গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

কেপলার টুটুবি {5}

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (২ পয়েন্ট)



》》মুহম্মদ জাফর ইকবাল《《 ছোট ঘরটির ধাতব টেবিল ঘিরে বারোজন নারী পুরুষ বসে আছে, দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে এরা সবাই রবোমানব। কঠিন চেহারার মানুষটি টেবিলে থাবা দিতেই সবাই তার দিকে তাকাল। সে একটু হাসার ভঙ্গি করে বলল, আগে যতবার এই ঘরটিতে তেমাদের নিয়ে বসেছি, প্রত্যেকবার আমার ভেতরে এক ধরনের চাপা ভয় কাজ করেছে। যদি মানুষেরা খবর পেয়ে যায়–যদি তারা আমাদের ধরতে চলে আসে! মানুষটি তার আঙুল দিয়ে টেবিলে একটু শব্দ করে বলল, এই প্রথমবার আমার ভেতরে কোনো ভয় নেই। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নেটওয়ার্কটি এখনো দখল করি নি, কিন্তু নেটওয়ার্কটির গুরুত্বপূর্ণ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে চলে এসেছে। এখন হঠাৎ করে নিরাপত্তাবাহিনীর কেউ আর আমাদের ধরতে চলে আসবে না! লালচে চুলের মেয়েটি বলল, তোমাকে অভিনন্দন! আমাকে অভিনন্দন দেবার কিছু নেই। আমরা সবাই মিলে করেছি। কিন্তু তোমার নেতৃত্বে করেছি। তুমি অসাধারণ একটি পরিকল্পনা করেছ। নেটওয়ার্কে যখন প্রথমবার তোমার ছবি আর নামটি চলে আসবে, যখন সবাই জানবে নতুন পৃথিবীর নতুন নেতা তুমি-তখন পৃথিবীর গোবেচারা মানুষগুলোর কী অবস্থা হবে কল্পনা করেই আমার শরীরে শিহরণ হতে থাকে! কঠিন চেহারার মানুষটি হাসি হাসি মুখে বলল, তোমার শিহরণকে আর দুটি দিন আটকে রাখ। এখন থেকে ঠিক দুইদিন পর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নেটওয়ার্ক দখল করব। কমবয়সী একজন মানুষ ঝুঁকে পড়ে জিজ্ঞেস করল, নেটওয়ার্ক দখল করার পর, সবচেয়ে প্রথম আমরা কী করব? সবকিছু ঠিক করা আছে। সময় হলেই দেখতে পাবে? আমাদের আগে থেকে বলবে না? বলব। তোমাদের নিয়ে কাজ করেছি, তোমাদের না বললে কাকে বলব? কঠিন চেহারার মানুষটার মুখ হঠাৎ করে আরো কঠিন হয়ে যায়, সবার প্রথম আমরা বিজ্ঞান আকাদেমীর এগারোজনকে ধরে আনব। সত্যি কথা বলতে কী ধরে আনা হবে না, যেখানে যাকে পাওয়া যাবে সেখানেই তাকে শেষ করে দেয়া হবে। তবে পৃথিবীর গোবেচারা মানুষদের আমরা সেটা জানাব না। তাদেরকে জানাব ওদের ধরে আনা হয়েছে বিচার করার জন্যে। তারপর আমরা ওদের বিচার করে শাস্তি দেব। হাসিখুশি একটি মেয়ে জিজ্ঞেস করল, কোন অপরাধের জন্যে আমরা তাদের শাক্তি দেব? কঠিন চেহারার মানুষটি বলল, অপরাধের কী আর শেষ আছে? মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করার অপরাধ। রবোমানবদের প্রতি অবিচার করার অপরাধ? পৃথিবীর সম্পদ ধ্বংস করার অপরাধ! এমন কী তাদের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অপরাধ পর্যন্ত আনতে পারি? লাল চুলের মেয়েটি বলল, সেটা কী কেউ বিশ্বাস করবে? এই দুর্বল কাপুরুষ অথব কিছু মানুষ-তারা শিশু হত্যা করতে পারে সেটা কেউ বিশ্বাস করবে না। কঠিন চেহারার