গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

বউ-০৬

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মরীচিকা (১১৩ পয়েন্ট)



writer: #Nur_Nafisa . . বিকেলে রেহান ও তার বাবা একসাথে বাসায় ফিরলো। প্রতিদিন এসময় বাসায় ফিরে দেখে নাফিসা আর রিয়াদ বাসার সামনে ফাকা জায়গায় ক্রিকেট খেলে কিন্তু আজ খেলছে না। . রায়হান- আজ খেলোয়াড়রা কোথায়! . রেহান- মুড অফ! . রায়হান- কি বলেছিস এমন মুড অফ হয়ে গেছে! . রেহান- উচু গলায় কথা বলাতেই এমন। . রায়হান- মেয়েটা একটু অন্যরকম। হয়তো ছোট থেকে বেশি আদরে লালিত পালিত হয়েছে। এমন বিহেভ করিস না ওর সাথে। . রেহান- তোমাদের মতো তো এতো সহজে সব বুঝতে পারি না! . রায়হান- ছাপাখানায় গিয়েছিস? . রেহান- না, মনে ছিল না। . রায়হান- আচ্ছা কাল যাবি..... এখন তো কিছু একটা করে মুড টা অন করতে হবে, . রেহান- হুম . . (কথা বলতে বলতে বাবা ছেলে গাড়ি পার্কিং করে দোতলায় চলে এলো। রুবিনা দরজা খুলে দিলো) . রায়হান- বউ মা কোথায়? . (রেহান বাবার কথা শুনে ঠোঁটের কোনায় হাসির রেখা ফুটিয়ে তুললো।) . রুবিনা- বাব্বাহ! এসেই বউ মায়ের খোজ! রিয়াদের রুমে আছে। পেইন্টিং করছে রিয়াদের সাথে। . রায়হান- মুড কি অন হয়েছে? . রুবিনা- মনে হয় ২০%.... . রেহান- সারাদিন বাসায় থেকে মাত্র ২০% ঠিক করেছো! . রায়হান- হাহাহা..... তোর মায়ের জন্য এটাই অনেক! . রুবিনা- চুপ থাক, তুই কোন কথা বলবি না। তোর জন্যই তো সারাদিন মেয়েটা মুড অফ করে রেখেছে! ভাগ্যিস কাল গেইট খোলা ছিলো না। সবসময় না বুঝে বেশি বেশি করে ফেলিস . রেহান- আচ্ছা, বললাম না কোন কথা। . (তারপর রেহান রিয়াদের রুমে একবার উকি দিয়ে আবার নিজের রুমে চলে এসে ফ্রেশ হলো। তোয়াল নিয়ে চুল মুছছে এমনি রিয়াদ এসে হাজির) . রেহান- তুই এখানে কেন? . রিয়াদ- তোমার ফোন দাও। . রেহান- কেন? . রিয়াদ- ভাবি বলেছে। . (রেহান নাফিসার কথা শুনে আর কিছু না বলে ফোন দিয়ে দিলো রিয়াদের কাছে। কিন্তু রিয়াদ ফোন নিয়ে নাফিসার কাছে যায়নি। এই রুমে দাড়িয়েই কিছু করছে।) . রেহান- কি করছিস তুই? এখন না বললি নাফিসা বলেছে ফোন নিয়ে যেতে? . রিয়াদ- ভাবি ফোন নিয়ে যেতে বলেনি ফোন থেকে ভাবির সব ছবি ডিলিট কিরে যেতে বলেছে। আমি সেটাই করছি। . রেহান- . (রেহান দ্রুত রিয়াদের হাত থেকে ফোন নিয়ে নিলো) . রেহান- যা বের হ এখান থেকে . রিয়াদ- তুমি এমন করছো কেন! যার ছবি সে ই তো বলেছে ডিলিট করতে। . রেহান- যেতে বলেছি এখান থেকে . (রিয়াদ চলে গেলো। রেহানের প্রচুর রাগ হচ্ছে রিয়াদের উপর। ছবি গুলো চেক করে দেখলো কয়েকটি ডিলিট করে