গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

পরীক্ষার মন্ত্

"শিক্ষা উপকরন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিমন(guest) (৮৫৬৭ পয়েন্ট)



বার্ষিক পরিক্ষা ঘনিয়ে আসতেই দু’চোখে সর্ষেফুল দেখতে লাগল ধ্রুব।???????? সারা বছর বলতে গেলে কিছুই পড়া হয় নি ওর। শুধু ফুটবল আর ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থেকেছে। মা’র প্রচুর বকুনি আর পিটুনি খেয়েও স্কুল ফাঁকি দিয়েছে। এখন নিজেই পড়েছে ফাঁকির ফাঁদে। ক্লাস সেভেন থেকে এবার ফাইনাল পরিক্ষা দেবে ধ্রুব। ফুটবলে স্ট্রাইকার এবং ক্রিকেটে অলরাউন্ডার হিসেবে ধ্রুব’র যেমন সুনাম, পড়াশোনায় ঠিক তার বিপরীত। এতদিন তবু টেনেটুনে সব বিষয়ে পাস নম্বর থেকেছে, কিন্তু এবার বুঝি ভগাডুবি হয়। হেমন্তের হিম হিম আমেজে সবেমাত্র এ মৌসুমের ক্রিকেট প্র্যাকটিসটা শুরু হয়েছে, এমন সময় ভোজবাজির মতো ঘটতে লাগলো ঘটনা। আজ রোকন নেই মাঠে, কাল শিমুল নেই, পরশু টুটুল নেই— এভাবে একের পর এক করে কমে যেতে ল্হল ধ্রুব'র বন্দুরা। ধ্রুব খোঁজ নিয়ে দেখে, সবাই যার যার পরিক্ষার পড়া নিয়ে ব্যাস্ত। পরিক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সহজে বাসা থেকে বেরোবে না কেউ। এবার টনক নড়ল ধ্রুব'র। আরো, তাই তো- পরিক্ষা! ক্লাসের বন্ধুরা ওকে ফেলে ওপরের ক্লাসে উঠে গেলে ভ্যালা মুসিবত। মান সম্মান উরে যাবে ছক্কার বলের মতো। এখন উপায়? ধ্রুবও ক্রিকেট ফেলে বই নিয়ে বসে যায় টেবিলে। কিন্তু যে বই ধরে, সে বইটাই যেন বিদ্রুপের ভঙ্গিতে ভেংচি কাটে ওকে। হাত-পা অসাড় হয়ে আসতে চায় ওর। এত্ত এত্ত পড়া জমে আছে প্রতিটা বইয়ে। এত অল্প সময়ে কি শিখবে ও? ছোট’পার সঙ্গে রাজ্যের খুনসুঁটি ধ্রুব'র। কিন্তু এই বিপদের সময় তাকেই সবচেয়ে আপন বলে মনে হয় ওর। ভালো ছাত্রী বলে সুনাম রয়েছে ছোট'পার। আগুয়ান ‘বিপদ’ থেকে উদ্ধার পেতে তার কাছে যায় ও। ধ্রুব'র অবস্থা দেখে ছোট’পা চোখ-দুটো কপালে তুলে বলে, 'করেছিস কি, হতভাহা! সারা বছর কিছুই শিখিস নি! এখন পরীক্ষায় পার পাওয়ার উপায় আছে দুটো। এক--> যা আছে কপালে এই ভেবে আড়মোড়া ভেঙে বই নিয়ে বসে যাওয়া। দুই--> ম্যাজিক শেখা।' ছোট'পার দু'নম্বর বুদ্ধিটাই ধ্রুবকে টানে বেশি। হ্যাঁ, ম্যাজিক শিখতে পারলে পরিক্ষায় একটা ভেলকি দেখানো যায় বটে। কিন্তু ম্যাজিকটা ও শিখবে কোত্থেকে? পায়ের কাছে কিটির সাড়া পেয়ে সংবিৎ ফেরে ধ্রুব'র। ছোট'পার প্রিয় পোষা বেড়াল কিটি। খিদে পেলে মাঝে মদ্ধে ধ্রুব'র পায়ের কাছে এসে ঘুড়ঘুড় করে। বেশির ভাগ সময় কষে লাথি মারে ধ্রুব। তবু কেন যে বেহায়া বেড়ালটা ওর পেছনে নাকি সুরে মিউ মিউ করে, তা সেই জানে। বেড়ালটাকে আজ তাড়া করল না ধ্রুব। টিভিতে সেদিন এইচবিও চ্যানেলে একটা ছবি দেখেছে ও। স্টুয়ার্ট লিট্ল! ইঁদুর আর বিড়াল কথা বলে এই ছবিতে। বলা যায় না, এই কিটিরও থাকতে পারে সে রকম কোনো বিশেষ গুন। 