গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

ইতন্ডা

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (৮৩ পয়েন্ট)



" ইতন্ডা " উজ্জ্বল দাস ------------- (এক) "শালা ঢেমনা মাগী, মার শালা কে, মার.. মার..মারর...র...র" রে... রে.. রে... রে... করে দৌড়ে এলো গোটা চারেক ষন্ডা মার্কা ছেলে আর তার সঙ্গে দু চারজন গাঁয়ের মাতব্বর ও তাদের মদতপুষ্ট কিছু গ্রামের মহিলা। প্রায় সত্তোরোর্ধ এক বয়স্ক মহিলা কে চুলের মুঠি ধরে কাঁচি দিয়ে কপছে কপছে চুল গুলো কে কাটা শুরু করলো গ্রামেরই লোকজন। কেউ কেউ আবার চুলের মুঠি ধরে নাড়িয়ে দিতে ব্যস্ত, কেউ বা কেরোসিন আনতে এক ছুট্টে বাড়ি। অকথ্য ভাবে চড়..থাপ্পড়....কিল...ঘুসি...লাথি, চললো গালি গালাজও। তারপর মাথা মুড়িয়ে ন্যাড়া করে প্রায় অর্ধনগ্ন অবস্থায় যখন বৃদ্ধা গোঙাতে গোঙাতে জ্ঞান হারালেন, তখন সবাই মিলে কেরোসিন তেল ঢেলে দিল গায়ের ওপর। এই ভাবে লোক সমক্ষে তাকে দেশলাই জ্বেলে আধপোড়া অবস্থায় গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে আবর্জনার মতো তুলে ফেলে দিয়ে আসা হলো শকুনের খাবারের জন্য। অপরাধ ? সে নাকি ডাইনি! তার দিকে তাকালেই দিন খারাপ যায়, গ্রামের কচি কাঁচারা নাকি অসুস্থ হয়ে পরে। দীর্ঘদিন ধরে তাকে একঘরে করে রাখা হয়েছিল। কেউ খাবার দিতো না, গ্রামের চাপা কল ব্যবহার করার ও অনুমতি ছিলো না। সর্বোপরি তাকে গ্রামে ঢুকতে পর্যন্ত দেওয়া হতো না। আজ হঠাৎ একরকম ভুল করেই চলে এসেছিল দুটো ছেঁড়া শাড়ি নিতে নিজের পরিত্যক্ত ভিটেতে। ব্যাস। তাতেই অকাতরে প্রাণ টা দিতে হলো। ঘটনাটা কোনো প্ৰাগৈতিহাসিক যুগের নয়। তিন দশক আগেকার ঘটনা।ইতন্ডা গ্রামের কদলীবলা বাউড়ির আজ এই অন্তিম পরিণতিই প্রমাণ করে মানুষ আজও কত পৈশাচিক...বর্বর। (দুই) মধ্যে চল্লিশের অরুণ চশমাটা টেবিল থেকে তুলে পরতে পরতে মধুরিমা কে বলল - --রিমা তোমার মনে আছে বেশ কিছুদিন আগে খবরের কাগজ ওলারা তোমাদের গ্রামের খবর ছেপেছিল। "ডাইনি অপবাদে পিটিয়ে হত্যা"। --কি আর করবে বলো, ওদের ও তো চালাতে হবে নাকি ? -- হ্যাঁ তা আর বলতে,নাহলে কেউ ইতন্ডা গ্রামের খবর ছাপে.... --চলো চলো সব নেওয়া হয়ে গেছে!! এরপর দেরী হলে কিন্তু ট্রেন টাই পাবো না। তোমার হাঁটুতে যা ব্যথা! বলতে বলতে সিঁড়ি দিয়ে মধুরিমা ছোট হাত ব্যাগটা নিয়ে নামতে শুরু করলো।