গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ফ্রি আমেরিকা (চ্যাপ্টার ৫)

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Shohidul Islam Sahid (০ পয়েন্ট)



মেডিলিন মার্গারেট ও তার বয়ফ্রেন্ড ললয়েড ল্যাজিও রেস্টুরেন্টের একটা টেবিলে বসে আছে। ওদের খাওয়া-দাওয়া শেষ। এখন চা খাচ্ছে। মেডিলিন মার্গারেট পেশায় নার্স। এখন সে কাজ করছে ডা: বেগিন বারাকের ক্লিনিকে। আহমদ মুসার নার্সিং-এর জন্যে ডাঃ বেগিন বারাক তাকেই কাজে লাগিয়েছেন। মেডেলিনের বয়ফ্রেন্ড একজন খেলোয়াড়। খেলোয়াড় ললয়েডকে দেখেই তিনজন যুবক এগিয়ে এল তাদের টেবিলের দিকে। ললয়েড উঠে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাগত জানাল। তারা ললয়েডের পরিচিত। বসল তারা তিনজন টেবিলে। তাদের তিনজনের একজনের হাতে একটি ফটো ছিল। তার হাতের ফটো সে টেবিলে রাখল। সে বসেছিল মেডিলিন মার্গারেটের পাশে। স্বাভাবিকভাবেই ফটোটির দিকে চোখ গিয়েছিল মেডিলিন মার্গারেটের। ফটোটির দিকে চোখ পড়তেই অবাক হলো মেডিলিন। মি: সুধাংশুর ফটো এদের হাতে কেন? বলল, ‘এ ফটো আপনাদের হাতে কেন?’ যুবকটি মুখ ঘুরিয়ে তাকাল মেডিলিনের দিকে। বলল, ‘কেন বলছেন এ কথা? চেনেন একে?’ ‘ঠিক চিনি বলা ঠিক হবে না। আমি একটা ক্লিনিকে ওর নার্সিং করছি।’ ‘কোন ক্লিনিকে?’ ‘ডাঃ বেগিন বারাকের মিনি ক্লিনিকে।’ ‘আমাদের রাব্বী ডাঃ বেগিন বারাক?’ ‘হ্যাঁ।’ ‘কিন্তু লোকটি কে? আপনাদের কাছে ছবি কেন?’ বলল মেডিলিন মার্গারেট। ‘আমাদের লোক। খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আপনার কাছে খোঁজ পেলাম। ধন্যবাদ আপনাকে।’ ওদের একজন বলল। ওদের সকলের চোখ আনন্দে উজ্জ্বল। ওরা উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘চলি।’ ‘চা খাবেন না?’ বলল ললয়েড। ‘সময় হচ্ছে না। পরে দেখা হবে। গুড মর্নিং।’ বলে ওরা বেরিয়ে গেল। ‘বুঝলাম না। ওরা এলন, আবার চলে গেলেন!’ বলল মেডিলিন। ‘ওরা এ ধরনেরই। সারা শহর ঘুরে বেড়পয় দল বেঁধে। ওদের অসাধ্য কিছু নেই। কিন্তু শুনেচি তোমার ঐ লোকটি খুব ভাল মানুষ, তাহলে এদের লোক হয় কি করে?’ ‘কিছু বুঝছি না। চল আমরা উঠি।’ তারা উঠে দাঁড়াল। বেরিয়ে এল রেস্টুরেন্ট থেকে। ঠিক তখন দুপুর বারটা। ওদের তিনজনের জীপ এসে থামল ডাঃ বেগিন বারাকের ডাক্তার খানার গাড়ি বারান্দায়। তিনজনের মধ্যে লিডার গোছের লোকটি ছিল ড্রাইভিং সিটে। গাড়ি দাঁড়াতেই সে বলল, ‘বেভিন, বেরেটা তোমরা শোন, ডাক্তার যদি সহযোগিতা করে ভাল। সহযোগিতা না করলে ডাক্তারকেও আমরা ছাড়ব না।’ ‘তা কি আর বলতে হয়, স্যামুয়েল।’ বলল বেভিন নামের লোকটি।। ‘বলছি এ কারণে যে ডাঃ বেগিন বারাক খুবই সম্মানী লোক। তাকে যত কম ঘাটানো যায় ততই ভাল। নেহায়েত যেটুকু না করলে আমাদের কার্যসিদ্ধি হবে না, সেটুকুই করব, তার বেশী নয়।’ বলল লিডার গোছের স্যামুয়েল। ‘যতই সম্মানী হোক, আহমদ মুসার পক্ষ নেবার পর তার আর সম্মান থাকে কোথায়?’ বলল বেরেটা। ‘আহমদ মুসা নিশ্চয় নাম ভাঁড়িয়ে এখানে ভর্তি হয়েছে। ডা: বেগিন বারাকের কোন দোষ নাও থাকতে পারে।’ স্যামুয়েল বলল। গাড়ি থেকে নামার আগে তিনজনই সিটের তলা হতে মিনি সাইজের ভয়ংকর শক্তিশালী কারবাইন বের করে কোটের ভেতর কাঁধে ঝুলিয়ে নিল। হাতের রিভলবার পকেটে রেখে তারা গাড়ি থেকে নেমে এল। রোগী-পত্র তখন ছিল না। ডা: বেগিন বারাক ডাক্তার খানায় তার চেয়ারে বসে একটা মেডিক্যাল জার্নালে চোখ বুলাচ্ছিল। ওরা তিজন প্রবেশ করল ঘরে। ডাঃ বারাক জার্নাল থেকে মুখ তুলে তাকাল তিনজনের দিকে। তাকিয়ে বিস্মিত হলো ডা: বারাক। তিনজনের কেউই তার রোগীর মত নয়। তাদের হাঁটার মধ্যে একটা উদ্ধত ভাব। ডাঃ বারাক উঠে দাঁড়াল। স্বাগত জানাল তাদেরক। বলল, ‘কোন সমস্যা? বসুন।’ ‘ধন্যবাদ ডক্টর। বসব না, আমাদের সময় খুব কম। একটা জরুরী প্রয়োজনে আপনার কাছে এসেছি।’ ‘ওয়েলকাম। বলুন কি প্রয়োজন?’ ‘আপনি হয়তো জানেন না, আাপনার ক্লিনিকে আহমদ মুসা চিকিত্সাধীন আছে। আমরা তাকে নিয়ে যেতে এসেছি।’ বলল স্যামুয়েল নামের লোকটি। চমকে উঠল ডাঃ বেগিন বারাক। থরথর করে কেঁপে উঠল তার বুক। এমন ভয়ই সে করে আসছে। এজন্যেই আহমদ মুসাকে সে এখান থেকে সরিয়ে দেবার চেষ্টা করছিল সাগরিকা সেন, নিতেও এসেছে। আর এক ঘন্টা সময় পেলেই আহমদ মুসাকে সরানো যেত। বিধাতা সে সময়টুকু দিলেন না। উত্তর দিতে একটু দেরী হয়েছিল ডা: বেগিন বারাকের। স্যামুয়েল আবার বলে উঠল, ‘ডাঃ বেগিন বারাক আমাদেরকে সহযোগিতা করুন।’ ডা: বারাক উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘অবশ্যই। কিন্তু আমার এখানে যারা চিকিত্সা করাতে আসে, তারা সবাই আমার রোগী। তাদের পরিচয়, নাম ইত্যাদি আমার কাছে বড় নয়।’ ‘আপনার এই পেশা-দায়িত্বকে আমরা ওয়েলকাম করি ডক্টর। আমরা পরিচয়টা দিলাম একারণে যে, তাকে আমরা চাই।’ ‘কিন্তু আমার কোন অসুস্থ রোগীকে এইভাবে কারো হাতে আমি তুলে দিই না।’ বলতে বলতে ডা:বেগিন বারাক তার চেয়ার থেকে উঠে টেবিলের পাশে সরে এল। ‘আপনি তো তুলে দেবেন না। আমরা তুলে নিয়ে যাব। আপনি সম্মানী ব্যক্তি। আপনাকে কিছু না বলে নিয়ে যাওয়াটা ভাল দেকায় না। তাই বলা।’ স্যামুয়েল বলল। ডাঃ বেগিন বারাক কয়েক ধাপ এগয়ে তাদের তনজনের সামনে এসে দাঁড়াল। বলল, ‘না, তা তোমরা করতে পার না। রোগী সুস্থ হয়ে আমার এখান থেকে বেরিয়ে যাবে, তারপর তোমরা যা ইচ্ছে তাই কর।’ একটা ক্রুর হাসি ফুটে উঠল স্যামুয়েল এবং অন্য দু’জনের মুখে। বলল স্যামুয়েল, ‘আমরা এধরনের কোন চুক্তি করতে আসিনি ডাঃ বেগিন বারাক। শুধু আমরা আপনাকে সম্মান প্রদর্শন করতে চেয়েছিলাম। আপনি থাকুন, আমরা যাচ্ছি আমাদের কাজে। বলে স্যামুয়েল পা বাড়াল ঘর থেকে বেরুবার জন্যে। ডা: বারাক ছুটে তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দুই হাত সম্প্রসারিত করে বলল, ‘না আমি যেতে দেব না। আমি বেঁচে থাকতে তোমরা যেতে পারবে না।’ স্যামুয়েল পকেট থেকে রিভলবার বের করল। বলল, ‘ডাঃ বেগিন বারাক, পাগলামি করলে আমি গুলী করতে বাধ্য হবো।’ ‘তোমার গুলী আমার নীতি ও দায়িত্বের চেয়ে বড় নয়।’ বলে ডাঃ বেগিন বারাক আরো দৃঢ় ভাবে দাঁড়াল। চোখদু’টি জ্বলে উঠল স্যামুয়েলের। সে তার রিভলবার তুলল। গুলী করল। গুলী উরুবিদ্ধ করল ডাঃ বেগিন বারাকের। ডাঃ বেগিন বারাক বসে পড়ল যেখানে সে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানেই। তাকে ডিঙিয়ে তারা সবাই ছুটে বেরুতে গেল। ডাঃ বেগিন বারাক তার বাম হাত দিয়ে উরু চেপে ধরে ডান হাত দিয়েয় কোটের ভেতরের পকেট থেকে একটা রিভলবার বের করল। ডাঃ বারাকের মুখ পাথরের মত শক্ত। চোখ দু’টি স্থির প্রতিজ্ঞায় দৃঢ়। দ্রুত হাতে সে রিভলবার তুলল। গুলী করল পর পর তিনটি। অব্যর্থ লক্ষ্য। তিনটি গুলী গিয়ে তিনজনের মাথা গুড়ো করে দিল। কেউই দরজা পার হতে পারল না। ঘরের মেঝেতে ঝরে পরল তিনটি দেহ। পরক্ষনেই দরজায় এসে দাঁড়াল আহমদ মুসা ও সাগরিকা সেন। তাদের চোখে-মুখে উদ্বেগ ও বিস্ময়। চিত্কার করে বলে উঠল ডাক্তার বেগিন বারাক, ‘আহমদ মুসা আপনি তাড়াতাড়ি এখান থেকে চলে যান। সাগরিকা মা ওকে নিয়ে চলে যাও এনি। ওরা এসেছিল ওকে ধরে নিয়ে যেতে। আবারও কিছু ঘটতে পারে।’ ডাঃ বেগিন বারাক থামতেই সাগরিকা সেন বলে উঠল, ‘উনি ঠিক বলেছেন মি: আহমদ মুসা। চলুন। সব ব্যবস্থা আমি ঠিক করে রেখে এসেছি।’ আহমদ মুসার মুখে ফুটে উটল একটা শুষ্ক হাসি। বলল, ‘গুলীবিদ্ধ ডাঃ বারাককে ফেলে রেখে আমি কোথাও যাব না।’ আহমদ মুসার কন্ঠ স্থির ও দৃঢ়। ঘরে প্রবেশ করল আহমদ মুসা। ডাঃ বেগিন বারাক আর্তকন্ঠে অনুরোধের স্বরে ববেল উঠল, ‘প্লিজ মিঃ আহমদ মুসা, ওরা আপনাকে ধরে নিয়ে যাবে অথবা মেরে ফেলবে।। আপনার জীববন অনেক মূল্যবান। আপনি যান।’ আহমদ মুসা ওদের তিনজনের কাছ থেকে মিনি কারবাইন কুড়িয়ে নিঢে নিজের কাঁধে ঝুলাল। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়েই বলল, ‘ডক্টর বারাক আমার চিন্তা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে দিন। আমার মৃত্যু বা বন্দী হওয়া যদি ওদের হাতে থাকে তবে কেউ আমাকে রক্ষা করতে পারবে না। আর যদি না থাকে তাহলে ওরা আমার কিছুই করতে পারবে না।’ কিন্তু আহমদ মুসা, তাই বলে কি মানুষ আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করে না, সাবধানতা অবলম্বন করে সা? আপনি আসুন।’ কান্না জড়িত কন্ঠে বলে উঠল সাগরিকা সেন। ‘ঠিক আছে মিস সেন চলুন আমরা ডাঃ বারাককে অপারেশন থিয়েটারে নিই। তারপর চলে যাবার সুযোগ আমরা পাব।’ বলে আহমদ মুসা ডাঃ বেগিন বারাককে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল। নিয়ে চলল অপারেশন থিয়েটারের দিকে। অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিল অপারেশন টেবিলে। ‘মিঃ আহমদ মুসা, আপনি কি অপারেশন করতে পারেন?’ বলল ডাঃ বেগিন বারাক। ‘অপারেশন করতে জানি না, কিন্তু গুলীটা বের করার মত জ্ঞান আমার আছে।’ বলল আহমদ মুসা। কিছু বলতে যাচ্ছিল ডাঃ বেগিন বারাক। এমন সময় একজন এ্যাটেনডেন্ট ছুটে এল ঘরে। বলর হাঁপাতে হাঁপাতে, ‘দুই গাড়ি ভর্তি লোক এসছে। হাতে বন্দুক। বাড়ি ঘিরে ফেলেছে তারা। গাড়ি থেকে ম্যাডাম নোয়ন নাবিলাকেও নামতে দেখলাম।’ ‘নোয়ান নাবিলা?’ এ্যাটেনডেন্টের দিকে তাকিয়ে ভ্রুকুঁচকে জিজ্ঞেস করল সাগরিকা সেন। ‘হ্যাঁ ম্যাডাম।’ বলল এ্যাটেনডেন্ট। ‘নোয়ান নাবিলাকে কি ওরা ধরে নিয়ে এল?’ প্রশ্নটা অনেকটা স্বগতোক্তির মত হল সাগরিকা সেনের। ‘নাবিলা ম্যাডাম হাসিখুশী। হেসে হেসে সাথের বন্দুকধারীদের সাথে আলাপ করছে দেখলাম।’ এ্যাটেডেন্ট বলল। ‘কোথায় ওরা?’ ‘আমাদের গেটের সামনেই ওদের গাড়ি।’ বলল এ্যাটেনডেন্ট। ‘ঠিক আছে আমি দেখছি।’ বলল সাগরিকা সেন। ‘মিস সেন, আমার অনুমান মিথ্যা না হয়ে থাকলে, নোয়ান নাবিলাই জেনারেল শ্যারনের লোকদের নিয়ে এসেছে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘শেষে আমাকেও অবিশ্বাস করবেন নাতো?’ সাগরিকা সেন বলল। ‘আপনি ও নোয়ান নাবিলা এক নন।’ আহমদ মুসা বলল। ‘না, ওদের সামনে আপনার যাওয়া চলবে না।’ ‘আপনি কথা বলবেন, আমি আড়ালে থাকব।’ সাগরিকা সেন আর কোন কথা বলল না। সে হাঁটতে শুরু করল। ‘ডা: বেগিন বারাক, আপনার একটু কষ্ট হবে, আমি আসছি।’ ডা: বারাককে লক্ষ্য করে বলল আহমদ মুসা। ‘নোয়ান নাবিলা সম্পর্কে আপনার কথাই ঠিক আহমদ মুসা। আপনি ওদিকটা দেখুন। এই ইমারজেন্সী ফেস করাই এখন বেশী জরুলী। ঈশ্বর আপনাকে সাহায্য করুন।’ বলল ডাঃ বেগিন বারাক। আহমদ মুসা তখন সাগরিকা সেনের পিছে পিছে হাঁটতে শুরু করেছে। সাগরিকা সেন অনেকটা সামনে চলে গিয়েছিল। আহমদ মুসা কিছুটা এগিয়েই শুনতে পেল নোয়ান নাবিলার কন্ঠ। বলছে সে, ‘সাগরিকা এস। শোন। তোমার বন্ধুকে তুমি চেন না। সে তো সাংঘাতিক একজন, নাম আহমদ মুসা। আমি আজ সিনাগগে গিয়ে ফটো দেখে তাকে চিনতে পেরেছি। আমার কাছে এরা শুন সংগে সংগেই চলে এসেছে। ওরা ভেতরে ঢুকছে। তুমি বেরিয়ে এস।’ ‘নাবিলা, তোমার লোকদের ভেতরে ঢুকতে নিষেধ করো। ফিরিয়ে নাও ওদের। আমি তোমার সাথে কথা বলি, তারপর যা করার করবে।’ বলল শক্ত কন্ঠে সাগরিকা সেন। আহমদ মুসা আর একটু এগিয়ে এটা দরজার আড়ালে গিয়ে লুকালো। সেখান থেকে নোয়ান নাবিলাকে একটু একটু করে দেখা যাচ্ছে। সাগরিকা সেন ও তিন স্টেনগানধারী যারা করিডোর ধরে এগিয়ে আসছিল, তাদের খুব ভাল করে দেখতে পাচ্ছে সে। স্টেনগানধারী তিনজন সাগরিকা সেন ও নোয়ান নাবিলার মাঝখানে ছিল। তারা দাঁড়িয়ে পড়েছিল নোয়ান নাবিলাকে সাগরিকা সেনের সাথে কথা বলতে দেখে। সাগরিকা সেন থামতেই নোয়ান নাবিলা বলে উঠল, ‘ঠিক আছে ওরা যাচ্ছে না। বল তোমার কথা।’ সাগরিকা সেন বলল, ‘আমার বন্ধূর যে নামই হোক, যে পরিচয়ই হোক, সে আমার মেহমান। আমার লাশ না মাড়িয়ে তোমরা তার কাছে যেতে পারবে না।’ ‘তুমি পাগল হয়েছ সাগরিকা? তুমি আহমদ মুসাকে চেন না? বিষধর সাপ কি কথনও বন্ধু হয়?’ বলল নোয়ান নাবিলা। ‘দেখ আমি আহমদ মুসাকে চিনি, যেমন চিনি জেনারেল শ্য্যারন ও মিঃ জোনসদেরকে। আহমদ মুসা আমার মেহমান। আমার মেহমানের কোন ক্ষতি করতে দেব না।’ ‘মেহমান যদি জাতির শত্রু হয়?’ বলল নাবিলা। ‘আমি বিচারক নই। বিচারক যখন রায় দেবে, তখন আমি দেখব।’ ‘তুমি আমাদের আংকেল মানে তোমার আব্বার বিরুদ্ধেও যাচ্ছ, তাকি তুমি জান?’ ‘জানি।’ ‘কিন্তু এ তোমার অন্যায় জেদ সাগরিকা।’ ‘ন্যায়-অন্যায় বোঝার বয়স আমার হয়েছে নাবিলা। তুমি একটা গোষ্ঠীস্বার্থের পক্ষে কথা বলছ, এটা ঠিক নয়।’ ‘সাগরিকা, সে গোষ্ঠী যদি আমার হয়, তুমি তাদের সাহায্য করবে না?’ ‘ডাঃ বেগিন বারাক কি তোমার গোষ্ঠীর নয়? উনি তো আহমদ মুসার পক্ষ নেয়ায় গুলীবিদ্ধ হয়ে কাতরাচ্ছেন ।’ ‘কেমন করে গুলীবিদ্ধ হলেন?’ বিস্মিত কন্ঠে প্রশ্ন করল নোয়ান নাবিলা। ‘আহমদ মুসাকে নিয়ে যাবার জন্যে এর আগেও তিনজন এসেছিল।’ বলল সাগরিকা সেন। ‘তারা কোথায়?’ ‘তারা ডাঃ আংকেলকে গুলী করলে ডাঃ আংকেলও তাদের গুলী হরে হত্যা করেছেন।’ বলল সাগরিকা সেন। ‘ম্যাডাম নাবিলা, আপনারা কথা বলুন। আমরা যাচ্ছি ভেতরে।’ বলে তিনজন স্টেনগানধারী তাদের স্টেনগান উদ্যত করে ভেতরের দিকে যাবার জন্যে পা বাড়াল। সংগে সংগে সাগরিকা সেন তাদের সামনে চলে এল এবং দু’হাত প্রসারিত করে তাদের সামনে দাঁড়াল। বলল, ‘আমি যেতে দেব না।’ একজন স্টেনগানধারী ছুটে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে সামনে থেকে সরিয়ে দিল সাগরিকা সেনকে। সাগরিকা সেন ছিটকে পাশে পড়ে গেল। দেয়ালের সাথে ঠুকে গেল তার মাথা। সংগে সংগে আহমদ মুসা বেরিয়ে এল আড়াল থেকে। হাতে উদ্যত কারবাইন। স্টেনগানধারী তিনজনের দিকে তাক করা। আহমদ মুসাকে দেখেই ওরা তাদের স্টেনগানের নল ঘুরাতে গেল আহমদ মুসার দিকে। শক্ত কন্ঠে নির্দেশ দিল আহমদ মুসা, ‘স্টেনগান তোমরা ফেলে দাও, তা না হলে….’ আহমদ মুসা কথা শেষ করতে পরলো। ওদের স্টেনগানের নল শা তরে ঘুরল তার দিকে। আহমদ মুুসার তর্জ্জনি ট্রিগারেই ছিল। কথা বন্ধ করে আহমদ মুসা ট্রিগার চেপে কারবাইনটা ঘুরিয়ে নিল ওদের তিনজনের উপর দিয়ে। এক ঝাঁক গুলী ওদরে ঝাঁঝরা করে দিল। পড়ে গেল তিনটি লাশ করিডোরের উপর। আহমদ মুসা একহাতে তার কারবাইন ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে টেনে তুলল সাগরিকা সেনকে। উঠে দাঁড়াল সাগরিকা সেন। এ সময় নোযান নাবিলার কন্ঠ শোনা গেল। সে চিত্কার করে বলছে, ‘তোমরা এদিকে এস। আমাদের লোকরা গুলী খেয়েছে।’ সাগরিকা সেনের কপালের একটা পাশ থেঁতলে গিয়েছিল। রক্ত বেরুচ্ছে সেখান থেকে। আহমদ মুসা পকেট থেকে রুমাল বের করে সাগরিকা সেনের ক্ষতের উপর চাপা দিয়ে বলল, ‘রুমালটা চেপে ধরে থাকুন। রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে।’ ‘এ সামান্য ব্যাপার। ভাববেন না আপনি। দিকে দেখুন। নাবিলা ওদের রোকদের ডেকেছে।’ ‘ওদিকটা আমি দেখছি।’ বলে আহমদ মুসা একটা টেলিফোন নাম্বারের উল্লেখ করে বলল, ‘এটা এফবিআই প্রদান জর্জ আব্রাহাম জনসনের টেলিফোন। আপনি এই ক্লিনিকের ঠিকানা দিয়ে এখানে যা ঘটছে তাকে বলুন।’ ‘তাতে আপনার কোন বিপদ হবে না তো?’ উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল সাগরিকা সেন। ‘না সে রকম কোনা ভয় নেই।’ আহমদ মুসা বলল। কিছু বলার জন্যে মুখ খুলেছিল সাগরিকা সেন, এমন সময় করিডোরের সামনে থেকে গুলীবৃষ্টির শব্দ এলা। কয়েকটা গুলী তাদের সামনে এসেও পড়ল। আহমদ মুসা দ্রুত যে দরজার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছিল। এক দৌড়ে সাগরিকা সেনকে টেনে নিয়েয সে দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। অব্যাহতভাবে চলছে গুলী। এবং গুলীর শব্দ দ্রুত নিকটবর্তী হচ্ছে। তার মানে ওরা গুলী রতে করতে এগিগেয় আসছে। আহমদ মুসা সাগরিকা সেনকে ঘরের ভেতর দিকে ঠেলে দিয়েই দেয়ালের আড়াল নিয়ে দরজায় এসে দাঁড়াল। ওরা গুলীর দেয়াল সৃষ্টি করে এগিয়ে আছে। এখনও কোন গুলী দরজার লক্ষ্যে আসেনি। তার মানে দরজা এখনও ওরা খেয়াল করেনি। আহমদ মুসা মনে করল, এটাই সুযোগ ওদের পাল্টা আক্রমনের। দরজা একবার ওরা দেখতে পেলে দরজা হবে তখন বড় টার্গেট। সে অব্থায় সরাসরি আত্রমন কঠিন হবে। এই চিন্তার সাথে সাথে আহদ মুসা তার অটোমেটিক কারবাইনের নল দরজার কিনারে নিয়ে এসে ট্রিগারে আঙুল চেপে এক ঝটকায় মুখটা বাইরে নিয়ে এল। কারবাইন ধরা দু’হাত বাইরে এসছে আগেই কারবাইনের অবিরাম গুলী বৃষ্টির সাথে সাথে। ওরা চারজন এগিয়ে আসছিল করিডোর ধরে। ওরা গুলীবৃষ্টি করছির করিডোর বরাবর। আহমদ মুসাকে যখন ওরা দেখতে পেল, তখন আহমদ মুসার কারবাইনের গুলীর ঝাঁক এসে তাদের ঘিরে ধরেছে। তারা তাদের স্টেনগানের নল ঘুরাবার আর সুযোগ পেল না। গুলীতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া দেহ নিয়ে তারা লুটিয়ে পড়ল করিডোরে। আহমদ মুসা কিরিডোরে বেরিয়ে এল। গুলী করতে করতে আরও কিছুটা সামনে এগুলো। দেখল করিডোরে আর কেউ নেই। আহমদ মুসা উঁকি দিয়ে দেখল, করিডোরের সামনে ডাক্তারখানার গা ঘেঁষে যে গাড়িটা দাঁড়িয়েছিল তার আড়াল থেকে বেরিয়ে নোয়ান নাবিলা দ্রুত সরে গেল চত্বরের প্রান্তের দিকে। সাগরিকা সেনও বেরিয়ে এসেছে করিডোরে। ভয় ও উদ্বেগে তার মুখ পাংশূ হয়ে উঠেছে। ‘মিস সেন, নোয়ান নাবিলা ওদিকে আছে। আপনি বরং তার কাছে যান। ওকান থেকে আপনি বাড়িতে ফিরে যাবেন।’ বলল আহমদ মুসা। ‘আর আপনি?’ ‘আমার কাছে আছে তিনটি কারবাইন। আরও সাতটি স্টেনগান ঐ দেখুন পড়ে আছে। এগুলোতে গুলী থাকা পর্যন্ত আমি আত্মরক্ষা করব।’ ‘তারপর?’ ‘গুলী যখন থাকবে না, তখন আমার প্রতিরোধের দায়িত্বও থাকবে না। তখন আল্লাহর যা ইচ্ছা তা হবে।’ ‘ওরা আপনাকে হত্যা করতে পারে, ধরে নিয়েও যেতে পারে।’ ‘ও দু’টির কোনটিতেই তখন আমা আপত্তি থাকবে না।’ ‘মিঃ আহমদ মুসা, আপনি কি মানুষ! মানুষ কেমন করে নিজের সম্পর্কে এম নির্বিকার হতে পারে? আপনার কথায় মনে হচ্ছে মৃত্যুটা পুতুল খেলার চেয়ে বেশী কিছু নয়।’ ববলে একটু থেমে আবার বলে উঠল, ‘আমি যাচ্ছি না।’ গম্ভীর ভারি কন্ঠ সাগরিকা সেনের। ঠিক এই সময় বাইরে থেকে একজন লোক চিত্কার করে বলে উঠল, ‘আহমদ মুসা, বাড়িটা আমরা ঘিরে রেখেছি। তুমি পালাতে পারবে না। আমাদের আরও লোক আসছে। দরকার পড়লে বাড়িড়র সব ইট খুলে হলেও আমরা তোমাকে ধরব। হয় তুমি মরবে, না হয় ধরা পড়বে। এ দু’এর কোন বিকল্প নেই।’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, মিস সেন আপনি না গেলে ঐ দুই খারাপ পরিনিতির যে কোন একটা আপনাকে দেখতে হবে।’ ‘আমি টেলিফোনটা করে আসি, তারপর জবাব দেব।’ বলে সাগরিকা সেন ক্লিনিকের অফিসের দিকে ্এগুলো। টেলিফোন করে ফিরে এল সাগরিকা সেন। বলল, ‘মি: জর্জ আব্রাহামকে পেয়েছি। খবরটা মনে হয় তার হজম করতে সময় লেগেছে।কারণ, খবর শুনে মুহূর্তকাল উনি কথা বলতে পারেননি। তারপর উনি দ্রুত কন্ঠে বললেন, ‘আহমদ মুসা ভাল আছে তো? তাকে কিছুক্ষন আত্মরক্ষা করতে বলুন।’ বলেই টেলিফোন রেখে দিয়েছেন।’ ‘জানতাম উনি এই কথাই বলবেন।’ ‘কিছুক্ষনের কথা বললেন কেন?’ ‘দেখা যাক মিস সেন, তার কিছুক্ষনের অর্থ কি?’ ‘এদের ৭ জন লোক নিহত হবার পর মনে হয় এদের আর তেমন বেশী লোক এখানে নেই। তাই বেশী সংখ্যায় লোক আনাচ্ছে। আমরা এখন বেরিয়ে যেতে পারি না ওদের লোক আসার আগে? ‘প্রথমত আমরা জানি না ওদের লোক আছে কি নেই। সুতরাং নিশ্চিত না হয়ে পা বাড়ানো মুশকিল। দ্বিতীয়ত আমরা ডাঃ বেগিন বারাককে এভাবে ফেলে রেখে যেতে পারি না।’ বল দৃঢ় কন্ঠে আহমদ মুসা। কথা শেষ করে মুহূর্তকাল থেমেই আবার বলল, ‘মিস সেন, আপনি গিয়ে একটু ডাঃ বারাকের খবর নিয়ে আসুন। এদিকের খবরও বলুন।’ ‘ঠিক আছে।’ বলে সাগরিকা সেন চলল অপারেশন থিয়েটারের দিকে। ফিরে এল অল্পক্ষন পরেই। এল দৌড়াতে দৌড়াতে। বলল, ‘মি: আহমদ মুসা, ওরা বিভিন্ন দরজা জানালা ভাঙার চেষ্টা শুরু করেছে।’ ‘টের পেয়েছি মিস সেন। ওরা করিডোরের মুখেও পজিশন নিয়েছে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘তাহলে?’ পাংশু মুখে বলল সাগরিকা সেন। হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘স্টেনগান চালাতে পারবেন?’ ‘পারব। কিন্তু মানুষকে গুলী করতে পারব না।’ ‘মানুষ মারতে হবে না। এই করিডোরে স্টেনগান নিয়ে বসে থাকবেন। ওদের এগুনোর লক্ষণ পেলে শুধু অবিরাম গুলী চালিয়ে যাবেন। তা পারব। কিন্তু আপনি থাকবেন না?’ ‘আমাকে দরজা-জানালা পাহারা দিতে হবে। প্রয়োজনে আমি আপনাকেও সহযোগিতা করতে পারবো।’ ‘আপনাকে শুধু দেখতে পেলেই চলবে।’ ‘দেখতে না পেলে?’ ‘ভয় করবে।’ ‘ভয় নেই। ওরা গুলী না করে সামনে এগুবে না। ওরা গুলী শুরু করলে আপনিও গুলী শুরু করবেন।’ ‘বুঝেছি।’ ‘কিন্তু এইটুকুই সব কথা নয়। ওরা কোন দরজা বা জানালা খুলতে পারলে এবং সেদিকে আমাকে ব্যস্ত দেখলে কোন প্রকার গুলী না করে গেরিলা কায়দায় প্রবেশ করার চেষ্টা করবে। এজন্যে করিডোরের দিকে আপনার তীক্ষ দৃষ্টি রাখতে হবে।’ ‘আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব।’ বলর সাগরিকা সেন। ‘আপ্রাণ চেষ্টা করার কথা যদি বলেন, তাহলে কিন্তু আপনাকে পাহারায় বসাব না। আপনার কোন ক্ষতি হোক তা আমি চাই না। আমার সাথে ওদের শত্রুতা, আপনার সাথে নয়। আমি যে কোন পরিনতির জন্যে প্রস্তুত আছি। জীবন-মৃত্যুর এই খেলায় আপনি জড়িয়ে পড়ুন, তা আমি চাইতে পারি না।’ ‘আমি আপনার কেউ নই ধরেই তো এমন ভাবে বলছেন?/’ ‘না, ‘কেউ’ ধরেই বলছি।’ আহমদ মুসার মুখে এই কথা শুনেই সাগরিকা সেন দু’চোখে রাজ্যের তৃষ্ঞা নিয়ে দু’চোখ তুলে ধরল আহমদ মুসার দিকে। আহমদ মুসা তার দু’চোখ নামিয়ে নিল। দুই ঠোঁটে তার মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে তুলল। বলল, ‘বড় ভাই বেঁচে থাকতে ছোট বোনের গায়ে কোন আঁচড় লাগতে দিতে পারে না।’ হঠাৎ আছড়ে পড়লে যে অবস্থা হয়, সেই রকম মুখের অবস্থা হলো সাগরিকা সেনের। কথা বলতে পারলো না। খুশী হয়নি এমন একটা অস্বস্তি তার চোখে মুখে। ঠিক এই সময় চারদিক থেকে পুলিশের গাড়ির একটানা শব্দ ভেসে এল। ‘সাগরিকা সেন, জর্জ আব্রাহামের লোকরা এসে গেছে। সাগরিকা সেনের ম্লান মুখে কোন পরিবর্তন এল না। অনেকটা স্বগতোক্তির মত বলল, ‘কিন্তু পুলিশের সাথে তো ওদের সখ্যতা।’ ‘না সাগরিকা সেদিন চলে গেছে।’ বলর আহহমদ মুসা। বাইরে করিডোরের মুখের দিকে গাড়ি স্টার্টের শব্দ পেল আহমদ মুসা। ‘সাগরিকা ওরা পালাচ্ছে, এস দেখি।’ বলে সাগরিকার হাত ধরে টেনে নিয়ে চলল করিডোরের মুখের দিকে। তারা দেখল, গাড়িগুলো স্টার্ট নিয়ে চলে যাচ্ছে। ‘অভিনন্দন সাগরিকা তোমাকে, তোমার এক টেলিফোনে কি কাজ হয়েছে দেখ।’ ‘টেলিফোনটা তো প্রকৃতপক্ষে আমার নয়, আপনার ছিল।’ ভাবলেশহীন নির্বিকার কন্ঠে জবাব দিল সাগরিকা সেন। ‘কথা আমার ছিল, কিন্তু টেলিফোন করেছ তুমি।’ কিছু বলতে যাচ্ছিল সাগরিকা সেন। এ সময় বাইরে প্রচন্ড গোলাগুলী শুরু হয়ে গেগল। ‘ওদের পালাতে পুলি বাধা দিচ্ছে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘পুলিশ কি ওদের এ্যারেস্ট করবে বলে মনে করেন?’ কিছুটা উত্গ্রীব কন্ঠে বলল সাগরিকা সেন। ‘আমার তাই মনে হয়।’ বলর আহমদ মুসা। কথা শেষ কেরেই আকাশে হেলিকপ্টারের শব্দে উত্কর্ণ হয়ে উঠল আহমদ মুসা। হেলিকপ্টারের শব্দ ক্রমেই নিকটবর্তী হতে লাগল। একসময় তা মাথার উপরে চলে এল। শব্দটা নেমে এল ক্লিনিকের চত্বরে। ‘সাগরিকা আমার অনুমান মিথ্যা না হলে এফবিআই প্রধান জর্জ আব্রাহাম জনসন আসছেন এ হেলিকপ্টারে।’ ‘উনি নিজে আসছেন?’ কন্ঠে বিস্ময় প্রকাশ করল সাগরিকা সেন। ‘আমি মনে করি তাই।’ সাগরকা সেনের মুখে ম্লান হাসি ফুটে উঠল। বলল, ‘আপনি যে আহমদ মুসা ভুলে গিয়েছিলাম। তার জন্যে তো জর্জ আব্রাহামই আসবেন।’ সাগরিকা সেনর কথার ঢংয়ে আহমদ মুসার মুখ একটু ম্লান হলো। বলল, ‘সাগরিকা তুমি আমার প্রতি সন্তষ্ট নও।’ ‘আমি খুবই সামান্য একজন মেয়ে।’ সাগরিকার এই কথার সাথে সাথেই বাইরে একটা কন্ঠ শোনা গেল, ‘আহমদ মুসা কি ভেতরে?’ ‘আমরা তাই মনে করছি। ওরা তাই বলেছে।’ একটা বিনীত কন্ঠ বলে উঠল। আহমদ মুসা বুঝল আগের কন্ঠ জর্জ আব্রাহাম জনসনের এবং েশেষের কন্ঠটি কোন পুলিশ অফিসারের। ‘চল বেকার ভেতরে যাই। তোমরাও এস।’ বাইরে থেকে একই কন্ঠে ভেসে এল। ‘জর্জ আব্রাহাম ভেতরে আসছেন। সংগে পুলিশ প্রধান মি: বেকারও আছেন।’ বলল আহমদ মুসা। ‘মি: আহমদ মুসা, দেখবেন আমাদের যেন গুলী করবেন না।’ জর্জ আব্রাহামের গলা শোনা গেল। ওরা ভেতরে ঢুকছে। করিডোরে ঢুকে পড়েছে। আহমদ মা ও সাগরিকা সেন দু’জনেই সামনে এগুলো। করিডোরের যেখানে লাশগুলো পড়েছিল সেখানে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলো। জর্জ আব্রাহাম জনসন ছুটে এসে আহমদ মুসাকে জড়িয়ে ধরল। বলল, ‘স্বয়ং প্রেসিডেন্টও আপনার জন্যে উদ্বিগ্ন ছিলেন। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে, আপনাকে সুস্থ পেয়েছি।’ বলে জর্জ আব্রাহাম জনসন ফেডারেল পুলিশ প্রধান বেকারের সাথে আহমদ মুসার পরিচয় করিয়ে দিল। আহমদ মুসা তার সাথে হ্যান্ড শেক করল। পরে আহমদ মুসা সাগরিকা সেনের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিল। বলল, ‘ইনি বিখ্যাত শিব শংকর সেনের একমাত্র মেয়ে সাগরিকা সেন।আমাকে ওয়াশিংটন-আনাপোলিশ সড়ক থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় তুলে এনে অত্যন্ত গোপনে এই ক্লিনিকে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে তিনিই আমার তত্ত্বাবধান করছেন।’ ‘মা, তুমিই আমার কাছে টেলিফোন করেছিলে তাই না?’ বলল জর্জ আব্রাহাম জনসন সাগরিকা সেনকে লক্ষ্য করে। ‘জি, মিঃ আহমদ মুসাই আমাকে টেলিফোন করতে বলেছিলেন।’ ‘তোমাকে অনেক ধন্যবাদ মা।’ বলে জর্জ আব্রাহাম জনসন আহমদ মুসার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তোমাকে সেদিন সাগরিকা সেন ওয়াশিংটন-আনাপোলিশ সড়ক থেকে তুলে আনার পর পরই তোমার সন্ধানে আমি ও মিস সারা জেফারসন সেখানে পৌঁছেছিলাম।’ ‘আপনারা? কিভাবে? কি ঘটনা?’ বিস্মিতত কন্ঠে প্রশ্ন করল আহমদ মুসা। জর্জ আব্রাহাম জনসন আহমদ মুসাকে বাল্টিমোরে খোঁজ করে ফেরার পথে সাগরিকাদের ব্রাইট ফিল্ড কম্পিউটার কমপ্লেক্সে এসে কিভাবে শিকারী কুকুরের দ্বারা আহমদ মুসার খোঁজ পেল, কিভাবে বন্ধীখানায় পৌঁছল, কিভাবে বন্দীখানা থেকে রক্তের দাগ ধরে কুকুরের পেছনে পেছনে রাস্তার সেই স্থানে এসে পৌঁছল সব জানিয়ে বলল, ‘আমরা সেদিন ভীষণ উদ্বেগ নিয়ে ওয়াশিংটন ফিরি। মিস সারা জেফারসন তো অসুস্থ হযে পড়েন। উনি এখনও হাসপাতালে।’ ‘মিস সারা জেফারসন হাসপাতালে? কেমন আছেন তিনি?’ আহমদ মুসার কন্ঠে উদ্বেগ। ‘তার অসুখের কারণই হলো, তার বদ্ধমূল ধারণা আপনার কিছূ ঘটেছে। তাকে কিছুতেই স্বাভাবিক চিন্তায় ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। আমি আসার সময় টেরিফোনে আপনার খবর তাকে দিয়ে এসেছি।’ বলল আব্রাহাম জনসন। আহমদ মুসা প্রসংগটা এড়িয়ে বলল, ‘আসুন, এই ক্লিনিকের মালিক ও ডাক্তার আমাকে রক্ষা করতে গিয়ে গুলীবিদ্ধ হয়েছেন। তাড়াতাড়ি তার ব্যবস্থা হওয়া দরকার।’ ‘ভেতরে কয়টা লাশ আছে? আাপনাদের আর কোন ক্ষতি হয়নি তো? বলর ফেডারেল পুলিশ প্রধান বেকার। ‘আল্লাহর অশেষ দয়া। আর কোন ক্ষতি আমাদের হয়নি। ভেতরে ওদের দশটা লাশ রয়েছে।’ পুলিশ প্রধান পাশে দাঁড়ানো পুলিশ অফিসারকে লাশগুলো সরিয়ে নেবার নির্দেশ দিল। অপারেশন থিয়েটারের দিকে হাঁটতে তখন শুরু করেছে আহমদ মুসা। সবাই চলল আহমদ মুসার পেছনে পেছনে। জর্জ আব্রাহাম জনসন এবং পুলিশ প্রধান বেকার দুজনেই ডা: বেগিন বারাককে চিনতে পারল। বছর খানেক আগে ডা: বারাক আমেরিকান পিস এ্যাওয়ার্ড পায়। সেই উপলক্ষে তাদের সাথে ডা: বারাকের পরিচয় হয়। জর্জ আব্রাহাম ডাঃ বারাককে অভিনন্দন জানাল আহমদ মুসার পপ্রতি তার সেবা ও সাহসী পদক্ষেপের জন্যে। তারপর একজন পুলিশ অফিসারকে নির্দেশ দিল, ‘এ্যাম্বুলেনেসর লোকজনকে ডাকুন। ওনাকে এখুনি হাসপাতালে নিতে হবে।’ পুলিশ অফিসার দ্রুত বেরিয়ে গেল। ‘ধন্যবাদ মিঃ জর্জ ও মিঃ বেকার, আহমদ মুসাকে সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমি ধণ্য হয়েছি। তিনি যে অক্ষত আছেন সে জন্যে ঈশ্বরের শুকরিয়া আদায় করছি।’ বলল ডা: বেগিন বারাক। ‘ডাঃ বারাক আপনার সাথে আমরাও ঈশ্বরের কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। আমরা এবং স্বয়ং প্রেসিডেন্টও উদ্বিগ্ন ছিলেন। আমরা মিস সেনেরও শুকরিয়া আদায় করছি যে তিনি আপনার মত একজন উদার ও নিরাপদ ডাক্তারের কাছে তাকে চিকিত্সার জন্যে নিয়ে এসেছিলেন।’ জর্জ আব্রাহাম জনসন বলল। এ্যাম্বুলেন্সের লোকজন নিয়ে পুলিশ অফিসারটি এসে পৌঁছল। সবাই ধরাধরি করে ডাঃ বেগিন বারাককে স্ট্রেচারে তুলল। স্ট্রেচারে শোয়ার পর যখন এ্যাম্বুলেন্সেন স্টেট্রচারটা তুলে নিচ্ছে, তখন ডা: বেগিন বারাক আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে বলল, ‘মিঃ আহমদ মুসা, আবার কবে দেখা হবে?’ ‘আপনি সুস্থ হয়ে উঠুন। আমি আশা করছি, আপনার সাথে সাক্ষাত না করে আমি আমেরিকা থেকে যাব না।’ ‘ধন্যবাদ মি: আহমদ মুসা।’ ‘ধন্যবাদ ডা: বারাক।’ ডাঃ বারাককে নিয়ে যাবার পর জর্জ আব্রাহাম জনসন বলল, ‘চলুন আমরাও চলি।’ সবাই ক্লিনিক থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে হাঁটা শুরু করল। আহমদ মুসার কক্ষ বরাবর এল সাগরিকা সেন আহমদ মুসার কক্ষে ঢুকে গেল। ঘরে ঢুকে সাগরিকা সেন আহমদ মুসার কাপড় চোপড় ও ব্যবহার্য জিনিস ব্যাগে পুরল। এগুলো সাগরিকাই কিনে দিয়েছিল আহমদ মুসাকে। ব্যাগটি নিয়ে সাগরিকা সেন যখন ক্লিনিকের বাইরে বেরিয়ে এল, তখন দেখল হেলিকপ্টারের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সবাই ক্লিনিকের দকে তাকিয়ে আছে। সাগরিকা সেন বুঝল, সবাই তারই জন্যে অপেক্ষা করছে। সাগরিকা সেন সেখানে পৌঁছলে জর্জ আব্রাহাম জনসন বলে উঠল, ‘মা সাগরিকা আমাদের এখন যেতে হয়। আহমদ মুসা তোমার তত্বাবধানে ছিল। অনুমতি দাও, তাকে নিয়ে যেতে চাই মা।’ মুখ ম্লান হয়ে গেল সাগরিকা সেনের। এগুলো সে আহমদ মুসার দিকে। হাতের ব্যাগটি আহমদ মুসার দিকে তুলে ধরে বলল, ‘দাদা নাও তোমার কাপড় চোপড়।’ আহমদ মুসা ব্যাগটি সাগরিকার হাত থেকে নিয়ে নিল। ব্যাগটি আহমদ মুসা নিলে সাগরিকা সেন আহমদ মুসার পায়ের কাছে বসে পড়ল। দুহাত দিয়ে বাহমদ মুসার পা স্পর্শ করে প্রণাম করে উঠে দাঁড়াল। তা মুখ নিচু। ‘বিদায়টা খুবই আকস্মিক হয়ে গেল সাগরিকা। তুমি আমাকে গুডবাই বলবে না?’ আহমদ মুসা হাসার চেষ্টা করল। সাগরিকা মুখ তুলল। অশ্রুতে তার দুই গন্ড ভেসে যাচ্ছে। তার দুই ঠোঁট কাঁপল। ফাঁক হলো। বলল সে, ‘গুডবাই নয়, তুমি এস দাদা।’ অশ্রুভেজা কম্পিত কন্ঠস্বর সাগরিকা সেনের। সাগরিকা সেনের অশ্রু আহমদ মুসাকে বিব্রত করে তুলল। একটা আবেগগ এসে তাকেও ঘিরে ধরল। বলল, ‘ধন্যবাদ সাগরিকা। তোমাদের ওয়াশিংটন এবং এখানকার বাড়ি আমি চিনি। আমিই তোমাকে খুঁজে নেব। তুমি ঠিকই বলেছ। তোমার ভাই সত্যি বিদায় নিচ্ছে না।’ ভারী কন্ঠস্বর আহমদ মুসার। ‘ধন্যবাদ দাদা।’ অশ্রুভেজা কন্ঠে বলল সাগরিকা সেন। আহমদ মুসা উঠে গেল হেলিকপ্টারে। একজন পুলিশ অফিসারের দিকে তাকিয়ে পুলিশ প্রধান বেকার বলল, ‘ক’জন পুলিশ সাথে নিয়ে তুমি সাগরিকা সেনকে তার বাড়িতে পৌঁছে দাও।’ ‘আমার গাড়ি আছে।’ বলল সাগরিকা সেন। ‘তাহলে ওর গাড়ির সাথে সাথে তোমরা ওর বাড়ি পর্যন্ত যাবে।’ পুলিশ প্রধান বেবকার বলল। জর্জ আব্রাহাম জনসন, বেকার এবং সাথের অন্যান্য সবাই হেলিকপ্টারে উঠল। হেলিকপ্টারে উঠতে উঠতে পুলিশ প্রধান বেকার চিত্কার করে নিচে দাঁড়ানো তার পুলিশ অফিসারকে বলল, ‘ওদের অস্ত্রধারী যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের সাবধানে রাখবে। করণীয় সম্পর্কে আমি জানাচ্ছি।’ হেলিকপ্টারে সবাই উঠে গেল। স্টার্ট নিল হেলিকপ্টার। ‘আমাদের যে পরিনতি হয়, হবে। আমরা প্রতিশোধ নিতে চাই, প্রতিশোধ।’ বোমা বিস্ফোরনের মত গর্জন করে উঠল জেনারেল শ্যারন। ‘কিন্তু সে প্রতিশোধটা কি? আমাদের লোকরা যেখানে একা অক্যাত ক্লিনিকে অরক্ষিত অবস্থায় পেয়েও আহমদ মুসাকে পাকড়াও করতে পারলো, সেখানে আমাদের লোকেরা কি প্রতিশোধ নেবে?’ ক্ষুদ্ধ কন্ঠে বলল ডেবিড উইলিয়াম জোনস। ‘ঠিক বলেছেন মিঃ জোনস। বিস্ময়ের ব্যাপার, অসুস্থ আহমদ মুসাকে অরক্ষিত পেয়েও আমাদের লোকরা তাকে পাকড়াও করতে পারলো না। শুসলাম আমাদের লোকরা সেখানে পৌছার প্রায় ৪০ মিনিট পরে পুলিশ পৌঁছেছে। এই চল্লিশ মিনিটে আমাদের এক ডজন লাক এক আহমদ মুসার সাথে পেরে উঠল না। মাঝখান থেকে লোক খোয়াল দশজন।’ বলল জ্ঞাণী গয্গাধর তিলক। জ্ঞানী গঙ্গাধর তিলক আমেরিকায় ভারতীয় আমেরিকান সোসাইটির যুব উইং এর প্রধান। আমেরিকান ভারতীয়-আমেরিকান ও ইগুদীরা এক সাথে কাজ করার ব্য্যাপারে সে খুব উত্সাহী। তার মতে, প্রতিভাবান ও বুদ্ধিমান এই দুই জাতি যদি আমেরিকায় এক সাথে কাজ করে, তাহলে আমেরিকার ভবিষ্যতের তারাই হবে নিয়ন্তা। জ্ঞানী গঙ্গাধর তিলক থামতেই ডেভিড উইলিয়াম জোনস বলে উঠল, ‘এক ডজন লোক পেলেন কোথায়। সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আরও দুই ডজন লোক পাঠানো হয়েছিল। তারা গিয়ে সবাই বীরদর্পে বন্দী হয়েছে।