Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/gj-con.php on line 6
জমিদার বাড়ির রহস্য পর্ব ৮

যারা একটি গল্পে অযাচিত কমেন্ট করছেন তারা অবস্যাই আমাদের দৃষ্টিতে আছেন ... পয়েন্ট বাড়াতে শুধু শুধু কমেন্ট করবেন না ... অনেকে হয়ত ভুলে গিয়েছেন পয়েন্ট এর পাশাপাশি ডিমেরিট পয়েন্ট নামক একটা বিষয় ও রয়েছে ... একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হলে তার পয়েন্টের ২৫% নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারপর ৫০% ৭৫% কেটে নেওয়া হবে... তাই শুধু শুধু একই কমেন্ট বারবার করবেন না... ধন্যবাদ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

জমিদার বাড়ির রহস্য পর্ব ৮

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (৩৫ পয়েন্ট)



জমিদার বাড়ির রহস্য পর্ব ৮ RN EFTY জহিরের কথা শুনে শুধু আমি নই বরং উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে গেল। রিও বললঃ হ্যা, মিস্টার জহির বলেন। আসলে আমার হাতে সময় কম। এবার জহির বলা শুরু করলঃ আসলে আমি ছোট বেলা থেকেই প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে অনেক আগ্রহী ছিলাম। এর পর একদিন বাবার কাছে থেকে জানতে পেলাম আমাদের পুর্ব পুরুষের ইতিহাস। তখন তিনি এও বলেছিলেন তাদের ধারনা ছিল যে, এই জমিদার বাড়িতে অনেক গুপ্ত ধন লুকিয়ে রাখা আছে। কিন্তু সেটা কোথায় কেউই জানে না। এরপর আমি আমার বাবার থাকা কিছু ডাইরি থেকে জানতে পারি, আমাদের পুর্ব পুরুষ মিস্টার জোসিফ আর জিহান দুই ভাই। জিহান ছিল বড়। সম্পদের লোভে জিহান তার ছোট ভাই জোসিফ কে খুন করার প্ল্যান করে। কিন্তু জোসিফ সেটা বুঝে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এদিকে তিনি কয়েক বছর বরিশাল পালিয়ে থাকেন। তারপর তিনি যশোর এসে স্থায়ী ভাবে বসবাস করে। আর জিহান ভেবেছিল জোসিফ মারা গিয়েছিল। এদিকে জিহানের ছেলে ছিল একজন এবং সেই ছেলের একমাত্র মেয়ে হল মিসেস রাজভি। তার মানে জমিদারির একমাত্র বৈধ মালিক বলতে আমি আছি। কারন আমিন জোহান জমিদার বংশের কেউ নয়। নিতান্তই এটা তার নানা বাড়ি। বাবা যদিও কখনো এখানে আসেননি। তারপরও তিনি নিয়মিত জমিদার বাড়ির খোঁজ খবর রাখতেন। এরপর বাবা মারা যান গত বিশ বছর আগে। তখন আমি প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে আবার লেগে পড়ি। এরপর একদিন বাবার ডাইরি পড়ে জানতে পারি তিনি বার বার লিখেছেন,, তার ধারনা জমিদার বাড়িতে কিছু একটা লুকিয়ে রাখা আছে। কিন্তু সেটা কি বা কোথায় তিনি কিছুই জানেন না। শুধু উল্লেখ করেছেন, পুর্ব পুরুষের ডাইরিতে বার বার লেখা আছে, গুপ্ত ধনে ভয় আছে। এরপর চলে আসলাম এখানে। পরিচয় হয়ে গেল কর্নেল জোহানের মেয়ের সাথে। কিছু দিনের মাঝে বিয়ে করে