পেছন পেছন অরুণ একদিনের জামা কাপড়, তোয়ালে, গামছা, ওষুধ পত্তরের ব্যাগটা কাঁধে চাপিয়ে ধীরে ধীরে নীচে নেমে গেলো। হরি কাকা কে বলে গেলো ওরা কাল বিকেলেই মধুরিমার বম্মা কে নিয়ে ফিরছে। বম্মা মানে রিমার মায়ের মা তার মা।হরি কাকা বহুদিনের পুরোনো, এবাড়ীর কাজের লোক। বম্মার একটা হাতে লেখা চিঠি কদিন আগে পেয়েই ইতন্ডা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া। আগে যাও বা একটু ছিলো এখন আর বম্মার সঙ্গে যোগাযোগ নেই সে প্রায় বছর তিনেক হলো। হঠাৎ সপ্তা দুয়েক আগে এই চিঠি। তাতে লেখা হয়েছে- "বম্মার বয়স দিনে দিনে বাড়ছে এবার বাপু তোমরা এসে জমি জমার একটা গতি করে আমায় এখান থেকে নিয়ে চলো। শেষ কটা দিন তোমাদের সঙ্গে কাটাব, আমি আর এখানে একা একা এতো কিছু সামলাতে পারছি না।" প্রায় বত্রিশ বিঘা জমি জায়গার মালকিন বম্মা, চাকর বাকর দাস দাসী ওদের ওপরেই বম্মার দায়িত্ব। রিমারাও চিঠি দিয়ে আজ আসার কথা জানিয়ে দিয়েছে। (তিন) ট্রেন এ উঠে বসার জন্য ব্যাগ ট্যাগ গুলোকে বাঙ্কে গুছিয়ে তুলে দিল অরুণ। প্রায় ঘন্টা পাঁচেকের যাত্রা। এটা ওটা ভাবতে ভাবতে ঢং.. ঢং.. করে ঘন্টা বাজিয়ে ডিজেল ইঞ্জিনের ট্রেনটা ছেড়ে দিলো। কখন অজান্তেই চোখ দুটো একটু বুজে এসেছিলো। ঘটাং করে হঠাৎই একটা জারকিং মেরে ট্রেন টা থেমে যেতেই ঘুমটা ভেঙে গেলো। মুখ টা বাড়িয়ে অরুণ দেখলো বেশ অন্ধকার হয়ে আসছে বাইরেটা। সবে গুসকরা আরো পাক্কা দেড় ঘন্টা তো বটেই। সিগন্যাল পেয়ে ট্রেনটা আবার ....ঘস........ ঘস........ ঘস....... ঘস ........ আওয়াজ করে ছেড়ে দিলো। কত দিন পরে যাচ্ছে তাও অনেকটা রাত হয়ে যাবে। ট্রেন থেকেও নেমে প্রায় পাঁচ-ছ কিলোমিটার রাস্তা যদিও বম্মা প্রত্যেক বার সাইকেল ভ্যান পাঠিয়ে দেয়। এই অন্ধকারে রাস্তা চেনাও দায়। সন্ধ্যা সাতটা তিপান্ন। ট্রেন থেকে নেমে খুব জল খেতে ইচ্ছে করলো। ব্যাগ থেকে জলটা বের করে দু ঢোক খেয়ে তাকাতেই দেখল সাকুল্যে কজন মাত্র যাত্রী। পুরো প্ল্যাটফর্মটা প্রায় অন্ধকার, যেন থমথমে নিঝুম পুরী। একটু দূরেই হটাৎ মনে হলো ওদের দিকে সাদা সাদা দাঁত বের করে মিশমিশে কালো কে যেন এগিয়ে আসছে হাসতে হাসতে। ছম ছম করে উঠলো গা টা। হ্যাঁ তাই তো ওদের দিকেই তো আসছে। --আরে এতো সলিল কাকা! --হ্যাঁ দিদিমুনি চিন্তি পেরেছো দিকচি, পেন্নাম দাদা বাবু, সেই তখন থেকে দাইরে আছি। টেরেন টাও আইজ দের কদ্দিলো। সলিল কাকার বক বক শুনতে শুনতে ওরা