয়স হল দাঁড়ি মোচ এর বেশি কিছু না। দ্বিতীয়তঃ পুরুষকে মূল্যায়ন করার ক্ষমতা নারীকে দেয়া হয়নি। যেমন ফুল কে দেওয়া হয়নি মোমাছির মূল্যায়ন করার ক্ষমতা।মোমাছিই ফুলের মূল্যায়ন করে থাকে।সে যাক, তুমি কোন কোন সাবজেক্টে নিজেকে দূর্বল মনে কর ? ইংরেজি আর অংক ।আপনি বসুন আমি এগুলো রেখে আসি। শাহিদা নাস্তার ট্রে হাতে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৪৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বন্ধুর পথ এক........
→ আদর্শ ছাত্র
→ প্রশ্ন একটাই আমরা কী সত্যিই মুসলীম?
→ শামসুর রহমানের সাথে একদিন।
→ হঠাৎ একদিন.......!!!!
→ একি হলো হিমুর?
→ আইনস্টাইন, নিউটন,হকিং এবং একজন হিমু!!
→ ব্যভিচারের শাস্তি(একটি ঘটনার মাধ্যমে)
→ একটু রাগ একটু ভালোবাসা
→ ইসলাম ধর্মই কেন পৃথিবীর একমাএ সত্যে ধর্ম?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...