মানুষটি টেবিলে থাবা দিয়ে বলল, একশবার বিশ্বাস করবে। পুরো নেটওয়ার্ক আমাদের দখলে, সেই নেটওয়ার্কে হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য সংরক্ষিত করে রাখা হবে। আমরা দিনকে রাত রাতকে দিন করতে পারব। সূর্যকে চাদ, চাঁদকে সূর্য করে ফেলতে পারব। বিজ্ঞান আকাদেমীর সভাপতি থুলকে সবচেয়ে বড় ভণ্ড হিসেবে দেখানো হবে। মানুষটি একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, আর এই বুড়োটিকে আমি নিজের হাতে খুন করতে চাই। লাল চুলের মেয়েটি খিল খিল করে হেসে বলল, আমাকে সেই দৃশ্যটি নিজের চোখে দেখতে দেবে? কেন? দুটি কারণে, প্রথমত, এসব দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। দ্বিতীয়ত, তোমর মনে আছে আমার ঘরে একটা ছেলের মস্তিষ্ক আমি বাঁচিয়ে রেখেছি? মনে আছে। আমি তাকে এই ঘটনাটি নিজের মুখে বর্ণনা করতে চাই। যখন একজন মানুষের একটা মস্তিষ্ক ছাড়া আর কিছু থাকে না তখন তার থেকে অসহায় আর কিছু নেই। সেই অসহায় মানুষটির মস্তিষ্ক যখন আকুলি বিকুলি করতে থাকে সেটি দেখার চাইতে বড় বিনোদন আর কিছু হতে পারে না! কঠিন চেহারার মানুষটি বলল, ঠিক আছে, আমি তোমাকে সেই দৃশ্যটি দেখতে দেব। ধন্যবাদ! তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। অনেক অনেক ধন্যবাদ! কঠিন চেহারার মানুষটি বলল, আজকে আমরা একত্র হয়েছি তোমাদের কিছু তথ্য জানতে। এখন পৃথিবীর সবকিছু পরিচালনা করে বিজ্ঞান আকাদেমীর এগারোজন মানুষ। নেটওয়ার্কটি দখল করে নেবার পর বিজ্ঞান আকাদেমীর জায়গায় চলে যাব আমরা এগারোজন মানুষ। ধাতব টেবিল ঘিরে বসে থাকা মানুষগুলো হঠাৎ করে পাথরের মতো স্থির হয়ে গেল। কঠিন চেহারার মানুষটি হাসি হাসি মুখে বলল, কী হল, তোমরা হঠাৎ করে এতো শান্ত হয়ে গেলে কেন? কেউ কোনো কথা বলল না। মানুষটি তার মুখের হাসিটিকে আরো বিস্তৃত হতে দিয়ে বলল, কী হল, তোমরা কেউ কথা বলছ না কেন? সুদর্শন একজন মানুষ তার কপাল থেকে ঘাম মুছে বলল, আমরা এখানে বারোজন আছি, কিন্তু তুমি বলেছ আমরা এগারোজন! তার মানে কী? তার মানে এই বারোজনের একজন– বারোজনের একজন? থেকেও নেই। চমৎকার বিশ্লেষণ! চমৎকার! তুমি যখন এতো চমৎকার বিশ্লেষণ করতে পার তোমাকে তাহলে আরো একটু বিশ্লেষণ করতে দিই। তুমি বল কোন মানুষটি এখানে থেকেও নেই? সুদর্শন মানুষটি সবার মুখের দিকে তাকাল তারপর ঘুরে কঠিন চেহারার মানুষটির দিকে তাকিয়ে বলল, এখানে যারা আছে তাদের কেউই কখনো গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেয় নি। শুধু আমি তোমার সাথে পাশাপাশি কাজ করেছি। তুমি আর আমি মিলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছি। তার অর্থ কী? তার অর্থ আমাদের এই বারোজনের মাঝে কাউকে যদি মারা যেতে হয়, তাহলে সেটি হবে তুমি না হয় আমি। চমৎকার, তাহলে তুমিই বল। মানুষটি কী তুমি না আমি? সুদর্শন চেহারার মানুষটি একদৃষ্টে কঠিন চেহারার মানুষটির দিকে তাকিয়ে থাকে। তার মুখে একটা বিষণ্ণ হাসি ফুটে ওঠে–সে