Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/gj-con.php on line 6
বারান্দার গ্রিল

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

বারান্দার গ্রিল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (৩৫ পয়েন্ট)



বারান্দার গ্রিলের ফাক দিয়ে রাস্তার ওপাশের কৃষ্ণচুড়া গাছটার দিকে তাকিয়ে থেকে আমার অনেকটা সময় কেটে যায়। সূর্যের আলো আমার সমস্থ দেহে যখন ছুয়ে দেয় আমি খুব বিরক্তকর মনোভাব নিয়ে সূর্যটাকে বলি আমাকে ছুবে না তুমি। আমাকে ছুয়ে কি পাও তুমি হ্যাঁ? ভাল্লাগেনা বুঝো নাহ? তবু বার বার আমাকে ছুতে আসো কেন? আজকে বারান্দায় বেশ কিছুক্ষন কৃষ্ণচুড়া গাছটার দিকে তাকিয়ে আছি। মেঘলা আকাশ। সূর্যের আলো আজকে আমায় ছুতে আসে নি। মনে হয় অভিমান করেছে। তার অভিমানকে আমি বুড়ো আঙ্গুল দেখাই। কেমন একটা শীতল পরিবেশ। হয়তা বৃষ্টি আসবে। আমার ভাল লাগার কৃষ্ণচুড়া গাছটাকে আজ বৃষ্টি ছুয়ে দিবে। আমি বির বির করে বললাম.. বৃষ্টি আসলেই তুমি যখন ইচ্ছা ভিজতে পারো আমি পারি না। আচ্ছা এই যে তুমি এতো ঘনো ঘনো ভিজো তোমার জ্বর, ঠান্ডা হয় না? তোমার শরীর খারাপ লাগে না? কি জানি বাপু আমি তো একটু ভিজলেই জ্বর ঠান্ডা আমায় আপন করে নেয়। আমি আবার একটু চুপ করে রইলাম। একদম কোনার দিকটাতে একটা তেলাপোকা মরে আছে। লাল পিপড়েরা সাড়ি সাড়ি লাইন বেদে তেলাপোকাটাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমার একদম মনে আছে গতকাল রাতে উড়ে এসে আমার গায়ে এই তেলাপোকাটাই বসেছিল। অসয্য। আমি একটু বসে তেলাপোকাটার দিকে তাকালাম তারপর বললাম.. কিরে এবার বুঝছিস এই জেনিয়ার সাথে যারা অসাধু আচরণ করে তাদের কি অবস্থা হয়? কিন্তু জানিস তোর জন্য আমার মায়া হচ্ছে। কেউ মারা গেলে তার জন্য আমার কষ্ট লাগে। . ”কিরে এইখানে বসে বসে কি করিস? . আমি পিছনে ফিরে তাকাই। আম্মু আমার আরো একটু কাছে এসে আবার বললো... . ”এইখানে বসে আছিস কেন? ”দেখোই না, এই তেলাপোকাটা গতকাল রাতে কোথা থেকে যেন উড়ে এসে আমার কাধে বসেছিল। ওর প্রতি আমার খুব রাগ হয়েছিল। ওকে আমি মনে মনে কত বকা দিছি। আর এখন দেখছি ও আর এ পৃথিবীতে নেই। ওকে আমি এমন ভাবে মনে মনে বকা না দিলেও পারতাম। একটুই তো উড়ে এসে কাধে বসতে চেয়েছে। ওর জন্য আমার মায়া হচ্ছে। কেন যেন কান্না পাচ্ছে। . আম্মু শাড়ির আচলটা কোমড়ে গুজে, কোমড়ে দুহাত রেখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। তারপর আমার পাশে বসে আমার মাথার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বললো.. . ”আহারে আমার মেয়েটার কি দুঃখ। তেলাপোকার প্রতি আমার মেয়েটার কি ভালোবাসা। তোর কান্না কান্না ভাব দেখে আমারও কান্না আসছে। . আমি আম্মুর দিকে তাকালাম। আমার আম্মু কখনো এই রকম না। আমি জানি সে আমাকে খুব কড়া ভাবে কিছু একটা বলবে। আমি বললাম.. ”সত্যিই তোমার কান্না আসছে? . উনি মাথা দিয়ে হ্যাঁ সূচক ইশারা দিলো। তারপর বসা থেকে উঠে বললো.. . ”ঢং তো ভালোই শিখছো? তেলাপোকার জন্য তোমার মায়ার হয়, কান্না আসে? এতো মায়া কেন তোমার? এতো মায়া কোথা থেকে আসে? ফাযলামো করো? তোমার মত দুনিয়ায় আর মেয়ে নাই? কি সুন্দর করে বলে তেলাপোকার জন্য উনার কান্না আসে। উঠ বলছি এখান থেকে। . আমি চেহাড়ায় একটা বিরক্তির ছাপ এনে উঠে দাড়ালাম। চুল গুলা ঠিক করে একটা মুখ ভেংছি দিয়ে রুমের ভিতর চলে