গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

বন্ধুবান্ধব-০৭

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (৮৩ পয়েন্ট)



কিন্তু আমার মনে শমী কায়সার হয়ে রইলেন স্বপ্নের দেবী। উনি চলে আসার পর আমি শয়নে-স্বপনে শমী কায়সারকে দেখি। তার ভিউকার্ড জোগাড় করি, তার নাটক থাকলে সন্ধ্যার পড়াশোনা বন্ধ করি। মোটামুটি উন্মাদ হয়ে গেলাম। খেলাঘরের সেক্রেটারি চিত্তদার কাছ থেকে পান্না কায়সারের বাসার ঠিকানা জোগাড় করলাম। তারপর যেটা করলাম সেটা একেবারেই সিনেমা। চার পাতার একটি চিঠি লিখলাম শমী কায়সারকে। শুরুটা ছিল এমন- শ্রদ্ধেয় শমী আপু, পত্রে আমার সালাম নিবেন। আশাকরি আম্মুকে নিয়ে ভালোই আছেন। আমার নাম সাব্বির। ঐ যে টাউন হলের নিচে সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে কথা হয়েছিল। আমার গায়ে নীল রঙের শার্ট পরা ছিল। আপনি বলছিলেন ঢাকায় এসে যোগাযোগ করতে… শেষটা যতদূর মনে পড়ে… আপু আমি আপনার ছোট ভাই। যদি আমাকে আপনি ছোটভাই হিসেবে গ্রহণ করেন তাহলে ১ পাতার একটা চিঠির উত্তর দিয়েন। আমি সারাজীবন আপনার কথা মনে রাখব। আমি আপনার উত্তরের আশায় আগামী তিনদিন পর থেকে পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করতে শুরু করব। ইতি আপনার প্রাণপ্রিয় ছোটভাই খেলাঘরের বন্ধু সাব্বির। এরপর থেকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে আমাদের পোস্ট অফিসে পোস্টমাস্টার কালাম ভাইকে বললাম ঢাকা থেকে শমী কায়সারের চিঠি আসবে। আমি বাসায় না থাকলে আপনার কাছে রেখে দিয়েন। বাসার মুরব্বিদের কাছে আবার দিয়েন না, একটু সমস্যা আছে। কালাম ভাই বলল ঠিক আছে। দিন যায় মাস যায় বছর যায় ইস্কাটন থেকে কোনো চিঠি আর আসেনি। শমী কায়সার বুকের গহীনেই রয়ে গেল। মাঝে মাঝে এখনও ভাবি শমী কায়সার যদি ২ লাইনের কোনো একটি চিঠিও দিত খুব ভালো লাগত। কত চেনা কত কাছের একজন মানুষ শমী কায়সার। কতবার তার সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে কিন্তু কথাগুলো বলা হয়নি। চেনা মানুষ আপন মানুষ অথচ অচেনা কত দূরের। মাঝে মাঝে ভাবি একটা নাটকে যদি একসাথে কাজ করতে পারতাম? তাহলে ২০ বছর পর আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে আনন্দ আলোতে আর একটা লেখা লিখতে পারতাম। সবাই বলে জীবন খুব অল্প সময়ের। এই এক জীবনে দেখার কত কী আছে। আবার অনেকে বলে কিছুই দেখতে পারলাম না। কত কিছুই করার ছিল? শুধু পাওয়া আর না পাওয়ার দোলাচল। আমি বাস্তববাদী, আবার অনেকটা স্মৃতিকাতর। চলার পথে কত স্মৃতি যে মাথায় ভোঁ ভোঁ করতে থাকে। ভাবি যেটা মনে পড়বে সেটাই লিখে ফেলব। অনেক উদ্যম, অনেক উৎসাহ নিয়ে ভাবি কিছু একটা করব। কিন্তু কিসের কি? সব ভুলে যাই। জীবন বোধহয় এমনই, ভুলে যাওয়া আবার মনে পড়া। যেমন এখন আমার খুব দাদা-দাদীর কথা মনে