গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে লেখকদের জন্য ওয়েলকাম !! যারা সত্যকারের লেখক তারা আপনাদের নিজেদের নিজস্ব গল্প সাবমিট করুন... জিজেতে যারা নিজেদের লেখা গল্প সাবমিট করবেন তাদের গল্পেরঝুড়ির রাইটার পদবী দেওয়া হবে... এজন্য সম্পুর্ন নিজের লেখা অন্তত পাচটি গল্প সাবমিট করতে হবে... এবং গল্পে পর্যাপ্ত কন্টেন্ট থাকতে হবে ...

সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান... জিজেতে আজে বাজে কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন ... অন্যথায় আপনার আইডি বা কমেন্ট ব্লক করা হবে... আর গল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প দেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন ... সার্বিকভাবে জিজের নীতিমালা মেনে চলার চেস্টা করুন ...

সুজন হরবোলা (৩)

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরাফাত হোসেন (৫ পয়েন্ট)



রাজা তো তাজ্জব! "তোর তো আশ্চর্য ক্ষমতা," বললেন রাজা।"তুই থাকিস কোথায়?" "আজ্ঞে আমার গাঁয়ের নাম ক্ষীরা। এখান থেকে ত্রিশ ক্রোশ পথ।" "তুই আমার সাঙ্গে আমার রাজ্যে যাবি? তার নাম জবরনগর। এখান থেকে ত্রিশ ক্রোশ। আমার মেয়ের বিয়ে আছে সামনের মাসে আজবপুরের রাজকুমারের সাঙ্গে। সে বিয়েতে তুই হরবোলার ডাক শুনাবি। যাবি?" "আজ্ঞে বাড়িতে যে বলতে হবে আগে।" "তা সে তুই আজ বাড়ি চলে যা। আমরা বনে তাঁবু ফেলেছি। সেখানে রাত কাটিয়ে কাল সকালে ফিরব। তুই কাল সক্কাল সক্কাল চলে আসিস বাড়িতে বলে।" "বেশ, তাই হবে।" //২// সুজন বাড়ি ফিরে এসে মা-বাবাকে সব কথা বলল।দিবাকর তো মহা খুশি। বলল, "এইবার ঠাকুর মুখ তুলে চেয়েছেন, বোধহয় তোর একটা হিল্লে হল।" মা বলল, "তুই যে যাবি, আর ফিরবি না নাকি?" "পাগল!" বলল সুজন। "কাজ হয়ে গেলই ফিরব। আর নাম-ডাক হলে মাঝে মাঝে বেরিয়ে যাব, মাঝে মাঝে ফিরব।" পরদিন ভোর থাকতে সুজন বেরিয়ে পড়ল।যখন চাঁড়ালীর বনে পৌঁছাল তখন সূর্য তাল গাছের মাথা ছাড়িয়ে খানিকদূর উঠেছে। বনের ধারে একটু খুঁজতেই একটা খোলা জায়গায় জবরনগরের রাজার তাঁবু দেখতে পেল সুজন। রাজা দেশে ফিরে যাবার জন্যে তৈরী হয়েই বসে আছেন। বললেন, "তোকে একটা ঘোড়ায় তুলে নেবে আমার লোক, তুই তার সঙ্গেই যাবি!" সুজনকে আগে ভালো ভালো মিঠাই আর ফল-মূল খেতে দিয়ে রাজা পাত্রমিত্র সঙ্গে করে রওনা দিলেন জবরনগর। ঘোড়ার পিঠে কোনোদিন চড়েনি সুজন, যদিও ঘোড়ার ডাক তার শেখা আছে। মহা আনন্দে রোদ থাকতে থাকতেই সুজন পৌঁছে গেল জবরনগর। গাছপালা দালান-কোঠা পুকুর বাগান হাট-বাজারে ভরা এমন বাহারের শহর সুজন কখনো দেখেনি। কিন্তু একটা জিনিস লক্ষ্য করে তার ভারী আশ্চর্য লাগল। সে রাজাকে জিগ্যেস করল, "এত গাছপালা, এত বাগান, তবু একটাও পাখির ডাক নেই কেন?" রাজা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, সে যে কত বড় দুঃখের কথা সে কী বলব তোকে। ওই যে দূরে পাহাড় দেখছিস, ওই পাহাড়ের নাম আাকাশী। ওই পাহাড়ের গুহায় একটা রাক্ষস না খোক্কস না