গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

মেঘ বৃষ্টি মায়াজাল

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাকারিয়া আহমেদ (৮ পয়েন্ট)



সুনসান একটা নীরবতা চারদিকে। রাস্তার পাশে গাছগুলোর ছায়া পড়েছে রাস্তার মাঝে। নীরবতা ছাপিয়ে গাছের মধ্যে কিছু অজানা পাখির কিচিরমিচির কলরব। বটগাছটা নিথর ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। বটগাছ থেকে কিছু লতা ঝুলে আছে নিম্নমুখী হয়ে। সাবিনা কলেজ থেকে ফিরছে। ঠিক দ্বিপ্রহর। বটগাছটার কাছাকাছি এসে একটু ছায়ার জন্য দাঁড়ায়। খুব তৃষ্ণাও পেয়েছে। কলেজ ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে মুখে দিয়ে গলাটা ভিজিয়ে নেয়। বটগাছের আশ্রয়ে, নির্মল বাতাসে শরীর জুড়িয়ে আবার বাড়ির দিকে হাঁটতে থাকে। মূল রাস্তা পেরোলেই একটি ছোট নদীর ছোট একটি শাখা বয়ে গেছে। অনেকটা ছোট খালের মতো। স্থানীয় লোকজন তার ওপরে ছোট একটি বাঁশের সাঁকো দিয়েছি। এপার থেকে ওপারে যাওয়ার জন্য। সাবিনা সাঁকোর ওপর ওঠে। এমদাদও তখন ঢাকা থেকে ফিরছে। সাঁকোর ওপর দুজন মুখোমুখি হয়। সাবিনা খিলখিল করে হেসে ওঠে। — আপনাকে নিচে ফেলে দেই? এমদাদ হন্তদন্ত খেয়ে যায়। একই গ্রামের সাবিনা। এর আগেও অনেকবার দেখা হয়েছে পথেঘাটে কিন্তু কখনো কথা বলেনি। আজ এমন আগ বাড়িয়ে কথা বলা দেখে এমদাদ কোনো কথা না বলে নিজের জীবন বাঁচিয়ে খুব দ্রুত সাঁকো পেরিয়ে আসে। বাড়ির দিকে ছুটতে থাকে। পেছন থেকে জোর গলায় শোনা যায়—কী হলো পালাচ্ছেন কেন? ভয় পেয়েছেন নাকি? এমদাদ কোনো রকমে বাড়ি এসে পৌঁছায়। ঢাকাতে একটা পত্রিকা অফিসে চাকরি করে এমদাদ। মাস শেষে বাড়ি আসে। আর মা অসুস্থ হলে বা কোনো দরকারে আসতে বললে আসে। এবার মা একটু তাড়া দিয়েই ছেলেকে আনিয়েছেন। ছেলের জন্য বউ ঠিক করবেন বলে। এমদাদের অবশ্য বিয়ের জন্য এত তাড়াহুড়ো নেই। নির্ভেজাল মানুষ। চাকরি করে। অন্য সময় বই পড়ে। বাড়িতে এলেও দু– একটা কবিতার বই নিয়ে আসে। বই পড়ে ও মায়ের কাছে থাকে। বন্ধু-বান্ধবও খুব একটা নেই বললেই চলে। কোনো মেয়েকে ভালো লাগলেও কখনো সাহস করে বলা হয়নি। তার চোখের সামনেই ওসব মেয়েরা অন্যের হয়ে গেছে। কখনো বলাও হয়নি, প্রেম করাও হয়নি। তবে দু- একজনের কথা ডায়েরিতে লেখা আছে। ওরা শান্তশিষ্ট আর লাজুক মেয়ে। আজকে সাবিনাকে দেখে আবার ওদের কথা মনে পড়েছে। ওরাও মেয়ে, সাবিনাও মেয়ে। কেমন অ্যাগ্রেসিভ। দাঁত বের করে হাসছিল। বলে সাঁকো থেকে ফেলে দেবে। এমদাদ বাড়ি এসে হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে খেতে বসে। মা ভাত বেড়ে দিচ্ছেন। কীভাবে যে ছেলেকে কথাটা বলবেন। ইতস্তত করতে থাকেন। এমদাদ বলে —কি হইছে আম্মা। কিছু বলবেন? —না মানে বলতে চাইছিলাম তোমার বিয়ের জন্য একটা মেয়ে ঠিক করছি। আমার ছোটবেলার সই কুলসুমের মেয়ে সাবিনা। কলেজে পড়ে। আজ বিকেলে তুমি আমার লগে সাবিনাগো বাড়িত যাইবা। এমদাদ মুখে ভাত দিতে গিয়ে থেমে যায়। —কী সাবিনা! আর মেয়ে খুঁজে পাইলেন না। — কেন সাবিনার কি হইছে। মেয়ে কোন দিক দিয়া খারাপ? —ওর মাথায় মনে হয় ডিস্টার্ব আছে। লাজ শরম নাই। আজকে নদীর ঘাটে সাঁকোর ওপর আমার সঙ্গে দেখা হইছে। আমাকে বলে সাঁকোর থেকে ফেলে দেবে। আমি কোনো রকমে জান বাঁচিয়ে আসলাম। — বলিস কী? মায়ের বিশ্বাস হতে চায় না। মেয়েটা একটু চঞ্চল কিন্তু এমন বেশরম না। তুমি ঠিক চিনেছ তো? —হুম না চেনার কী আছে। এত বছর ধরে দেখে আসছি। এমদাদ খাওয়া শেষ করে ওঠে। মা বাসনপত্র সব গোছাতে থাকেন। এদিকে সাবিনাদের বাড়ি থেকে খুব শোরগোল শোনা যায়। মা বাসনপত্র রেখে সাবিনাদের বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করেন। এমদাদও পিছু পিছু যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভেজা বৃষ্টি
→ একটি বৃষ্টি ভেজা রাত
→ "ভালোবাসা" নাকি "মায়াজাল"
→ ভেসে আসা মেঘ-(৫+৬)-শেষ পর্ব
→ মেঘে ঢাকা তারা
→ ভেসে আসা মেঘ-১
→ ভেসে আসা মেঘ-৩
→ ভেসে আসা মেঘ-২
→ ভেসে আসা মেঘ-৪
→ মেঘের ওপারে রৌদ্দুর-৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...