গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান ... গল্পেরঝুড়ি একটি অনলাইন ভিত্তিক গল্প পড়ার সাইট হলেও বাস্তবে বই কিনে পড়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে... স্বয়ং জিজের স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের বড় একটি লাইব্রেরী আছে... তাই জিজেতে নতুন ক্যাটেগরি খোলা হয়েছে বুক রিভিউ নামে ... এখানে আপনারা নতুন বই এর রিভিও দিয়ে বই প্রেমিক দের বই কিনতে উৎসাহিত করুন... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ভীমরুল-১

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মরীচিকা (১০৯ পয়েন্ট)



দাঁড়ি কামাতে গিয়ে ভয়ানক বিপদে পড়ে গেল শান্তনু। ভোর ছ’টা বত্রিশ -এ ঘুম থেকে ওঠা চাট্টিখানি কথা নয়। তবুও কোনরকমে উঠে ঢুলুঢুলু চোখে বাথরুমে মুখে শেভিং ক্রিমটা মাখাচ্ছিল। ঘুমে চোখ বুজে আসছে প্রায়। তখনি বিপত্তিটা ঘটল। চোখ খুলেছে কী খোলে নাই, মস্ত বড় এক ভীমরুল নাকের ডগায় বসে থাকতে দেখে পিলে চমকে গেল! একটা চাপা চিতকার করতে যাবে, তখনি কে যেন পরিষ্কার গলায় বলে উঠল, 'আহ, চিল্লানোর কী আছে? মনে হয় ভীমরুল দেখিস নাই জীবনে!' প্রথমটায় কিছুই বুঝে উঠতে পারল না শান্তনু। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছে! গলার কাছটায় কোত্থেকে জুটে যাওয়া শক্ত গোছের ঢোঁকটা গিলে হঠাত মনে হল সে কি পাগল-টাগল হয়ে গেল নাকি? চাকুরি অনেকেরই থাকে না কিংবা হয় না। তাই বলে এই সাত-সকালে একটা তুচ্ছ পোকার ধমক খাবার মত ঘটনা ঘটবে? তাছাড়া পোকাটিইবা কী করে তার মনের কথা বুঝতে পারছে? কী, খুব ঘাবড়ে গেছিস তো? ও সবারই হয় – মানে যখন আমি দর্শন দেই আর কি! দর্শন দেন, মানেটা কী? নিজেকে খুব বড় কিছু ভাবেন নাকি? কোনো এক বিচিত্র কারণে শান্তনু ভীমরুলটাকে 'আপনি' বলে সম্বোধন করছে, অথচ তার কিন্তু মোটেও সে ইচ্ছে নেই! হ্যাঁ দর্শন দেই যখন তোর মত কিছু মারাত্মক রসাতলে যাওয়া হাবাদের সাহায্যে আসতে হয়। এহ, কে সাহায্য চেয়েছে? যেই না একটা পোকা, একটা থাবড়া দিলেই তো ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যাবে। সে কিনা আমার সাহায্যে এসেছে! এত প্যাঁকে পড়ি নি বাবা! হেঁড়ে গলায় হাসতে থাকে শান্তনু। কী, এত বড় কথা! ভয়ানক চটে গিয়ে ভীমরুলটা শান্তনুর নাকে একটা ভীষণ কামড় বসিয়ে দিল... সিমি বাথরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে ফুঁসছিল। আধা ঘন্টার বেশি হয়ে গেছে শান্তনু ঢুকেছে। বের হবার নাম নেই ... উলটো কিছুক্ষণ আগে চাপা স্বরে কথা এবং হাসির শব্দ শুনেছে। এখন এইমাত্র আর্তনাদের শব্দ শুনে পিত্তি জ্বলে গেল। দরজায় সজোড়ে ক’টা বাড়ি মারল। এই যে, তোমার না হয় কাজ-কর্ম নেই, আমার তো আছে। অফিসে দেরীতে পৌঁছলে জবাবদিহিটা কি নবাবজাদা করবেন নাকি? বাথরুমে এই সকালে নাটক ঝাড়তে লেগেছে! লজ্জা করে না? ঠিক তখুনি দরজাটা খুলে গিয়ে শান্তনু বের হয়ে এল। চোখেমুখে বেশ খানিকটা এলোমেলো হতভম্ব ভাব। আর মুখে আধা কামানো দাঁড়ি। সিমিকে এক রকম উপেক্ষা করেই বিড়বিড় করতে করতে পাশ কেটে চলে গেল। বিস্ময়ে চোয়াল ঝুলে গেল সিমির – এত বড় সাহস! কোনোরকম ব্যাখ্যা না দিয়েই চলে গেল! কিন্তু এ বিষয়ে আর মাথা ঘামানোর সময় নেই। বড্ড দেরী হয়ে গিয়েছে। এখনি না করলে সোবহান সাহেবের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিটিংটা ফস্কে যাবে। পরে দেখা যাবে – উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে – মনে মনে ভেবে রাখল সিমি। আয়নায় সচরাচর নিজেকে দেখা হয় না শান্তনুর। তবে আজকে দেখতে হল। এক মাথা অবিন্যস্ত ঝাঁকড়া চুল তামাবর্ণের মুখের দু’পাশে