ফেলি। কারন আমি জানি আমার পরিচয় দিলে। হয়ত এরা কেউ মেনে নিবে না। তাই বিয়েটা করতে হয়, যাতে জমিদার অবাধ গমনের কোন বাধা থাকে না। কিন্তু কোন লাভ হল না। গত পনের বছর ধরে অনেক চেষ্টা করেও গুপ্ত ধনের হদিশ পেলাম না। এদিকে আমার কার্য কালাপে মিসেস জোহান আমায় সন্দেহ করা শুরু করেন। হয়ত আমার পিছে লোক লাগিয়ে তিনি আমার পরিচয় পেয়ে যান। তাই তিনি আমায় সব সময় চোখে চোখে রাখতেন। আমি বিষয়টা বুঝে তাকে আমার পরিচয় দেই। আমি এও বলে ছিলাম আমি জমিদার বাড়ির কিছু চাইনা। চাই শুধু চাই জমিদার গুপ্ত ধনের সন্ধান। তিনি প্রথমে রাজি হলেন। কিন্তু পরক্ষনে যখন বললামঃ গুপ্ত ধন খুজে পেলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। তখন তিনি বললেনঃএটা তার বাপ দাদার সম্পদ। তিনি কেন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিবেন। অনেক বুঝিয়েছি এটা জনগনের সম্পদ। এখন রাষ্ট্রর প্রাপ্য। কিন্তু তিনি রাজি হলেন না। ইভেন কোন রুপ সাহায্য তো দুরের কথা আমি জমিদার বাড়িতে আসলে সেটাও ভাল ভাবে নিতে পারতেন না। কিন্তু মিস্টার রিও,,,আমি প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে অনেক পড়েছি। তাই আমার ধারনা, এই বাড়িতে সোনা দানা কিছু নেই। আছে অন্য কিছু। রিও এবারঃ তিব্বত থেকে আনা মুর্তিতো? চিতকার করে বললঃইয়েস। এক একটা মুর্তির দাম হবে কয়েক কোটি টাকা। ঠিক কত গুলো মুর্তি আছে সেটা আমি জানি না। অনেক বার প্ল্যযান করেছি মিসেস জোহানের ঘর থেকে কিছু ডাইরি চুরি করার জন্য। কারন আমার ধারনা, গুপ্ত ধনের হদিস একমাত্র এই ডাইরিতেই আছে। কিন্তু বিফল হলাম। শেষমেষ ভিন্ন প্ল্যান আটলাম। রিও বললঃ ভুতের নাটিকাটা অনেক জোশ ছিল কিন্তু মিস্টার জহির। _কি আর করার ছিল? আমার কাছে দুটি উপায় একটা হল ডাইরি হাতানো। অন্যটা মিসেস জোহান কে বাড়ি থেকে বের করানো। তাই টাকার লোভ দেখিয়ে দারোয়ানকে দিয়ে একটা ভুতের গল্প এলাকায় প্রচার করে দিলাম। এমনিতে জমিদার বাড়ি, তারপর গ্রামের লোক, সবটা মিলে অল্পতেই আমার কাজ হাসিল। মাঝে মাঝে ভয় দেখানোর জন্য লেজার, আর বাঘরে গর্জন শোনানোর জন্য টেপরেকর্ডার যথেষ্ট ছিল। আর একটা জিনিস আপনি নিশ্চয় জানেন মিস্টার রিও, নিজের মনের মাঝে যদি বিন্দু মাত্র ভয় থাকে। তাহলে আপনাকে ভয় দেখানো পুরোটাই নসসির ব্যাপার। মালি আর কাজের লোকের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা বেশ কাজে দিয়েছে। অবশেষ প্ল্যযান যখন পুরো সাক্সেস। তখন এক রাতে করে চলে আসলাম ডাইরি চুরি করে নিতে। দারোয়ান আমার সাথে ছিল। কিন্তু ঘরে ঢুকতেই দেখলাম মিসেস জোহান একটা লোকের সাথে বেশ উত্তেজিত ভাবে কথা বলছেন। আমাকে দেখে তাদের আলাপ বন্ধ হয়ে গেল। তবে দুর থেকে যা শুনে ছিলাম। তাতে মনে হয়েছে এই লোকটার সাথে মিসেস