গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

প্রেতাত্মার জবান-বন্দি ! 

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shayer Ahmed (০ পয়েন্ট)



প্রায় তিন-মাস হতে চলেছে শহরে নেমে এসেছে ভয়ংকর নিস্তব্ধতা l একটা ভূতুড়ে পরিস্থিতি গ্রাস করেছে পরিবেশটাকে l সকলের চোখে-মুখে সু-স্পষ্ট আতঙ্ক l সন্ধ্যা নামলেই মরুভূমির মতো জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে পুরো-শহরটা l নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে থাকছেনা l টেলিভিশন চ্যানেল-গুলো ক্রমাগত প্রতিবেদন প্রচার করে চলেছে : ' খবরে প্রকাশ, গত তিন-মাস ধরে যে মর্মান্তিক সিরিয়াল হত্যা-কান্ড ঘটে চলেছে কোন ভাবেই তার কোন রহস্য-জট উন্মোচন করা যাচ্ছেনা l একের পর এক অতি-সুক্ষ ভাবে ঘটে চলেছে দানবীয় হত্যা-যজ্ঞ ! কে সেই ভয়ংকর অপরাধী ! কার জিঘাংসার শিকার হচ্ছে মানুষ-জন ! তার উদ্দেশ্য-ই বা কি ! আমরা জানতে চাই, আমরা চাই এই রহস্যের সমাধান হোক l পুনরায় ফিরে আসুক প্রাণ-চাঞ্চল্য নাগরিক-জীবনে l অনাকাঙ্খিত আর কোন অপ-মৃত্যু চাইনা আমরা l সংশ্লিষ্ট মহলের সু-দৃষ্টি কামনা করছি অনতিবিলম্বে l ' সর্ব-প্রথম হত্যা করা হয় শহরের বেশ নামি-দামি একজন ডাক্তারকে l শহরের পাশ দিয়ে যে রেল-লাইন গেছে তার ওপর খুব ভোরে আবিষ্কার করা হয় তার পড়ে থাকা নিথর মৃত-দেহ l গলার দুই-পাশে ছিলো দুটো গভীর ক্ষত l ধারালো দাঁতের দংশন বলেই মনে হয়েছে ওটা l এরপর, পাওয়া গেলো পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্ম-কর্তার লাশ l হত্যার ধরণ একই-রকম l পুলিশ ব্যারাকের খুব কাছেই পড়ে ছিলো তার দেহ-খানা l অতঃপর, নামে-বেনামে একই ভাবে ঘটে চলেছে একের পর এক হত্যা-কান্ড, একই কায়দায় l আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এর কোন কূল-কিনারাই করতে পারছেনা l পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ কিংবা ডাক-সাইটে গোয়েন্দা সংস্থা-গুলো একেবারেই অন্ধকারে রয়ে গেছে l অবশেষে, কিছুটা হলেও অবসান হয় এই নারকীয় রহস্যের l কোথা-থেকে যেন একটা গায়েবি বার্তা পৌঁছে যায় টেলিভিশন চ্যানেল, পত্র-পত্রিকা এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম-গুলোতে : " আমি শিউলি, বাবা আদর করে ডাকতো শিউলি-মালা l মাত্র দশম-শ্রেণীতে উঠেছি তখন, কতোই আর বয়স হবে ! আমি একটু চঞ্চল বেশিই ছিলাম, খেলা-ধূলা আর ছোটা-ছুটিতেও ছিলাম সেরা l কিন্তু আমার সেই উচ্ছলতা কেড়ে নিলো শকুনের দল l হায়েনার মতো খুবলে-খুবলে খেলো আমার অস্থি-মজ্জা l আমাকে বাঁচতে দিলোনা এই পৃথিবীর বুকে l সেদিনের কথা ভুলতে পারিনা কোন-ভাবেই l বৈশাখ মাস ছিলো l বিকেল-বেলা যখন স্কুল ছুটি হলো, চারিদিকে ভয়াবহ অন্ধকার করে শুরু হলো প্রচন্ড কাল-বৈশাখী ঝড় l স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে অনেক বড় একটা মাঠ পেরোতে হয় l ঝড় বইছে তখন, গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টিও ছিলো l মাঠের ঠিক মাঝ-বরাবর যখনই গিয়েছি আমি, হঠাৎ করেই কয়েকজন গুন্ডা-মতো লোক আমার সামনে এসে হাজির হয় l আমাকে ঘিরে ধরে তারা l আমি গুনে দেখলাম, সংখ্যায় তারা ছয় জন l তারা আমাকে নিয়ে বিভিন্ন অশ্লীল কথা বলতে থাকে : ' মাল টা কিন্তু জটিল ! হেভি মজা হবে আজ !' তারা আমাকে পাঁজাকোলা করে মাঠের পাশেই একটা পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায় l আমি আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করতে থাকি : ' বাঁচাও, কে আছো আমাকে বাঁচাও !'  আমার চিৎকার কারও কানেই পৌঁছেনা l আসলে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বাইরে সে সময় কোন লোক থাকার কথাও ছিলোনা l আর মাঠের আশে-পাশে কোন ঘর-বাড়িও ছিলোনা l তারপর, আমার শেষ-সম্বল সম্ভ্রম-টুকু কেড়ে নেয় ওরা পশুর মতো ! একে-একে ছয় জন !  