'তুই জাদু জানিস, কাটি?' মৃদুস্বরে জিঙ্গেস করে ধ্রুব। ঘুর ঘুর থামিয়ে স্হির হলো কিটি। ধ্রুব'র দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে লেজটাকে পাক খাওয়ালো দু'বার। যেন সত্যিই জাদু জানে বেড়ালটা। 'জানিস কিটি, আমার না সামনে মহাবিপদ। ফাইনাল পরীক্ষা! কিন্তু পড়াশুনো কিছুই করি নি। পারবি তুই জাদু দিয়ে পড়া সব মুখস্ত করিয়ে দিতে?' আবার লেজ নাড়ল কিটি! যেন সত্যিই পারবে। ধ্রুব খুশি হয়ে বললো, 'তুই দাঁড়া একটু। আমি এখুনি রান্নাঘড় থেকে ভাত নিয়ে আসছি তোর জন্যে।' কিটিকে দাঁড় করিয়ে রান্নাঘড়ে ভাত আনতে যায় ধ্রুব। কেউ নেই রান্নাঘড়ে। এই-ই সুযোগ। ঝটপট ছোট্ট এক পেয়ালায় ভাত বেড়ে নেয় ও। ছুটে যায় কিটির দিকে। কিন্তু কিটি তো নেই। এঘড়-ওঘড় খুঁজে দেখলো ধ্রুব। শেষে বার কয়েক ডাকলো নাম ধরে। লাভ হলো না। এক্কেবারে উধাও। তাহলে পরিক্ষার কথায় পিঠটান দিয়েছে কিটি? হবে হয়তো। ম্যাজিকের ভূতটা কিছুতেই মাথা থেকে নামলো না ধ্রুব’র। মাথায় এখন শুধু একটা চিন্তাই ঘুড়পাক খাচ্ছে ওর। ম্যাজিক-ম্যাজিক-ম্যাজিক...! ধ্রুব একবার ভাবলো জুয়েল আইচের কাছে যাবে কিনা। গিয়ে বলবে, ‘আঙ্কেল, সামনে আমার মহাবিপদ! পরিক্ষার পড়াগুলো দয়া করে একটু মুখস্ত করিয়ে দিন ম্যাজিক দিয়ে।’ পরমুহূর্তে ধ্রুব আবার ভাবে, ওর এ ধরণের ফিচলে বুদ্ধি শুনে দাবড়ি মেরে বসতে পারেন তিনি। থাক বাবা, কাজ নেই ওখানে গিয়ে। কি করা যায়, কি করা যায়- ভাবতে ভাবতে বাসা থেকে বেরোয় ধ্রুব। রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকে আনমনে। হঠাৎ পরিচিত কন্ঠে কেউ ডাকে ওকে, 'ধ্রুব, এই ধ্রুব।' থমকে দাঁড়ায় ধ্রুব। ঘাড় ফরিয়ে দেখে, রাস্তার পাশের এক দোকান থেকে হাত তুলে ডাকছে বাকী ভাই। পাড়ার সবাই সভয়ে এড়িয়ে চলে তাকে। বিশেষ করে ধ্রুব’র বয়োসীরা। এসএসসিতে বার দুয়েক ডাব্বা মেরে এখন টো-টো করে ঘুরে বেড়ায় বাকী ভাই। ছোটদের পটিয়ে পাটিয়ে পকেট উজাড়ে জুড়ি নেই তার। ধ্রুব’রও একাধুকবার এই তিক্ত অভিঙ্গতা হয়েছে। তাই ও প্রথমে সিদ্ধান্ত নিল, না, বাকী ভাইয়ের ডাকে সাড়া দেবে না। পরে আবার ভাবল, ফটকাবাজ হলেও একেবারে মন্দ নয় সে। মাঝেমধ্যে বাকী ভাই পাড়ার এর-ওর বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কাজেই আগুয়ান ফাইনাল পরীক্ষায় কোনো উপকার পাওয়াও যেতে পারে তার কাছ থেকে। চায়ের দোকানে বসে গরমাগরম সবজির কাটলেট খাচ্ছে বাকী ভাই। সঙ্গে চা চলছে সুড়ুৎ-সুড়ুৎ। ধ্রুব সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই ভুরু নাচাল বাকী ভাই, -- কি রে, ওভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে যাচ্ছিলি কোথায়? -- যাচ্ছিলাম না, বাকী ভাই। ভাবছিলাম। -- এ্যাঁ, এইটুকুন পুঁচকে ছেলে তুই! তোর আবার ভাবনা কিসের? -- সামনে ফাইনাল পরীক্ষা, বাকী ভাই। সারা বছর কিচ্ছু পড়ি নি। এখন কি