গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

পেয়াজু

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (৮৩ পয়েন্ট)



-কি করছ? -পেয়াজু ভাজি, -তাই! পারো তুমি? -তেমন ভাল পারিনা,তবে পারি। আচ্ছা, তুমি পেয়াজু পছন্দ করো তো? ফরহাদ একটু চুপ করে থেকে উত্তর দিল, -আমি ভাজা পোড়া জিনিস তেমন একটা খাইনা। -এটা কেমন কথা? -হ্যাঁ, সাস্থ্যর জন্য খারাপ তো! -এজন্য খাবানা? আমার তো খুব ভাল লাগে। -ভাল লাগলে তুমি খাবা,আমি দেখবো। -আচ্ছা, এক কাজ করবা তুমিও এখন থেকে অল্প অল্প করে ভাজা পোড়া খাবা? -আচ্ছা, -ইফতারের সময় থাকে তো? -হ্যাঁ মেসে নিয়ে আসে। সবার জন্য এক পিস করে। -তোমার টা কাকে দেও? -আমার রুমমেট খায়, -আর ওকে দিবানা, তুমি খাবা। -হুম, -ঠিকাছে। আচ্ছা,কেন জানি পিয়াজু ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। রাখছি। -আচ্ছা, রাখো। রিধি ফোন রেখে পেয়াজু ভাজার দিকে মনোযোগ দিলো। এটা বেশ কঠিন লাগছে, একটু আগেও সোজা মনে হয়েছিল। ও ভেবে রেখেছিল ভাল করে পেয়াজু ভাজা শিখে নিয়ে একদিন ফরহাদের জন্য কিছু নিয়ে যাবে। ফরহাদ অবাক হবে। তবে ফরহাদ যে পেয়াজু খায়না, এজন্য একটু মন খারাপ হয়েছে রিধির। এখন আর পেয়াজু আগের মত হচ্ছেনা, সব গুলোই ভেঙে যাচ্ছে।রিধি আর পারল না,ডাক দিল, -আম্মু, এসে ভাজো। আমি আর পারব না। ভাল্লাগছে না। ওর মা কিচেনে এসে বলল, -এখনি না বললি তুই করবি? -এখন ভাল্লাগছেনা, -আচ্ছা, যা তাহলে। রিধি কিচেন থেকে সরে এসে ওর ঘরের জানালার পাশে দাঁড়ালো। ওর চোখ ভিজে গেছে, কান্নার কিছুই হয়নি তবুও ও কেন কাঁদছে? একটু পর আজান দিবে, তবুও রিধি আরেকবার ফরহাদ কে ফোন দিল। ফরহাদের ফোন বন্ধ। রিধির মন খারাপ আস্তে আস্তে বাড়তে লাগল। ইফতারের আগে আগে ফরহাদের ফোন বন্ধ থাকে, এটার কিছু কারণ আছে। তবে প্রধান কারণ ফরহাদের মা। উনি ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করবে ইফতারে কি কি খেলি? তখন বেশ কিছু মিথ্যা বলতে হবে, রিধিকে খুব সহজেই মিথ্যা বলা যায়, কিন্তু রোজা রেখে কোন ভাবেই ফরহাদ মাকে মিথ্যা বলতে পারেনা তাই ফোন বন্ধ রাখে। মেসের ইফতার খুব যে খারাপ তা নয়। বুট আর মুড়ি। তবে মা যদি শোনে বলবে,বুট আর মুড়ি দিয়ে কিভাবে ইফতার হয়। মাকে কিছুই বোঝানো যাবেনা। এখানে সবাই সমান নয়। ইফতার শেষ করে ফরহাদ বাসায় ফোন দেয়। -হ্যালো মা, -তোর ফোন অফ ছিল কেন? -ইফতারীর সময় ফোন খোলা রেখে কি করব? -ও,ইফতার করলি? -হ্যাঁ,করেছি। -কি খেয়েছিস? -কি খাবো? যা সবাই খায় তাই।তোমরা খেয়েছ? -হ্যাঁ,খেয়েছি। -কি খেয়েছ? -তুই যা খেয়েছিস, তার চাইতে ভালো। -আচ্ছা তুলি কোথায়? -পড়ে। -ওকে বলে দিও,ওর জামার জন্য চিন্তা না করতে। ও যেমন চায় তেমনই নিয়াসবো। -আচ্ছা।