সাইকেল ভ্যান এর ওপর চেপে বসলো। জানেন দিদিমুনি, জানেন দাদা বাবু করতে করতে ঘুটঘুটে অন্ধকার রাস্তা দিয়ে ভ্যান এগিয়ে চললো বম্মার বাড়ি। কোথাও খড়ের গাদার খসখসানি তো কোথাও পুকুরের ছপাথ ছপাথ। কোনো রকমে রাস্তা ঠাওর করা যায়। মুখে চোখে মাঝে মাঝে ডালপালা এসে ঠেকছে। রিমা মাঝে মাঝে টর্চটা জ্বেলে দিচ্ছে।ঝিঁ ঝিঁ পোকা, জোনাকি আর শিয়াল ছাড়া সারা তল্লাটে কেউ নেই এই অন্ধকারে। তাতে অবশ্য সলিল কাকার কোনো ভ্রুক্ষেপও নেই। সাদা সাদা দাঁত সঙ্গে জ্বলন্ত চোখ উফ্ফ বম্মা আর লোকও পায়না। অবশেষে গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়লো গোটা কয়েক ঘর বাড়ি আর টিমটিম করে অদূরে কুপি জ্বলছে। যেন অদ্ভুত এক সিনেমার শুটিং চলছে, কি সুন্দর সমস্ত কিছু যেন সাজানো। দূর দূর পর্যন্ত এই একই দৃশ্য। (চার) বাড়ির কাছে পৌঁছতেই সলিল কাকার হাঁক ডাকে একখানা সাদা পাঠভাঙা থান পরিহিতা বম্মা নড়তে নড়তে বেরিয়ে এলো। সঙ্গে বাসন্তি মাসি, জগা দাদা, অজু কাকা। ক্যাঁচ ...কুচ ...ক্যাঁচ... কুচ ...আওয়াজ করে বাইরেই মালতি মাসি চাপা কল থেকে খাবার জল তুলছে। সলিল কাকা ভ্যান টা থামিয়ে দিয়েই পাতকুয়ো থেকে হাত মুখ ধোয়ার ঠান্ডা জল তুলতে শুরু করে দিলো। যেন এক সাজসাজ ব্যাপার। চতুর্দিকে কুপি জ্বলছে টিম টিম করে- উৎসব শুরু হয়ে গেছে হঠাৎ। --আয় আয় মামনি হাত পা ধুয়ে ভেতরে আয়, এস বাবা..এতদিন পর মনে পড়লো বম্মা কে! --কেমন আছো বম্মা, তোমার তো বয়স বাড়ছেই না! --নারে পাগলি শরীরের ভারে আর পারি না। আয় বস, একটু পরেই সব রান্না শেষ হয়ে যাবে ক্ষণ। খেয়ে নিবি। কাল সকালে সব কথা হবে। আজ অনেক রাত হলো। এতো আর কলকেতা শহর নয়! --হঠাৎ জরুরি তলব কেন গো বম্মা, কাল যাবে তো আমাদের সাথে ?কি রান্না করেছো বম্মা ? --দাঁড়া বাপু দাঁড়া, সে অনেক কথা। আজ আগে খেয়ে নে, মাছের মাথা দিয়ে ডাল, ঝুরো আলু ভাজা, বেগুন ভাজা, পুকুরের টাটকা তেল কই, পোনা মাছের কালিয়া, শেষ পাতে একটু চাটনি আর পাঁপড়। হবে তো তোদের বুড়ি!! --হবে না কিগো এ তো দৌড়োবে.... বলতে বলতে জগা দাদা আর অজু কাকা কলাপাতা নিয়ে ঢুকলো, বাসন্তি মাসির হাতে সুগন্ধি চালের ভাত। দু চামচে ঘি আর বড়ি ভাজা দিয়ে জমিয়ে খাওয়া শুরু হয়ে গেলো। বম্মা-মা, মাসি আর তাদের সব ছেলে মেয়ের খবর নিলো একে একে। সলিল কাকা হাতে করে মিষ্টি নিয়ে ঢুকলো ,যেন বিয়ে বাড়ি। আস্তে আস্তে