গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ফিরে পাওয়া

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাকারিয়া আহমেদ (০ পয়েন্ট)



মাঃএই আবীর ওঠ কত বেলা হয়ে গেল। আমিঃইসসস মা আরেকটু ঘুমাতে দেও না। মাঃওঠ তোর অফিস এর সময় গেল তো।৯:৩০ বাজে আমিঃওফফফফ।আগে বলবে না।কত দেরী হয়ে গেল। মাঃআমি তো কতক্ষণ ধরেই ডাকাডাকি করছি তোর তো কোন সাড়া নেই।আমি বলি কি এবার তুই একটা বিয়ে করেই ফেল তাহলে সব problem solve হবে। আমিঃউফফফ মা যাও তো। বানরের গলায় মুক্তোর মালা না ঝুলালে তো তুমার হচ্ছে না।সবে মাত্র লেখাপড়া শেষ করলাম।কোথায় একটু স্বাধীনভাবে থাকব তা না।আমাকে আবার মারতে চাচ্ছ। মাঃআচ্ছা যা এ নিয়ে পড়ে কথা হবে। তাড়াতাড়ি খেতে আয়। অতঃপর রেডি হয়ে breakfast করে বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে গেলাম । অফিস শেষ করে বাসায় আসতেই মাঃ ওহ তোকে তো বলাই হয় নি।রুমু আন্টি রা কাল আসবে।কালকে একটু বাসায় থাকিস। রুমু আন্টির কথা মনেই সেই পুরনোদিন এর কথা মনে পড়ে গেল। আগে আমরা আর রুমু আন্টিরা এক বাসাতেই থাকতাম।কিন্তু বাবার ট্রান্সফারের জন্য আমরা ঢাকা চলে আসার পর আর দেখা হয় নি।রুমু আন্টির একটা মেয়ে আছে নাম নিধি। ছোটবেলায় ওর সাথে জগড়া করে বেলা পাড় হয়ে যেত।আসার সময় দুজনে কারো মুখ কোন কথা ছিল না।অন্যদিন সারা দিন আমার সাথে জগড়া করত কিন্তু আসার সময় একটা কথাও বলে নি শুধু কেঁদেছিল।জানি না তখনকার ভাষায় ওটাকে আবেগ নাকি ভালবাসা বলে তাছাড়া অন্য কোন সম্বোধন ছিল কি না তা আমার জানা নেই।কিন্তু ওকে দেখার জন্য মন্টা আকুপাকু করতে শুরু করলল আবারও। মাঃকিরে কি ভাবছিস? মার কথায় বাস্তবে ফিরে এলাম না মা কিছু না। আচ্ছা তাহলে দুই একদিনের জন্য ছুটি নিয়ে নিস।আন্টিদের বাসায় আনার জন্য তো আবার যেতে হবে। কিন্তু মা বললে না তো রুমু আন্টি রা কেন আসবে? এখন থেকে ওরা এখানেই থাকবে।নিধি এখানেই কোন কলেজে পড়াশোনা করবে। ওহ আচ্ছা এই কথা। হুম।জানিস নিধি টা দেখতে নাকি অনেক সুন্দর হয়েছে ইসস মা কি যে বল না ওই ঝগড়ুটে আবার সুন্দর হবে।পাগল হলে নাকি আবার?? নারে সত্যি বলছি। এখনো মনে আছে। আমাদের আসার সময় নিধি টা যা কান্না করছিল।মনে নেই তো? না ওইসব কিছু মনে নাই।(যদিও মনে আছে সব)। আচ্ছা যা ফ্রেশ হয়ে আয়।খেতে দিচ্ছি তোর বাবাও তোর জন্য অপেক্ষা করছে। আচ্ছা মা আসছি।তুমরা টেবল এ বসো।অতঃপর বসকে ফোন দিয়ে ২/৩ দিনের ছুটি নিয়ে নিলাম।বস অনেক স্নেহ করত বলে কিছু বলে নি। খাওয়া শেষে নিধির কথা চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম। পরদিন সকালে। মাঃকিরে উঠ? আমিঃউফফ মা যাও তো। এত সকালে কেউ ডাকে? মাঃএত সকাল না!!!।তোর আন্টিরা সেই কখন থেকে স্টেশন এ অপেক্ষা করছে!!! এই কথা শুনার পর আমার হুঁশ ফিরল। অতঃপর তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে তাড়াতাড়ি স্টেশনে গেলাম অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করার পরও কারো কোন পাত্তা নেই।আরেকটু সামনে এগুতেই একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা মেয়েঃচোখ কি কপালে থাকে? আমিঃমেয়েটির দিকে তাকিয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেললাম।হা করে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে না আমার চক্ষু গহবরেই থাকে মেয়েঃতাহলে ধাক্কা দিলে কেন? আমিঃআসলে আমি ইচ্ছা করে ধাক্কা দেই নি। আমি যাচ্ছিলাম কিন্তু হঠাৎ করেই আপনি এসে পড়ায় আর কি। মেয়েঃযান যান। আপনাদেকে চেনা আছে। আমিঃআরে আপনি ভুল ভাবছেন আমি আর সবার মত না। অন্যদিক থেকে কি হয়েছে রে নিধি?? নিধিঃনা মা।কিছু নাহ। কোথা থেকে একটা উটকো লোক এসে ধাক্কা মারল। আমিঃএই যে এবার কিন্তু বেশি হয়ে যাচ্ছে। মহিলাঃএই তুই আবীর নাহ? আমিঃরুমি আন্টি!!! মহিলাঃএতক্ষণে তোর আসার সময় হল? আমিঃআর বল না। ওদিকে মেয়েটির একদম নিশ্চুপ।জিহবায় কামড় দিয়ে আছে।আমি ওদিকে ফিরতেই লজ্জ্বায় অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল।তা দেখে আবারও ক্রাশ খেলাম।ভাবতেছি এত সুন্দর কোন মেয়ে হয়!! আন্টিঃতোরা তো সেই ছোটবেলার মত জগড়া করতে শুরু করেছিলি। তোরা কোনদিন ও শুধরাবি না যা চল বাসায় চল।বাসায় আসার পর আন্টি আর মা এতদিনের জমানো গল্প শুরু করল যা শেষ হবার নয়। আমি সব লাগেজপত্র এনে আমাদের নতুন রুম নিধি দের হস্তান্তর করে বাসায় আসলাম। নিধি ও আমাকে অনেক হেল্প করছিল।বারবার আড়চোখে ওর দিকে চোখ যাচ্ছিল। সামনে এতসুন্দর একটা মেয়ে থাকলে কোনভাবেই চোখ ফেরানো সম্ভব না। কিন্তু একটা কথাও দুজনের মুখ থেকে বের হয় নি। তারপর আমি আমার রুম এ চলে যাই।তার ঠিক ১৫ মিনিট পর নিধি আমার রুমে নিধিঃআসতে পারি?? আমিঃআরে।অবশ্যই আস আস। নিধিঃsorry আমিঃকেন? নিধিঃঅই যে আপনার সাথে misbehave করলাম।আমি আসলে বুঝতে পারি নি। আমিঃআরে না সমস্যা নেই।এটাই স্বাভাবিক নিধিঃআপনি এখনও রাগ করে আছেন?তাই না আমিঃবুঝতে পেরে গেছেন তাহলে? নিধিঃহুম।তা আপনার রাগ ভাঙানোর জন্য কি করতে পারি? আমিঃতেমন কিছু না। আমার সাথে একটু ছাদে গেলেই হবে। নিধিঃহঠাৎ ছাদে কেন? আমিঃথাক যেতে হবে না।সমস্যা নেই।আমি একটা অপরিচিত মানুষ আমার কথা শুনবেন কেন (একটু ভাব নিয়ে) নিধিঃইসস।আপনি এত বেশি বুঝেন কেন।আচ্ছা ঠিক আছে যাব।চলুন আমিঃআপনি আগে যান আমি আসতেছি। দুজন ছাদে দাঁড়িয়ে আছি।দুজন চুপচাপ।হঠাৎ নিধী নিরবতা ভেঙে বলল অনেক change হয়ে গেছেন? আমিঃতাই বুঝি।কেমন? নিধিঃআমি জানি না আমিঃতুমিও তো। (চোখের দিকে তাকাতেই চোখ পড়ল সাথে সাথেই সরিয়ে নিল) নিধিঃকেমন? আমিঃএই যে তুমার লম্বা লম্বা চুল।আক্কেল দাঁত হয়েছে।বড় বড় চোখ। নিধিঃফাজলামো করছেন তাই না?? আমিঃমোটেও না। সত্যি (মুচকি হাসি দিয়ে) সাথে সাথেই চলে গেল আমি ডাকলাম কোন সাড়া নেই। পরের দিন সকালে মাঃএই তাড়াতাড়ি উঠ। নিধি কে একটু কলেজে দিয়ে আয় তো? আমিঃআমি যেতে পারব না।(যদিও যেতে আগ্রহী তারপর মায়ের সামনে ভনিতা) মাঃতুই যাবি নাকি যাবি নাহ? (রেগে) আমিঃআচ্ছা যাচ্ছি তো। সমস্যা নেই। বাসার নিচে নিধির জন্য অপেক্ষা করছিলাম।একটু পর আসল। আমি ওর দিকে অবাক পানে তাকিয়েই ছিলাম।তারপর সামনে এসে নিধিঃকি হল হা করে কি দেখছেন। চলুন? আমিঃওহ। হ্যা। sorry.চলুন নিধিঃআমার তো কলেজ এর সময় হয়ে গেছে? একটা রিক্স ডাকুন? আমিঃরিক্স দিয়ে যাবেন? নিধিঃহ্যা।কোন আপত্তি আছে? আমিঃনাহ।