আগের বারের মত আমার আর তোর বাবার জন্য কিছু আনার দরকার নেই, আমাদের অনেক আছে। ফরহাদ কিছু বলেনা। ও জানে ওদের বাসার অবস্থা। মায়ের বলা মিথ্যা কথা গুলোও বোঝে। মাকে কিছুই বুঝতে না দিয়ে শুধু বলে, -আচ্ছা, মা রাখি। টিউশনি আছে। -আচ্ছা। টিউশনি ৮ টায়। ফরহাদ আধাঘন্টার মত বিছানায় শুয়ে থাকে। সারাদিন বেশ ধকল যায়। এসময় ওর অনেক কিছুই মনে পরে। মার কথা,বাবার কথা,তুলির কথা,রিধির কথা। বাসার কথা মনে পড়তেই চিন্তায় ডুবে যায় ফরহাদ, বাসায় অনেক সমস্যা। তবুও মা সব সময় আল্লাহর উপর ভরসা করে। ভরসা করে ফরহাদ ও।তাই তো এখনো লড়ে যাচ্ছে সব কিছুর জন্য। তবে রিধির কথা মনে পরতেই ফরহাদ সব সমস্যার কথা ভুলে যায়। হয়ত মেয়েটা রাগ করে আছে। রিধি অবশ্য অল্প কিছুতেই রাগ করে। রিধির কিছু চাওয়া নেই, ও শুধু চায় ফরহাদ ওর কথা শুনে চলুক এটুকুই। টিউশনি শেষ করে ফিরতে বেশ দেরী হয়ে যায় ফরহাদের। ইদানিং ও একটু বেশি সময় দিচ্ছে। কদিন পরেই ঈদের ছুটি,এসময় পড়ানো বন্ধ। তাই এখন একটু বেশি পড়িয়ে পুষিয়ে দিতে হবে। তাছাড়াও বেতন টাও পাবে এখন। মেসে ফিরে বিছানায় শুতেই রিধির কথা মনে পড়ে। ফরহাদফোন দেয় রিধিকে। রিধি যে মন খারাপ করে আছে এটা খুব ভাল করেই জানে সে। রিধি বসে গান শুনছিল। ওর মন খুব খারাপ, খারাপ মন ভাল করার জন্য ওর ওষুধ গান। গান শোনার মাঝেই ফোন টা বেজে উঠে। ফোন হাতে নিয়ে ও দেখল, ফরহাদের কল। একটু রাগ লাগল রিধির। এই ছেলেটা কেন ফোন দিয়েছে? ধরবেনা ধরবেনা করেও শেষে ফোন ধরল, -কি করছ রি? -কিছুনা, -তোমার ভাজা পেয়াজু কেমন হয়েছে? -ভাজিনি, -কেন? -এমনি,ভাল্লেগেনা। -কিন্তু আমি তো পেয়াজু খাওয়া শুরু করেছি। -সত্যি, -হ্যঁ,,, তোমার হাতের পেয়াজু খাওয়ার খুব ইচ্ছা করছে। -আচ্ছা, কাল সন্ধ্যায় শাহবাগ এ এসো, -কেন? -তোমার জন্য পেয়াজু ভেজে নিয়ে যাবো। -আচ্ছা, -আর শোন,কাল ইফতারে অল্প করে খাবা। ঠিকাছে, -হুম, ঠিকাছে।রাখি রি। -রাখো। রিধির মন ভাল হয়ে গেছে, ও ফোন রেখে ওর মায়ের ঘরের দিকে ছুটলো। মাকে বলতে হবে, -কাল যেন ওকে ভাল করে পেয়াজু ভাজা শিখিয়ে দেয়। বিছানায় শুতেই ফরহাদের চোখ বন্ধ হয়ে আসে। হারিয়ে যায় ঘুমে। ঘুমের মাঝেই স্বপ্ন দেখে,রিধি শাড়ি পড়ে আছে। সেই শাড়ির আচল কোমরে গুজে ও পেয়াজু বানাচ্ছে। কিন্তু সেই পেয়াজু বার বার ভেঙে যাচ্ছে। যতই চেষ্টা করছে রিধি কোন ভাবেই পেয়াজু জোড়া লাগছে না। কোন ভাবেই না, সব ভেঙে যাচ্ছে, ঠিক ফরহাদের স্বপ্ন গুলোর মত। হুট করে ফরাহদের ঘুম ভেঙে যায়। বেশ গরম লাগছে ওর, কারেন্ট গেছে,ফ্যান অফ। ও জানালা দিয়ে বাহিরে তাকায়। কত সুন্দর বিশাল আকাশ! ও নিজেই মাঝে মাঝে আকাশ হতে চায়, বিশাল আকাশ।যার কোন ধরা বাধা নেই। যার সীমানা নেই কোন। তবে তা সম্ভব নয়, মানুষের সীমানা থাকে। বাধা ধরা সীমানা। এটুকুর মধ্যই তাকে বাঁচতে হয়,সুখ খুঁজতে হয়, আবার ভাল ও থাকতে হয়। অভিনয় করে হলেও ভাল থাকতে হয়। . . . -নাহিদ পারভেজ নয়ন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...