জোহানের একটা অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এবং সেটা অল্প বয়স থেকেই। তিনিও আমার মত গুপ্ত ধন খুজছিলেন। কিন্তু মিসেস জোহান ডাইরি কেউকে দিতে রাজি নয়। কিন্তু আমি জানতাম ডাইরিটা কোথায় রাখা আছে। তাই একটা দেরাজ থেকে যখন আমি ডাইরি বের করতে উদত্য তখন মিসেস জোহান আমাকে বাধা দিলেন। ডাইরি দেখে সিংহের মত গর্জন দিয়ে লোকটি আমার পিঠের উপর লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন। ভাগ্য ভাল আমি সরে যেতেই আঘাতটা পড়ল মিসেস জোহানের পিঠে। মুখ দিয়ে শব্দ করার সময়ও পেলেন না তিনি। মারা গেলেন মিসেস জোহান। এবার রিও বললঃআঘাতটা কি চেয়ারের হাতল দিয়ে করা হয়েছিল? _জি, কি ভাবে বুঝলেন? _সেটাতো প্রথম দিনেই বুঝেছিলাম। কারন হাতলেই একমাত্র চারটা আংগুলের মত একটা নকশা ছিল। আর সেটা যে চেয়ার থেকে বের করা যায় সেটা বুঝেছিলাম যখন ওটা ধরে পরিক্ষা করেছিলাম। কিন্তু মালি সাজেদ সাহেবকে আপনি কেন রক্ষা করতে চাইলেন? _______ আমার বুক ধপাশ। কি বলে ভাগিনা। বৃদ্ধ মালি সাজেদ তাহলে এই খুন করেছে? জহির বললঃআসলে আমার খুন নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা ছিল না। খুনের পর সাজেদ আমার হাত পা জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না কাটি করেছিল। তাই তার উপর আমার দয়া পড়ে গিয়েছিল। কেননা, মিসেস জোহান সারা জীবন লোকটা কে গুপ্ত ধনের আশা দেখিয়ে নিজের কাজে ব্যাবহার করেছেন। আর এই বুড়ো বয়সে, তাকে এখন মালি বানিয়ে রেখেছে। জহির থামলেন। এত মানুষ এক সাথে দাড়িয়ে থাকার পরও চারিদিক যেন নিরাবতাই ছেয়ে আছে। রিও বললঃহুম। তবে জানেন কি মিস্টার জহির, খুন করা আর খুনিকে সাহায্য করার মাঝে তেমন পার্থক্য নেই। এবার দেখলাম ওসি সাহেব জহির আর সাজিদ কে গ্রেফতার করল। যাবার আগে জহির বললঃমিস্টার রিও, যে সম্পদের খোজ আমি গত ১৫ বছরে পাইনি। আর আপনি সেটা দুই দিনেই বের করে ফেললেন। একটু জানার ইচ্ছা ছিল কি করে পারলেন? _হা হা হা,, মিস্টার জহির। আগে মামা বাড়ি থেকে ঘুরে আসুন। তারপর না হয়, একদিন আলোচনা করা যাবে। চলবে…… [আগামী পর্বে সমাপ্ত] [অনিচ্ছাকৃত বিলম্বের কারণে পাঠকদের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।] #কানাবেল


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বটতরুর তিথি - পর্ব ৫
→ বকুলের গার্লফ্রেন্ড এর বিয়া পর্ব-১
→ স্বপ্নামী পর্ব ৬ (টোনাটুনি)
→ সাদ ও নিশানের গল্প পর্ব - ৪
→ চাষাড়ে বুদ্ধি প্রথম পর্ব(সাথে একটি ধাধা)
→ দ্যা ব্লাক বুক(৩য় পর্ব)
→ দ্যা ব্লাক বুক(২ পর্ব)
→ Killer পর্ব-২
→ *ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ!!! পর্ব -১
→ killer পর্ব-১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...