পড়ছে। আমার বটগাছ ছিল আমার দাদা দাদী। কত মার যে খেয়েছি আমার বাবার। সব দাদা উদ্ধার করত। এমনও হয়েছে দাদা পারলে আমার আব্বাকে মারে। আমার আব্বার অনেক রাগ ছিল। এখন নেই। এখন মাঝে মাঝে আব্বাকে দেখে মনে হয় আমার দাদা। আমার ছেলেকে আমি মারব না কখনও কিন্তু আমার বাবা কেন জানি মনে হয় আমার সন্তানকে সবসময় আগলে রাখবে, উদ্ধার করবে ভালোবাসা দিয়ে। দান প্রতিদানের মতো। একবার হঠাৎ ইচ্ছে হলো বাঁশের বাঁশি বাজানো শিখব। সুর যে কীভাবে আমাকে টানে আমি জানি না। অনেক কষ্টে বাশি জোগাড় করলাম। বরগুনার মনোয়ার ভাই, মিঠুদা এদের কাছে বাঁশি বাজানো শিখতে শুরু করলাম। সেকি প্রাণান্ত চেষ্টা। আমার দাদা দেখেছে। কিন্তু আব্বা দেখেনি। কারণ আব্বা বাসায় থাকলে জীবনেও এ চেষ্টা আমি চালাইনি। কারণ বাঁশ আমার পিঠ ভেদ করে সুর হয়ে যেত। রক্তাক্ত সুর। আমার মা ‘নো প্রবলেম’ যত কিছুই করি কোনো কিছুই বলে না। শুধু বলত পড়াশোনাটা ঠিকমতো করো কারণ তাদের আশা আমি অনেক বড় ডাক্তার হব। কেননা আমি সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করি। আমার সায়েন্স যে কী সেটা তো কেবল আমিই জানতাম। সুর, গান, নাটক, কবিতা এই সায়েন্স ছাড়া কোনো কিছুই মাথায় ঢোকে না। আমি প্রতিদিন সকাল বিকাল চান্স পেলেই বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে প্র্যাকটিস চালিয়ে যাচ্ছি। ভাবখানা এমন আমার বাঁশির সুরে অনেক মেয়ে পাগল হয়ে আমার পেছনে ঘুরবে। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো অনেক ইঁদুর আমার পেছনে দৌড়াবে। আমার কত ভাব হবে। যাই হোক আমার দাদা একদিন এমন এক আশীর্বাদ দিলেন আমি ভড়কে গেলাম। দাদা বললেন, ‘তুমি যা বাজাইন্যার চেষ্টা করতে আছো হেইডা না বাজাইয়া চুঙ্গা ফুয়া। তাইলে তোর মার কষ্ট কোমবে। চুলায় ধারে যাইয়া চুঙ্গা ফুয়া।’ বাঁশি বাজানোর সমস্ত আশা-ভরসা মাটিতে ধূলিস্যাৎ হয়ে গেল। অনেক কষ্টে আমি বাঁশি বাজানোর চেষ্টা কমিয়ে দিলাম। ওভাবে ফুঁ ফা করতাম না কিন্তু লুকিয়ে লুকিয়ে চেষ্টা করতাম। আজ আমার দাদা বেঁচে নেই। আমার অভিনয় তিনি দেখেননি। আমার টুকটাক বাঁশি বাজানোও তিনি দেখেননি। দেখতে পারলে আমার আজ অনেক ভালো লাগত। আনন্দে হয়তো চোখ ভিজে যেত। জীবনে প্রথম ঢাকায় যখন আসি বয়স তখন ৬/৭। দাদার হাত ধরেই এসেছিলাম। আরিচা ফেরিতে বসে দাদা আমাকে ৮টা ডিম খাইয়ে ছিলেন। ডাব খেয়েছি ৩/৪টা। যা খেতে চেয়েছি দাদা সব খাইয়েছেন। আরিচা ঘাট পার হলেই দাদার কথা মনে পড়ে। শিশুপার্কের সামনে গেলে দাদাকে মনে পড়ে। আজ আমার দাদা বেঁচে থাকলে তাকে নিয়ে গাড়িতে চড়ে ঘুরতে পারতাম। তার অজানা অনেক জায়গায় আমি নিয়ে যেতে পারতাম। তিনি যা খেতে চাইতেন তাই খাওয়াতাম। আসলে জীবন এটাই- যা ভাবি তা হয় না, যা ভাবি না তাই হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...