আসলাম। আর উনি ঝাড়ু দিয়ে এটা পরিষ্কার করতে লাগলো। কি মনে করে আম্মু আমায়। আমার কি কারো প্রতি মায়া থাকতে পারে নাহ? আমি কি মানুষ না? আমারো অন্য আট দশটা মেয়ের মত মায়া থাকতে পারে। দুনিয়ার মানুষ গুলোকে আমার কাছে কেমন যেন মনে হয়। একেক জনের কাছে একেক রকম মায়া। আমার মায়া গুলা কারো কাছে ভালো লাগে না। আমার মায়া গুলার মাঝে ঢং এর ছোয়া নাকি বিদ্যমান। তিন তলার হাবা চশমা ছেলেটার কাছেও নাকি আমার কথা বার্তা বাচ্চা মেয়েদের মত মনে হয়। আমি বাচ্চা নাকি আমার আচারণ বাচ্চাদের মত। সে বাচ্চা, তার পুরো ফ্যামিলি বাচ্চা। কতবড় সাহস আমাকে বাচ্চা বলে আখ্যায়িত করে। ঠান্ডা বাতাস, বৃষ্টির দেখা মিলবেই। সূর্যটা খুব লুকিয়ে আছে। এ যেন কোন গভীর ক্ষোভ নিয়ে সূর্যের বুকে আঘাত আনবে বৃষ্টি। আমি আকাশের গর্জনের ডাক শুনতে পাই। . মাঝে মাঝে আমি ছাদে যাই। খোলা আকাশের নিচে দু হাত মেলে ধরে প্রকৃতির গন্ধ শরীরে প্রবেশ করাই। কত শান্তি কত অদ্ভুত প্রকৃতির গন্ধ। নির্জন রাতেও এই খোলা আকাশের ছাদের মধ্য আমার পায়ের স্পর্শ লাগাই। এত বড় আকাশের নিচে যখন দাঁড়িয়ে থাকি আমাকে ছোট্ট মনে হয়। আমার ছোট্ট মনের চারদিকে আকাশের নীল রঙ্গা একটা অনুভূতি ছড়িয়ে দিতে তা একটুও কার্পণ্য করেনা। ছাদে এসে আমি সেই তিন তলার হাবলা চশমা পড়া ছেলেটাকে দেখতে পাই। ছেলেটাকে আমার কাছে একটা কমেডি মনে হয়। বেশির ভাগই পাঞ্জাবী পড়ে থাকে। গালে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। নাম জাহেদ। আমাদের বাসার ভাড়াটিয়া। দু মাস হয়েছে আসছে। কি অসয্য। আমি প্রায় ছেলেটাকে ধমকাই, বকা দেই কিন্তু কিচ্ছু বলে না। আমি অনুধাবন করি এমন কেন ছেলেটা। প্রথম যখন ছেলেটা আমাদের বাসায় এসে দরজার কলিং বেল বাজায় এবং আমি দরজা খুলতেই সে বলে... . ”চিকন পিন হবে? . আমি একটু অবাক হলাম। কেমন যেন আমার কাছে লাগলো। তারপর বললাম... . ”কি? ”ইয়ে মানে চিকন পিনের চার্জার। আমার চার্জারটা নষ্ট হয়ে গেছে। দুদিন ধরে মোবাইলে চার্জ দিতে পারছি না। আছে আপনার কাছে চিকন পিনের চার্জার? . আমি খুব শান্ত ভাবেই বলে দিতে পারতাম জ্বি আমার কাছে নেই। কিন্তু আমার খুব রাগ হচ্ছিল। তুমি আমাদের নতুন ভাড়াটিয়া প্রথমে এসে বলবা,, আমি আপনাদের নতুন ভাড়াটিয়া, আমার মোবাইলের চার্জার নষ্ট হয়ে গেছে, আপনার কাছে আছে? কিন্তু না, সে ডিরেক্ট বলে চিকন পিন হবে কিনা। আমি রেগে বলেছিলাম.. . ”সালাম দিন ”জ্বি? ”কানে শুনতে পান না? বলেছি সালাম দিন। কারো বাসায় কেউ আসলে সালাম দিতে হয়। আদব কায়দা শিখেন নাই? . ও আমার দিকে তাকিয়ে চশমাটা ঠিক করে বললো.. . ”আসসালামু আলাইকুম। ”ওয়া আলাইকুম আসসালাম। আমাকে কি দেখে মনে হয় আমার কাছে চিকন পিনের চার্জার আছে? চার্জার নাই। ভাগেন। . এইটা বলে মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আমি কেমন, রাগী নাকি বদ, কি ভাবলো এতে আমার কিছু যায় আসে না। এই রকম না করলে মাথায় চড়ে বসবে। আমি জমিদারের মেয়ে আর সে ভাড়াটিয়া, সুতরাং ভাড়াটিয়ারা জমিদারকে একটু ভয় পেয়ে চলতে হবে। আমি আস্তে আস্তে জাহেদের কাছে গিয়ে এহেম এহেম করে কয়েকটা কাশি দেই। আমার কাশির শব্দ পেয়ে সে আমার দিকে ঘুরে তাকায়। তাকাতেই সে আমাকে সালাম দেয়। আমি সালাম গ্রহণ করি। ঐদিনের পর থেকে সে আমাকে যতবার দেখে ততবার সালাম দেয়। ভদ্র সাজে। আমি বুজি