জানোয়ার কী জানি এসে রয়েছে আজ পাঁচ বছর হল। তার খাদ্যই হল পাখি। সে যে কি জাদু করে তা জানি না, পাখিরা সব আপনা থেকে দলে দলে উড়ে গিয়ে তার গুহায় ঢোকে, আর রাক্ষসটা তাদের ধরে ধরে খায়। এখন এই শহরে আর কোনো পাখি বাকি নেই। কেবল একটা হীরামন আছে আমার মেয়ের খাঁচায় রাজবাড়ির অন্দরমহলে।" "কিন্তু তার খাবার ফুরিয়ে গেলে সে রাক্ষস বাঁচবে কী করে?" "খাবার কী আর সে শুধু আমার শহর থেকে নেয়? পাহাড়ের উত্তরে আছে আজবপুর, পশ্চিমে আছে গোপালগড়- পাখির কি আর অভাব আছে?" "এই জানোয়ারকে কেউ দেখেনি কখনো?" "না। সে গুহা থেকে বেরোয় না। আমি নিজে তীর-ধনুক নিয়ে গুহার মুখে অপেক্ষা করেছি, আমার সঙ্গে সশস্ত্র সৈন্য ছিল পঞ্চাশ জন। কিন্তু সে দেখা দেয়নি। গুহাটা অনেক গভীর; মশাল নিয়ে তার ভিতরে কিছুদূর গিয়েও তার দেখা পাইনি।" সুজন এমন অদ্ভুত ঘটনা কখনো শোনেনি। শুধু পাখি খায় এমন রাক্ষস ও থাকতে পারে? আর তাকে কোনো মতেই শায়েস্তা করা যায় না, এ তো বড় আজব কথা! ততক্ষণে রাজার দল প্রাসাদে পৌঁছে গেছে। রাজা বলল, "প্রাসাদের এক তলায় একটা ঘরে তুই থাকবি। কাল সকালে আমার মেয়েকে একবার শোনাবি তোর পাখি আর জানোয়ারেরর ডাক। আমার মেয়ের নাম শ্রীমতী। তার মত বিদুষী মেয়ে আর ভূ-ভারতে নেই। সে শাস্ত্র পড়েছে, ব্যাকরণ পড়েছে, ইতিহাস পড়েছে, গণিত পড়েছে, দেশ বিদেশের রূপকথা সে জানে, রামায়ণ মহাভারত জানে। সে ঘরেই থেকেছে চিরটা কাল। সূর্যেরর আলো তার গায়ে লাগতে দিইনি, তাই তার মত দূধে-আলতা রং আর কোনো মেয়ের নেই।" সুজন তো শুনে অবাক। মেয়ে মানুষের এত বিদ্যেবুদ্ধি? আর সে নিজে যে অবিদ্যের জাহাজ! এই রাজকন্যার সঙ্গে তো কথাই বলা যাবে না। "এই রাজকন্যারই কি বিয়ে হবে?" সে জিগ্যেস করল রাজাকে। "হ্যা, এরই বিয়ে। আজবপুরের যুবরাজের সাঙ্গে। সেও পন্ডিত ছেলে, অনেক পড়াশুনো করেছে। রূপেগুণে সব দিক দিয়েই ভালো।" রাজপ্রাসাদে পৌঁছে সুজনকে তার ঘর দেখিয়ে দিল রাজার এক পরিচালক। রাজামশাই বললেন, "আজ বিশ্রাম কর, কাল সকালে তোকে এরা নিয়ে আসবে আমার কাছে। তারপর তোর গুণের পরীক্ষা হবে।" "একটা কথা রাজামশাই।" সুজন ওই পাখিখোর রাক্ষসের কথা বুলতেই পারছিল না। "কী কথা?" "আকাশী পাহাড়টা এখান থেকে কত দূরে?" "চার ক্রোশ পথ। কেন?" "না, এমনি জিগ্যেস করছিলাম।" রাজা যে তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন সেটা সুজন তার ঘর দেখেই বুজতে পারল।দিব্যি বড় ঘর, তাতে চমৎকার নকশা করা একটা পালঙ্ক, আর তাছাড়াও আসবাব রয়েছে কাঠের আর শ্বেতপাথরের। পালঙ্কের বালিশের মত বাহারের নরম বালিশ সুজন কখনো চোখে দেখেনি, ব্যবহার করা তো দূরের কথা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডিয়ার শাশুড়ি মা (৩)
→ জলরং (৩) ❤
→ শেষ বিকেলের মায়াবতী♥ (৩)
→ ধাপ্পাবাজ(৩)
→ শবে মিরাজ (৩)
→ The Adventure of All GJ's(3)
→ গোয়েন্দা নাবিন ববি (৩)
→ পিটুস। (৩)
→ ঊষার আলো ফুটলো বলে..(৩)
→ দ্যা ফিফটি(৩)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...