গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

একজন আনিকা এবং নারী শক্তির উপাখ্যান

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Arpon Opu (০ পয়েন্ট)



বাসের সিড়ি দিয়ে ওঠার সময় ঘাড়ে খসখসে একটা হাতের স্পর্শ পেল আনিকা। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো সে। কিন্তু, পিছনে আরো মানুষের ভিড় দেখে লোকটাকে চিহ্নিত করতে পারলো না । সন্ধ্যা সাতটা বাজে। অফিস থেকে কাজ শেষ বের হতেই আনিকার বেশ দেরী হয়ে গিয়েছিলো। তাই, তাড়াহুড়ো করে এই বাসটা ধরতে হলো। না হলে আজকে রাতে বাসায় ফেরা খুবই টাফ হতো। পিছনের দিকে একটা খালি সিট পেয়ে বসে পড়ল সে। এখনো মাথা থেকে বের করতে পারছে না ঘটনাটা। ভাবতে গেলেই শরীরটা শিরশির করে উঠছে। ভাবতে ভাবতে কখন যে সিটে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে গেলো সে বুঝতেই পারলো না। শক্ত একটা ঝাঁকুনির ফলে ঘুম ভেঙে গেল আনিকার। চোখ খুলে দেখে বাসে সে ছাড়া আর কেউই নেই! আর বাসটাও একটা জায়গায় দাড় করিয়ে রাখা। চারদিক অন্ধকার, শুধু বাসের ভিতরের আলো জ্বালানো রয়েছে। সামনে তাকিয়ে দেখল বাসের কন্ডাক্টর আর ড্রাইভার সামনের সিট খুলে কি যেন খোঁজ করছে। সাথে সাথে তাঁর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে সাবধান করে দিলো কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে! পরবর্তী বিপদ আঁচ করতে পেরে আপনা-আপনিই আনিকার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি সে তার স্নিকার্সের ভিতর ঢুকিয়ে ফেলল। ততক্ষণে, দড়ি বের করে ফেলেছে কন্ডাক্টর। আনিকা দাড়িয়ে সামনে তাকাতেই একটা ভয়ঙ্কর হাসি হাসল ড্রাইভার। কন্ডাক্টর আনিকার দিকে তাকিয়ে ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বলল, ওস্তাদ, আজকে ভালা জিনিস পাওয়া গেছে! ড্রাইভার জিভ চাটতে চাটতে বলল, হুম, ঠিক বলছোস। এরম জিনিস মিলে না পত্যেক দিন। তুই চাকু আর দড়ি রেডি রাখ। কাম শেষ হইলে ফিনি্শ কইরা দিমু! তাইলে ধরা খাওয়ার ডর থাকতো না! তাদের ভয়ঙ্কর সব কথাই আনিকার কানে আসছিলো। সে বারবার ভেবেই যাচ্ছে কিভাবে এখান থেকে বের হওয়া যায়। হঠাৎ করেই তার মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষকের একটি কথা মনে পড়ে গেলো। তিনি বলেছিলেন, কখনো সাহস হারাবে না। দুর্বলতাই তোমার বড় শত্রু। শত্রুকে কখনো বুঝতে দিবে না যে তুমি ভয় পেয়েছো। একবার যদি বুঝতে পারে তাহলে তোমাকে সহজেই বাগে আনতে পারবে। আনিকার কথাগুলো মনে পড়তেই মুখে হাসি বিস্মৃত হলো। সে কোনো ভাবেই এই শয়তানগুলোকে বুঝতে দেবে না সে নার্ভাস! তার এই হাসি দেখে কিছুটে চমকে গেল দুজনে। ড্রাইভার-কন্ডাক্টর দুজন দুজনের