গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান ... গল্পেরঝুড়ি একটি অনলাইন ভিত্তিক গল্প পড়ার সাইট হলেও বাস্তবে বই কিনে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে... স্বয়ং জিজের স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের বড় একটি লাইব্রেরী আছে... তাই জিজেতে নতুন ক্যাটেগরি খোলা হয়েছে বুক রিভিউ নামে ... এখানে আপনারা নতুন বই এর রিভিও দিয়ে বই প্রেমিক দের বই কিনতে উৎসাহিত করুন... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ম্যানর হাউজের বিভীষিকা-01

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মরীচিকা (১০৯ পয়েন্ট)



পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এলো। জেঁকে বসা শীতের স্বল্পায়ু দিন বাসে বসে থাকতে থাকতেই অক্কা পেয়ে গেলো। হাত ঘড়িটায় সময় দেখলাম – সবে মাত্র ৪ টা বেজে ২০ মিনিট। এর কোনো মানে হয়? দিন শুরু হতে না হতেই শেষ। আর এই বিরক্তিটা যে কারো সাথে শেয়ার করবো – এমন একটা মানুষও পাশে নেই। পুরো বাসটিতে হোঁৎকা বুলডগ চেহারার ড্রাইভারটি ছাড়া আমার আর কোনো সঙ্গী নেই যে। এমন ভাবতে ভাবতেই ঘ্যাঁস করে বাসটা থেমে গেলো। মনের ভুলে কিনা জানি না নেমে পড়লাম। আর কী আশ্চর্য বাসটাও দ্রুত কেটে পড়ল – যেন পড়িমড়ি করে পালিয়ে বাঁচল! ঠিক তখনিই মনে হলো – আরে, এ কোথায় নামিয়ে দিলো? আমি যে বেল ই চাপিনি! এ যে একদম অদ্ভুত ঠেকছে। পুরো স্টপে আমিই একমাত্র প্রাণী – আপন নির্বুদ্ধিতায় হতভম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। সূর্য ডুবে গেছে; গোধূলির কমলাটে ম্লাণ আলো দীর্ঘকায় গাছগুলির ন্যাড়া মাথায় বিষন্ন হয়ে বসে আছে। আশেপাশে যতদূর চোখ যায় কেবল দিগন্ত বিস্তৃত পতিত ভূমি আর এলোপাথারি বনজংগল। তার মাঝ দিয়ে একাকী গড়িয়ে চলা একমাত্র হাইওয়েটির ততোধিক নিঃসঙ্গ একটা স্টপে আমি নিদারুন উদ্বেগে পড়লাম। কী নাম জায়গাটার? সাইনবোর্ডটিতে নাম দেখতে গিয়ে এই উদ্বেগের মধ্যেও একটু হাসি পেয়ে গেলো – কে যেন নামের জায়গাটা ঘষে তুলে একটা স্টাইলাস মধ্য আঙ্গুলের ছবি এঁকে রেখেছে। তা আঁকিয়ের আর দোষ কী? জায়গাটা ঐ রকমই – একেবারে শুনশান গডফারসেইকেন – ভয়ংকর রকমের কোলাহলশূন্য। সে যাই হোক, সেখানে তো আর সং এর মত দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। পরের বাসটা কখন আসবে, আদৌ আসবে কিনা সে সন্দেহও হতে লাগলো। এই সব গ্রাম এলাকায় সার্ভিস সাধারণতঃ খুবই অনিয়মিত থাকে। কে জানে এটাই হয়তো শেষ বাস ছিলো। নিজের উপর একটু রাগ হতে থাকে। কী দরকার ছিলো বাবা ঝোঁকের মাথায় এমন নিরুদ্দেশে বেড়িয়ে পড়ার? সাত সকালে উঠেই আমার প্রবল সন্দেহপরায়ন স্ত্রী লুবনা মেজাজটাই খারাপ করে দিলো। খুবই জঘণ্য দোষারোপ - গতরাত্রের পার্টিতে নাকি আমি চোরাচোখে মিসেস আহমাদ কে গিলে খাচ্ছিলাম? আহ, খোদা এটা শোনার আগে আমায় তুলে নিলে না কেন? ক্ষোভে, দুঃখে বাকহারা হয়ে গেলাম। আমি সেজান কবির – একজন আগাগোড়া নিপাট ভদ্রলোক – এই কাজ কোনোভাবেই করতে পারি না। আমার স্ত্রীও হয়তো সেটা মানে, কিন্তু আমাকে আঘাত করে কী যে সুখ পায়, সে –ই জানে। সে আপাতত মৌনতা ব্রত নিয়েছে। ভাব-ভঙ্গীতে বোঝা যাচ্ছে কমপক্ষে সাতদিনের আগে এই মেঘ কাটবার নয়! সব পরিকল্পনাই গেলো ভেস্তে। অতি কষ্টে দিন তিনেকের ছুটি যোগাড় করতে পেরেছিলাম। উদ্দেশ্যঃ দূরে কোথাও গিয়ে চুটিয়ে প্রেম করা – দাম্পত্য একঘেঁয়েমিতে