গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

অপেক্ষা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (৩২ পয়েন্ট)



--এতো রেগে আছো কেন? --তোমাকে বলার প্রযোজন মনে করছি না আমি।যা বলছি শোনো। --(অস্থির হয়েও নিশ্চুপ থেকে সম্মতি দিলাম) -- আজই আমাদের শেষ দেখা। আর কখনো আমাকে দেখা করার কথা বলবেনা। --মানে! মজা করছো নাকি? (রিফাকে কিছু বলতে না দিয়েই প্রশ্ন করে বসলাম) --আমার কথা তোমার কাছে মজা মনে হচ্ছে? ও হ্যাঁ তোমার মতো ছোট লোকদের তো এটা ভাবা একেবারেই স্বাভাবিক।বড়লোক ঘরের মেয়ে দেখলে তো তোমাদের মাথা ঠিক থাকেনা। -- তারমানে! (চোখে অশ্রু মুকুল বের হতে লাগল।) --হ্যাঁ আমাদের সম্পর্কটা আমি এখানেই শেষ করতে চাচ্ছি।তোমার মতো স্ট্যাটাসহীন,আনস্ম্যার্ট,গাইয়া ছেলের সাথে আমার আসলে যায় না।তাছাড়া দেখ তোমাদের মতো ছোটলোকদের সাথে আমার স্ট্যাটাস মেলেনা।সুতরাং তোমার সাথে রিলেশনে থাকার প্রশ্নই ওঠেনা। যাইহোক আমার সাথে আর যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেনা। --ও আচ্ছা। আসলেই দোষটা আমার.....গরিব হওয়াটাই...... (অশ্রু বিসর্জনের ফলে আর বলে উঠতে পারলাম না।) ভালো থেকো।সুখে থেকো। --ওকে।বাই। ... .. চলে যাচ্ছে রিফা। হয়তো আর ফিরবেনা আমার জীবনে। দৃষ্টির অগোচরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাকিয়েই রইলাম রিফার পানে। সূর্য ডুবতে চলেছে। মাগরিবের আযান জানিয়ে দিল স্বপ্নগুলোর ইতি টানার সময় হয়ে এসেছে। প্রত্যেকবার কি শুধু আমার সাথেই এমন হবে! ভাবতে ভাবতে প্রতিজ্ঞায় হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করলাম। সবকিছু সাদাকালো মনে হওয়া সত্তেও এক মেঘ বৃষ্টি নিয়ে ফিরলাম বাসায়। .. অগোচরে নিজেকে গোছানোর চেষ্টা মোটেও সহজ কিছুনা। তবুও নতুন সূর্যের বলিষ্ঠতায় নিজেকে গোছানোর প্রয়াস শুরু করলাম। .... .... দেখতে দেখতে বেশ অনেকটা বছর পার হয়ে গেছে। অগোছালো জীবনের জন্য গোছালো জায়গা পেয়েছি।ইচ্ছায় অনিচ্ছায় নিজেকে প্রস্তুত করেছি। অপেক্ষার প্রহর গুনেছি অনেক। অবশেষে অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। ... .. দীর্ঘ ছয় বছর পর রিফাকে কল করলাম। (অপর প্রান্ত থেকে) --হ্যালো কে বলছেন? -- শুভ জন্মদিন রিফা। --ধন্যবাদ কিন্ত আপনাকে তো চিনতে পারলাম না। কে আপনি? --অ্যা আমি মিহিন। --মিহিন! এতো দিন পর? অবশেষে মনে পড়লো আমাকে। তো কেমন আছো? -- তুমি নিজেই আমাকে তোমার খবর নিতে মানা করেছিলে তবে আজ তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল তাই ভাবলাম একটু খোঁজ নেই। --যানো অতীতের ভুলের জন্য আজো অগোচরে কাদতে হয়। যাই হোক কোথায় ছিলে এতোদিন? যানো তোমাকে কত খুজেছি এতদিন,তোমার ফোনে কল করারও অনেক ট্রাই করেছি বহুবার।কিন্তু ..... --আসলে নিজের ব্যর্থতা গুলোকে লুকানোর চেষ্টায় ছিলাম। কিন্তু আমাকে কেনো খুজছিলে? --সে অনেক কথা। দেখা হলে সব বলতে পারতাম। যদি তোমার সময় থাকে তাহলে আজ একটু দেখা করতে পারবে? --মমম হ্যাঁ। আসলে তোমাকেও একটা সারপ্রাইজ দিতে চায়। কিন্তু কোথায় দেখা করবা? (এই কথাটাই শুনতে চাইছিলাম তাই অন্য কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গেলাম) --- আমাদের প্রিয় জায়গাটায়। --- আচ্ছা। বাই ফোনটা কেটে দিলাম। অতীতের অনেক আজ মনে পড়ছে। আজ হিসাবগুলো একটু একটু করেমিলিয়ে নিলাম। সবশেষে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। .. .. যথা