সবার খাওয়া দাওয়া শেষ করে রিমারা শুয়ে পড়লো। পাশের ঘরে বম্মা আর দুটো বাইরের ঘরে বাকিদের শোয়ার ব্যবস্থা। কুপির আলো টা কমে এসেছে, চারদিকে আরো গাঢ় অন্ধকার। এতক্ষন ট্রেন জার্নির পর কখন যেন অঘোরে ঘুমিয়ে পড়েছে অরুনরা। (পাঁচ) খস খস শব্দে হঠাৎ রিমার ঘুমটা ভেঙে গেলো, ঘুম চোখেই তাকিয়ে দেখলো একজন ওদের ঘর থেকে তড়িঘড়ি বেরিয়ে যাচ্ছে। আবছা অন্ধকারের ঘুমন্ত চোখে যেন মনে হল বম্মা। আবার....ঝুপ করে একটা আওয়াজ ! ব্যাস! আবার সব চুপচাপ। এবার রিমা যেন একটু ভয় পেল, সর্ব শক্তি দিয়ে চেঁচাতে চেষ্টা করলো.... --অরুণ....অরুণ...অরুণ... --( ধড়ফড় করে উঠে) কি হয়েছে , কি হয়েছে.... রিমা ? --কাকে যেন দেখলাম ঘর থেকে বেরিয়ে গেল, অন্ধকরে কিছুই বুঝতে পারিনি, টর্চ টা জ্বালো, লম্পটা নিভে গেছে। খচ করে অরুণ টর্চটা জ্বালাতেই ভয়ে দুজনের হাত পা প্রায় পেটের ভেতরে সেঁধিয়ে গেলো! হালকা আলোতেও পরিষ্কার দেখলো যেন প্রাচীন... পোড়ো... কোনো একটা ঘরে ওরা শুয়ে আছে। চার দিকে মাকড়শার জাল। দম বন্ধ করা একটা সোঁদা সোঁদা গন্ধে এক্ষুনি প্রাণটা যেন বেরিয়ে যাবে। চারদিকে ঘিন ঘিন করছে সব পোকা মাকড়। কোনো রকমে দুজনে উঠে বসলো, চোখে মুখে ঝুল জড়িয়ে যাচ্ছে। স্যাঁতস্যাঁতে মাটি। হাতে ভিজে ভিজে কি যেন ঠেকলো। ওরা হাত ব্যাগটা নিয়ে একদৌড়ে ঘরের বাইরে। একি! একি! বম্মার ঘরের চিহ্ন মাত্র নেই, চাপ চাপ অন্ধকার। বাইরে কেউ কস্মিন কালেও শুয়েছে বলে মনে হয় না। চোখ দুটো একটু রগড়ে নিয়ে চাপা কল টা টিপে চোখে মুখে জল দিতে গিয়েই পুরো ঘুমের ঘোর টা কাটলো। দীর্ঘদিন ব্যাবহার না করা অবস্থায় হাতল ভেঙ্গে পড়ে আছে, ওপরে স্তূপাকৃত শুকনো নারকেল গাছের ডালপালা আর পাতকুয়োর দিকে যেতেই নির্জনতা খান খান করে দুজনেই একসঙ্গে মুখ থুবড়ে পড়লো, অরুণের চশমাটা সজোরে ছিটকে গেলো কুয়ো তলায়। মাথা দুটো সপাটে আছড়ে গিয়ে পড়লো খসে পরা সিমেন্টের চাঁইয়ের ওপর। রক্তারক্তি অবস্থায় মাটি থেকে টর্চ টা কুড়িয়ে নিয়ে দেখলো পাতকুয়ো তে জলের বদলে পোড়া পোড়া গাছের পাতা আর হিস হিস আওয়াজ। অসম্ভব ভয়ে ওদের হৃদস্পদন ক্রমশ তলানিতে। ভয়টা গলার কাছে দলা পাকিয়ে উঠছে। এই অবস্থায় কতক্ষন দৌড়েছিল কে জানে তবে থানায় যখন এসে পৌঁছলো তখন ভোর চারটে বেজে দশ। (ছয়) থানার বড়বাবু রনজয় ঘোষ সমস্ত ঘটনা শুনে তো চক্ষু চরক গাছ। --করেছেন কি মশাই। ইতণ্ডা