ফিস ফিস করে বলল, দোহাই লাগে, আমাকে তুমি মেরে ফেলো না। আমি কী করেছি শুনলে তুমি অবাক হয়ে যাবে! কী করেছ? কথা দাও তুমি আমাকে মেরে ফেলবে না। রবোমানবেরা মানুষ নয়, তাদের কথার কোনো মূল্য নেই। তবু কথা দাও! না, আমি নাটকীয়তা পছন্দ করি না। তুমি বল। সুদর্শন মানুষটি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, পৃথিবীর সাতজন মহাচারীকে নিয়ে একটি মহাকাশযান মহাকাশে যাত্রা করেছে। সেই সাতজন মহাকাশচারীর মাঝে দুইজন রবোমানব ঢুকিয়ে দিয়েছি। কঠিন চেহারার মানুষটি বলল, কেমন করে সেটা করেছ? নেটওয়ার্কের গভীরে আমার নিজস্ব যোগাযোগ আছে– সুদর্শন মানুষটির কথা শেষ হবার আগেই কঠিন চেহারার মানুষটি তার পকেট থেকে একটা রিভলবার বের করে সুদর্শন মানুষটিকে পরপর অনেকগুলো গুলি করল। সুদর্শন মানুষটি কাত হয়ে মেঝেতে পড়ে গেল, তার চোখে এক ধরনের অবিশ্বাসের দৃষ্টি। কঠিন চেহারার মানুষটি ফিসফিস করে বলল, যে বিজ্ঞান আকাদেমীর সবচেয়ে গোপন প্রজেক্টে নিজের নাক গলাতে পারে তাকে বিশ্বাস করা ঠিক না। সবাই মাথা নাড়ল, বলল, না। ঠিক না। তুমি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ? কোনো উত্তর নেই। লাল চুলের মেয়েটি মাথা ঝাঁকিয়ে গলার স্বর আরেকটু উঁচু করে বলল, শুনতে পাচ্ছ আমার কথা? এবারেও কোনো উত্তর নেই। লাল চুলের মেয়েটি খিল খিল করে হেসে বলল, আমি জানি তুমি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ, তুমি ইচ্ছে করে আমার কথার উত্তর দিচ্ছ না। কেন আমার কথার উত্তর দিচ্ছ না? তুমি কী আমার উপরে রাগ করেছ? না আমি রাগ করিনি। যে মানুষটির দেহ নেই, হাত পা মুখ চোখ কিছু নেই, যার অস্তিত্ব হচ্ছে শুধু একটা মস্তিষ্ক সে রাগ করতে পারে না। চমৎকার। তোমার আর আমার সম্পর্কটি তাহলে ভালোবাসার সম্পর্ক! মধুর একটি ভালোবাসার সম্পর্ক! আমি তোমার নিষ্ঠুরতা দেখে হতবাক হয়ে যাই। কী বলতে চাও বল। আলোহীন বর্ণহীন শব্দহীন গন্ধহীন অনুভূতিহীন আমার শূন্য জগৎটি ভয়ংকর। এর চাইতে ভয়ংকর কিছু হতে পারে না। কিন্তু তুমি প্রতিদিন আমার সাথে দুইএক মিনিট যে কথাগুলো বল সেটি সেই শূন্যতার জগৎ থেকেও ভয়ংকর। বল তুমি কী বলতে চাও। বলে আমাকে মুক্তি দাও। আমি তোমাকে একটা সুসংবাদ দিতে চাই। সুসংবাদ? হ্যাঁ। সুসংবাদ। কী সুসংবাদ? শুনতে আমার আতংক হচ্ছে। কিন্তু তুমি বল। আর আটচল্লিশ ঘণ্টার মাঝে আমরা নেটওয়ার্ক দখল করে নেব। তখন পুরো পৃথিবীটা হবে আমাদের। তোমরা পুরো পৃথিবীটা নিয়ে কী করবে? লাল চুলের মেয়েটি খিল খিল করে হেসে বলল, এটি আবার কীরকম প্রশ্ন? মানুষ পৃথিবীটা দখল করে কী করেছে? মানুষ তো পৃথিবী দখল করে নি! মানুষ সবাইকে নিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থেকেছে। একেবারে ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে বিশাল নীল তিমিসবাইকে নিয়ে বেঁচে থেকেছে। তার কারণ মানুষের বেঁচে থাকার একেবারে গোড়ার কথা হচ্ছে ভালোবাসা! তোমাদের তো ভালোবাসা নেই–তোমরা কী নিয়ে