গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

বেড়াল ও দৈত্য

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান চিলেকোঠার চিরকুট (০ পয়েন্ট)



বেড়াল ও দৈত্য ১০ অগাস্ট, ১৯৩৬ প্রিয় স্টিভ,  কিছুদিন আগে তোমাকে মিষ্টিভরা ছোট্ট একটা বেড়াল পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু বুজেনসির বেড়ালের ওই গল্পটা তুমি হয়তো এখনো শোননি। ফ্রান্সের সবচেয়ে দীর্ঘ নদী লোয়ার, তার তীরে ছোট্ট শহর বুজেনসি। হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর উপত্যকায় আছে আঙুরক্ষেত, আর আছে অনেক পুরনো প্রাসাদ। কিন্তু অনেকদিন আগে বুজেনসির মানুষের নদী পার হতে কষ্ট হতো। এখনকার মতো এতো আধুনিক ব্যবস্থা সেসময় ছিলো না। মানুষ নৌকায় করে নদী পার হতো, কখনও তা-ও পাওয়া যেতো না। একটা নৌকা ঘাট ছেড়ে গেলে আরেকটা নৌকার জন্য পথ চেয়ে বসে থাকতে হতো। নদীর ওপর ছিলো না কোন সেতু। তখন বুজেনসিতে ছিলো এক দৈত্য। সে আবার সব সময় খবরের কাগজ পড়তো। একদিন পত্রিকার পাতায় বুজেনসির মানুষের দুর্দশার কথা জানলো সে। পোশাক পরে সাজগোজ করে তৈরি হলো বুজেনসির মহামান্য মেয়রের সঙ্গে দেখা করতে। মেয়র ছিলেন জনাব আলফ্রেড বার্ন। তিনিও সাজগোজ খুব পছন্দ করতেন। পরতেন টকটকা লাল অঙ্গরাখা। সব সময় তার গলায় ঝুলতো ইয়া লম্বা এক সোনার মালা। এমনকি তিনি যখন গভীর ঘুমে বিছানায় হাঁটুতে মুখ গুঁজে থাকতেন তখনও তার গলায় মালাটা থাকতো। মেয়রের সামনে উপস্থিত হয়ে দৈত্য সবকিছু খুলে বললো। সে বললো, বুজেনসির মানুষের দুর্দশা কাটাতে সে সাহায্য করতে চায়। লোয়ার নদীর ওপরে একটা সেতু বানিয়ে দিতে চাইলো সে, যেন মানুষ যতোবার খুশি ততোবার সেতু দিয়ে নদী পার হতে পারে। বললো, এমন এক সেতু বানাবে যা এর আগে কেউ কোনদিন দেখেনি এবং এটা সে বানাবে মাত্র এক রাতে। দৈত্যের কাছে মেয়র জানতে চাইলো এমন সেতু তৈরি করতে তার কতো টাকা চাই। ‘কোন টাকা চাই না’, দৈত্য বললো- ‘আমি শুধু চাই প্রথম যে এ সেতু পার হয়ে আসবে সে আমার হয়ে যাবে।’ ‘বেশ, তাই হবে’, মেয়র বললো। বুজেনসি শহরে রাত নেমে এলো। ছেলেবুড়ো সবাই যার যার বাড়িতে বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে লাগলো। সবার মনে একটাই প্রশ্ন আঁকিবুঁকি করতে লাগলো, এক রাতে কী করে এতো বড় সেতু বানিয়ে ফেলা সম্ভব! ভাবতে ভাবতে তাদের চোখে ঘুম চলে এলো আর ঘুমিয়ে পড়লো। পরদিন যথারীতি লোয়ার নদীর পূর্ব পারে সূর্য উঠলো। সূর্যের লাল আভায় টকটক করতে লাগলো জল। সেই সকালবেলা চোখ কচলাতে কচলাতে বিছানা ছেড়ে সবাই যখন জানালায় এলো, চিৎকার করে উঠলো- ‘এ কী কাণ্ড!’ লোয়ারের দুই পার নিয়ে তৈরি হয়ে আছে চমৎকার এক সেতু! ঘর থেকে ছেলেমেয়ে বুড়োবুড়ি সবাই ছুটে এলো সেতু দেখতে। নদীর ওপর সুন্দর পাথরে বুকভরা গর্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। সবাই সেতুর চারপাশটা দেখতে থাকলো, হইহুল্লোড় লেগে গেলো প্রায়। কথামতো সেতুর অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে দৈত্য। অপেক্ষায় আছে সেই ব্যক্তির যে প্রথম এই সেতু পেরিয়ে আসবে। যে-ই আসবে তাকে-ই সে চিরদিনের জন্য নিয়ে নেবে। কিন্তু দৈত্যের ভয়ে কেউ-ই সেতু পার হচ্ছিলো না। এমন সময় বিউগল বেজে উঠলো। এর মানে হলো এখন সবাইকে চুপ থাকতে হবে। তখন বিখ্যাত সেই লাল অঙ্গরাখা আর গলায় সোনার মোটা মালা ঝুলিয়ে বেরিয়ে এলো মাননীয় নগরকর্তা আলফ্রেড বার্ন। জনতার ভিড় পেরিয়ে এক হাতে এক বালতি পানি আর অন্য হাতে একটা বেড়াল নিয়ে তিনি এসে দাঁড়ালেন।  