, এক পয়সার উপকার করতে পারেনি।’ ‘বন্দী কি হয়েছে মাত্র ২৪জন? টিভি বলল বন্দীর সংখ্যা ঊনত্রিশ জন?’ বলল জ্ঞানী গঙ্গাধর তিলক। ‘ঊনত্রিশ জনই ঠিক। আগের ৫জন, পরে পাঠানো ২৪জন, এই মোট ঊনত্রিশ জন। ডেভিড উইলিয়াম জোনস বলল। ‘আফসোস, ঊনত্রিশ জন লোক তো বিল্ডি-এর ইট খুলেও ক্লিনিকে ঢুকতে পারতো। এই লজ্জা আমরা কোথায় রাখব, বলুন?’ বলল জ্ঞানী গঙ্গাধর তিলক। জেনারেল শ্যারনের মুখ লাল হয়ে উঠেছিল অস্বস্তি ও অপমানে। বলল, ‘আপনাদের কথা ঠিক। কিন্তু সেই সাথে আপনাদের বিবচার করতে হবে যাকে তারা পাকড়াও করতে গিয়েছিল সে কে? সে এমন একজন লোক যে একা একটা রাস্ট্রের বিরুদ্ধে লড়ে বিজয়ী হয়। যেমন সোভিয়েত ইউনিয়ন। বুদ্ধি ও শক্তি উভয় ক্ষেত্রেই সোভিয়েত ইউনিয়ন তার কাছে পরাজিত হয়েছে। বুদ্ধিতে তার কাছে পরাজিত হওয়ায় সোভিয়েতের শক্তি কাজে লাগেনি। এই ঘটনাই ঘটেছে চীনে, মিন্দানাওয়ে, ইসরাইলে, ককেশাসে, স্পেনে প্রভৃতি স্থানে। সুতরাং আমাদের লেকরা যদি তার কাছে পরজিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটা কি খুবই অস্বাভাবিক?’ ‘এই যদি ঘটনা হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আর লড়ছি কেন?/ পারাই যখন যাবে না, তখন লড়ে কি লাভ! তার চেয়ে….।’ জেনারেল শ্যারন কথা বলে উঠায় বাধা পেয়ে জ্ঞানী গঙ্গাধর তিলক থেমে গেল। জেনারেল শ্যারন তখন বলছিল, ‘আমরা লড়ছি আমাদের অস্তিত্বের জন্যে, লড়াইয়ের কোন বিকল্প নেই বলে।’ বলে একটু থামল জেনারেল শ্যারন। সামনের গ্লাস থেকে এক ঢোক মদ গিলে আবার শুরু করল, ‘বিজয় তার বহু একথা ঠিক, কিন্তু আমরাও তাকে পরাজিত করেছি। বহুবার ফাঁদে আটকেছি। সে ফাঁদ কেটে বেরিয়ে গেছে একথাও ঠিক, যেমন এবার গেল। কিন্তু সব সময় যােেবে, তা ঠিক নয়। সুতরাং লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।’ ‘এখন আমরা কি করব, সেটা বলুন।’ বলল জ্ঞহানী গঙ্গাধর তিলক। ‘কিছূ করার জন্যে আমি একটা খবরের অপেক্ষা করছি।’ জেনারেল শ্যারন বলল। ‘কি খবর? উদগ্রীব কন্ঠে জিজ্ঞেস করল ডেভিড উইলিয়াম জোনস। ‘খবর পেয়েছি, সারা জেফারসন জর্জ ওয়াশিংটন স্টেট হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে। আমি লোক পাঠিয়েছিছ বিস্তারিত জানার জন্যে যে, কোন ওয়ার্ডে কোথায় কোন ডাক্তারের অধীনে চিকিতত্সাধীন রয়েছে। ডাক্তারের ডিউটি আওয়ার কিরকম, কোন সময় তাদের ডিউটি চেঞ্জ হয়। যেখানে সারা জেফারসন ভর্তি রয়েছে, সেখান থেকে বের হবার সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথ কি?’ বলল জেনারেল শ্যারন। ‘তারপর?’ জ্ঞানী গঙ্গাধর তিলক বলল। ‘ঐ হাসপাতালের ডাক্তারের কয়েকটা এ্যাপ্রোন ও নার্সের পোমাক যোগাড় করতে বলেছি।’ বলল জেনারেল শ্যারন। ‘তারপর?’ ডেভিড উইলিয়াম জোনস বলল। ‘গীর্জার ফাদারের একসেট পোশাকও আনিয়ে রেখেছি।’ বলল জেনারেল শ্যারন। ‘আসল কথা বলুন, এসব দিয়ে কি হবে?’ বলল জ্ঞানী গঙ্গাধর তিলক। ‘বলা এখানেই শেষ। আর বলব না।, দেখাব।’ ‘কি দেখাবেন?’ বলল ডেভিড উইলিয়াম জোনস। ‘যখন দেখাব, ততখন দেখেবেন।’ জেনারেল শ্যারন বলল। তার কথা শেষ হতেই তার হাতের মোবাইল বেজে উঠল। টেলিফোন ধরল জেনারেল শ্যারন। ওপারের ‘হ্যালো’ শুনেই জেনারেল শ্যারন বলল, ‘সব তথ্য পেয়েছ এবং যা যোগাড় করার তা করেছ?’ ‘সব জোগাড় হয়েছে।’ ওপার থেকে বলল। জনারেল শ্যারন হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এখন সকাল ৯টা। তুমি তাড়াতাড়ি চলে এস। আমরা দশটায বের হতে চাই। ১২টায় ডিউটি বদলের অনেক আগে সব কাজ শেষ করতে চাই।’ ‘আপনার ওখানে সব রেডি?’ বলল ওপার থেকে। ‘ওসব চিন্তা করো না। সবাই রেডি হয়ে আছে। তুমি এলই যাত্রা শুরু করব।’ জেনাারেল শ্যারন বলল। ‘ওকে। আমি আসছি।’ ‘এস। বাই।’ বলে টেলিফোন অফ করে দিল জেনারেল শ্যারন। ‘অপেক্ষার খবর তাহলে পেয়ে গেলেন?’ বলল জ্ঞানী গঙ্গাধর তিলক। ‘হ্যাঁ, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’ বলে জেনারেল শ্যারন উঠে দাঁড়াল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অবনীল(পর্ব-৫)
→ ডিয়ার শাশুড়ি মা (৫)
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন (পর্ব ৫)
→ শেষ বিকেলের মায়াবতী♥ (১৫)
→ সহধর্মিণী (পর্ব-৫)
→ জিজের সমবয়সী বন্ধুদের সাথে ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা! (পর্ব-৫)
→ জিজের নায়ক-নায়িকার দার্জিলিং ভ্রমণ (পর্ব -৫)
→ শেষ বিকেলের মায়াবতী♥(৫)
→ ধাপ্পাবাজ(৫)
→ আমাদের জীবনটাই অন্যরকম নাম্বার থ্রি(পর্ব৫)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...