গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

খাজকাটা

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Suborna Akhter Zhumur (০ পয়েন্ট)



গরম কালের এক তপ্ত দুপুরবেলায় এক শিক্ষক ক্লান্তিবোধ করায় একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য সব শিক্ষার্থীদেরকে যেকোনো পশু / প্রানির বিষয়ে রচনা লিখতে দেয়।কিছুসময় পরে একে একে সবাই তাদের লেখা জমা দিতে থাকে। প্রায় সব শিক্ষার্থী গরু, ছাগল, কুকুর, বেড়াল ইত্যাদি বিষয়ে লিখলেও একটি ছেলে লিখেছে কুমীর নিয়ে।ছেলেটি লিখেছে - কুমীর কুমীর খুবই ভয়ানক প্রানি। কুমীরের দুটো করে চোখ, কান থাকে। কুমীরের ধারালো দাত ভরা একটি মুখ থাকে যা দ্বারা তারা শত্রুর ওপরে আক্রমণ করে, তবে মানুষজন সামনে পেলে তাদেরকে যে আক্রমণ করবেনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া, কুমীরের একটি বিরাট বড় লেজ থাকে যেটা খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, .........!...........!...........!............!............!..........!.............!,খাঁজকাটা। এইভাবে পুরো দেড় পাতা জুড়ে শুধু খাঁজকাটা লেখা। শিক্ষক ভাবলেন , ছেলেটা হয়তো কিছুই পারেনা তাই এসব হাবিজাবি লিখেছে। তিনি ছেলেটাকে "গরুর" রচনা পড়ে বাড়ির কাজ হিসেবে লিখে পরদিন তাকে দেখাতে বলে দেয়। পরদিন ছেলেটি লেখা জমা দিলে শিক্ষক দেখে ছেলেটি লিখেছে - গরু গরু একটি গৃহপালিত পশু। গরু আমাদেরকে দুধ দেয়, যা দিয়ে নানান রকমের খাবার বানানো হয়। গরুর দুটি করে চোখ, কান থাকে এবং একটি লেজ থাকে। আমাদেরও একটি গরু ছিল। আমরা সেটাকে খুবই ভালোবাসতাম। গরুটাকে আমরা বাড়ির পেছনে নদীর পাশের বাগানে বেধে রাখতাম।কিন্তু একদিন গরুটা নদী থেকে পানি খেতে গেলে নদীতে থাকা একটি কুমীর পা ধরে পানিতে নিয়ে গিয়ে খেয়ে ফেলে। আমরা জানি, কুমীর খুব ভয়ানক প্রানি। কুমীরের দুটো করে চোখ, কান এবং ধারালো দাতে ভরা মুখ থাকে। ওই দাত দিয়েই তো আমাদের গরুটাকে চিবিয়ে খেয়েছিল। তাছাড়া কুমীরের বিরাট বড় লেজ থাকে যেটা খাঁজকাটা, খাঁজকাটা, ............!..........!..........!...........!...........!...........!.............!............!...........!...........!খাঁজকাটা। এইভাবে দুই পাতা নিয়ে খাঁজকাটা লেখা। শিক্ষক এবার রেগে, বিরক্ত হয়ে ভাবতে লাগল, "লিখতে দিলাম গরুর রচনা সেইখানেও কুমীরটাকে টেনেটুনে নিয়ে এসেছে। ছেলেটাকে কি আমার সাথে মস্করা করছে? আরেকবার লিখতে দিয়ে ব্যাপারটা যাচাই করে দেখতে হবে।" কিন্তু মুখে কিছুই না বলে ছেলেটিকে এবার "পরিবার" নিয়ে লিখে আনতে বললেন। পরদিন ছেলেটা খাতা জমা দিলে শিক্ষক দেখতে পায় ছেলেটি এইবার লিখে এনেছে এভাবে - পরিবার বাবা, মা, ভাই, বোন এদের নিয়েই গড়ে তোলা হয় পরিবার। কিন্তু আমাদের পরিবারে এদের বাইরে আরো একজন সদস্য ছিল। সদস্যটা হচ্ছে আমাদের একটি গরু, যে কিছুদিন আগে আমাদের ছেড়ে পৃথিবি থেকে বিদায় নিয়েছে। গরুটি সেদিন বাড়ির পেছনের নদীতে পানি খেতে নামলে নদীতে থাকা কুমীর তাকে ধরে খেয়ে ফেলে। কুমীর ভয়ানক প্রাণী। এদের দুটো করে চোখ, কান, ধারালো দাতে ভরা একটি মুখ এবং বিশাল বড় লেজ থাকে। লেজটা থাকে খাঁজকাটা, খাঁজকাটা,...........!............!.............!............!.............!........!.............!.............!............!.............!..........!খাঁজকাটা। এবার পুরো আড়াই পাতা জুড়ে খাঁজকাটা লেখা। শিক্ষকের এবার রাগের সাথে সাথে প্রবল জেদ জাগে মনে সে মনেমনে ভাবে এইবার ছেলেটাকে সে এমন বিষয়ে রচনা লিখতে দেবেন যাতে ব্যাটা কুমীরের প্রসংগ আর টেনে আনার সুযোগ কিছুতেই খুজে পাবেনা। অনেক ভাবনা চিন্তা করে সে "সিরাজ-উদ-doula" টপিকের ওপর লিখতে বলেন। পরবর্তী দিন খুশিমনে খাতা দেখতে বসে কারন, সে ভেবেই নিয়েছিল যে ছেলেটি এবার নিশ্চয়ই কুমীরের কথা লেখার কোনো সুযোগই পায়নি। কিন্তু পরতে শুরু করে দেখে ছেলেটা লিখেছে - সিরাজ-উদ- doula নবাব সিরাজ ছিলেন স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব। তিনি অত্যন্ত প্রজাদরদি নবাব ছিলেন। তিনি খুব সহজেই সরল মনে সবাইকে বিশ্বাস করতেন। তাইতো তিনি মির জাফরকে বিশ্বাস করে সেনাপতি করেন। কিন্তু আসলে মির জাফরকে সেনাপতি করে তিনি খাল কেটে ঘরে কুমীর এনেছিলেন। কুমীর খুব ভয়ানক প্রাণী। এদের দুটো করে চোখ, কান এবং মুখ ভরা অনেক ধারালো দাত থাকে। আর থাকে বড় একটা লেজ থাকে যেটা থাকে খাঁজকাটা, খাঁজকাটা,............!.............!...............!..........!............!...........!..............!.............!..........!...........!...........!................!.............!খাঁজকাটা। এবারে সে তিন পাতা শুধুমাত্র খাঁজকাটা দিয়ে ভরেছে। আর শিক্ষক এই রচনায়ও খাঁজকাটা দেখে জ্ঞান হারায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...