গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

যাদের গল্পের ঝুরিতে লগিন করতে সমস্যা হচ্ছে তারা মেগাবাইট দিয়ে তারপর লগিন করুন.. ফ্রিবেসিক থেকে এই সমস্যা করছে.. ফ্রিবেসিক এ্যাপ দিয়ে এবং মেগাবাইট দিয়ে একবার লগিন করলে পরবর্তিতে মেগাবাইট ছাড়াও ব্যাবহার করতে পারবেন.. তাই প্রথমে মেগাবাইট দিয়ে আগে লগিন করে নিন..

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

অপ্রত্যাশিত অতিথি

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান sayma(guest) (৫৫০৩ পয়েন্ট)



পর্ব ২: সবসময়ের অভ্যাস মত মোশাররফ সাহেব বিকেলে বোনের বাসার বেলকুনিতে বসে চা খাচ্ছিলেন আর পত্রিকায় চোখ বুলাচ্ছিলেন।এ সময় তার সামনেরর বাসার বেলকুনিতে বসা কাননের হাসি মুখ দেখতে পান।তখন কানন তার বান্ধবী রোজীর সাথে গল্প করছিল।তার প্রতিটা কথার মাঝে হাসি, মোশাররফ সাহেবের এ গুণটা ভাল লাগে,আর তাই সে দেখতে থাকে কানন কে।পরদিন বিকেলে, আবার রাস্তায় হাটতে গিয়ে কানন এর সাথে দেখা মোশাররফ সাহেবের।তখন তিনি ভাবলেন একটু কথা বলা যাক মেয়েটার সাথে।যেই ভাবা সেই কাজ--- -- মামুনি,কোথায় যাচ্ছ? -এইত একটু হাটছি,বিকেলে হাটতে ভাল লাগে।কিন্তু আপনি আমায় চিনেন কি করে? --কালকে বিকেলে তোমার গল্প শুনছিলাম।হাসিতে ভরা রহস্যময়ী গল্প। -আসলেই?(ওর ছোট্ট মনে কথাটা তাকে অনেক আপন করে তোলে) --হুম।ভাল লাগলো গল্প গুলো শুনে। -তবে চলুন না বাসায়।আব্বু আম্মুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।আপনি সামনের বিল্ডিং এ আসছেন তাইনা? আমি সেদিন ই দেখছি আপনাকে। --তাই? চলো আজ গল্প করি তোমার সাথে, অন্য একদিন না হয় যাওয়া যাবে তোমাদের বাসায়। -আচ্ছা চলুন কোথাও বসি। এভাবেই শুরু হয় কথোপকথন।তারপর কত ছোট ছোট বিষয় নিয়ে গল্প। মোশাররফ সাহেব বোঝেন তার বয়সটা অল্প।আর তাই গল্প আরও জমে উঠে।এইভাবে চার পাচ দিন কেটে যায় একদিন সে তার সাহেবাকে জানায় যে, সামনের বাসার মেয়েটা কথা বার্তায় একেবারে সহজসরল।তিনিও মেনে নেন।তারপর,,,, নিলুফা বেগমকে নিয়ে তার ভাই চলে যান কানন দের বাসায়।দরজা খুলতেই কানন হাসি দিয়ে অবাক।কাননের বাবার সাথে মোশাররফ সাহেবের কথাবার্তায় বেশ জমে ওঠে।তিনি তার বহুদিনের আকাঙ্খিত চাওয়া তার বাবার কাছে চান।অর্থাৎ কাননকে তার নিজের মেয়ে বানাতে চান।মোশাররফ সাহেবের আর কিছু চাওয়ার ছিল না,শুধুমাত্র একটা মেয়ে যার সাথে কথা বললেই একটা মানুষের মন আপনাতেই ভাল হয়ে যাবে। তারপর দু পক্ষ ই কথাটা নিয়ে ভাবে।কাননের বাবা মার কোন দ্বিমত থাকার কথা না।কারন, কামরুল দেখতেও সুদর্শন,ব্যবহার বিধিও ভদ্র।তাই আর দেরি না করে মেয়েদের পক্ষ থেকে হ্যা।কিন্তু কানন একেবারেই অবাক,এই বয়সে সে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না।কিন্তু সে যে সরাসরি না করবে এই ক্ষমতাও তার মাঝে নেই। অন্যদিকে নিলুফা বেগম,মোশাররফ সাহেব, সাহেবা সহ তাদের পরিবারের সবাই রাজি, মেয়ে অনেক ভাল দেখতে, ব্যবহারও অমায়িক।আর তাই মোশাররফ সাহেব দেরি করতে চাইলেন না।কাবিন করে রাখতে চাইলেন, ছেলেমেয়ে আরও বড় হলে তারপর উঠিয়ে নিবে এমনটা বলা হয় । অন্যদিকে কামরুলও অবাক,এসেছিল ঘুরতে আর সেখানেই তার কিনা বিয়ে? যাকে সে দেখলই না জানলই না।