গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান ... গল্পেরঝুড়ি একটি অনলাইন ভিত্তিক গল্প পড়ার সাইট হলেও বাস্তবে বই কিনে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে... স্বয়ং জিজের স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের বড় একটি লাইব্রেরী আছে... তাই জিজেতে নতুন ক্যাটেগরি খোলা হয়েছে বুক রিভিউ নামে ... এখানে আপনারা নতুন বই এর রিভিও দিয়ে বই প্রেমিক দের বই কিনতে উৎসাহিত করুন... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

অপেক্ষা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina akter (guest) (৩৭৮৫৬ পয়েন্ট)



অপেক্ষা করছি পাঁচ বছর আগের সেই রমনা পার্কের বকুল তলার নিচে। কতো বদলে গেছে চারপাশ। পরিচিত হকাররা কেউ নেই। কোন প্রয়োজন ছিল না আবার দেখা করার। কোন উত্তাপ নেই বুকের ভিতরে। কিন্তু সামান্তার একটা ফোনকল! কেন যেন এড়িয়ে যেতে পারলাম না। একমাসের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরেছে। ঢাকায় থাকবে আর দুই দিন। এরপরে চলে যাবে নেত্রকোনা। ঠিক এই সময়টা আমাদের খুব প্রিয় ছিল। কয়েকবার বৃষ্টির পরে পুরো রমনা পার্ক সবুজ হয়ে থাকে। সিগারেট ধরিয়ে ঘড়িতে সময় দেখে নিলাম। আনমনে হাসি চলে এলো। সত্যিই খুব পুরাদস্তুর পাংচুয়াল হয়ে গেছি। সময়ের ১৫ মিনিট আগেই চলে এসেছি। পাঁচ বছর! বুকে দীর্ঘশ্বাস জমিয়ে কাটিয়ে দেওয়া পাঁচ পাঁচটা বছর কি করে যে কেটে গেল। কতোটা বদলে দিলো আমায় ভেবে নিজেই অবাক হচ্ছি। এতোদিন নিজেকে দেখার কোন সুযোগই পাইনি। সামান্তাকে কুড়িয়ে দেওয়া সেই বকুল ফুলের দিন গুলো খুব করে বুকের ভিতরটা ফাঁকা করে দিলো। কেন যে আজ সব একের পর এক মনে পরছে। কি দিন গিয়েছিলো আমাদের। পকেটে টাকা ছিল না। অনাহারী দিন। টাকা বাঁচিয়ে ফ্লেক্সিলোড করে রাতভর মুঠোফোনে ফিসফিস প্রেম। তখন একটা মুহূর্তের জন্যও ভাবতে পারতাম না সামান্তা আমার হবে না। ওর কণ্ঠস্বর না শুনলে কেন যেন দিনটা ফাঁকাফাঁকা লাগতো। সম্পর্কের শুরুতে ও একটু অসুস্থ ছিল। ঠান্ডা জ্বর, বুকে কফ জমেছিল। সামান্তা কথা বলার সময় প্রায়ই গলা খাঁকারি দিতো। গলার কাছে কফ নিয়ে এসে থু করে ফেলে দিতো। আমি মুগ্ধ হয়ে শুনতাম সেই শব্দ। এতোটাই আপন হয়ে গিয়েছিল। অথচ এই শব্দটাই অন্য কেউ করলে আমার প্রচণ্ড ঘেন্না লাগে। সামান্তা নিজেও একটু অপ্রস্তুত হয়ে যেত। কিন্তু ওকে ঠিকই বুঝাতে পেরেছিলাম এই শব্দটাও কতোটা ভালবাসি আমি। আমি তো শুধু সামান্তাকেই ভালবাসিনি। ভালবেসেছিলাম ওর সবকিছু। ওর ভাল মন্দ সবকিছুকে। গতকাল সামান্তা ফোন দিয়ে যখন গলা খাঁকারি দিলো। বুকের ভিতরে কি যে এক আলোড়ন হয়েছিল। সেই সামান্তা আর এই সামান্তা। মাঝখানে ব্যবধান পাঁচটা বছর। সামান্তা নিজের মতো একটা ঘর গুছিয়ে নিয়েছে। আর আমি সেই ব্যাচেলর ঘরে ফিরি রোজ সন্ধ্যায়। বছরে ৫/৬ বার চট্টগ্রাম যাই। এইতো। খুব করে চলে যাচ্ছে তো সব। মন্দ কি। অফিস শেষে রুমে ফেরা। মাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে আড্ডা। বিবাহিত বন্ধুদের একে একে দলছুট হওয়া দেখে দেখে ঢোক গিলে বছর পার। খুব একটা মন্দ না জীবনটা। যেই সিমেন্টের বেঞ্চে বসে আছি এখানে কতো ঘন্টা আমাদের পরে আছে তার হিসাব মেলাতে গেলে আরো একটা জীবন লাগবে। সামান্তার ব্যাগের একটা পাশ ছিল আমার জন্য বরাদ্দকৃত। সেখানে থাকতো পেট মোটা একটা টিফিন বক্স। এই মেয়েটা না থাকলে সত্যি খুব বাজে জীবন যেত আমার। কতো মায়া নিয়ে একটা মেয়ে যে তার প্রিয় মানুষটার জন্য খাবার নিয়ে আসে তা কাউকে বুঝিয়ে আমি বলতে পারবো না। আমি যখন খেতাম তখন সামান্তার চোখে যে মায়া দেখতাম তা অনেক কাল হয়ে গেল দেখা হয়নি আমার। কাল ফোনে জিজ্ঞাস করেছিল কি খাবো। আমি একটু চুপ করে ছিলাম। একটু পরে আমি যখনই বললাম ঠিক সেই একই মুহূর্তে সামান্তাও বলে উঠলো- নুডলস! হেসে দিলাম দু'জনে। ১১ টা বেজে ১৫ মিনিট। সামান্তা ১৫ মিনিট লেট। ওর আসতে আরো কতোক্ষণ লাগবে কি জানি। এখানে এসেই এসএমএস দিয়েছি যে পৌঁছে গেছি। ও শুধু রিপ্লাই দিলো- ঠিক আছে। ফোন করে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে না কোথায় এখন। আজ কেন যেন অপেক্ষা করতে খুব ভাল লাগছে। ছেলেবেলায় স্কুল পালিয়ে নিজেকে যেমন হিরো মনে হতো ঠিক তেমন একটা অনুভূতি হচ্ছে মনে। অফিস কামাই দিয়ে "পুরানো প্রেমিকার সহিত ক্ষণিকের অভিসারের প্রত্যয় বুকে লইয়া বসিয়া আছি নগরের বুকে এই কুঞ্জবনে" কথাটা ভাবতেই চমক লাগলো। চার নম্বর সিগারেটটাও শ্মশান হয়ে যাচ্ছে। সামান্তার কখনোই পছন্দ ছিল না আমার সিগারেট খাওয়া। গন্ধেই ওর মাথা ধরে যেত। ওর সাথে দেখা করার দুই ঘন্টা আগে থেকে কোন সিগারেট খেতাম না। কিন্তু আজ! সত্যি সব পাল্টে গেছে। কথা রাখার কথাটাই যেহেতু আর রাখা হয়নি; এখন আর অন্যকিছু ভেবে কি হবে। কারো তো কোনকিছু যায় আসেনা আর। একদিন সামান্তা পরে এসেছিল লাল রঙের শাড়ি। ঠিক পুরোটা লাল নয়। অন্য রঙও ছিল। লাল কমই ছিল। ওকে বলেছিলাম এই রঙের শাড়ি পরে আসতে। কিন্তু ওর কোন শাড়ি ছিল না। ওর মায়ের শাড়ি পরে এসেছিল। হাতে লাল চুড়ি ছিল। কাঁচের চুড়ি। সেদিন প্রথম জয়নুল গ্যালারীর সামনে থেকে কাঠগোলাপ নিয়ে সামান্তার চুলে গেঁথে দিয়েছিলাম। সামান্তাকে বলেছিলাম চাকরি করলে প্রতিমাসে একটা করে শাড়ি কিনে দেবো। বিয়ের পরে বাসায় শাড়িই পরবে বলেছিলো ও। ড্রয়ার ভর্তি থাকবে শুধু শাড়ি আর শাড়ি। কাল সামান্তা জিজ্ঞাস করেছিল ও কি পরে আসবে। শাড়ি নাকি সালোয়ার কামিজ। গলাটা কেমন ধরে এসেছিল। সামান্তার ড্রয়ার ভর্তি আজ হয়তো অনেক শাড়ি। কিন্তু আমার কিনে দেওয়া নয়। বললাম সালোয়ার কামিজ পরেই আসতে। কতো কথা মনে পরছে বিচ্ছিন্ন ভাবে। কিন্তু আমি সব ভুলে থাকতে চাই। পাঁচটা বছরে ভুলেও