সময়ে প্রিয় লেকটির ধারে উপস্থিত হয়েছি। দুচোখ চারিদিক খুজতে লাগলো পুরনো স্বপ্নগুলো। একটু অপেক্ষা করতেই পুরনো গন্ধটা নাকে এলো। বুঝতে পারলাম রিফা আশেপাশেই আছে। ঘুরে তাকাতেই আকাশের নীল মেঘগুলো ভেসে উঠলো। রিফা আজ আমার প্রিয় রঙের শাড়ি পড়ে এসেছে। যেমনটা সেজেছিল আমার জন্মদিনে দেখা করতে আসার সময়। রিফাকে দেখে অতীতের ভালবাসাটুকু বিষ্ফোরিত হতে চাইচ্ছে। কিন্তু আমাকে তো শক্ত হতেই হবে। আমি যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। রিফার চোখে আজ অনেক অনুভূতি দেখতে পেলাম আমাকে দেখে হতবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, --- তুমি আসলেই কি মিহিন? --- সন্ধেহ আছে? হ্যাঁ এটাই আমি সেই গাইয়া মিহিন। (একটু হাসি মাখা মুখ নিয়ে উত্তর দিলাম) --- কিন্তু! !! --- কিন্তু কি? --- বাদ দেও। অনেক দিন পর আবার আমাদের প্রিয় জায়গাতে দুজন। তোমার সাথে কাটানো দিনগুলো মনে পড়ছে খুব। আচ্ছা মিহিন একটা প্রশ্ন করতে পারি? --- বলো। --- তুমি কি আজও আমাকে ভালবাসো? (মাথা নিচু করে প্রশ্ন করলো রিফা) --- ফোনে কি যেন বলবে বলেছিলেনা! কি বলবে বলো শুনি এবার। (রিফার প্রশ্নটা এরিয়ে যাবার চেষ্টায় শুনেও না শোনার ভান করলাম) --- আমি কি তোমার জীবনে আবার ফিরে আসতে পারিনা?? --- আসলে আমার বর্তমানের ভাবনাটা একটু অন্যরকম। --- কেমন? --- সেটা পরে যেনো। --- পরে!! ওকে। ও হা একটা সারপ্রাইজ দিবে বলছিলে। তো তোমার সারপ্রাইজ টা কোথায়? --- সারপ্রাইজ! ! আচ্ছা তাহলে চোখ বন্ধ করো। (স্বপ্নগুলো বুকে আছাড় খেতে লাগলো।তবে প্রতিজ্ঞাটা জাগ্রত।) --ওকে। চোখ বন্ধ করলাম। (হাসি মুখে ভালবাসার রঙটুকু প্রকাশ করতে করতে চোখ বন্ধ করলো।) .. এই মুহুর্তে নিজেকে সবচেয়ে বড় পাপিষ্ঠা মনে হচ্ছে।অতীতের স্মৃতিগুলো মনে পড়লেও তা আজ রঙচটা।বিসর্জন যাবে আজকের সূর্য। .... --- আর কতখন চোখ বন্ধ করে থাকবো? (হাসতে হাসতে মেয়েটা বলে উঠলো।) .. আমি আর অপেক্ষা করলাম না। ~~ঠসসস~~ বুলেটটা রিফার বুক ভেদ করে বেরিয়ে গেলো। রিফার দেহটা মাটিতে নুইয়ে পড়তে লাগলো। অপলক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে রিফা। (চোখ দিয়ে অনর্গল বৃষ্টি ঝরছে।) হয়তো ভাবছে জীবনটা আর রাঙানো হলোনা। হয়তো ভাবছে সারপ্রাইজ টা নিতে আসাই ভুল ছিল। হয়ত ভাবছে প্রিয় মানুষটা আজ এত অপ্রিয় কিভাবে হলো! হয়ত ভাবছে নতুন করে স্বপ্ন গড়ার ইচ্ছাটাই ভুল ছিল। .. যাই ভাবুক দীর্ঘশ্বাস নিলাম। বুঝেগেলাম আজকের বিকেলটা নতুন খাতায় লেখা হলো। সূর্যটাও সাক্ষী হয়ে রইল। গৌধুলির রক্তিম আভা ছড়াতে লাগলো পানিতে । সেই সাথে মিশলো রিফার লালটুকটুকে রক্ত। ... ডুবন্ত সূর্যের দিকে তাকানো আমার মানাই না। আবছা আবছা অন্ধকার। ভয়ে ভয়ে সূর্যটাও লুকাতে লাগলো। অপরদিকে শুরু হলো আমার প্রতিজ্ঞার বাস্তবায়ন। এবার অপেক্ষা শুধু পরবর্তী প্রতারকের বিদায়ী লগ্নের। .... ... #অপেক্ষা @সাজীব বাবু


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৫৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "এখনও আমি অপেক্ষা করছি তোমার জন্য!!!" পর্ব-১
→ ~অপেক্ষা-হুমায়ূন আহমেদ(বুক রিভিউ)
→ বিবাহের অপেক্ষা
→ অসমাপ্ত অপেক্ষা
→ অপেক্ষা
→ অপেক্ষা
→ অপেক্ষার প্রহর
→ অপেক্ষায় আছি তোর
→ #♥অপেক্ষার প্রহর!!!
→ **তোমার অপেক্ষায়**

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...