যেটা কেমন একটা ম্রিয়মান হয়ে যাচ্ছিলো। সে আশার গুঁড়ে বালি পড়ে গেলো। মনটা এমন বিষিয়ে গেলো, সে আর বলার মত না। ঠিক তখনিই সৈকতের কথা মনে পড়ে গেলো। হতচ্ছাড়াটা কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রামে কী করে জানি একটা মধ্যযুগীয় পোড়ো বাড়ি জলের দরে কিনে ফেলেছে। ক’দিন ধরেই বলছে বেরিয়ে যাবার জন্য। যাব, যাই করে আর যাওয়া হচ্ছিল না। কিন্তু এখন মনস্থির করে ফেললো। লুবনার নন-ভারবাল মোড দেখার চাইতে সৈকতকে হঠাত গিয়ে চমকে দেয়াটাই বেশি আকর্ষনীয় মনে হতে থাকলো। বেশি ভাবাভাবিতে কাজ নাই। ঝটপট ব্যাগ গুছিয়ে খশখশ করে একখানা চিরকুটে কোথায় যাচ্ছে সংক্ষেপে জানিয়ে ফ্রিজ ম্যাগ্নেট দিয়ে সেঁটে রেখে বেরিয়ে পড়লাম। যাবার সময় দেখলাম বেডরুমের জানালাটাতে অবাক চোখের কোণে দেখছে লুবনা। সেদিকে তাকিয়ে শূন্যে একটা চুম্বন ছুঁড়ে দিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেলাম। মনে বেশ একটা প্রশান্তির ভাব। এখন বুঝুক অন্যায় অভিমানের সাজা কেমন হয় – তিনটা দিন থাকো একা একা। হা হা হা। সকালের সেই পুলকিত ভাবটা এখনকার এই বিশ্রী জায়গাটায় এসে ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছে। তাড়াহুড়োয় ঠিকানাটা সেভাবে বিস্তারিত দেখা হয়ে উঠেনি। এখন কোথায় আছে সেটা কীভাবে ঠাহর করে? সৈকত কে ফোন দেব? নাহ, তাহলে তো সারপ্রাইজটাই মাটি হয়ে যাবে। হঠাত মনে পড়লো – আরে, গুগল ম্যাপ আছে কী করতে? মুঠোফোনটা খুলে দ্রুত হাতে ঠিকানাটা প্রবেশ করিয়ে দেখতে পেলো মোবাইল নেটওয়র্কের তেজ সর্বকনিষ্ঠ দাগখানায় হুমড়ি খেয়ে পড়তে চাইছে। এ কী বিড়ম্বনা? কিন্তু শেষ রক্ষা হলো এক প্রকারে। জিপিএস নেভিগেইশন যা দেখাচ্ছে তাতে বোঝা গেলোঃ সে গন্তব্য থেকে খুব একটা দূরে নেই। মিনিট বিশ/পঁচিশের হাঁটা হবে বড় জোর। কিন্তু একটা হাল্কা সমস্যা – অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে জংগলের ভেতর দিয়েই যেতে হবে। হাইওয়ের পাশে আবছামত পায়ে চলার একটা পথও দেখা যাচ্ছে। ততক্ষণে পুরো অন্ধকার হয়ে এসেছে প্রায়। দিক ঠিক করে হাঁটা শুরু করলাম। ভীতু আমি কোনোকালেই ছিলাম না। কিন্তু সেদিনের সেই টুটিচেপা অন্ধকারে সাহস একটু একটু করে কি নিভে যাচ্ছিলো? একাকী বনপথ – সারি সারি গাছেরা কী একটা গোপন কথা বুকে চাপা রেখে যেনো গম্ভীর তির্যক চোখে আমায় মাপছিলো। শুকনো পাতা মাড়ানো নিজ পায়ের শব্দ ছাড়া আর কোনো কোনো সাড়া নেই কোথাও। কেমন একটা অস্বস্তিকর নিশুতির নীরবতা! হচ্ছেটা কী? এখন তো সবে সন্ধ্যা? ঐ প্রবোধে কাজ হলো না। কে যেনো ঠিক মাথার ভেতর থেকে বলে উঠলো, - ও পথে আর পা বাড়াস না, ভালোয় ভালোয় যে পথে এসেছিস সে পথেই ফিরে যা। ওতেই মঙ্গল। কিন্তু আমার একগুয়েমির আঁতে ঘা লেগে গেলো। মোটে তো আর এটুকুন পথ। অমূলক ভয়ে বাল্যবন্ধুর সাথে দেখা না করেই ফিরে যাবে? ছি! তাছাড়া ফিরে যাওয়াটাও আর সহজে হচ্ছে না। তখন কে জানত কীসের দুর্বার আকর্ষণে উদ্ভ্রান্তের মত ছুটতে শুরু করেছি আমি সেজান কবির। কেমন অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড ওঁত পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনছে মাইলটাক দূরের সেই ম্যানর হাউসে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ম্যানর হাউসের বিভীষিকা-04
→ ম্যানর হাউসের বিভীষিকা-03
→ ম্যানর হাউসের বিভীষিকা-02

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...