কি করে মেনে নিবে সে মেয়েকে?বন্ধুদের কি বলবে? সবসময় যে প্রেমের ব্যাপার এ একেবারে পিছিয়ে ছিল,আজ কি করে একেবারে বিয়ে করে ফেলবে? বিয়ের পর কি করবে? এসব চিন্তায় সে একেবারে বিমূড়।কিন্তু বাবকে সে বরাবর না করবে এই সাহস টুকু তার মাঝে নাই।আর তাই অবশেষে একেবারে না দেখেই কামরুলের অমতেই বিয়ে টা হয়ে যায়।কামরুলের মত নেয়ার কেউ প্রয়োজন ই মনে করে নি। এদিকে দুটি পরিবার এক হয়ে অনেক খুশিতে তারা।কোন রকমে রাতটা পারি দিয়ে সকালে কামরুল বাবাকে বলে যে, --"বাবা,আমার আর্জেন্টলি যেতে হবে।বাধা দিবে না।সব ক্ষেত্রে একটা মানুষকে বাধা দেয়ার অধিকার তোমার নেই। আমার ও স্বাধীনতা দরকার। আমি চললাম।" মোশাররফ সাহেব ছেলের কথা শুনে একেবারে হতবাক। সে কখনও ভাবতেই পারে নি যে, ছেলের অমত থাকতে পারে।সে ভেবে নিয়েছিল বিয়ে ত একটা আনন্দের ব্যাপার।ছেলের অমত কেন থাকবে? তখন সবার সামনে মান সম্মান রাখতে,মোশাররফ সাহেব বললেন,আমার অনেক দারকারি কাজ আছে ,, তাই আমি তাকে পাঠিয়েছি।সবাই তাই মেনে নিলেন,কিন্তু কানন ব্যাপার টা বুঝতে পেরেছে।সে তার শশুড়ের কাছে গিয়ে বলে,"বাবা তুমি জেনে নিবা না, যে ছেলে তোমার রাজি কিনা?" সাহেব যেন একেবারে নিস্ব হয়ে পরেছেন।তিনি তার লক্ষী মেয়ের মাথায় হাত দিয়ে মিছে বুঝাতে থাকেন। তারপর কানন এর শশুড় শাশুড়ি কয়েকদিন থেকে, বিয়ের বিভিন্ন রীতি নীতি পালন করে ঢাকাতে পারি জমান। সেই থেকে প্রতিদিন সকাল বিকাল নতুন বাবা মার সাথে কানন কথা বলে বলে ঠিক ই,কিন্তু স্বামীর কোন হদিস ই নাই।লজ্জায় সে শাশুড়ির কাছ থেকে কিছু জানতেও পারে না। অন্যদিকে কাননের বাবা মা, কোন প্রতিবাদ করার ও সাহস পায় না।ভাবে যে, যা হয়ে গেছে তা আর বদলাবে কি করে?পরবর্তিতে ত মেয়েরই খারাপ হবে।এসব ভেবে কোন ভাবে দিন কেটে যায়। কিন্তু কাননের বাবা এই কষ্ট বেশী দিন সইতে পারে না।হার্ট অ্যাটাক করে কাননের বিয়ের ১ বছের পর তিনি মারা যান। সব কষ্ট একসাথে,কানন আর থাকতে পারে না। তখন মনে মনে তার স্বামীর প্রতি তিব্র ঘৃণা। তার বান্ধবী রোজী তাকে বোঝায়, মানুষের জিবনে নানা কষ্ট বাধা আসেই,তাকে মেনে নিতে হয়।কাননকে ভালভাবে পড়তে বলে রোজী।.বলে,"ভাল করে পড়ে পরে ঢাকার ভাল কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বি।তারপরও যদি তোর স্বামী মেনে না নেয় তবে নিজে থেকেই ডিভোর্স দিবি।" কানন ভেবে দেখে, ঠিকই বলেছে রোজী।সেই অনুযায়ী তিব্র মনোযোগী হয়ে ওঠে ও। এদিকে কাননের নিজের বাবা না থাকলেও,মোশাররফ সাহেব বাবার চেয়ে কোন অংশে কম করেন নি।করেও যাচ্ছেন।কাননের শাশুড়িও তার যথাযথ খেয়াল রাখছে।শুধু অভাব তার, স্বামীর ভালবাসার।যাকে সে দেখেও নি,জানেও না সে ব্যাক্তিত্ববোধে কেমন।কাননের সেই উজ্জ্বল হাসি আর ছিল না। শুধু কল্পনায় ভেবে নেয়,হয়ত সে এমন দেখতে।রোজী তাকে অনেক বোঝাতে চায় যেন বেশি না ভাবে,যেন একটু হাসার চেষ্টা করে।কিন্তি তা আর হয় না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নতুন অতিথি
→ অতিথির স্মৃতি
→ "অপ্রত্যাশিত"
→ "নতুন অতিথি"
→ ড্রাকুলার অতিথি
→ অপ্রত্যাশিত বাসর---০৩
→ অপ্রত্যাশিত বাসর---০২
→ অপ্রত্যাশিত বাসর--০১
→ অপ্রত্যাশিত বাসর--০৪
→ অপ্রত্যাশিত বাসর---০৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...