আংগুল চালিয়ে চিরুনি করে নাকটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকল। আশ্চর্য, কোনো কামড়ের দাগ নেই, অথচ ব্যথা পাবার অনুভূতিটা খুবই বাস্তব। এমনকি ভীমরুলটার প্রতিটি কথাই ঠিকঠাক মনে আছে। কী হচ্ছে এসব? সে কি সত্যিই বিপদ্গ্রস্থ? পরিত্রাতা ভীমরুলরূপে এসেছে, এমন অদ্ভূত কথা তো কখনো শুনেছে বলে মনে পড়ে না! উফফ, এ কি যন্ত্রণা? আজকে কী শুরু করেছ? আয়নার সামনেও জ্যাম বাঁধিয়ে দিবে নাকি? সরে যাও, আমাকে তৈরি হতে দাও। তাছাড়া এমন কোন সুপুরুষ নও তুমি যে আয়নায় দাঁড়িয়ে নার্সিজম প্রাকটিস করতে হবে। বিদ্রূপ ঝরে সিমির কণ্ঠে। হঠাত কী হয়, চকিতে ঘুরে দাঁড়ায় শান্তনু। বেশ সরল ভাবেই জিজ্ঞেস করে, ‘নই, সুপুরুষ নই?’ আধা কামানো দাঁড়িতে ভাবালু চোখের লম্বা লোকটিকে দেখে সিমির বহু আগের কথা মনে পড়ে যায়। বুকটা যেন ধ্বক করে ওঠে। বলে ফেলা কথা বুমেরাং হয়ে যায় যেন। কিন্তু আজকে দ্বিতীয়বারের মত সিমিকে কোনো সুযোগ না দিয়েই ঝড়ো বেগে বেরিয়ে যায় শান্তনু। ক্ষোভে ঠোঁট কামড়ে ধরে সিমি। কেমন যেন পরাজিতের মত মনে হয়। কিন্তু হেরে প্রায় ভূত হয়ে যাওয়া কারো কাজে কি পরাজয়ের অনুভূতি পাওয়া সম্ভব? বেশিক্ষণ ভাবতে পারে না সিমি। তার অনেক কাজ পড়ে রয়েছে! আজকেই হয়তো শেষ দিন। মেঘলা দিন শান্তনুর বরাবরের প্রিয়। এই যেমন আজকের দিনটা। থমথম করছে আকাশ। বাসে বসে থাকা অফিস যাত্রার মানুষগুলো রাজ্যের বিরক্তি মুখে মেখে বসে আছে। বাদলা দিন তাঁদের বিরক্ত ঘাঁয়ে নুন মাখিয়েছে। প্রসন্নমুখে পেছনের আসনে বসে ছিল শান্তনু। অমনি কানের কাছে ভীমরুলের আবির্ভাব হল। এত খুশির কী হল? কী বিচ্ছিরি আবহাওয়া! আজকে সারাদিনটাই মাটি। কেন, আপনারও কি অফিস যেতে হয় নাকি? খুট করে খানিক হেসে ফেলে শান্তনু। ভীমরুলটি বেজায় ক্ষেপে যায়, ‘মশকরা করবে না। আমি তোমার দুলাভাই নই...’ আহা চটে যাচ্ছেন কেন? বেশ আলাপের ভাবে ছিলেন। তাই একটু গল্প করতে চাইলাম। আমার মত আপনারও মনে হয় মনের কথা বলার কেউ নাই। বেশি বাজে বকবে না। কথা কম বলাই ভাল। অথচ আপনি সেই সক্কাল থেকে আমার পেছনে লেগেছেন। আবার কামড়ে পালিয়েছেনও। আপনার মতলবটা কী? ও বাবা, আজকাল মানুষের উপকার করতে নেই! আমার এভাবে আসাটাই ভুল হয়েছে। মানুষ একটি নেমকহারাম জীব। এই আপনি মুখ সামলে কথা বলবেন। আপনার নেমক ক’বে খেলাম যে *** করতে যাব? আজকেই তো দেখা হল। সত্যি বলতে কী, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনার কোনো অস্তিত্বই নাই। সবই আমার মন তৈরি করছে। ভীমরুলটি একটু নরম হয়ে যায়। আহা, সেই কথা বলেছি নাকি? তোমরা আজকালকার ছেলেপিলেরা কথার মানেই ধরতে জান না। যাক সে কথা – তোমার বউকে মনের কথা বলো না কেন? সে বুঝি শোনে না? তা আর বলেন কেন? সত্যি বলতে কী ওকে আজকাল বড্ড অচেনা মনে হয়। কীরকম? আচ্ছা, আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার আপনাকে বলব কেন? আপনাকে তো চিনিই না। না, ঠিক হলো না। আপনি একটি ভীমরুল। খুবই নটোরিয়াস পতঙ্গ! ঠিক আছে, না বললি নাই! বেয়াদব মনুষ্যজীব, আরেকটা কামড় খা। উফফফ্! একটু দূরে বসে থাকা এক টেকো যাত্রী বড় বড় চোখে তাকিয়ে, ‘ভাই আপনি ঠিক আছেন? কী সমস্যা? তখন থেকে বিড়বিড় করে যাচ্ছেন। হেড অফিসে গোলমাল নাকি?’ বলেই হাসি সহযোগে চকচকে মাথায় আংগুল দিয়ে ক’টা গুঁতো দিয়ে দেখালেন। জ্বী ভাই, কোন সমস্যা নেই। আর সমস্যায় পড়লেও আপনার মত ঘাসের মাঠ কেটে মার্বেলের মেঝে তৈরি করতে হয় নাই! মাঝ বয়সী লোকটি বেশ থতমত খেয়ে গেছেন, কিন্তু সেদিকে নজর নেই শান্তনুর। তাঁকে ঠিক সময়েই পৌঁছতে হবে। ভীষণ জরুরী কাজ...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...