গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app

গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

শ্বশুরবাড়ির দাওয়াত

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Suborna Akhter Zhumur (০ পয়েন্ট)



আবুল একটি বোকা ছেলে। তাই এতো বয়স হওয়ার পরেও তার বিয়ে হয়নি। তার সব বন্ধুদের বিয়ে হয়ে গেছে, অনেকে আবার বাচ্চার বাবাও হয়ে গেছে। তারা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কে কি খেয়েছে, কেমন আদর যত্ন পেয়েছে আবুলকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে আর আবুলের খুব মন খারাপ হয়। তারপর যখন একদিন লালু শ্বশুরবাড়িতে খেয়ে আসা খাবারের নামগুলো ওর কাছে বলে তখন আবুল মায়ের কাছে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য বায়না ধরে। তার মা তাকে কিছুতেই বোঝাতে পারেনা যে বিয়ে না করলে শ্বশুরবাড়ি যাওয়া যায়না। সে জেদ ধরে যে করেই হোক শ্বশুরবাড়ি যাবেই। শেষপর্যন্ত তার বড়ভাই বলল,"শ্বশুরবাড়ি যেতে চাস তো আমার শ্বশুরবাড়ি যা সেটাও তো শ্বশুরবাড়িই। তাছাড়া তারা মানুষ ভাল, তোকে অনেক কিছু খাওয়াবে।" আবুল ও রাজি হয়ে যায়, কারন তার যে কোনো শ্বশুরবাড়ি গেলেই হবে। পরেরদিন আবুল ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় তার মা তাকে কিছু টাকা দিয়ে বলে দেয় টুকিটাকি কিছু নিয়ে যেতে কারন, কুটুম বাড়িতে খালি হাতে গেলে খারাপ দেখায়। আবুলের যাওয়ার পথে তার বন্ধুদের সাথে দেখা হলে সে ভাব দেখিয়ে কথা না বলে যেতে চাইলে বন্ধরা তাকে জিজ্ঞেস করে সে কোথায় যাচ্ছে, তখন সে উত্তর দেয় সে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছে। সবাই তো জানে আবুলের বিয়েই হয়নি, সে শ্বশুরবাড়ি পাবে কোথায়? তাই তারা মজা করে বলে," শ্বশুরবাড়ি যাবি গালে রং মাখিসনি কেন? আবুল ভাবল শ্বশুরবাড়ি যেতে হলে রং মেখে যাওয়া নিয়ম। তাই সে কিছুদুরের এক দোকান থেকে রং কিনে মাথার টুপির নিচে লুকিয়ে রাখে, আর ভাবে ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি পউছার কিছু আগে রং মেখে যাবে। আচমকা মনে পরে মা তাকে টুকিটাকি নিয়ে যেতে বলেছে, তাই সে এক দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করে কিছুমিছু আছে কিনা। দোকানদারের মেজাজ খুব গরম ছিল। কারন, সেইদিন তার দোকানের অনেক জিনিস চুরি হয়। তাই সে আবুলকে রাগের মাথায় বলল," টোকাইয়া যে টাকিমাছ পাওয়া যায় তাকে টুকিটাকি বলে।" আর আবুল টাকিমাছ ধরার জন্য পাশের একটি পুকুরে নেমে পড়ে একেতো শিতকাল, তার ওপর পুকুরের পানি বরফের মতো। সেই পানিতে সে টাকিমাছ খুজতে থাকে। তাকে ওভাবে পুকুরের মধ্যে দেখে এক বুড়ি তার কাছে জানতে চায় সে কেনো পুকুরে ডুব দিচ্ছে। তখন আবুল বুড়িকে সব খুলে বললে বুড়ি বুঝতে পারে আবুল খুব বোকা, আর বুড়ি খুব ভালভাবে জানে পুকুরে কোনো মাছই নেই। তাই সে ভাবে ছেলেটাকে কিছু একটা বলে বুঝিয়ে সুঝিয়ে পানি থেকে না আনলে জ্বর বাধিয়ে বসবে। তাই সে তার পুটলিটাকে দেখিয়ে বলে যে, এই পুটলির ভেতরে টুকিটাকি আছে। তাই শুনে আবুল উপরে আসে এবং বুড়ির কাছ থেকে পুটলি নিয়ে হাটা শুরু করে। অন্যদিকে, পুটলির ভেতরে মাটির টুকরো ছিল। বুড়ি তার বাড়ির মাটির মেঝে নিকানোর জন্য মাটির টুকরোগুলো নিয়ে যাচ্ছিল। আরেকদিকে আবুলের টুপির ভেতরে থাকা রং পানিতে মিশে সারা গায়ে, নাকমুখে লেগে তাকে ভুতের মতন দেখাচ্ছিল। এরপর সে যখন ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি যায় তাকে দেখে সবাই পাগল মনে করে সে যতোই বলে যে সে তাদের মেয়ের জামাইয়ের ভাই তারা কেউই তাকে বিশ্বাস করেনা। একসময় তারা জানতে চায় কুটুমবাড়ি এসেছে কিছু এনেছে কিনা। আবুল তখন পুটলিটা দেখিয়ে বলে সে এটায় করে টুকিটাকি নিয়ে এসেছে তাদের জন্য। তারা যখন পুটলির ভেতরে মাটির টুকরোগুলো দেখে তখন তারা আবুলকে কিল, ঘুসি, ঝাটার বাড়ি, জুতোর বাড়ি দিতে লাগল। আবুল কোনোরকমে প্রাননিয়ে বাড়ি ফেরে। সবাই তার গায়ে রং দেখে ভাবল সেখানে সবাই ওকে খুব খাতির করেছে। বড়ভাই বলে," বলেছিলাম না ওইবাড়ির মানুষজন খুব ভাল, আবুলকে খুব আদর করবে। তা কি দিয়ে খাওয়াল তোকে?" আবুল উত্তর দিল,"অনেককিছু খেয়েছি কিল, ঘুসি, ঝাটার বাড়ি, জুতোর বাড়ি, লাথি।খেয়ে খেয়ে আমার পেট ফেটে যাচ্ছে, এতোকিছু একসাথে বাপেরজন্মেও খাইনি। জিবনে আর কোনোদিন শ্বশুরবাড়ি যাবোনা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রম্য:--বিনা দাওয়াতে খাওয়া
→ ব্যতিক্রমী দাওয়াত!
→ ইসলামের দাওয়াত

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...