তো। বাহিরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট। এসব ছেলেদের আমি হাড়ে হাড়ে চিনি। আমি বললাম.. . ”ছাদে কি করছেন? ”জ্বি আজকের আকাশটা বেশ ভালো। দেখুন না কিছুক্ষন আগে ধংধনুর সাত রং আকাশে ভেসে ছিল। আপনি আরেকটু আগে আসলে ভাল হতো। . আমি আকাশটার দিকে তাকালাম। রংধনুর আবছা ছায়াটা এখনো আকাশের বুকে লেগে আছে। মাঝে মাঝে আমার খুব শখ হয় আমি রংধনুর সাত রং হবো। প্রকৃতির মাঝে আমার সাত রং ছড়িয়ে দিব। কত জন আমাকে দেখার জন্য ছাদে উঠবে। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবে। কেউ কেউ আমার ছবি তুলবে। ইশ এমনটা যদি কখনো হতো। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম... . ”মিথ্যে বলবেন না। আপনি রংধনু দেখার জন্য ছাদে উঠেন নি। আমি সব বুঝি বুঝছেন? দেখতে তো সাধু মনে হয়, তা মনের ভিতর এইসব কেন? ”জ্বি আমি কিছু বুঝতেই পারছিনা আপনার কথা। ”ও এখন তো কিছুই বুঝবেন না। ছাদে উঠছেন কোন মেয়ে ছাদে উঠেছে কিনা তা দেখার জন্য। এতো লম্পট কেন আপনি? চশমা পড়লেই সব ছেলেদের ভদ্র মনে হয় না বুঝছেন? . আমার কথা শুনেই ও কাশতে থাকে। কাশতে কাশতে আমার দিকে কেমন একটা লুক নিয়ে আস্তে আস্তে হাটা দেয়। ছাদের নামার সিড়ির কাছে গিয়ে আবার আমার নিকট আসে। চশমাটা একটু ঠিক করে বলে... . ”একটা কথা বলবো? ”কি কথা? ”না তেমন কিছু না। বলবো? . আমি ওর মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকালাম। ও ওর পাঞ্জাবীর হাতাটা একটু বটে নিল। আমি বললাম.. . ”হ্যাঁ বলেন কি এমন কথা। ”ইয়ে মানে তেমন কিছু না। আপনি ডাক্তার দেখান। ”কি? . এইটা বলেই ও দৌড় দেয়। আর দৌড় দিতে দিতেই বললো। আপনি একটা অসুস্থ রোগী। . আমার মাথার মেজাজটা গরম হয়ে যায়। হাতের কাছে পেলে না চুল একটাও রাখবো না। এই ছেলে নিজেকে কি ভাবে? কি বুঝাতে চেয়েছে? আমি ডাক্তার দেখাবো। আমি কি মানসিক রোগী? দিন যতই যায় অন্তরালের গোপনে এই ছেলের প্রতি আমার রাগ ততই বাড়তে থাকে। অভদ্র একটা। কিছু কিছু মানুষকে উচিৎ শিক্ষা দিতে হয়। এখন না হয় পালিয়েছো জেনিয়ার হাত থেকে, আমার সমুক্ষে তো তোমাকেই আসতেই হবে। . প্রখর রোদ্রতে আমি জ্বলে উঠি, তবু আমি বসে থাকি। বুকের স্রোতে জল নয় , রোদের বন্যা বয় রোদের বন্যায় ভেসে যাই, পথ মানুষের চোখ দেখি সেই চোখে মানুষের সুখ দুঃখ খুঁজি। কপালের ঘাম মুছি, বিরক্ত মুখে তিন চাকার চালককে বলি আর কত জ্যামে থাকবো শুনি। . মাঝে মাঝে যখন আমার কিছুই করার থাকে না, তখন আমার ভিতরে এক ছন্দ আসে। সেই ছন্দের তালে তালে নিজেকে তলিয়ে দি। কিংবা বই পড়ি। বই পড়া আমার একটা শখ। রিকশায় অনেকক্ষন বসে আছি। দুপুর বেলা ভার্সিটির ক্লাস করে এই রোদের মাঝে জ্যামে আটকা পড়ে আছি। তিন চাকার চালক রিক্সাওয়ালা চাচা আমার বির বির করা ছন্দের কথা গুলা শুনে কি বুঝলো জানি না । একটু পর বললো... . ”আপামণি এই রাস্তাটা এমনিতেই জ্যাম থাকে। রাস্তাটা ভাঙ্গা তারউপর অপর পাশের রাস্তাটা বন্ধ। রাস্তার কাজ চলতাছে। জ্যাম তো একটু হইবোই। . ওহ বলেই একটা শব্দ করি, পরে আর কিছু বলি নি। রিক্সার চালক তার কোমড়ে বাধা গামছাটা খুলে একটা ঝাড়া দিয়ে মুখের আর ঘাড়ের ঘামটুকু মুছে আমার দিকে তাকিয়ে একটা তৃপ্তির হাসি দেয়। আমি সেই হাসির মাঝে শান্তির রেখা দেখতে পাই। এই হাসিটায় উনার পরিবারের ছায়া পাই। যে ছায়া টুকু উনার চারপাশে লেগে আছে। উনার এই পরিশ্রমে পরিবারের