উহ ! কি বীভৎস ! আমার কথা বলার কোন শক্তি ছিলোনা l শুধু গোংরাতে থাকি আমি l রক্তে ভেসে যায় আমার সারা শরীর l মরার মতো পরে থাকি আমি ! তারপর, আমাকে মৃত ভেবে ওরা সন্ধ্যার দিকে মেইন রাস্তার ধারে ফেলে রেখে চলে যায় l কিছু-ক্ষণ পর একটা গাড়ি থামে আমাকে দেখে, আমি বেশ বুঝতে পারি l গাড়ি থেকে নেমে আসেন এক ভদ্র-লোক (!), আমার বাবার বয়সী l  আমাকে বলেন, ---" কি হয়েছে তোমার ? এখানে কি করে আসলে ?" আমার কথা বলার শক্তি ছিলোনা, আমি ইশারায় তাকে ঘটে যাওয়া ঘটনা বোঝানোর চেষ্টা করি l  সে বলে, ''বুঝতে পেরেছি, আমি সব ব্যবস্থা করছি l হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে তোমাকে l আর কোন চিন্তা নেই তোমার l" একটু হলেও হাফ ছেড়ে বাঁচি আমি l আর ভাবি, বোধহয় সৃষ্টি-কর্তাই তাকে পাঠিয়েছেন আমাকে উদ্ধার করার জন্যে l আবার ভাবি, সত্যিই কি ঈশ্বর বলে কিছু আছে ? যদি থেকেই থাকে, তবে তখনই কেন রক্ষা করলোনা আমাকে ? ভদ্র-লোক আমাকে তার গাড়িতে তোলেন l কিন্তু বিধি বাম ! হাসপাতালের কথা বলে তিনি আমাকে তার পরিচিত এক আবাসিক হোটেলে নিয়ে যান l একটা কক্ষে প্রবেশ করেন আমাকে নিয়ে l হাসপাতাল কোথায় জানতে চাইলে বলেন, ' তুমি বসো, আমি এখনই ডাক্তার ডেকে নিয়ে আসছি l' কিছু-ক্ষণ পরে এসেই আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, বাবার মতো লোকটা ! সারা-রাত ধরে ভোগ করেন আমাকে যথেচ্ছা-ভাবে l আমি মূর্ছা যাই বার-বার l অবশেষে, ভোর-বেলায় গাড়িতে উঠিয়ে একটা হাসপাতালের বারান্দায় আমাকে ফেলে রেখে চলে যান l হাসপাতালের নার্স, আয়ারা মিলে আমাকে ভেতরে নিয়ে যায় l পরে আমাকে ভর্তি করা হয় বিশেষ ইউনিটে l পরের-দিন সন্ধ্যায় কর্তব্য-রত চিকিৎসক আমাকে ডেকে পাঠান তার চেম্বারে, ভিকটিমের যাবতীয় টেস্ট করার কথা বলে l কিন্তু বিপদ আমার শিরায়-শিরায় ! সুযোগ পেয়ে তিনিও আমাকে ধর্ষণ করেন ধর্ষণ করেন এক-দফা l বলেন, এ বিষয়ে যেন কাউকে কিছু না বলি আমি l সবশেষে, পুলিশ আসে l বিস্তারিত জানার জন্যে সাথে করে নিয়ে যায় আমাকে থানায় l এবং, রক্ষক-ই যে ভক্ষক ...আরেকবার প্রমাণ করেন তিনি l তদন্তকারী কর্ম-কর্তাও ধর্ষণ করেন আমাকে l চূড়ান্ত প্রহসন তখনও অপেক্ষা করছিলো আমার জন্যে l ডাক্তার আর পুলিশ মিলে রিপোর্ট তৈরী করেন যে, ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি ! এবং তারপর ছেড়ে দেন আমাকে l তখন আর কোথায়, কার কাছে যাবো আমি l সব হারিয়ে নি:স্ব আমি l আমি চলে যাই রেল-লাইনের কাছে l অপেক্ষা করতে থাকি রাতের শেষ ট্রেনটার জন্যে l কতো-গুলো নর-পশু বাঁচতে দিলোনা আমাকে l আমি আত্মাহুতি দিতে বাধ্য হলাম l সেই থেকেই প্রেতাত্মা আমি ! রক্তের নেশায় উন্মাদ হয়ে যাই l প্রতিদিন মানুষ-রুপি পশুদের রক্ত দিয়ে হাত না রাঙালে শান্তি পাইনা আমি l যুগ-যুগ চলবেই আমার নৃশংসতা l তোমাদের ধরা-ছোঁয়ার অনেক বাইরে আমি l নপুংসুক পুরুষের দল, এখনও সময় আছে সাবধান হও !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভাগ্যই কি স্বপ্ন!
→ ~ইসলাম কেন পুরুষদের একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দেয়? কিছু ভুল,কিছু বিভ্রান্তের সমাধানের প্রচেষ্টা!
→ মন্দ নামে ডাকা! (জিজের সদস্যবৃন্দদের উদ্দেশ্যে)
→ এটাই কি অন্যরকম সঙ্গী!
→ শয়তানের সাথে এমনই হয়!!(হাসতে বাধ্য!! না হাসলে সময় ফেরত!!!)
→ তুমি আর আমি কে!
→ ছাত্রজীবনের মজার কিছু ঘটনা!
→ ~ মৃত্যুর চেয়ে চরম সত্য আর কিছু নেই!
→ ~ আমার আম্মুর কাছ থেকে!
→ বাঁশ ঝাঁরের সেই ভূত! (পর্ব-১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...