ফেলেছে এখনও অনেক বাকি আছে। তারপর ফোনের পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে দিলো। এবার রেহান রিয়াদের রুমে এসে দেখলো নাফিসা আর রিয়াদ খাটে বসে পেইন্টিং করছে জল রঙ দিয়ে। রেহান ও তাদের পাশে বসলো। নাফিসা দেখেও না দেখার মতো নিজের কাজ করতে লাগলো। রেহান লক্ষ করলো নাফিসা চমৎকার একটা দৃশ্য অঙ্কন করছে। দৃশ্যটা রাতের। বিশাল সমুদ্রের তীরে একসাথ ৩টি নারিকেল গাছ, আকাশে চাঁদ, চাদের ঠিক বরাবর পানিতে কিছু একটা আকছে, নৌকা হবে হয়তো। এখনো এটা কমপ্লিট হয়নি। ) . রেহান- রিয়াদ, আম্মু তোকে ডাকছে। . রিয়াদ- কেন? . . রেহান- আমি কি জানি! গিয়ে দেখ, কিছু দিবে হয়তো তোকে... . (রিয়াদ দৌড়ে চলে গেলো।) রেহান- নাফিসা, সরি বলেছি তো! এমন চুপচাপ থাকলে তোমাকে একদম ভালো দেখায় না। . (নাফিসা তার কথায় কোন রেসপন্স করছে না। নিজের কাজ করতে ব্যস্ত) . রেহান- সরি, #বউ.... . নাফিসা- . (এবার নাফিসা রেহানের দিকে তাকালো শুধু, কিন্তু কিছু বললো না। রেহান একটু মুচকি হাসলো। তারপর রঙের কোটা থেকে আঙুল দিয়ে একটু নীল রঙ নিয়ে নাফিসার নাকে লাগিয়ে দিয়ে আবার বললো.....) . রেহান- সরি বউ.... . নাফিসা- . (ব্যাস দিলো রাগিয়ে.... নাফিসা তার আর্ট পেপার টা সাইডে রেখে এক হাত পুরো রঙে মেখে রেহানের মুখে মেখে দিলো তারপর নাফিসা খিলখিল শব্দ করে হাসতে লাগলো। রেহানকে পুরো বেড়ালের মতো দেখাচ্ছে । রেহান এবার রঙের ব্রাশটা নিয়ে নাফিসার গালে রঙ লাগিয়ে দৌড় দিতে গেলে রিয়াদ দরজার সামনে আটকিয়ে ধরলো, টেনে রেহানের টিশার্ট ধরে রইল। তারপর নাফিসা রঙের ট্রে নিয়ে সব রঙ রেহানের গায়ে ঢেলে দিলো। তার সাদা টিশার্ট বিভিন্ন রঙে রঙিন হয়ে উঠলো। রিয়াদ আর নাফিসা এবার প্রাণ খুলে হাসতে লাগলো। রেহান কিছুটা তৃপ্তি পেল নাফিসার হাসি দেখে। তারপর রেহান বেরিয়ে এলো রুম থেকে। ড্রয়িং রুমে রুবিনা ও রায়হান চৌধুরী ছেলেকে দেখে অবাক! ) . রুবিনা- একি অবস্থা তোর! . রায়হান- রঙের পুকুরে ঝাপিয়ে এসেছিস নাকি! . রেহান- রঙের পুকুরে ঝাপাইনি, তোমার বউ মায়ের মুড ১০০% অন করে এলাম।। . রুবিনা- হাহাহা..... . (এরই মাঝে রিয়াদ এসে কান্না করতে করতে রেহানকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি দিতে লাগলো। রেহান দৌড়ে গিয়ে বাবার পেছনে লুকালো। রিয়াদ তাকে ধরার জন্য দৌড়াদৌড়ি শুরু করলো। ) . নাফিসা- হিহিহিহি..... . রুবিনা- এই কি শুরু করলি! . রেহান- (এই ছেলের আবার কি হলো! এখন ই না হাসছিল!) এই তুই আমাকে মারছিস কেন? . রায়হান- (রিয়াদকে কোলে নিয়ে) আরে! আরে! কি হয়েছে? . রিয়াদ- আব্বু, ভাইয়া আমাকে