আসলে আমি কখনো কোন মেয়ের পাশে বসি নি তো তাই? নিধিঃএকটা রিক্সা ডাক দিয়ে।আমার পাশে বসতেও এত অসুবিধা? আমিঃআসলে তা নাহ। নিধিঃঠিক আছে উঠতে হবে না(একটু মন খারাপ করে) আমিঃআচ্ছা সমস্যা নেই আনি উঠছি। তারপর ওকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে ওর ভর্তি করিয়ে দিয়ে বাসায় আসলাম। খাওয়া দাওয়া শেরে ওর কথা ভাবছিলাম। আমি ও কে ভালবেসে ফেলেছি।আগে তো কোনদিনও এরকম হয় নি। ওর সাথে কাটানো প্রতিটি মুহুর্ত যেন সৌভাগ্যের মনে হয়। নাহ এসব কি ভাবছি আমি? হঠাৎ রুম থেকে বের হয়ে ছাদে যাব ঠিক এসময় মা আর আন্টি আলাপ করছিল এবার ভালয় ভালয় ওদের বিয়ে টা হলেই শান্তি আমিঃকার বিয়ে মা? মাঃতোদের আন্টির এক আত্মীয়ের। আমিঃআচ্ছা ঠিক আছে। ছাদে বসে গাই গাইছিলাম "আমারও পরাণও যাহা চায় তুমি তাই,তুমি তাই গো তুমি সুখ যদি নাহি চাও যাও সুখের ও সন্ধানে যাও" থেমে যাওয়ার সাথে সাথে নিধিঃবেশ ভাল গাইতে পারেন তো? আমিঃধন্যবাদ।কখন এসেছ? নিধিঃএইমাত্র।আপনার গান শুনছিলাম। হঠাৎ অফিসের কলিগ নাদিয়ার phone আসাতে তার সাথে কথা বলতে লাগলাম নিধির দিকে তাকাতেই দেখলাম খুব মন খারাপ করে আছে? কথা শেষ করে ওকে বললাম sorry আসলে একটা call আসাতে একটু দেরী হয়ে গেল কিন্তু ও আর একটা কথা না বলেই চলে গেল মন খারাপ করে।এরপরও নিধির সাথে কথা বলার অনেক চেষ্টা করার পরও কোন লাভ হল না।আমাকে দেখলেই চলে যেত।কোন কথা বলত না।আমি এদিকে বুঝতে পেরে গেছিলা। যে আমি ওকে ভালবেসে ফেলেছি।আর ও আমাকে ভালবাসে না হলে আমি নাদিয়ার সাথে কথা বলার পর থেকে এরকম করছে। পরদিন ওকে সারা বাসা খুজেও পেলাম না তারপর ছাদে গেলাম। আমাকে দেখার সাথে সাথেই চলে যেতে চেষ্টা করল। আমি হাত ধরে টান দিতেই নিধিঃহাত ছাড়ুন আমিঃনা ছাড়ব নাহ। তুমি আমাকে এড়িয়ে চলছ কেন? নিধিঃআমি কাউকে এড়িয়ে চলছি না। আমিঃপ্লিজ বুঝার চেষ্টা কর।আমি তুমাকে অনেক ভালবেসে ফেলেছি।জানি না কিভাবে কি হয়ে গেল। তবে তুমাকে প্রথম দিন দেখার পর থেকেই তুমাকে ভালবেসে ফেলেছি। নিধিঃকান্নাজড়িত কণ্ঠে তাহলে ওইদিন কে ফোন দিয়েছিল? আমিঃওইদিন নাদিয়া ফোন দিয়েছিল।ও আমার অফিসের কলিগ আর কিছুই নয়। নিধিঃনিশ্চুপ।শুধু কান্না করছে। আমিঃপ্লিজ কিছু বল। নিধিঃসাথে সাথে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল আর। আমিঃকি হল এবার কান্না থামাও প্লিজ নিধিঃআমিও তুমাকে অনেক ভালবেসে ফেলেছি। আমিঃতাহলে কি মাকে বলব বিয়ের কথা? নিধিঃইসস আমি জানি না।লজ্জ্বা পেয়ে। এখন আর লজ্জ্বা পেয়ে কি হবে আমরা তো সব দেখে ফেলেছি।আর আমরা এটাই চাইছিলাম। (মা আর আন্টি একসাথে) নিধিঃলজ্জ্বা পেয়ে আমাকে ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে পালাল। আমি কিছু ভেবে না পেয়ে আমিও চলে আসলাম। তারপর বিয়েটা হয়েই গেল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালবেসে না পাওয়ার কষ্ট
→ ফিরে আসা
→ পাওয়া
→ ফিরে এসো না,এসো না ফিরে
→ তোকে পাওয়া হলো না শেষ পাঠ
→ তোকে পাওয়া হলো না পাঠ৬
→ তোকে পাওয়া হলো না৫ পাট
→ তোকে পাওয়া হলোনা ৪ পাট
→ তোকে পাওয়া হলো না ৩ পাট
→ তোকে পাওয়া হলো না ২ পাট

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...