গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

সুপ্রিয় পাঠকগন আপনাদের অনেকে বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়ে ম্যাসেজ দিয়েছেন কিন্তু আমরা আপনাদের ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে পারিনাই তার কারন আপনারা নিবন্ধন না করে ম্যাসেজ দিয়েছেন ... তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ কিছু বলার থাকলে প্রথমে নিবন্ধন করুন তারপর লগইন করে ম্যাসেজ দিন যাতে রিপ্লাই দেওয়া সম্ভব হয় ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

বন্ধুবান্ধব-০৫

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (৮৩ পয়েন্ট)



চার বন্ধুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল হাবিব। সিরাজ আমি জুবায়ের সারোয়ার চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছিলাম হাবিবকে। হাবিব কোনও কিছুই তোয়াক্কা করল না, চারজনের মাঝখান থেকে উধাও হয়ে গেল। হাবিবকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল ক্যান্সার। হাবিবের কথা ভাবলেই ছেলেবেলার একটা খেলার কথা মনে পড়ে আমার। পাঁচজনের খেলা। হাতে হাত ধরে চারজন ঘেরাও করে রাখবে একজনকে। চারজনেরই চোখ বন্ধ থাকবে। মাঝখানের খেলোয়াড় এই চারজনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যাবে। এমন ভাবে বেরুবে, কারও গায়ে ছোঁয়া লাগতে পারবে না। কেউ টের পাবে না কোনদিক দিয়ে বেরিয়েছে। তারপর সে প্রশ্ন করবে, বলো তো আমি কোনদিক দিয়ে বেরিয়েছি? যার উত্তর সঠিক হবে সে জিতবে খেলায়। হাবিব ছিল আমাদের চারজনের মাঝখানকার সেই খেলোয়াড়। হাবিব বেঁচে থাকতেই জুবায়ের চলে গিয়েছিল আমেরিকায়। স্ত্রী শাহিন, দুই সন্তান ডোরা এবং অর্নবকে নিয়ে তার সংসার। ডালাসের এলেন এলাকায় সুন্দর বাড়ি জুবায়েরের। বছর পাঁচেক আগে জুবায়েরের কাছে গিয়ে আমি দশদিন ছিলাম। কী যে আনন্দের দিন সেসব, কী যে ভালোবাসার দিন। জুবায়েরের ছেলে অর্নব তখন বেশ ছোট। তার একমাত্র নেশা ডাইনোসর। যত রকমের পুতুল ডাইনোসর পাওয়া যায় সব তার আছে। অর্নবের এইম ইন লাইফ হচ্ছে, বড় হয়ে সে ডাইনোসর হবে। ফিউরি খোন্দকার তখন দুহাতে লেখে। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র। যেমন ছোটদের গল্প, তেমন বড়দের গল্প। সাহিত্য মহলে ফিউরি তখন বেশ পরিচিত। সিরাজের সঙ্গে তার স্বভাবের খুব মিল। সেও কথা বলে কম, হাসে বেশি। ফিউরির হাসি একটু লাজুক টাইপের, মিষ্টি। কথা বলতে গিয়ে সামান্য তোতলায়। এইসব লেখককে দাদুভাই সেদিন হাজির করেছিলেন আমাদের মতো যারা লেখালেখিতে আগ্রহী তাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য। সাহিত্য নিয়ে তাঁদের চিন্তা ভাবনা, তাঁদের পড়াশোনা কিংবা কীভাবে লেখালেখি করেন তাঁরা, তাঁদের মুখ থেকে এসব শোনাবার জন্য। পাঁচজনের একজন মুনা মালতি। অসাধারণ সুন্দরী। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ফিজিক্সে পড়ে। ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র। ছোটদের লেখায় চমৎকার হাত। রেডিও টেলিভিশনে প্রোগ্রাম করে। এত সুন্দর করে কথা বলল! মুনা কথা বলবার সময় কোথাও কোনও শব্দ ছিল না। পিন পড়লে শব্দ হবে না, এমন নিঃশব্দ। মুনার সঙ্গে সেদিনই রহমান আমার পরিচয় করিয়ে দিল। কিন্তু মুনা আমাকে তেমন পাত্তা দিল না। পাত্তা দেয়ার কোনও কারণও নেই। আমি তখন কে? অবশ্য সুন্দরী মেয়েদের একটা ভাবও থাকে। পরিচয়ের মুহূর্তে অনেকের দিকেই তারা এমন করে তাকায়, যেন খুবই দয়া করে তাকাচ্ছে। মুনার সেদিনকার তাকানো অনেকটাই ওরকম। ডালাসে গিয়েছি ফোবানা সম্মেলনে। ওই যে জুবায়েরের ওখানে যেবার দশদিন থাকলাম, সেবারের কথা। মুনা মালতির সঙ্গে দেখা হলো। সে আমেরিকাতেই থাকে। কোন স্টেটে থাকে মনে করতে পারছি না। আমেরিকার কোনো এক ইউনিভার্সিটির টিচার মুনা। মাইক্রোটেল ইন নামে এক হোটেলে উঠেছে। আমিও সেই হোটেলেই উঠেছি। পরে জুবায়ের আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই হোটেল লাউঞ্জে বসে এক দুপুরে মুনার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়েছিলাম। প্রথম দিন মুনাকে দেখার স্মৃতিচারণ করলাম। মুনা যে আমার দিকে তাকায়নি বা পাত্তা দেয়নি, শুনে মুনা এত হাসলো! বন্ধুদের মিষ্টি হাসির রেশ সবসময় আমার কানে লেগে থাকে। মুনার হাসির রেশও লেগে আছে। যে মানুষটি আমাকে সেদিন সবচাইতে বেশি মুগ্ধ করেছিল তাঁর নাম আলী ইমাম। এত সুন্দর বক্তৃতা সেদিন দিলেন আলী ইমাম। শুধু আমাকে কেন, সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে ফেললেন। আলী ইমাম লেখেন ভালো, তখন থেকেই ছোটদের খুবই প্রিয় লেখক তিনি। লেখা পড়ে আমিও তাঁর ভক্ত। সেদিন কথা শুনেও ভক্ত হয়ে গেলাম। যে মানুষ এত সুন্দর লেখেন সেই মানুষ এত সুন্দর কথাও বলেন! বক্তৃতা শেষ করে বসতে পারেন না আলী ইমাম, ছেলেমেয়েরা ঝাঁপিয়ে পড়ল অটোগ্রাফের জন্য। সেই প্রথম একজন লেখককে অটোগ্রাফ দিতে দেখলাম আমি। আলী ইমামের ডাকনাম হেলাল। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আমার হেলাল ভাই হয়ে গেলেন। এখনও আমি তাঁকে হেলাল ভাই বলেই ডাকি। ঠাঁটারি বাজারে হেলাল ভাইদের বাড়ি। অন্য একটি দিক দিয়েও তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হলো। আমার বাবা চাকরি করতেন ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটিতে। বাবা মারা গেছেন একাত্তর সালে। বাবাকে খুবই ভালো চিনতেন হেলাল ভাইয়ের বাবা। কারণ তিনিও মিউনিসিপ্যালিটিতে চাকরি করেন। বাবার জায়গায় চাকরি হয়েছে আমার বড়ভাইয়ের। হেলাল ভাইয়ের বাবা আমার বড়ভাইকেও চেনেন। আমার সঙ্গেও একদিন পরিচয় হয়ে গেল। শেকড়ের টান মীর সাব্বির


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...