বেঁচে থাকবে? তোমরা কেন বেঁচে থাকবে? লাল চুলের মেয়েটি খিল খিল করে হাসতে হাসতে বলল, আমরা কেমন করে বেঁচে থাকি সেটা দেখানোর জন্যেই আমি তোমাকে বাঁচিয়ে রাখব! বুঝেছ? মস্তিষ্কটি উত্তরে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল লালচুলের মেয়েটি খুট করে সুইচটি বন্ধ করে দিল। কাচের জারে ভেসে থাকা থলথলে মস্তিষ্কটির দিকে তাকিয়ে তার এক ধরনের ঘৃণাবোধ হয়। সে হেঁটে হেঁটে জানালার কাছে দাঁড়ায়। দূর পাহাড়ের পিছনে সূর্যটা আড়াল হয়ে যাচ্ছে, চারদিকে অন্ধকার নেমে আসছে। লালচুলের মেয়েটি বাইরে তাকিয়ে থাকে, তার ভুরু দুটি কুঞ্চিত, কিছু একটা তাকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে। মস্তিষ্কটি সত্যিই জিজ্ঞেস করেছে, পৃথিবী দখল করে তারা কী করবে? সত্যিই তো। তারা কী করবে? বিজ্ঞান আকাদেমীর সভাপতি মহামান্য থুল দূর পাহাড়ের দিকে তাকিয়েছিলেন, তার পাশে তথ্যবিজ্ঞানী জুহু দাঁড়িয়ে আছে। সূর্যটা পাহাড়ের আড়ালে চলে যাবার সাথে সাথে চারদিকে আবছা অন্ধকার নেমে আসে। মহামান্য থুল নিচু গলায় বললেন, যতক্ষণ সূর্য আকাশে থাকে ততক্ষণ একটিবারও মনে হয় না সেটি আড়াল হয়ে গেলে অন্ধকার নেমে আসবে। তথ্যবিজ্ঞানী জুহু কী বলবে বুঝতে না পেরে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল। মহামান্য থুল মাথা ঘুরিয়ে তার দিকে তাকালেন, জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের হাতে আর কতোক্ষণ সময় আছে? সময় নেই। রবোমানবেরা ইচ্ছে করলে এখন যে কোনো মুহূর্তে নেটওয়ার্ক দখল করে নিতে পারে। তারা করছে না, অনুমান করছি তারা আরো একটু গুছিয়ে নিতে চাইছে। তার মানে আমাদের হাতে খুব বেশি হলে আটচল্লিশ থেকে বাহাত্তর ঘণ্টা সময়। জুহু বলল, কিংবা আরো কম! নেটওয়ার্কটি দখল করে নেবার পর কী হবে বলতে পারবে? সবার আগে আমাদের এগারোজনকে খুন করবে। তারপর? তারা পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের সকল তথ্য পেয়ে যাবে। যত প্রতিষ্ঠান আছে তা নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। পানি, বিদ্যুৎ, খাবার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করবে। চিকিৎসার নিয়ন্ত্রণ নেবে। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করবে। এক সময় পৃথিবীতে বিশাল অস্ত্র ভাণ্ডার ছিল, এখন নেই। যদি থাকত তাহলে সবার আগে তার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতো। তারপর কী করবে বলে তোমার ধারণা? পৃথিবীর সবচেয়ে কর্মক্ষম মানুষগুলোকে ধরে নিয়ে যাবে। হত্যা করার জন্যে? ভয় দেখানোর জন্যে প্রথমে নিশ্চয়ই অনেক মানুষকে হত্যা করবে। তারপর তারা কর্মক্ষম মানুষগুলোকে রবোমানবে পাল্টে দিতে শুরু করবে। তারপর? তারপর ধীরে ধীরে পৃথিবীর সব মানুষকে রবোমানবে পাল্টে দেবে। কেউ কেউ হয়তো পালিয়ে পাহাড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নেবে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ রবোমানব হয়ে যাবে। নেটওয়ার্ক দিয়ে নিখুঁতভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে। তারপর? জুহুকে একটু বিভ্রান্ত দেখা গেল। ইতস্তত করে বলল, পৃথিবীর সব মানুষকে রবোমানবে পাল্টে দেয়ার পর কী আর কিছু বাকি থাকল? নিশ্চয়ই বাকি আছে। তারপর কী হবে বলে তোমার ধারণা? জুহু কোনো উত্তর দিল না। রবোমানব বাবা-মায়ের রবোমানব সন্তান হবে পরের প্রজন্ম? নিশ্চয়ই তাই হবে। মহামান্য থুল খুব ধীরে ধীরে ঘুরে জুহুর দিকে তাকালেন, বললেন, তোমার ধারণা মানুষের মায়েরা যেভাবে তাদের সন্তানদের ভালোবেসে বুক আগলে রক্ষা করে রোমানবের মায়েরাও তাই করবে? যে ভালোবাসাকে তাদের মস্তিষ্ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে সন্তানের জন্যে সেই ভালোবাসা আবার ফিরে আসবে? জুহু ইতস্তত করে বলল, আমি জানি না মহামান্য থুল। আমি সত্যিই জানি। আপনি কী জানেন?। না। জানি না। আপনি কি অনুমান করতে পারেন? যে বিষয়টি সত্যি সত্যি জানা সম্ভব আমি সেটা অনুমান করতে চাই না। এটা সত্যি সত্যি জানা সম্ভব? মহামান্য থুল হাসলেন, বললেন, আজকে শুধু আমি প্রশ্ন করব। তুমি উত্তর দেবে। ঠিক আছে? আপনি যেটি বলবেন সেটিই হবে মহামান্য থুল। এবার আমি তোমাকে সম্পূর্ণ অন্য একটি প্রশ্ন করি। জুহু মাথা নেড়ে বলল, করেন মহামান্য থুল। আমাদের নেটওয়ার্কটি যদি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে কী হবে? জুহু চোখ বড় বড় করে মহামান্য থুলের দিকে তাকাল, আমতা আমতা করে বলল, নেটওয়ার্ক ধ্বংস হয়ে গেলে? হ্যাঁ। আমাদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস হয়ে গেলে- আমাকে ক্ষমা করবেন মহামান্য থুল, কিন্তু আপনার প্রশ্নটি তো একটি অবাস্তব প্রশ্ন। এই নেটওয়ার্কটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে যেন কোনোভাবে এটি ধ্বংস না হয়। ঝড়, ভূমিকম্প, সুনামি, বন্যা, নিউক্লিয়ার বোমা কোনো কিছু যেন ধ্বংস করতে না পারে ঠিক সেভাবে এই নেটওয়ার্কটি তৈরি করা হয়েছে। মহামান্য থুল আপনি সবচেয়ে ভালো করে জানেন কোনোভাবে এই নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা সম্ভব নয়, আপনার যৌবনে আপনি এর ডিজাইন টিমে ছিলেন। হ্যাঁ। আমি ছিলাম। আমি জানি যদি একটি নেটওয়ার্ক কোনোভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে তাহলে সেই নেটওয়ার্ককে পৃথিবীর সব মানুষের দায়িত্ব দেয়া যায় না। কাজেই এই নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করা যাবে না। তারপরেও আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করি, যদি এই নেটওয়ার্কটি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে কী হবে? জুহু মাথা চুলকে বলল, মহামান্য থুল, আমার কথাকে আপনি ধৃষ্টতা হিসেবে নেবেন না। আপনার প্রশ্নটি অনেকটা এরকম, আমরা জানি পৃথিবীর আহ্নিক গতি কখনো বন্ধ হবে না, এটি সবসময়েই নিজের অক্ষের উপর চব্বিশ ঘণ্টায় একবার ঘুরবে। কিন্তু যদি বন্ধ হয় তাহলে কী হবে? মহামান্য থুল হাসলেন, বললেন, হ্যাঁ। অনেকটা সেরকম। জুহু বলল, মুহর্তে পৃথিবী লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। পানি, খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। রাস্তাঘাটে গাড়ি চলবে না। প্লেন উড়বে না। মানুষ মানুষকে চিনবে না। কাজে বের হয়ে নিজের ঘরে ফিরে আসতে পারবে না। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে। স্কুল কলেজ গবেষণা বন্ধ হয়ে যাবে। এক কথায় সমস্ত পৃথিবী অচল হয়ে যাবে। তারপর কী হবে? সারা পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যাবে। তারপর কী হবে? মানুষে মানুষে হানাহানি শুরু হয়ে যাবে। মহামান্য থুল খুব ধীরে ধীরে ঘুরে জুহুর দিকে তাকালেন, নিচু গলায় বললেন, তোমার তাই ধারণা? যখন খুব বড় বিপদ নেমে আসে তখন মানুষ একে অন্যকে সাহায্য না করে একে অন্যের সাথে হানাহানি শুরু করে? মানুষ তখন স্বার্থপরের মতো নিজের বিষয়টা দেখবে? জুহু অপ্রস্তুত মুখে বলল, এর উত্তর আমি জানি না মহামান্য থুল। একটু থেমে সে যোগ করল, আপনি কী জানেন? মহামান্য থুল মাথা নাড়লেন, না। জানি না। অনুমান করতে পারেন? যে বিষয়টা সত্যি সত্যি জানা সম্ভব আমি সেটা অনুমান করতে চাই না। জুহু অবাক হয়ে মহামান্য থুলের দিকে তাকাল, একটু আগে তিনি ঠিক এই বাক্যটিই বলেছিলেন! জুহু দ্বিতীয়বার তাকে প্রশ্ন করার সাহস পেল না। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বলল, মহামান্য থুল। বল। আমি আসলে আপনাকে একটা খারাপ খবর দিতে এসেছিলাম। কী খারাপ খবর?। মানুষের সভ্যতা বাঁচিয়ে রাখার জন্যে আমরা একটি মহাকাশযানে করে সাতজন মহাকাশচারী পাঠিয়েছিলাম। হ্যাঁ। সাতজনের একটি পূর্ণাঙ্গ টিম। একজন শিশুসহ। সেই টিমটিতে যেন কোনো রবোমানব যেতে না পারে তার জন্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু– কিন্তু কী? সাতজনের ভেতর দুইজন রবোমানব ঢুকে গেছে। মহামান্য থুল ঘুরে জুহুর দিকে তাকালেন, কোন দুইজন? জানি না। কেউ জানে না। এখন কী করবে? বুঝতে পারছি না মহামান্য থুল। সেজন্যে আপনার কাছে ছুটে এসেছি। আমার মনে হয় কিছুই করার প্রয়োজন নেই। যেভাবে চলছে চলুক। আমরা পৃথিবী থেকে সিগন্যাল পাঠিয়ে মহাকাশযানটা ধ্বংস করে দিতে পারি। মহামান্য থুল মাথা নাড়লেন, আমরা যদি রবোমানব হয়ে যেতাম তাহলে নিশ্চয়ই তাই করতাম। কিন্তু আমরা তো রবোমানব নই। আমরা খুব সাধারণ মানুষ। একটি তুচ্ছ কীটপতঙ্গের উপর হাত তুলতেও আমাদের হাত কাঁপে। আমরা কেমন করে কিছু অসহায় নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করব? (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ টুকি ও ঝায়ের (প্রায়) দুঃসাহসিক অভিযান {5}
→ কেপলার টুটুবি {8}
→ কেপলার টুটুবি {7}
→ কেপলার টুটুবি {6}
→ কেপলার টুটুবি {4}
→ কেপলার টুটুবি {3}
→ কেপলার টুটুবি {2}
→ কেপলার টুটুবি {01}

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...