গিয়েছি। ঠিক ভুলে যাইনি আসলে। এড়িয়ে যাই। স্মৃতি গুলো মনে পরলেই অন্য কিছুতে ব্যাস্ত হয়ে যাই। কিন্তু তবুও কি স্মৃতি পিছু ছাড়ে। টম এণ্ড জেরির মতো ছুটতে ছুটতেই কাটিয়ে দিচ্ছি বছরের হিসেব। এক সময় হয়তো স্মৃতি হাতড়ানোর মতো আর কোন স্মৃতি থাকবেনা। "বিয়ে করেছো?" এই প্রশ্নটা যখন সামান্তা করলো বুঝতে পারছিলাম না কি বলবো। সময় কতো বড় ঘাতক তাই না! একটা সময় ছিল আমরা মুখে উচ্চারণ তো দূরে থাক ভাবতেও পারতাম না অন্য কারো সাথে আমাদের কারো বিয়ে হবে। সেই সামান্তা এখন কতো সহজে বলে দিতে পারে, "বিয়ে করেছো?" ওর ছোট ছেলেটা কান্না করছিল দেখে বলল, "ওর বাবা তো আসেনি। ছেলেটা আবার বাবার খুব নেওটা হয়েছে..." সামান্তা কি বলছিল দুই তিন মিনিট আমার কানে ঢুকেনি। বুকের উপরে একটা পাথরের প্রচণ্ড চাপ অনুভব করছিলাম। চারুকলার বকুল তলায় বসে একদিন ওর আঙুল নিয়ে খেলা করার সময় ও বলেছিল, "আমাদের প্রথম বাবুটা মেয়ে হবে। আমাদের আঙুল ধরে আস্তে আস্তে দাঁড়াবে মামনী। হাঁটা শিখবে। তুমি ওকে কাঁধে নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেবে।" সামান্তা যখন বলল ছেলের বাবার কথা তখন নিজেকে কতোটা অসহায় মনে হয়েছে সে আমায় অন্তর্যামী কেবল জানে। কত সহজে সামান্তা এই কথা গুলো উচ্চারণ করে গেল। পৌনে বারোটা। এতোটা দেরি হওয়ার তো কথা নয়। এসএমএস দিলাম সামান্তাকে। কিন্তু ডেলিভারি হলো না এসএমএস। কল দিয়ে দেখি মোবাইল বন্ধ বলছে। মনে যা হয় এমন অবস্থায়। কতো রকম চিন্তা মাথায় ঘোরে। আর সবই দূর্ঘটনা নিয়ে। সামান্তারও... না অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও শতবার কল দিয়েও মোবাইল খোলা পেলাম না। দুশ্চিন্তা হচ্ছে- কিছু হয়নিতো আবার। আরো অপেক্ষা করি ক্ষতি কি। ভালোই তো লাগছে। চারিদিকে এমন সবুজের মাঝে কতদিন বসা হয়না। কতদিন ঘাসের উপরে মুখোমুখি বসে সামান্তার সাথে গল্প করা হয় না। আমি ডায়েরিতে যে কবিতা গুলো লিখতাম সামান্তা বসে বসে আমায় সেগুলো শোনাতো। মুগ্ধ হয়ে শুনতাম। মাঝেমধ্যে খুব অবাক হতাম- এই কবিতা আমার লিখা। কি করে সম্ভব। এই কবিতা আমি কখন লিখলাম আবার। কবিতা গুলো যেন প্রাণ ফিরে পেতো সামান্তার কণ্ঠস্বরে। রুমে ফিরে কবিতা গুলো আবার পড়তাম। সত্যিই নিজেই মুগ্ধ হয়ে যেতাম। আমি কবিতা লিখতাম ঠিকই। কিন্তু কবিতায় প্রাণ এনে দিতো সামান্তা। কত রাতের পর রাত ওকে কত কবিতা শুনিয়েছি মুঠোফোনে। কিন্তু ও ফোনে কখনোই শুনাতো না। সামনাসামনি বসে শোনাতো। গতকাল সামান্তা ফোন রাখবে এমন সময় আবার বলে উঠেছিল, "আচ্ছা তোমার কি রবী ঠাকুরের সেই- হঠাৎ দেখা কবিতাটা মনে আছে এখনো? কতো সুন্দর করে পড়তে কবিতাটা। একবার শোনাবে প্লিজ!" আমি ফোন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। শুরুটা যে কি ছিল কবিতাটার কিছুতেই মনে করতে পারলাম। কেবল দুইটা লাইনই ঘুরে ফিরে মনে