Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/gj-con.php on line 6
বন্ধুবান্ধব-০৮

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

বন্ধুবান্ধব-০৮

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (৩৩ পয়েন্ট)



আজ আমার দাদা বেঁচে নেই। আমার অভিনয় তিনি দেখেননি। আমার টুকটাক বাঁশি বাজানোও তিনি দেখেননি। দেখতে পারলে আমার আজ অনেক ভালো লাগত। আনন্দে হয়তো চোখ ভিজে যেত। জীবনে প্রথম ঢাকায় যখন আসি বয়স তখন ৬/৭। দাদার হাত ধরেই এসেছিলাম। আরিচা ফেরিতে বসে দাদা আমাকে ৮টা ডিম খাইয়ে ছিলেন। ডাব খেয়েছি ৩/৪টা। যা খেতে চেয়েছি দাদা সব খাইয়েছেন। আরিচা ঘাট পার হলেই দাদার কথা মনে পড়ে। শিশুপার্কের সামনে গেলে দাদাকে মনে পড়ে। আজ আমার দাদা বেঁচে থাকলে তাকে নিয়ে গাড়িতে চড়ে ঘুরতে পারতাম। তার অজানা অনেক জায়গায় আমি নিয়ে যেতে পারতাম। তিনি যা খেতে চাইতেন তাই খাওয়াতাম। আসলে জীবন এটাই- যা ভাবি তা হয় না, যা ভাবি না তাই হয়। আমার প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে ঠিক করলাম মালয়েশিয়া যাব। গেলাম মালয়েশিয়া। প্রায় ১৪ দিন আমরা ঘুরব বলে ঠিক করলাম। সময়মতো আমরা গেলাম, অনেক মজা করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলাম। কুয়ালালামপুর, বোনাং, লাংকাউ এরকম কয়েকটি জায়গায় আমরা ঘুরলাম। লাংকাউতে আমার অনেক ভালো লাগল কারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এত সুন্দর হতে পারে চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না। অনেক বাংলাদেশী মানুষের সাথে দেখা হলো, কথা হলো। আমরা অজানা অচেনা অনেক মানুষের সাথে কথা বললাম। দাওয়াত খেলাম। বিদেশে বসে দেশী মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হলাম আমরা। আমার বউ আমাকে বলল, নাটক করে যে অনেক মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় সেটা তোমার সাথে ঘুরতে না আসলে বুঝতাম না। অপরিচিত জায়গা অনেক পরিচিত হয়ে গেল দেশী মানুষের সহযোগিতায়। বাসে ঘুরলাম, ট্রেনে ঘুরলাম, কত কম টাকায় যা এই সহযোগিতা ছাড়া হতো না। একদিন আমরা কয়েকটি দ্বীপ ঘোরার জন্য মনস্থির করলাম। ৫ ঘণ্টার ঘোরাঘুরি। প্রতিটি দ্বীপে ঘুরেফিরে বিশ্রাম নিয়ে বেশ মজাতেই দিনটা কাটছিল। সুন্দর একটা দ্বীপে ঘুরছি, তখন চুমকি বলল চলো কোক খাই। দ্বীপের মাঝখানে ছোট্ট একটি দোকান। সবাই ভিড় করে খাবার দাবার কিনছে। আমরাও কোক কিনে যখন দাম দিতে যাব তখন তামিল চেহারার একজন মানুষ যিনি বিক্রি করছিলেন তিনি টাকাটা না নিয়ে ইশারায় বললেন একটা জায়গায় গিয়ে বসতে। একটু অবাকই হলাম। সবাই টাকা দিচ্ছে লোকটি নিচ্ছে কিন্তু আমরা দিলাম আমাদেরটা নিল না। আমরা কি কোনো অপরাধ করলাম? কিছুক্ষণ পর লোকটি এলো। অবাক বিস্ময় নিয়ে লোকটির দিকে তাকালাম কারণ লোকটি বাংলায় আমাদেরকে বলল, সাব্বির ভাই কেমন আছেন? আমরা অবাক হলাম, বিস্মিত হলাম কারণ লোকটি অবিকল শ্রীলংকানদের মতো দেখতে। ১০ মিনিটের মাথায় লোকটির সাথে খুব খাতির হলো এবং তিনি বললেন, দেশী মানুষের কাছ থেকে কী করে টাকা নেই বলেন? আপনিতো অতিথি। আমি একটু লজ্জাই পেলাম কারণ লোকটি অনেক বিনয়ী, ভদ্র এবং আবেগপ্রবণ। লোকটিকে বললাম, ভাই দেশে যাবেন কবে? বলল যেতে তো চাই কিন্তু অনেক খরচ। সবাই মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ভাবে আমার তো অনেক টাকা। কিন্তু এই দেশে অনেক খরচ। দেশে ২ মাস অন্তর টাকা পাঠাই। একবার ঘুরতে গেলে অনেক খরচ হয়। ৫ বছর হয় দেশে যাই না। তারপর যে ঘটনাটি ঘটল সেটি একদমই অপ্রত্যাশিত। লোকটি হাউমাউ করে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। বলল, ভাই মাকে খুব মনে পড়ে। কতদিন মাকে দেখি না। আমাকে জড়িয়ে ধরল। তখন আমার চোখ জলে ভিজে উঠল। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। আড়চোখে দেখি চুমকি ওর আইলেশ ঠিক করছে। আমি ভাবি, ও কি আসলে আইলেশ ঠিক করছিল নাকি আমার মতোই চোখের পানি সরিয়ে দিচ্ছিল? প্রশ্নটা কোনোদিন ওকে করিনি। লাংকাউয়ের একটা ছোট্ট দ্বীপ সেদিনের সেই স্মৃতি আজও আমাকে ভাবায়। মনে করিয়ে দেয় অজানা অচেনা জায়গায় একজন মানুষের সাথে পরিচয়ের পরও লোকটিকে অচেনা মনে হয়নি। মানুষ পৃথিবীতে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি যে কাজটি পারে সেটা হলো ভুলে যেতে। আমিও ভুলে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারিনি। কারণ মাকে ভুলে যাওয়া যায় না। অচেনা অনেক মানুষের ভিড়ে একজন মানুষকে ঠিকই চেনা যায়। মাকে চেনা যায়। আমি লেখার শুরুতে বলেছিলাম মৃত্যুর ১ দিন পর যদি বিধাতা ৫ মিনিট সময় দিত তাহলে কত মজা হতো? আমি মজা করতে চাই না আমি ৫ মিনিট কথা বলতে চাই। আমার মায়ের সাথে কথা বলতে চাই। কত জায়গায় যাই, কত মানুষের সাথে মিশি, কত যে দৃশ্য চোখে ভাসে, রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ভাবি কাল সকালে আর যদি উঠতে না পারি আমার চাওয়াটা কী সত্যি হবে। কত কত মানুষের ভিড়ে নিজেকে আবার হারিয়ে ফেলব না তো? সত্যি এত প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজে পাই না। অচেনা দেশে এক অচেনা মানুষ হয়ে আমি ঘুরে বেড়াই। স্মৃতি আমাকে ভবিষ্যতের পথে হাঁটতে শেখায়। আমার সন্তানের আঙুল ধরে অনেক দূর হেঁটে যেতে চাই মাইলের পর মাইল। সন্তানের কথাই যখন এলো আরেকটি ঘটনা বলি- আমার সন্তানের জন্মদিন ১১ নভেম্বর ২০০৬। তখন দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ। চারিদিকে মিছিল-মিটিং, হরতাল, অবরোধ কত কী। অবরোধের মধ্যেই পৃথিবীতে এলো আমার সন্তান। আমার বাবা-মা চুমকির মা, ভাইবোন সবাই হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে। আমিও সেদিন প্রচণ্ড পেটের ব্যথা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছি। আমার অ্যাপেন্ডিসের ব্যথা। পরে অপারেশন হয়েছিল। লাক্স-চ্যানেল আই-র দুবাই যাওয়ার কথা সেটাও হলো না। ঈশিতার সাথে একটা নাচের রিহার্সেলও করেছিলাম। ঈশিতা খুব মন খারাপ করেছিল। পরে আবার মন ভালো হয়েছিল আমার সন্তান হবার খবর পাবার পর। যাই হোক হাসপাতালে আমি প্রচণ্ড টেনশন নিয়ে, যখন দৌড়াদৌড়ি করছি তখন অপারেশন থিয়েটারের সামনে আমার সমস্ত আত্মীয়-স্বজন অপেক্ষা করছে। কিন্তু আমি ভয়ে সেখানে যাই না। কিসের ভয়, কেন ভয় আমি জানি না। সন্তান পৃথিবীতে আসার আগে বাবাদের কী এই ধরনের ভয় হয়? আমি ঠিক জানি না। আমি ভীত হয়ে দূরে বসে আছি। কিছুক্ষণ পর দূরে শুনলাম, সিস্টার মীর সাব্বিরকে ডাকছে। আমি কাছে যাই না। আমার বড়বোন দীবা আপু চিৎকার করে বলছে- সাব্বির তোর ছেলে হয়েছে, ছেলে হয়েছে। আমি অনেক ভয়ে কেমন যেন কুঁকড়ে গেলাম। সবাই আমার সন্তানকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে গোল হয়ে। একটু পেছনে দু’পা উঁচু করে দাঁড়িয়ে দূর থেকে আমার সন্তানকে দেখতে লাগলাম। তারপর কি পরম ভালো লাগায় সিস্টার আমার সন্তানকে আমার কোলে তুলে দিলেন। বুকের ভেতরে নিয়ে যখন ওকে জড়িয়ে ধরলাম আমার সমস্ত ভয় শেষ হয়ে গেল। দুচোখে অনুভব করলাম কেমন যেন ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে। আমি কি কাঁদছিলাম তখন? জানি না, তবে সাহসী বীর মনে হলো আবার, আমাকে। আমার ছেলে আর আমি। যুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমরা দুজন আর পৃথিবীর অন্যরা সবাই একসাথে ‘নো প্রবলেম। ’আমি মনে মনে একথা যখন ভাবছি তখন দেখলাম আমার আব্বা আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। আমার সন্তান আমার বুকের মধ্যে, আর পেছনে আমার বাবা। আমার মনে হলো আমি আরও অনেক বেশি শক্তিশালী, অনেক বেশি সাহসী। কারণ আমার সামনে আমার সন্তান, মাঝখানে আমি আর পেছনে আমার বাবা। এর চেয়ে বড় সত্য আর কী হতে পারে? এর চেয়ে বড় সাহস আর কী হতে পারে? ‘শেকড়ের টান বড় মারাত্মক, শেকড়ের টান বড় ভয়ঙ্কর মায়া।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...