অন্য সদস্য শান্তি নিয়ে দুবেলা ভাত খাওয়ার স্বপ্ন দেখে। আমার এই টুকু গরম সহ্য হচ্ছে না। আর উনি সারাদিন প্রখর রোদের মাঝে জীবনে বেচেঁ থাকার লড়াই করে যাচ্ছে। আমি চাচাকে বলি, চাচা হুডটা নামিয়ে দিন। উনি আমার দিকে কেমন করে যেন দেখলো তারপর বললো.. রোদ পড়তাছে তো। কিন্তু আমি শুনলাম না, রিকশার হুডটা নামিয়ে দিয়ে বললাম, আজকে একটু রোদ মাখাবো শরীরে, রোদের সাথে খেলবো। দেখবো সে আমাকে কতটুকু পুড়াতে পারে। চাচা একটা হাসি দিয়ে বলে এইটা আবার কেমন খেলা। আগে তো হুনি নাই। এইটা যদি খেলা হয় তাইলে তো আমরা বেবাগ দিনই খেলি। আমি বললাম আপনি বুঝবেন না। এখন চালান জ্যাম কমেছে। এমনিতে আমার রোদ পছন্দ না। রোদটা আমার শরীরে যখন স্পর্শ করলো আমার কেন যেন ভালো লাগা ছুয়ে গেল। এই ভালো লাগাটা কতক্ষন থাকবে আমি জানি না। . জ্যাম থেকে ছাড়া পেয়ে রোদ আর বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে ওয়াসার মোড়ে আসি। আমার চোখ আটকালো জাহেদের দিকে। আমি চাচাকে একটু থামতে বলি। পাঞ্জাবী পড়ুয়া সেই বালকটা একজন বৃদ্ধ মহিলাকে রাস্তা পার করে দিচ্ছে। আমি কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলাম। কেন যেন ছেলেটার এই কাজটা দেখে একটু ভালো লাগলো। তারপর আবার চাচাকে আমার গন্তব্যে পৌছে দিবার জন্য বলি। . সূর্য ডুবার লালছে আলো আকাশের বুকে ছড়িয়ে গেল আমি আমার ভাই আদনানকে নিয়ে দৌড়ে ছাদে চলে যাই। ছোট বেলা আব্বুর সাথে কত দেখেছি। অবশ্য আব্বু এখন তেমন সময় পায় না। রোযার আগের দিন বা ঈদের আগে চাঁদ উঠে তার বার্তা দিয়ে দেয় এই যে খুশির দিন আসছে নিজেকে বদলানোর দিন আসছে। আদনান প্রথমে চাঁদ দেখে আমাকে দেখিয়ে দেয়। আমি রক্তিম ঐ আলোর মাঝে হাসির রেখার মত চাঁদটার দিকে নিষ্পলক ভাবে তাকিয়ে রই। . কিছুক্ষন পর সিড়ি দিয়ে নামার সময় জাহেদকে উঠতে দেখি। আমরা দুতলায় থাকি। আমাদের বিল্ডিংটা চার তলা পর্যন্ত। তিন তলা সিড়িতে আসতেই ও আমাকে দেখে সালাম দেয়। আদনানকে বললাম তুই যা আমি আসতেছি। একটা হিসেব নিকেশ করে আসি। আদনান আচ্ছা বলেই চলে যায়। আমি জাহেদের দিকে এক ভয়ংকর চোখ নিয়ে ওর দিকে এক পা দু পা করে নামতে থাকি আর জাহেদ ও এক পা দু পা করে সিড়ি দিয়ে পিছপা হতে থাকে। তারপর আমতা আমতা করে বললো.. আমার ঐদিনের কথাটার জন্য আমি দুঃখিত। আমি আরো ওর কাছে এগোতে লাগলাম। ও নামতে নামতে দেয়ালে পিঠ লাগায় আমি দাঁতে দাঁত চেপে কিড়মিড় করে তাকিয়ে বললাম.. ধন্যবাদ। কেন ধন্যবাদ দিয়েছি বলবো না। আর হ্যাঁ এই না যে আপনার প্রতি আমার রাগ কমে গেছে। পরে সুদে আসলে আদায় করে নিব। এখন মন একটু ভালো নতুন চাঁদ দেখে আসছি তো তাই। এই টা বলে আমি সিড়ি দিয়ে নামতে লাগলাম। আর ও কয়েকটা ঢুগ গিলে উঠতে লাগলো। আমি আবার ডাক দিয়ে বললাম.. ও হ্যাঁ বলতে ভুলে গেছি রমজানুল মোবারক। . রোজা সাতটা যখন অতিক্রম করলো আম্মু সিদ্ধান্ত নিল ভাড়টিয়াদের ইফতার দিবে। সেই সুবাধে উনার কি চিন্তা। যেদিন কোন পরিকল্পনা থাকে বা আয়োজন থাকে সেদিন আমার প্রান প্রিয় আম্মুর মাথা ঘুরপাক করতে থাকে আয়োজনটা কখন সুষ্ঠ ভাবে সফল করবে। তাই আজ সকাল থেকে উনি আমাকে তার সাথে সাথে রেখেছে। অবশ্য আমি কিছু পারি না। শুধু একটু পাশে থেকে টুকটাক হেল্প করা আরকি। আর হেল্প করা সত্তেও আমাকে কম কথা শুনতে হইনি। দিন দিন বুড়ি হইতাছিস। বিয়ে দিলে জামাইর বাড়ি কি