আসছিল, "আমাদের গেছে যেদিন, একেবারেই গেছে/ কিছুই কি নেই বাকি..." সামান্তা ওপাশ থেকে তাড়া দিলো। "কি ব্যাপার চুপ করে আছো কেন?" "সামান্তা... সামান্তা আমার কিছুই মনে নেই। আমি আর কবিতা পড়িনা।" "মানে কি বলছো তুমি এসব। কবিতা লিখো না!" "না। ওসব ছেড়ে দিয়েছি। ভাল লাগে না আমার।" "তুমি কি বলছো এসব। কতো বছর তোমার কবিতা পড়িনা। কাল তোমার ডায়েরিটা নিয়ে আসতে বলতাম।" "বাদ দাও এসব। কাল দেখা হচ্ছে কেমন!" আর কথা না বাড়িয়ে লাইন কেটে দিলাম। হঠাৎ দেখা কবিতার শেষ লাইন দু'টোর মতোই আমার জীবন, "সবাই নেমে গেল পরের স্টেশনে/ আমি চললেম একা।" এতোদিন পরে এসে আমায় এতোকিছু এভাবে মনে করিয়ে দিয়ে সামান্তার তো কোন লাভ নেই। ও তো নিজের পথের গন্তব্য গড়ে নিয়েছে। কি এমন ক্ষতি হতো সামান্তার আর যদি আমার সাথে যোগাযোগ না করতো। ডায়েরিটা নিয়ে এসেছি। অফিসের ব্যাগে রেখে দিয়েছি। সামান্তার দেরি দেখে ভাবলাম খুলে পড়বো কিনা। গত তিন বছর এই ডায়েরি আমি খুলে দেখিনি। আমার আর প্রয়োজন ও নেই এই ডায়েরির। সামান্তা চলে যাওয়ার পরে আমার আর কবিতা আসতো না। শত শত লাইনের চিঠি লিখতাম ডায়েরিতে। কত কত চিঠি সামান্তাকে লিখেছি। বুকের চোরাবালিতে সাঁতার কাটা তীব্র ব্যথার চিঠি। যা কোনদিন আমি নিজেও পড়িনি। গোটা পঞ্চাশ কবিতাও আছে। যেগুলোর একটাও প্রাণ পায়নি। ডায়েরির পাতার লাইনে লাইনে কবিতার লাশ পরে আছে। এবার অস্থির হয়ে যাচ্ছি। দুপুর দেড়টা বাজে। সামান্তা এলো না। একটা কলও দেয়নি। আমি হাজার বার ওর ফোনে কল দিয়ে গেলাম। ফোন বন্ধ। কিছু একটা অঘটন ঘটলো কিনা তাও জানিনা। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবো নাকি চলে যাবো বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ মনে হলো আমার কি দায় পরেছে। ও আসেনি। কেন আসেনি বা কি হয়েছে তাতো আমি জানিনা। আমার এতো অপেক্ষা কিসের সামান্তার জন্য। আমাদের গন্তব্য তো অনেক আগেই আলাদা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আজ আমার অপেক্ষা করতে খুব ভাল লাগছে। না সামান্তার জন্য নয়। ওকে আবার দেখবো সেই কারণেও নয়। কেমন যেন একটা ভাল লাগা কাজ করছে বুকের ভিতরে। জীবনে এই প্রথম যেন আমি অপেক্ষা শব্দটাকে ছুঁয়ে দিতে পারছি। অনুভব করতে পারছি। অপেক্ষা খুব একটা খারাপ নাতো। এটা ওটা চা সিগারেট খেয়ে দিনটা পার করে দিলাম। খুব শান্ত ঝামেলাহীন একটা দিন গেল। সামান্তা না আসায় কিছুক্ষণ দুশ্চিন্তা হচ্ছিলো। এক সময় সেটাও কেটে গেল। এখন মনে হচ্ছে সামান্তা না আসায় ভালোই হয়েছে। এমন একটা দিন আমার খুব দরকার ছিল। আজই প্রথম অপেক্ষার সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। অপেক্ষাকে নিয়ে বাকি জীবনটা কাটাতে আমার খুব একটা কষ্ট হবে না আর। সন্ধ্যে হয়ে আসছে। পার্কের গাছের ফাঁকেফাঁকে ল্যাম্পপোস্ট আলো বিলাচ্ছে। চারিদিকে আলো