গ্রামে রাত কাটিয়ে এলেন। আজ অন্তত দু বছরের বেশী তো কম নয়। কদলীবালা বাউড়ি নামে এক বৃদ্ধাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার পর ও গ্রামে ভয়ানক অতৃপ্ত আত্মার উপদ্রব শুরু হয়। একে একে বহু লোক আত্মহত্যা করে কেউ জলে ডুবে কেউ গলায় দড়ি দিয়ে। একের পর এক মৃত্যুতে গ্রামটা ক্রমশই উজাড় হতে থাকে। আদৌ কেউ নিজেরা করে নাকি করানো হয় তা আজ অবধি কেউ খুঁজে উঠতে পারেনি। তারপর যে কজন বেঁচে ছিলেন সবাই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। কেস টা এখন আমিই দেখছি। আর আপনারা যে বাড়ির কথা বলছেন হিসেবে বলছে ঐ বাড়ির ছ-ছ....জন একি দিনে পাতকুয়োতে ডুবে আত্মহত্যা করেছে, আর আমাদের রিপোর্ট অনুযায়ী তার মধ্যে একজন খুব বৃদ্ধা ছিলেন, আরো দুজন মাঝ বয়সী মহিলা তিন জন পুরুষ মানুষ। সব পরিচিত নামেই মামলা দায়ের.....করা। সলিল.....অজু........জগা.......মালতি...... বাসন্তি..!! নিস্পলক নয়নে রিমা বললো --আর বম্মা! অফিসার আমাদের একটু স্টেশনে দিয়ে আসবেন প্লিস.... জিপটা ড্রাইভারকে বের করতে বলে রনজয় বাবু ওদের নিয়ে এগিয়ে চললেন রাস্তার দিকে। সঙ্গে দুজন কনস্টেবলকে নিয়ে ভোর পাঁচটা তিরিশের ট্রেনটাতে ওদের ওঠার ব্যবস্থা করে দিলেন। সময় পাঁচটা বেজে কুড়ি।দিনের আলো ফুটছে। থানায় ফেরার সময় ড্রাইভার গোকুল বাবুকে বললেন --বুঝলেন না, কেস টা তো আমারই আন্ডারে। চলুন ইতন্ডার মুখ টা থেকে একটু ঘুরে আসি। --চলুন স্যার.. জিপ গ্রামের ভেতরে একটু এগোতেই, বিস্ফোরিত নেত্রে সবাই প্রচন্ড একটা আর্তনাদ করে উঠলো। ঠিক বম্মার বাড়ির সামনে পাতকুয়ো তলায় সেকি! এ..কি দেখছে ওরা!! চতুর্দিকে চাপ চাপ রক্ত যেন ভেসে যাচ্ছে, দুটো মানুষ মুখ থুবড়ে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। রক্তাক্ত মুখের যা চেহারা হয়েছে চেনবার জো নেই। হ্যাঁ ঠিকই তো দেখছে। একজনের তো চশমার কাঁচ ভেঙে চোখে ঢুকে মণিটা প্রায় বাইরে ঠিকরে গড়িয়ে এসেছে। আরো একটু সামনে আসতেই চোখের সামনে ফুটে উঠলো সদ্য রেল স্টেশনে ছেড়ে দিয়ে আসা দুটো লাশ একটা অরুণ অন্যটা মধুরিমার। পাশের ছোট্ট হাত ব্যাগটা থেকে বছর দুয়েক আগের তারিখের একটা চিঠির শেষ লাইনটা এরকম..... পুনশ্চ: "আমায় তোমরা এসে এখান থেকে মুক্ত করে নিয়ে যাও" ইতি- তোমাদের বম্মা। (সমাপ্ত) --------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...