করবি? রান্না বান্না তো কিছুই পারো না। খালি গিলতে পারো। তখন তোরে তো কিছু বলবে না, বলবে আমাকে। বলবে,, তোমার মা তোমারে কিছু শিখাই নি? আমি বললাম.. আমি বিয়ে করবো না। আর করলেও ওদের শর্ত দিব আমি কিছু রান্না করতে পারবো না। বিয়ে করলে করবে না করলে নাই। উনি আমার দিকে বিশাল একটা রাগের ভাব নিয়ে বলবো দুর হ হতচ্ছাড়ি আমার সামনে থেকে। আমিও বের হয়ে বললাম.. তোমার রান্না তুমিই করো। নিজে পারে দেখে নিজেকে অনেক কিছু মনে করে। একদিন আমিও সব কিছু শিখে নিব বলে দিলাম। উনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন যার অর্থ বুঝায়..আল্লাহ তোরে হেদায়াত করুক। কিন্তু একটু পর নিজ থেকেই আবার আম্মুর কাছে গেলাম। সব কিছু একা একা কিভাবে করবে। . সব কিছু তৈরি হওয়ার পর যখন আম্মু আমাকে বললো জেনিয়া, দুতলায় জাহেদ দের বাসায় এইগুলা দিয়ে আয় তো। আমি বললাম.. না ঐ ছেলের বাসায় আমি যাবো না। খচ্চর একটা। আর মানুষ পায় নাই আব্বু ভাড়াটিয়া জায়গা দিতে। আমারে বলে নাকি আমি অসুস্থ।আদনানকে পাঠাও। আম্মু আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে বললো, ঠিকই তো বলছে তুই তো একটা মানসিক রোগী। আমার মেজাজটা প্রচন্ড খারাপ হলো। চুল গুলা কানে গুজে জোড়ে একটা চিৎকার দিয়ে বললাম মানসিক রোগীর দেখছো কি? আজকে থেকে মানসিক রোগীর আচরণ করবো। সব ভাংবো। আম্মু রান্না ঘরের দিবে যায়। আদনান আমার সামনে এসে চুপ করে দাড়িয়ে থাকে। ওর চুপ করে দাঁড়ানোর অর্থ হলো সেও আমাকে কিছু বলবে। আমি বললাম কি বলবি বল। কি শুনাতে আসছিস বলে ফেল। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা আসছিস তো? আদনান ইতস্তত করে করে বললো... তুমি কি আসলেই অসুস্থ? আমি দাঁতে দাঁত চেপে বললাম.. কি বললি আবার বল। ও একটু পিছে হেটে গিয়ে বললো.. আমি কিছু বলি নি। জাহেদ ভাই বলছে তুমি নাকি একটা জ্বলন্ত আগুন। ছুলেই নাকি ফুস করে জ্বলে উঠো। এইটা বলেই ও আমার সামনে থেকে দৌড় দেয়। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। নিজেকে একটু শান্ত করলাম। এই ছেলের একদিন কি আমার একদিন। আম্মুর কাছে গিয়ে বললাম.. কি দিবা দাও আমি নিয়ে যাচ্ছি। আজকে খবর আছে ওর। আম্মু আমার দিকে তাকিয়ে বললো.. কি বললি? বললাম আমি ইফতারি দিয়ে আসছি দাও। আম্মু আর কিছু বলে নি। . দরজার কলিং বেল চাপার মিনিট খানেক পর একজন লোক দরজাটা খুলে। এটা মনে হয় জাহেদের বাবা। আমি সালাম দিলাম। আমাকে দেখেই উনি কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো আমার হাতে খাবারের টিফিন বক্সটা দেখে বললো ভিতরে আসো। আমার ভিতরে ঢুকার ইচ্ছা নেই। শুধু দিয়ে চলে গেলেই হলো। কিন্তু ঐ বাদর ছেলেটাকে দেখার জন্য ভিতরে গেলাম। আমিও বুঝিয়ে আসবো আমি কে? ভিতরে গিয়ে টিফিন বাটি টা টেবিলে রাখলাম। . ”তো কেমন আছো মা? ”জ্বি ভালো। বাসায় আর কাউকে দেখছি না যে? মানে আন্টি কোথায়? . উনি একটু চুপ করে রইলো। চোখের চশমাটা খুলে পড়নের শার্টটা দিয়ে মুছতে মুছতে বললো.. . ”আমি আর আমার ছেলেকে নিয়ে সংসারটা ভালোই চলছে। মন্দ না। দিন কেটেই যাচ্ছে। তবে একটা শূন্যতা কাজ করে এই আরকি। ”মানে আন্টি আর নেই? . উনি চশমাটা পড়ে টিফিন বক্সটা নিয়ে বললো..