মিথ্যে বলে আম্মুর কাছে পাঠিয়ে ওইদিকে আমার সব রঙ নষ্ট করে দিয়েছে . রুবিনা- তোদের নিয়ে আর পারিনা! . রেহান- এই রঙ তো আমিই এনে দিয়েছি . রায়হান- নষ্ট করেছে তো কি হয়েছে! জরিমানা স্বরূপ রেহান রিয়াদকে আবার এনে দিবে। . রিয়াদ- কালকের মধ্যে আমার নিউ কালার বক্স চাই। . রেহান- এএএএ! . (রাতে রায়হান চৌধুরী নাফিসাকে কেরাম খেলার প্রস্তাব দিলো। নাফিসার মুড এখন সম্পূর্ণ ঠিক হয়েছে। রিয়াদের ছোট কেরাম বোর্ডে খেলছে নাফিসা, রেহান, রিয়াদ ও রায়হান চৌধুরী। রুবিনা তাদের পাশে বসে খেলা দেখছে। সবাই লক্ষ করলো নাফিসা খুব দক্ষতার সাথে খেলছে।) . রায়হান- নাফিসা তো দেখছি একদম পাক্কা খেলোয়াড়! . নাফিসা- হুম, আমি সব খেলাতে ই চ্যাম্পিয়ন। আব্বু আমাকে শিখিয়েছে সব। আব্বুর সাথে প্রায়ই খেলি। . (বাবার কথা মনে করে যাতে আবার কান্না না করে সেজন্য রায়হান চৌধুরী কথার মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলেন) রায়হান- আচ্ছা! কি কি খেলা খেলতে পারো তুমি? . নাফিসা- ক্রিকেট, হকিস্টিক, ফুটবল, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন, কেরাম, দাবা, লুডু, কার রেস, ফাইটিং। . রেহান- . রুবিনা- ওয়াও, লুডু আমার প্রিয় খেলা . রায়হান- তুমি লুডু ছাড়া আর পারোই কি! . রুবিনা- . সবাই- হাহাহা...... . রায়হান- তাহলে তো তোমার সাথে একদিন দাবা খেলে দেখতেই হয়! . রেহান- হুহ! এখন আমি বাদ . রায়হান- হিংসুটে ছেলে . (তারপর সবাই ডিনার করে যার যার রুমে চলে গেলো। নাফিসা রিয়াদের সাথে বিছানায় শুয়ে গল্পের বই পড়ছে ভুতের গল্প। সম্পূর্ণ গল্পটি নাফিসা পড়ে শুনালো। দুজনেরই এখন ভয় লাগছে।) (রেহান লাইট অফ করে শুয়ে ছিলো। হঠাৎ কেউ দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ফেললো। রেহান টেবিল ল্যাম্প টা জালিয়ে দেখিলো রিয়াদ ও নাফিসা দুজনেই বালিশ নিয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে।) . রেহান- কি হয়েছে? তোমরা এখানে কেন? . (নাফিসা ও রিয়াদ একে অপরের দিকে তাকিয়ে রেহানকে কোন উত্তর না দিয়ে সেকেন্ডের মধ্যে দৌড়ে এসে রেহানের দুপাশে দুজনে রেহানকে ঝাপটে ধরে শুয়ে পড়লো!) . রেহান- আরে আরে! কি হচ্ছে এসব! . নাফিসা- ভুত....! . রেহান- কিসের ভুত! কোথায় ভুত! . রিয়াদ- ভাইয়া, ওই রুমে ভুত আছে, ভয় করছে। আজ তোমার সাথে থাকবো। . রেহান- ভুত বলতে কিছু নেই। যা ওই রুমে যা.... . নাফিসা- নো নো, ভয় লাগছে খুব। প্লিজ আজ এখানে থাকবো . (রেহান আর কিছু বললো না। একসাথেই ৩ জন ঘুমিয়ে পড়লো।) .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...