মেয়রকে দেখে সেতুর ওপারে থাকা দৈত্য এবার নাচানাচি থামালো। দূরবিনটি তুলে নিয়ে তার ভেতর চোখ গলিয়ে তাকালো। জড়ো হওয়া লোকজন নিজেদের মধ্যে কানাকানি শুরু করে দিলো। বেড়ালটি চোখ তুলে তাকালো মেয়রের দিকে। বুজেনসি শহরে তখন এ নিয়ম ছিলো যে বেড়ালও মহামান্য মেয়রের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারবে। কিন্তু মেয়রের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে এক সময় বিরক্ত হয়ে গেলো বেড়ালটি, তারপর মেয়রের গলায় সোনার মালা নিয়ে খেলতে শুরু করে দিলো। মেয়র এসে দাঁড়ালেন সেতুর মুখে। মহামান্য এসেছে বলে লোকেদের নিঃশ্বাসও থেমে গেছে, মেয়েদের কানাকানি বন্ধ। মুহূর্তের মধ্যে বেড়ালের গায়ে বালতির সবটুকু পানি ঢেলে দিলেন মেয়র, তারপর ছেড়ে দিলেন সেতুর এক মাথা থেকে। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই বেড়াল দৌড় লাগালো সেতুর অন্য প্রান্তে থাকা দৈত্যের দিকে, কান দুটো পেছনে পেতে গায়ের ভেজা লোম খাড়া করে সে ছুটছে বাতাসের বেগে।  তাই দেখে দৈত্য গেলো ক্ষেপে, দৈত্যরা যেমন গজগজ করে ক্ষেপে থাকে আরকি! ‘ও হে বুজেনসির মানুষ’, চিৎকার শুরু করে দিলো সে- ‘আজ থেকে বেড়ালের আত্মার মানুষ বলে সবাই তোমাদের ডাকবে’। বেড়ালের দিকে তাকিয়ে বললো, ‘এসো ছোট্ট সোনা, এদিকে এসো। তোমার কি ঠাণ্ডা লেগেছে, ও আমার ছোট্ট সোনা। আমি তোমাকে নরকে নিয়ে যাবো, ঠিক আছে! সেখানে আমি তুমি দু’জনই উষ্ণতা পাবো।’ রাগে খিটমিট করতে করতে বেড়ালটিকে নিয়ে সেই দৈত্য চলে গেলো। তখন থেকে এ শহরের লোকেদের বলা হয় ‘বুজেনসির বেড়াল’। সেতুটি কিন্তু এখনো আছে। বুজেনসির ছেলেমেয়েরা এ সেতুতে হাঁটে, চড়ে আর খেলা করে। আশা করি গল্পটি তোমার ভালো লেগেছে। ইতি তোমার দাদু ১৯৩৬ সালের ১০ অগাস্ট আইরিশ কবি জেমস জয়েজ (১৮৮২-১৯৪১) তার নাতি স্টেফিন জয়েসের কাছে লেখা চিঠিতে এ ফরাসি লোকগল্পটি বলেন। ‘দ্যা কেট অ্যান্ড দ্যা ডেভিল’ শিরোনামে এ বইটি প্রকাশিত হয় লন্ডনের ‘ফেবার অ্যান্ড ফেবার’ প্রকাশনি থেকে ১৯৬৫ সালে। শিশুদের জন্য জয়েসের আরেকটি গল্প হলো, ‘দ্যা কেটস অব কোপেনহেগেন’।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সুলতান সুলেমান-"সিরিয়াল" ও ইতিহাস...
→ গুজবে কান দেওয়ার দরকার নাই
→ হাবিব ইবনে ওমর (রহঃ) -এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
→ বাঘ ও দয়ালু ব্রাহ্মণ ১
→ হিমু ও হিমি
→ ❄️ইসলামে কন্যা সন্তানের অধিকার ও মর্যাদা❄️
→ স্বামীর জন্য কিছু চাওয়া
→ নও মুসলিমের কথা
→ তরুণী ও বৃদ্ধ
→ গণহত্যা ও নির্যাতনের বিবরণ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...