অন্ধকারের খেলা। অফিসের ব্যাগ থেকে ডায়েরিটা বের করে একবার হাত বুলালাম। ভিতরে শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে আছে পাঁচ বছর আগের বেলী ফুল। একবার ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে হলো। নিজেকে ধরে রাখলাম। ডায়েরিটা সিমেন্টের বেঞ্চে রেখে ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। সিগারেট ধরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বের হয়ে এলাম রমনা পার্ক থেকে। নিজেকে খুব হালকা মনে হচ্ছে। ডায়েরিটা সামান্তকে দেওয়ার জন্য এনেছিলাম। ডায়েরিটা কে রেখে এসে নিজেকে মুক্ত লাগছে অনেক। সামান্তার মতো ডায়েরির সাথে আমার যাত্রাটাও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। আমার বাকি গন্তব্যের সঙ্গি এখন- অপেক্ষা। সামান্তার কথা মনে আসতেই অন্যদিকে মনটা ঘুরিয়ে দিচ্ছি বার বার। নিজেকে বোঝালাম এতো ভাবার কিছু নেই বোকা। সামান্তাকে আর কলও দেই নি। রুমে এসে খেয়ে দেয়ে শুয়ে পরলাম। একদিন অফিস কামাই গেল। কাল সকালে উঠে আবার অফিস ধরতে হবে। ঠিক ১১:৫৫ মিনিটে সামান্তা ফোন দিলো। খুব স্বাভাবিক ভাবেই কলটা রিসিভ করার চেষ্টা করলাম। "হ্যাঁ সামান্তা বল!" "আমি স্যরি।" "কি আশ্চর্য স্যরি কেন।" "তুমি অনেক রোগা হয়ে গেছো। এতো সিগারেট খাও কেন। প্লিজ একটু কমাও।" "তুমি এসেছিলে?" "হুম। কিন্তু কি নিয়ে তোমার সামনে এসে দাঁড়াই। সেই শক্তি আমার নেই। দূর থেকে তোমায় দেখেছিলাম।" "কাছে এলেই পারতে। সে যাক। কতোক্ষণ ছিলে?" "পৌনে দুইটা পর্যন্ত।" "ওহ। আচ্ছা শোন কাল সকালে অফিস আছে। আমাকে ঘুমুতে হবে।" "আমি সত্যিই স্যরি। আমি কাল একবার তোমার সাথে দেখা করতে চাই।" "কেন!" "তোমার ডায়েরিটা আমার খুব দরকার।" "কি দরকার সেটার আর।" "তুমি জানোনা সেটা কি আমার জন্য।" "আমি আজ নিয়ে গিয়েছিলাম ডায়েরিটা। তুমি এলে না। আমি সন্ধ্যে পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম। শেষে চলে আসার সময় পার্কের বেঞ্চে রেখে চলে এসেছি।" "মানে...মানে কি বলছো তুমি..." লাইনটা কেটে ফোন অফ করে দিলাম। আমার একটা ঘুম দরকার এখন। ডায়েরিটা সামান্তার মতোই হারিয়ে গেল। যাক। আমার আর কোন দায় নেই। আমার বাকি জীবনের গন্তব্য নির্ধারণ হয়ে গেছে। অপেক্ষাকে নিয়ে এই যাত্রায় আমি আর কাউকে সঙ্গি করতে চাইনা। কিন্তু অপেক্ষাকে নিয়ে আমি কিসের অপেক্ষায় থাকবো?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৬৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "এখনও আমি অপেক্ষা করছি তোমার জন্য!!!" পর্ব-১
→ ~অপেক্ষা-হুমায়ূন আহমেদ(বুক রিভিউ)
→ বিবাহের অপেক্ষা
→ অসমাপ্ত অপেক্ষা
→ অপেক্ষা
→ অপেক্ষা
→ অপেক্ষার প্রহর
→ অপেক্ষায় আছি তোর
→ #♥অপেক্ষার প্রহর!!!
→ **তোমার অপেক্ষায়**

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...