Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /var/sites/g/golperjhuri.com/public_html/gj-con.php on line 6
বন্ধুবান্ধব-০৬

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পের ঝুরিয়ান গন আপনারা শুধু মাত্র কৌতুক এবং হাদিস পোস্ট করবেন না.. যদি হাদিস /কৌতুক ঘটনা মুলক হয় এবং কৌতুক টি মজার গল্প শ্রেণি তে পরে তবে সমস্যা নেই অন্যথা পোস্ট টি পাবলিশ করা হবে না....আর ভিন্ন খবর শ্রেনিতে শুধুমাত্র সাধারন জ্ঞান গ্রহণযোগ্য নয়.. ভিন্ন ধরনের একটি বিশেষ খবর গ্রহণযোগ্যতা পাবে

বন্ধুবান্ধব-০৬

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (৩৩ পয়েন্ট)



আমি এ লেখাটা যখন লিখতে শুরু করি তখন একটা নাটকে অন্ধের চরিত্রে অভিনয় করছিলাম। জীবনে প্রথম এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করছি। অন্ধ মানুষ কেমন হয় আমি জানি না। তারা কীভাবে কথা বলে, কীভাবে অনুভূতিগুলো শেয়ার করে কোনো ধারণাই আমার ছিল না। কিন্তু দীর্ঘসময় চোখ বন্ধ করে শুধু ফিল করার চেষ্টা করেছি। আমি দেখলাম সবকিছুই কেমন অন্ধকার আর সেই অন্ধকারের মাঝেই কেমন অদ্ভুত চিকচিক করছে আলো। আমি চোখ খুলে ফেলি। পাঁচ মিনিট অন্ধকার সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই। মনে মনে ভাবলাম, অন্ধকার আসলে কী? অন্ধকারেই কী আলো থাকে? বিশ্বাস থেকে একটা জায়গায় নিজেকে স্থির করলাম সেটা হলো ‘চেনা পৃথিবীতে অচেনা মানুষ আমি’। যখন আমার চোখ বন্ধ হয় সব অচেনা লাগে যখন আমার চোখ খুলে যায় সব চেনা মানুষদের ভিড়। হঠাৎ ভাবলাম তাহলে মৃত্যুর পর মানুষ কোথায় যায়? যারা নেই পৃথিবীতে তাদের সাথে যদি ৫ মিনিট কথা বলতে পারতাম? আচ্ছা এমন কী হয় না যদি সৃষ্টিকর্তা মৃত্যুর ১ দিন পর ৫ মিনিট অথবা ১০ মিনিট সময় দিতেন তাহলে কত মজা হতো? সব মানুষগুলোকে কত রকমভাবে দেখা যেত। মৃত্যুর পর কে খুশি হলো কিংবা কে কষ্ট পেল অথবা মৃত্যুর কারণে কারো কিছু কী আসল? কী গেল? জানি না। কত কিছু দেখা যেত? চেনা পৃথিবীতে আবার কিছু অচেনা মানুষকে সুন্দরভাবে দেখা যেত তাই না? আচ্ছা এই প্রশ্ন যে করছি আমি, কাকে করছি? সত্যিই কাকে করলাম? নিজেই নিজের প্রশ্নকর্তা আবার নিজেই উত্তরদাতা। মনে হচ্ছে আমি কোনো এক স্কুলের শিক্ষানবিশ শিক্ষক। শিক্ষকের কথাই যখন এলো তাহলে একটা ঘটনা বলি- আমি যে স্কুলে ছোটবেলায় পড়াশোনা করেছি হঠাৎ করেই সেই স্কুলে বেড়াতে গেলাম। বরগুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া আপা তিনি আমাকে দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে গেলেন। আমরা ছোটবেলায় দেখতাম বিভাগীয় কমিশনার কিংবা ডিসি সাহেব শিক্ষকদের নিয়ে যেভাবে রুমে রুমে ঘুরতেন, প্রশ্ন করতেন ঠিক সেভাবে রাজিয়া আপা আমাকে নিয়ে প্রতিটি ক্লাসে ঘুরলেন কিন্তু রাজিয়া আপাকে কেউ মানছে না। সবাই চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিল। সব ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা এক হয়ে হলরুমে গেল, কারণ বিভাগীয় কমিশনারদের মতো ঘোরার কোনো উপায় আমার নেই। কী আর করা। রাজিয়া আপা আমার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে আর আমি মনে মনে ভাবছি আপা কত যে কাঠের স্কেলের মার আমাকে দিয়েছেন বৃত্তি পরীক্ষার আগে। আপার প্রতিটি স্কেলের মার এক একটা আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছিল যখন ক্লাস ফাইভে আমি বৃত্তি পেলাম। সব কৃতিত্ব রাজিয়া আপার। এখন আমি সেই আপার পাশে দাঁড়িয়ে। আমার চেনা সেই স্কুলের হলরুমের ভেতর কয়েকশ ছাত্রছাত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে আমি কত কিছু ভাবনার ভেতর চলে গেলাম। আমার কানে ভাসছে বাচ্চাদের চিৎকার চেঁচামেচি, শোরগোলের শব্দ আর মনে ভাসছে এই স্কুলে আসার প্রথমদিনের রাস্তার কথা। স্কুলের সামনে সেই দোকানটার কথা যেখানে আটআনা দিয়ে চৌকা বিস্কুট খেতাম, স্কুলের পেছনে ছোট রাস্তার কথা, যেখান থেকে অনেকদিন স্কুল ফাঁকি দিয়েছিলাম। সেই জায়গাগুলো নেই ঠিক সেইমতো কিন্তু স্মৃতিগুলো সবই আছে। স্মৃতি ভেঙে গেল একজনের প্রশ্নে আচ্ছা আপনি অভিনয়ে ঢুকলেন কীভাবে? আমি বললাম লঞ্চে করে সোজা ঢাকা গেলাম তারপর স্কুটারে করে গেলাম বিটিভিতে। তারপর কত মানুষের সঙ্গে পরিচয়। কত মানুষের ভিড়, কত পরিচালক, প্রযোজক, নায়ক, নায়িকা। আস্তে আস্তে এরাই সবাই আমার কেমন যেন আপন হয়ে গেল। কিন্তু স্কুলের সেই মানুষগুলো, রাস্তাঘাটগুলো, সবাই কেমন যেন অচেনা হয়ে গেল। জীবন কী এরকমই? একদল মানুষ হারিয়ে যায় আর আরেকদল মানুষ আপন হয়। কিন্তু সবকিছু কী হারিয়ে যায়? প্রথম যেদিন প্লেনে উঠলাম সেদিনও মনে হলো আমার বোধহয় শেষ। একবার যদি পাখায় আগুন লাগে তাহলে কী হবে? আমার আব্বা, আম্মু, ভাইবোন কারও সাথে কোনো কথা হলো না। কিন্তু ভাগ্য ভালো কিছুই হয়নি। প্লেনে বসে যখন জানালা দিয়ে তাকালাম দেখি সাদা মেঘের ভেলা। কী অদ্ভুত কী সুন্দর সে দৃশ্য। মনে হতে লাগল একটু লাফ দিয়ে জায়গাটা যদি দেখে আসতে পারতাম? কিন্তু পারলাম না। মনে মনে ভাবি পাখি হলেই বোধহয় ভালো হতো। উড়ে উড়ে ভেসে যেতাম মেঘের দেশে। একটু সময় থেকে আবার চলে আসতাম নিজের বাড়িতে। আমার শৈশব-কৈশোর সব কেটেছে বরগুনাতে। আমি প্রায়ই সেখানে যাই। খুব বেশি ঘোরাঘুরি করি না। কিছু বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দেই আর বিকেল হলে নদীর পাড়ে ঘুরতে যাই। আমার ভীষণ ভালো লাগে। ছয় বছরের বিবাহিত জীবনে আমার বউকে নিয়ে দু’বার গিয়েছি বিয়ের পর। আর বউ ছাড়া তিনবার। আমাকে আমার বউ জিজ্ঞেস করে আচ্ছা এই যে বরগুনাতে যাও বাবা, মা, ভাইবোন কেউ থাকে না। একা গিয়ে কী মজা পাও? আমি মুচকি হাসি দিয়ে চলে যাই, উত্তর দেই না। মনে মনে বলি ‘শেকড় বড় মারাত্মক’। এর টানে সব ভুলে যাই। আমি শিকড়ের টানে বরগুনাতে যাই। আমার বাচ্চা হবার পর এখনো ওকে নিয়ে যেতে পারিনি। আমি না যেতে পারলেও আমার বাচ্চা একদিন ঠিকই যাবে। কারণ শেকড় বড় বিস্ময়কর মায়া। আমি ঘ্রাণ নেই আমার হেঁটে যাওয়া সব রাস্তার ঘাসের উপর আমি মজা করে দেখি আমার প্রিয় সব জায়গাগুলো। বাতাসের কি অদ্ভুত চেনা ঘ্রাণ আমি পাই। সে ঘ্রাণ অনেক দামি ফরাসি পারফিউম-এ আমি পাই না। আমার বউকে এ কথাটি কে বোঝাবে বলুন? শুধু একটি কথা বলেছি- তোমার গ্রামে যখন যাও কেমন লাগে? একটু চোরা দৃষ্টি দিয়ে বলে ভালোই। আমার প্রশ্নের উত্তর আমি পেয়ে যাই। একবার শমী কায়সার বরগুনাতে বেড়াতে গেলেন। খেলাঘর আসরের সম্মেলন উপলক্ষে। সম্ভবত ৮৯/৯০-এর দিকে। ‘যত দূরে যাই’ খ্যাত শমী কায়সার বরগুনাতে আসবেন, এক ধরনের উৎসব আমেজ। উনি লঞ্চে করে আসছেন। আমরা বিকেল ৩টা থেকে অপেক্ষা করছি শমী কায়সারকে দেখব বলে। দীর্ঘ লাইন হলো। পান্না কায়সার এবং শমী কায়সারকে ফুল ছেটানোর জন্য। আমি অনেক গাঁদা ফুলের পাপড়ি হাতের মুঠোয় নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। যাই হোক তারা পৌঁছানোর পর শমী কায়সারের ভক্তকুল তাকে একনজর দেখার জন্য পাগল হয়ে গেল। তাকে উৎসুক জনতার মাঝখান থেকে আমিও উঁকি দিয়ে দেখতে লাগলাম। তারা বরগুনাতে ২ দিন ছিলেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন। ঘুরলেন ফিরলেন এবং অবশেষে ঢাকায় ফিরে গেলেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...