বসো টিফিন বক্সটা খালি করে দিয়ে দিচ্ছি। এইটা বলেই ভিতরে যায়। আমি বুঝতে পারছি উনি কিছু লুকানোর চেষ্টা করছে। সেই লুকানো কথা গুলা অন্ধকার থেকে আলোর প্রদীপে এনে ছড়াতে চায় না। চায় না উনার লুকানো কথা গুলা কেউ পড়ে ফেলুক। কিন্তু আমার চোখ খুঁজছে ঐ হারামজাদা ছেলেটাকে। আমি এদিক ওদিক উকি দিয়ে খুঁজতে লাগলাম। কেমন শান্ত একটা পরিবেশ। আমি হেটে হেটে একটু সামনে গেলাম। দরজা উপরে চোখ গেল। দরজা উপরে নেইম প্লেইট দিয়ে লিখা লাইব্রেরী। বাসার মধ্য লাইব্রেরী। খানিকটা উদ্ভেগপূর্ণ হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। আশ্চর্য তো। . ”কি একটু অবাক হয়েছো? . আমি পিছনে ফিরে তাকাই। উনি টিফিন বক্সটা খালি করে এনে আমাকে দেয়। উনি বলতে লাগলো। এটা আমার ছেলের লাইব্রেরী। বলেই দরজাটা খুলে আমাকে ভিতরে আসতে বলে। আমি ভিতরে যাই। পুরো দেয়াল আর আলমেরি জুরে কত বই। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। আমার মনে যখন বিষন্নতা গ্রাস করে ছুয়ে দিবে আমার অলস সময়ে দিব্বি এই বই এর মাঝে ডুব দিয়ে দিন কাটিয়ে দিতে পারবো। বেলা শেষে এক ঝাক উড়ন্ত পাখির মত মনে প্রফুল্লতা নিয়ে উড়তে পারবো। উনি আমাকে একটা বই দিয়ে বলে.. এটা পড়িও। আমার ছেলের লেখা। যদি ভালো লাগে তখন ওর লেখা আরো চারটা বই আছে নিয়ে যেও। আমি একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। কি বলে এই ছেলে নাকি লেখা লেখি করে। দুর আর কি লিখবে বগার ট্যাং মার্কা কয়টা শব্দ লিখে রাখবে। এইসব আজেবাজে লেখা পড়ার আমার ইচ্ছা নেই। তবুও ভদ্রতার সহিত আমি বইটা নিলাম। বদ ছেলেটাকে দেখতে পাইনি। পেলে বুঝায় দিতাম কার সাথে পাল্লা দিচ্ছে। বাসায় এসে আমার রুমের একপাশে বইটা ফেলে রাখলাম। আজাইরা কতগুলা শব্দ পড়ে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। . পাঁচ দিন চলে যায়। সকালে উঠে আমার সেই প্রিয় কৃষ্ণচুড়া গাছটার দিকে তাকালাম। আজকাল তেমন একটা সময় দেওয়া হয় না, চোখাচোখি হয় না আমার প্রিয় কৃষ্ণচুড়া গাছটার সাথে। কতগুলা পাখি কিচিড়মিচিড় করছে। আমার চুল গুলো আঙ্গুলে প্যাচিয়ে সেই প্রিয় কৃষ্ণচুড়া গাছটাকে বললাম.. ভেঙ্গেছে নীড়, আকাশ ছোয়ার অনুভুতি আঁধার চারিধার, ঘনমেঘ ছাড়িছে বাধ ভেঙ্গেছে, হাজার শব্দ জমাট বেধেছে বন্ধ জানালায় একলা দাঁড়িয়ে নিষ্পলক চেয়ে থাকি কালো মেঘের আড়ালে.... . ছন্দের তালে তালে আমি চুল প্যাচিয়ে অনুধাবন করলাম দেখি একবার বেয়াদব বালকটার বস্তা পচা শব্দগুলা পড়ে। ভিতরে গিয়ে আমি বইটা নিলাম। নাম দ্বিতীয় যাত্রা। আমি পড়তে লাগলাম। কয়েক লাইন পড়ে আমার অলসতা চলে আসে। এই গুলা কোন লেখা। ধৈর্য্য নিয়ে আমি আরো কয়েক লাইন পড়ি। পড়তে পড়তে একটা চরিত্রের মাঝে ঢুকি। একবার ভাবলাম পড়বো না। বইটা বন্ধ করলাম। তারপর আবার কি মনে করে যেন সেই চরিত্রে মাঝে ডুবে গিয়ে পড়তে লাগলাম। পড়তে পড়তে প্রায় অর্ধেক শেষ করে ফেলি। কিভাবে অর্ধেক শেষ করে ফেললাম বুঝতে পারছিনা। আমি না চাইতেও কি একেক টা শব্দ গভীর ভাবে আমাকে টানছে। সারাদিন বইটা পড়ে বিকেলে ওদের বাসাই গিয়ে আংকেলকে বই টা দেই। তারপর বেহাইয়ার মত বললাম.. আপনার ছেলের লেখা সবগুলা বই আমাকে দেন। পড়বো। উনি একটু হাসলো। কি ভাবলো আমি জানি না। আর আমি কেনই বা এই ছেলের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখালাম সেটাও বুঝলাম না। তবে বার বার মনে টোকা দিতে লাগলো। দ্বিতীয় যাত্রা বইটায় এত আলো আছে , না জানি বাকি অন্য বই গুলাতে কত টুকু আলো আছে। . বাসায় এসে বই পড়তে পড়তে আমার দিন কেটে যায়। নিজেকে গল্পের মাঝে তলিয়ে দি। মনে হয় একেকটা চরিত্র আমার চোখে ভাসছে। যা কিছু ঘটছে আমার চোখের সামনেই ঘটছে। এই ছেলের প্রতি যে একটা রাগ জন্মেছিল আমার মনে সেই রাগ টা যেন আর কাজ করছে না। দুর কি বলি আমি। এই রকম কয়েকটা লিখলেই লেখক হওয়া যায় না। কিন্তু আমার মনকে মানতেই হচ্ছে ছেলেটা ভালোই লিখে।