মুখের দিকে তাকালো একবার। কন্ডাক্টর ড্রাইভারকে বলল, ওস্তাদ, মাইয়ার মাথা মনে হয় খারাপ হইয়া গেছে? ক্যামনে হাসে দেহেন। ড্রাইভার বলল, হইয়া যাউক। আগে আয় কাম সারি। তুই হাত দুইটা শক্ত কইরা ধর। বলতে বলতেই সামনে এগোতে লাগল ড্রাইভার, পিছন পিছন আসতে লাগল কন্ডাক্টর। আনিকাও সিট থেকে বের হয়ে সামনে দাড়িয়ে গেলো। ড্রাইভার হাতটা সামনে বাড়িয়ে আনিকার শরীর স্পর্শ করার আগেই আনিকা খপ করে ডান হাতটা ধরে মুচড়ে দেলো। সাথে সাথেই তার গলা দিয়ে একটা জান্তব চিৎকার বের হয়ে এলো। ড্রাইভার হঠাৎ আসা এই আক্রমণে দিশেহারা হয়ে গেলো। কন্ডাক্টর ভয় পেয়ে দু পা পিছিয়ে গেলো। ড্রাইভার ডান হাতে হাত বুলাতে বুলাতে কন্ডাক্টরকে নির্দেশ দিল, ধর এইডারে। বাইন্দা রাখ। কন্ডাক্টর দ্বিধাগ্রস্ত দৃষ্টিতে একবার আনিকার দিকে তাকিয়ে পিছনে হটতে গিয়ে পায়ে পা বেধে উল্টে পড়ে গেলো। ড্রাইভার এটি দেখে বিশ্রী একটা গালি দিল কন্ডাক্টরকে। আনিকা সুযোগ পেয়েই হাত থেকে টান দিয়ে দড়ি ছিনিয়ে নিলো। কন্ডাক্টরের দিকে তাকিয়ে নাক বরারব ঘুষি মারল সে। এই এক ঘুষিতেই কুপোকাত, অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো কন্ডাক্টর। দেরী না করে হাত দুটোকে শক্ত করে বেঁধে সিটের পায়ার সাথে গিঁট বেঁধে দিলো আনিকা। অল্প সময়ের জন্য সে ড্রাইভারের কথা ভুলে গিয়েছিল, এই সুযোগেই বাম হাত দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরল দানবটি। আনিকার শ্বাস আটকে যায় যায় অবস্থা, কয়েকবার কনুই দিয়ে গুঁতো দিতে গিয়েও পারল না। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে ঠোটে, আস্তে আস্তে মাথাটাও ভারী হয়ে উঠছে, শ্বাস নিতে গিয়ে দম আটকে যাচ্ছে! মনে হচ্ছে এখনই সে মাররা যাবে। হঠাৎ করেই তার প্যারালাইসড বাবার কথা মনে পড়ল। বাবার জন্য হলেও তাকে বাঁচতে হবে। ছোট থেকেই বাবাই তাকে সব কাজে সমর্থন দিয়ে গেছেন। গত বছর যখন বাবা অ্যাক্সিডেন্ট করে প্যারালাইসড হয়ে যান, তখন পুরো সংসারের ভার তার ঘাড়ে এসে পড়ে। চোখের সামনে এসব দৃশ্যই ভেসে উঠছিল আনিকার। এদিকে দানবটা হাতের জোর আরও বাড়াচ্ছে, আনিকার ইস্পাত কঠিন মনোবলও আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে। শেষ বারের মতো ডান হাতে শক্তি সঞ্চয় করে জোরে একটা গুতো মারল আনিকা। তাল সামলাতে না পেরে ঘুরে পড়ে গেলো ড্রাইভারটি। আনিকা পিছন ঘুরে ড্রাইভারের দু পায়ের মাঝখানে কষিয়ে একটা লাথি মারল। দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় ড্রাইভারের চিৎকার বাসের এপাশ-ওপাশে বাড়ি খেতে লাগল। যে হাত দিয়ে আনিকার গলা চেপে ধরেছিলো ড্রাইভারটি সেই হাতটাই এক মোচড়ে মট করে ভেঙে দিলো আনিকা। ডান হাতের