করবো ভেরে কূল পাচ্ছি না। -- কি বললি, ফাইনাল পরীক্ষা! পরীক্ষার কথায় বিষম খেলো বাকী ভাই। হাল ছেড়ে দিলো ধ্রুব। ঘরে রওনা হতে যাবে, অমনি ব্যস্ত কন্ঠে ডাকলো বাকি ভাই, --আরে যাচ্ছিস কোথায়? আয়-আয় বোস! বাকী ভাইয়ের আন্তরিক ডাকে ফিরে আসে ধ্রুব। বাকী ভাই দোকানের ছোকরাকে আদেশ দেয়, -- এই পিচ্চি আর দুটো কাটলেট দিয়ে যা এখানে! সঙ্গে এক কাপ চা-ও দিবি। ধ্রুব বাধা দিয়ে বলল, -- চা-কাটলেট লাগবে না, বাকী ভাই। থাক। -- না না, থাকবে কেন? চা-কাটলেট খেয়ে মাথা ঠান্ডা কর। তোর এই বড় ভাই যখন আছে, ঠিকই পরীক্ষার অথই সাগর পাড়ি দেওয়ার একটা পথ পয়ে যাবি। বাকী ভাই নিজে পরীক্ষার সাগর পাড়ি দিতে না পারলেও তার কথার ঢঙে ভরসা পেল ধ্রুব। হৃষ্টচিত্তে চা-কাটলেট খেল ও। তারপর বাকী ভাইয়ের সঙ্গে যখন দোকান থেকে বেরিয়ে আসছে, অমনি দোকানি পেছন থেকে কর্কশ কন্ঠে চেঁচাল, -- এই যে বাকী সাব, টেকা কই? -- লিখে রাখো। অবলীলায় বলল বাকী ভাই। -- আর কত লেইখা রাখুম? খেঁকিয়ে ওঠে দোকানি। বাকি ফালাইতে ফালাইতে দোকানে তো লালবাত্তি জ্বালানোর জোগাড়। বাকী ভাই দাঁত বের করে বলল, -- বাঁকি যদি নাই রাখলাম, তাহলে আমার নাম বাকী নামের সার্তকতা কোথায়— বলো তো ফরমান চাচা? -- তাই বইলা মাসের পর মাস? বাকী ভাই মিহূর্তে চেহারাটা শক্ত বানিয়ে বলে, -- এই ধ্রুব, দেখ তো তোর পকেটে কিছু আছে কিনা। আমি আবার মানিব্যাগটা ফেলে এসেছি। ধ্রুব পকেট হাতড়ে দেখে বিশ টাকার একটা নোট। ছোট মামা দিয়েছেন আইসক্রিম খেতে। কিন্তু পরীক্ষার চিন্তাই আইসক্রিম এর শখ উড়ে গেছে। নোটটা বাকী ভাইয়ের হাতে তুলে দেয় ধ্রুব। টাকাটা দোকানিকে দিয়ে ধ্রুবকে নিয়ে বেরিয়ে আসে বাকী ভাই। যেতে যেতে বলে, -- আমার ধারনা একমাত্র ম্যাজিক ছাড়া এই বিপদ থেকে উদ্ধারের কোনো পথ নেই তোর। ছোট'পার কথার সঙ্গে খাপে খাপে মিলে গেছে বাকী ভাইয়ের কথা। হ্যাঁ, একে দিয়েই হবে। ধ্রুব বাকী ভাইয়ের একটা হাত চেপে ধরে বলে, -- তুমি যেভাবে পারো, ম্যাজিক দিয়ে আমাকে পরীক্ষায় পার করে দাও, বাকী ভাই। বাকী ভাই মাথা চুলকে বলে, -- কিন্তু ম্যাজিক বড় কঠিন জিনিস রে, ধ্রুব। ওস্তাদ লোক ছাড়া কাজ হয় না। সে রকম একজন লোক খুঁজে বের করতে হবে। তা, আমাকে শ’ খানেক টাকা দিতে পারবি?' চলবে...!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৪৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ""এসএসসি পরীক্ষার্থী""
→ "গাধা যখন মন্ত্রী"
→ আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ - হুমায়ূন আহমেদ
→ পরীক্ষার ক্রাস
→ গল্প:- মন্ত্রীর ছেলে
→ আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রন
→ মাননীয় মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের জীবন বৃত্তান্ত,,,,
→ পরীক্ষার হলে পাশে বসা মেয়েটি
→ বুদ্ধিমান মন্ত্রী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...