বেশ ঈর্ষা বোধ করেছিলাম জাহেদের প্রতি।আমি জানিনা কেন করছি। কয়েকদিন পর সন্ধ্যার নাগাত ছাদে যাই। একটু পায়চারি করে দেখলাম ও এককোনে বসে আছে। আমি এহেম করে কয়েকটা কাশি দিলেই ও আমার দিকে ফিরে তাকাই আর সালাম দেয়। আমি সালাম গ্রহণ করে বলতে চেয়েছিলাম আপনি ভালো লিখেন কিন্তু আমি বললাম.. আমি জ্বলন্ত আগুন? আপনি আমার ভাইকে কি বলছেন? ও চুপ করে আকাশের দিকে তাকালো। তারপর বললো আমার লেখা গুলা পড়েছেন তাই না? শুধু শুধু সময় নষ্ট করেছেন। আমার বাবা এই রকমি। বাসায় যেই আসুক তাকে আমার গল্পের বই দিবে পড়তে। জানেন আমার মা, ভাই, বোন আমার পৃথিবী সবকিছুই আমার বাবা। আমি ওর কথা শুনে একটু চুপ করে রইলাম। তারপর বললাম.. আপনার মা কোথায়? ও একটু চশমাটা ঠিক করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে.. আপনাকে আজ বলবো বসেন। অনেক কিছু বলবো। একটু ভেবে ইতস্থত বোধ করে আমি একটু দুরুত্ব বজায় রেখে পাশে বসলাম আর বলতে লাগলো.. আমার মা অনেক উচ্চ বংশের ছিল। আর আমার বাবা নিন্ম মাধ্যেরে একজন সাধারণ ছেলে। তবু কি দেখে আমার মা বাবার প্রেমে পড়েছিল আমি জানি না। তবে বাব বেশ ভালো ছবি আকঁতে পার। হয়তো তার জন্য। ওরা জানতো এই সম্পর্কটা কেউ নিবে না। কারণ আলো আর আধার কখনো এক হয় না। আলো যখন আধারে বুকে ঝাপিয়ে পড়ে তখন আধারটা কে দেখা যায় না। ঠিকি আমার মাকে তার বাবা মা অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দেয়। বিয়ের চার মাস পর আমার মার গর্ভে আমি আসি। আমার জন্মদাতা বাবা একটা শুয়রের বাচ্চা ছিল। আমার মাকে বিয়ে করার পর অন্য আরো অনেক মেয়ের সাথে রাত কাটাতো। পার্টিতে থাকতো। আমার মা কিছু বললেই অত্যাচার চালাতো। তার সব সুখ ত্যাগ করে ঐ জানোয়ারটার সাথে আলোর ঘর বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমার মা আলোর ঘর তৈরি করতে পারে নি। আমি যখন আস্তে আস্তে আমার মায়ের পেটে বড় হচ্ছিলাম তখন আমার বয়স সাত মাস। একদিন রাতে অনেক ঝড় আসে কালো ঝড়। আমার মার উপর অনেক অত্যাচর হয়। আমার মা সহ্য করতে না পেরে ঐ রাতেই ঘুমের মাঝে জানোয়ারটাকে শেষ করে দিয়েছিল। ঐদিন আমার মা অনকে শান্তিতে নিশ্বাস নিয়েছিল। কি করবে ভেবে না পেয়ে আমার মা তার ভালোবাসার মানুষটার কাছে গিয়ে দাড়িয়েছিল। আর এই মানুষটার তেমন কেউ ছিল না। এক মামা ছিল, মামার বাসায় থাকতো। সেদিন রাতে আমার মার হাতটা না ধরতেও পারতো। কিন্তু খুব শক্ত করে ধরেছিল আমার মায়ের হাত। শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তারপর শুরু করেছিল একটা নতুন জীবন। . এইটুকু বলেই জাহেদ থামে। আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না, বা আমার এখন কি বলা উচিৎ আমার জানা নেই। আমি বললাম.. আন্টি এখন কোথায়? ও আকাশের দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে দেখিয়ে দেয় ঐ আকাশে ওর মা। ওর চোখে আমি জল দেখি। সেই জলের স্রোত ঝড়াতে ঝড়াতে বললো.. বেশ ভালোই কাটছিল আমাদের তিন জনের