তর্জনীটাকে 'ভি' আকৃতির করে কানের চার আঙুল নিচে জোরে একটা গাট্টা মারল। এক গাট্টাতেই কাঁটা কলা গাছের মতো ধপাস করে পড়ল ড্রাইভার। ঘাড়ে মারাত্মক ব্যাথা করছে আনিকার। বেশ জোরেই ধরেছিলো, আর একটু সময় ধরে রাখলেই ঘাড়টা ভেঙে যেতো। স্নিকার্সের ভিতর থেকে মোবাইলটা বের করল আনিকা। বের করে ডায়ালে সেভ করে রাখা ইমারজেন্সী নাম্বারে কল করল সে। আধা ঘন্টার ভেতরেই পুলিশ চলে এলো। পুলিশ আসার আগেই ড্রাইভারকে কন্ডাক্টরের সাথে বেধে ফেলল সে। আবারও জেগে উঠে হামলা করতে এই ভেবে! পুলিশের এসআই যাবার আগে খুব করে আনিকার প্রশংসা করে গেলেন। এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন প্রচলিত আইনেই তাদের বিচার হবে। পরের দিন সকালে প্রত্যেক পত্রিকায় খবরটা বের হলো, "তরুণীর তৎপরতায় দুই দানব কুপোকাত!" বিঃদ্রঃ এটা হয়ত একটা কাল্পনিক গল্প, কিন্তু এরকম প্রতিরোধ সব জায়গায় হোক এটা আমরা সবাই চাই। পত্রিকা পাতা খুললেই এসব খবর দু'একটা পাওয়া যাবেই! কিন্তু, সুষ্ঠ বিচার কয়টার হচ্ছে? এসব পরিস্থিতিতে যে আপনার আমার কোনো আত্মীয় পড়বে না তার কি কোনো গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে? এক্ষেত্রে, সেল্ফ ডিফেন্স(যেমন, মার্শাল আর্ট) শিখে রাখলে তো পরিস্থিতি অনুযায়ী সামাল দেয়াও সম্ভব! এরাও তো পেরেছে - ১. http://www.pbd.news/selected/43989/তিন-বখাটেকে-একাই-পেটালো-সাহসী-স্কুলছাত্রী ২. https://www.priyo.com/articles/মিরপুরে-উত্যক্তকারীদের-পেটালেন-২-কিশোরী/ ৩. https://www.bbc.com/bengali/news/2014/11/141130_sa_india_video ৪. http://old.dhakatimes24.com/2016/08/30/126059 তাহলে আমরা কেন নয়? পুনশ্চ ১ঃ এই গল্পটি আগে আমি ফেসবুকে 'বইপোকা' গ্রুপে দিয়েছিলাম। এখানেও দিয়ে দিলাম, আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আসলেই কি নারী পুরুষ সমান?
→ আইনস্টাইন, নিউটন,হকিং এবং একজন হিমু!!
→ মুসলিমরা কি কা'বার উপাসনা করে? এক নাস্তিকের বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন এবং তার দাঁত ভাঙা জবাব।
→ আমি এবং হুমায়ূন আহমেদ!!
→ মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের আলোকে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব এবং এক নাস্তিকের প্রশ্নের দাঁতভাঙা জবাব!!!
→ পৃথিবী এবং অন্যান্য
→ ❄️ইসলামের দৃষ্টিতে নারী❄️
→ ❄️ইসলামের দৃষ্টিতে নারী❄️
→ প্রশ্নঃ ইসলাম যদি শ্রেষ্ঠতম ধর্ম হয় তবে অসংখ্য মুসলমান কেন এত অসৎ অবিশ্বস্ত এবং ঘৃণ্য অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত??
→ ❄️নারীর নাক কান ছিদ্র করাঃ ইসলাম কি বলে❄️

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...