সংসার। আমার বাবা আমাকে অন্য চোখে দেখেনি। এমনকি অন্য আরেকটা সন্তান নেওয়ার কথাও ভাবেনি। আমার যখন দু বছর আমার মার শরীরে এক ভয়ংকর রোগ ধরা পড়ে। এইচ আইভি এইডস। ঐ যে ঐ জানোয়ারটার জন্যই আমার মার শরীরে এই ভয়ংকর রোগটা দেখা দিয়েছিল। জানেন আমার খুব কান্না পায়। আমার খুব ঘৃনা হয়। কেন আমি ঐ জানোয়ারটার বীজে তৈরি হলাম। কিন্তু আমার পাশে যখন আমার শহর, পৃথিবী আমার এই ভালো বাবাটাকে দেখতে পাই, আমি সব কিছু ভুলে যাই। আমার বাবা আমাকে এইসবের কিছুই বুঝতে বা জানতে দেয় নি বা কাউকে বলে না। কিন্তু ঐ যে দেয়ালের ও কান থাকে বলে না। জানতে আর কতক্ষন। বিশ্বাস করুন আমার অনেক কষ্ট হয়। না নিজের জন্য না, আমার ভালো বাবাটার জন্য এতো যন্ত্রনা নিয়ে কি করে আমার সাথে হাসি খুশি থাকে। রোজ রাত আমার মার ছবিটার দিকে তাকিয়ে কান্না করে। আমার সহ্য হয় না। . আমি আর একটু ও থাকতে পারলাম না জাহেদের কথা শুনে। আমার মনে কি চলছে জানি না। আমার চোখে পানি চলে আসে। এমনিতে মানুষের মন খারাপের কথা শুনলে আমার ভালো লাগে না। আমি উঠে চলে আসতেছি ও এমন সময় আমায় বলে.. . ”শুনোন ঈদ তো চলে আসতেছে। আপনি এবার গোলাপি কালারের একটা শাড়ি কিনবেন কেমন। আপনাকে ওটাতে মানাবে। . আমি কিছু বললাম না। আমি আবার সিড়ির দিকে যেতে লাগলাম। ও আবার ডাক দেয় তারপর আমার কাছে আসে। আমি বললাম কিছু বলবেন? ও চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে পাঞ্জাবীর পকেট থেকে একটা মেহেদী বের করে বলে। এটা আপনি দিবেন কেমন? দু দিন আগে কিনে পকেটে নিয়ে ঘুরতেছি। দেওয়ার সাহস পাচ্ছি না। এই হাতের মাঝে যখন রক্তিম চিহ্নটা ফুটে উঠবে তখন আমার খুব ভালো লাগবে। এক প্রফুল্লতার মাঝে বৃষ্টি মাখা শহরে, আপনার গ্রিলের ফাকে বৃষ্টির টুপটুপ ফোটা গুলা ছুয়ে দিয়ে আপনার কৃষ্ণচুড়ার গাছটার দিকে তাকাবেন আর বলবেন, তোমার ফুলের রং এ সাজিয়েছি আমার হস্ত। তখন দেখবেন কি ভালো লাগবে। আমি বেশ অবাক হয়ে তাকালাম তারপর বললাম.. আপনি আসলেই একটা লম্পট। আমার সব কিছু আপনি ফলো করেছন তাই না? ও শুধু একটু মাথাটা চুলকিয়ে একটা হাসি দিল। এর কয়েকদিন পর আমি ঠিকি গোলাপি কালারের একটা শাড়ি কিনেছি। হাতে মেহেদি দিয়েছি। এই ছেলেটার কথা কেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি আমি জানি না। কেন যেন আমার শাড়ির সাথে মেচিং করে ওর জন্য একটা পাঞ্জাবী কিনেছি। ওর সাথে হাটবো। আকাশ দেখেবো। আমার বারান্দার গ্রিলের কাছে গিয়ে কবিতা সাজাই... আমার শূন্য চলায় স্মৃতির প্রাঙ্গনে অপূর্ণতা নিশ্চুপ গগনে সাদা মেঘের ছায়া কখনও দেখেছ কি ক্ষুদ্র শিশির বিন্দু? এক অদ্ভুত স্পর্শে অপূর্ণতা হয়েছে পরিপূর্ণ তাতে জমাট বাধা অদৃশ্য আলো আমি একেঁছি তার ছায়ার ছবি... . সেই দিন ক্ষনের অপেক্ষায় আমি থাকি। খুব সাহস করে বলবো হাটবে আমার সাথে? আমার ভালো লাগার কৃষ্ণচুড়ার দিকে যেভাবে তাকিয়ে দিন কাটিয়ে দি ঠিক তেমনি তোমার হাত ধরে হেটে দিন কাটিয়ে দিব। আমি সেদিনের অপেক্ষায় থাকলাম... . লেখা.... Jahedul Hoque Subon


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ১৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বারান্দার ভূত
→ বারান্দার ওপাশে ॥
→ বারান্দার ওপাশে ॥ তিন
→ বারান্দার ওপাশে ॥ দুই ॥
→ বারান্দার ওপাশে ॥ এক ॥

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...